📄 ভাই ইবনু জিবরিনের চিঠি
আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি কুরআনে যা কিছু নাযিল করি তা হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে (তাদের রোগের) উপশমকারী ও রহমত, কিন্তু এ সত্ত্বেও তা যালিমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।” (সূরা ১৭; বনী ইসরাঈল ৮২)
এ মহিমান্বিত আয়াতে কারীমাটি নির্ধারিত করে দিচ্ছে যে, কুরআন থেকে রহমত ও সুস্থতা লাভ করবে এমন একটি দল, যে দলের সদস্যরা কুরআনপন্থী, এতে বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং কুরআনের বিধান মোতাবেক আমলকারী। কিন্তু যারা এ কুরআনের উপর ঈমান আনেনি, কিভাবে কুরআন তাদের উপকার করবে? ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, কুরআনকে পরিত্যাগকারীর কয়েকটি প্রকার রয়েছে— (১) কুরআন তিলাওয়াত শোনাকে পরিহার করা, (২) এর উপর ঈমান আনয়নকে পরিহার করা এবং (৩) কুরআন দিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করা এবং বিচার-ফায়সালায় কুরআনের দ্বারস্থ হওয়াকে পরিহার করা।
সুতরাং, যে ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করে যে, কুরআন তাকে সুস্থ নাও করতে পারে এবং সে কুরআনের দ্বারা চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকে, সে তো আস্থাহীনতায় ভুগছে। ফলশ্রুতিতে সে তার রবের উপর কু-ধারণা করছে, কাজেই সে তো বঞ্চিত হবেই। প্রভুর দেওয়া কুরআনিক চিকিৎসা তার দৃষ্টিতে সেকেলে অথবা সন্দেহযুক্ত হলে সে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কাজেই কুরআন তাকে নিরাময় দান করবে না।
📄 ঈমান সবার আগে
শায়খ আবুল কাসেম আল কুশাইরী থেকে বর্ণিত, একবার তার সন্তান মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলো। তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখলেন এবং নবীজি তাকে ‘আয়াতুশ শেফা’ দিয়ে চিকিৎসা করতে বললেন। কুরআনের ৬টি স্থানে এই আয়াতগুলো রয়েছে:
১. وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ (সূরা ৯; তাওবা ১৪)
২. وَشِفَاءُ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (সূরা ১০; ইউনুস ৫৭)
৩. يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ (সূরা ১৬; নাহল ৬৯)
৪. وَنُنَزּِلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (সূরা ১৭; বনী ইসরাঈল ৮২)
৫. وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ (সূরা ২৬; শুআরা ৮০)
৬. قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءُ (সূরা ৪১; ফুসসিলাত ৪৪)
শায়খ উক্ত আয়াতগুলো লিখে পানি দ্বারা ধৌত করে সন্তানকে পান করালেন এবং সে দ্রুত সুস্থ হয়ে গেল।
📄 প্রতিপক্ষ সঠিক হলে সন্তুষ্ট থাকুন
সূরা ফাতেহার ফযিলত: আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, আল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা হচ্ছে সূরা ফাতিহা।
সূরা বাকারার ফযিলত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআনের চূড়া হচ্ছে 'আল বাকারা'। শয়তান যখন সূরা বাকারার তিলাওয়াত শোনে তখন যে ঘরে এ সূরার তিলাওয়াত হতে থাকে, সে ঐ ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলোর ফযিলত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সূরা বাকারার সর্বশেষ দুটি আয়াত যে রাত্রে পড়বে, তা তার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যাবে।” এটি শয়তান ও বিপদাপদ থেকে রক্ষার জন্য কার্যকর।
আয়াতুল কুরসীর ফযিলত: আল্লাহর কিতাবের সর্বোত্তম আয়াত। যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জান্নাতে প্রবেশের মাঝে মৃত্যুই শুধু বাধা হয়ে থাকবে।
সূরা কাহফের ফযিলত: যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পড়বে, দু' জুমার মধ্যবর্তী সময় তার জন্যে আলোকিত হয়ে থাকবে। এটি দাজ্জালের ফেৎনা থেকেও রক্ষা করে।
টিকাঃ
১. সয়ূতী আল-কানিজ-এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং হাকেম ও বায়হাকীর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
📄 কটাক্ষ করা: একটি আধুনিক কালচার
ইমাম জাফর সাদেক (রা) বলেন, আমি আশ্চর্যান্বিত হই ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে—
১. যে ভীতস্বন্ত্রস্ত হলো, অথচ ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল’ (সূরা ৩; ১৭৩) পাঠ করল না।
২. যে পেরেশানিতে নিমজ্জিত হলো, অথচ ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন’ (সূরা ২১; ৮৭) পাঠ করল না।
৩. যে ধোঁকাবাজদের চক্রান্তের শিকার হলো, অথচ ‘ওয়া উফাওউইদু আমরী ইলাল্লাহ...’ (সূরা ৪০; ৪৪) পাঠ করল না।
গ্রন্থকার আবুল ফিদা বলেন, আমি বিস্ময় বোধ করি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে, যে রোগাক্রান্ত হয়েছে অথচ ‘আন্নী মাসসানিয়াদ্দুররু ওয়া আন্তা আরহামুর রাহিমীন’ (সূরা ২১; ৮৩) পাঠ করল না। কেননা এর মাধ্যমেই আল্লাহ আইয়ুব (আ)-কে রোগমুক্ত করেছিলেন।