📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 শুরুর কথা

📄 শুরুর কথা


মহান আল্লাহর বাণী—
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّلِمِينَ إِلَّا خَسَارًا
“আর আমি কুরআনে যা কিছু নাযিল করছি তা হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে তাদের রোগের উপশমকারী ও রহমত। কিন্তু এসত্ত্বেও তা যালিমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।” (সূরা ১৭; বনী ইসরাঈল ৮২)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «عَلَيْكُمْ بِالشَّفَاءَيْنِ الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ» “তোমরা যাবতীয় রোগ-ব্যাধির নিরাময়ে (চিকিৎসায়) দুটো জিনিসকে আঁকড়ে ধর— মধু এবং কুরআন।” (সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩৪৫২)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, «خَيْرُ الدَّوَاءِ الْقُرْآنُ» “সর্বোত্তম ঔষধ হচ্ছে, আল কুরআন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৫০১)

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


মানসিক ও শারীরিক এবং দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় রোগ ব্যাধির পরিপূর্ণ চিকিৎসা হচ্ছে আল কুরআন। তবে এ থেকে নিরাময় লাভের তাওফীক সবাইকে দেওয়া হয় না; সবাই এর উপযুক্তও নয়। রোগী সততা, আস্থা, পরিপূর্ণ কবুল, অকাট্য বিশ্বাস এবং এর যাবতীয় শর্ত পূরণের মাধ্যমে যদি এ কুরআনকে তার রোগের উপর উত্তমভাবে প্রয়োগ করে তাহলে কোনো ব্যাধিই কখনো এর মোকাবিলা করতে পারবে না।

কিভাবে রোগ-ব্যাধি আসমান-যমিনের মালিকের ঐ কথার মোকাবিলা করবে, যা তিনি পাহাড়ের উপর নাযিল করলে পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিত? যমিনের উপর নাযিল করলে যমিনকে বিদীর্ণ করে দিত? সুতরাং, শরীর ও মনের এমন কোনো রোগ নেই অথচ আল কুরআনে তার চিকিৎসার পথ দেখানো আছে, এর প্রতিকার এবং তা থেকে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বুঝ দান করেছেন, সে-ই কেবল এ থেকে সার্বিক সুস্থতা লাভ করে ধন্য হয়। কুরআন যাকে নিরাময় করবে না আল্লাহও তাকে নিরাময় করবেন না। আর যার জন্যে কুরআন যথেষ্ট নয়; আল্লাহও তার জন্যে যথেষ্ট হবেন না। (যাদুল মা'আদ ইবনুল কাইয়্যেম খণ্ড-৩, পৃ. ১৭৮-১৭৯)

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 ধন্যবাদ, প্রিয় শত্রু

📄 ধন্যবাদ, প্রিয় শত্রু


নিশ্চয়ই সকল কিছুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এবং একমাত্র তিনিই সবকিছু করতে সক্ষম, সবকিছুর প্রতি অনুগ্রহকারী একমাত্র তিনি। সুতরাং তিনি দয়া না করলে আর কে করবে? তিনিই আল্লাহ, যিনি তাঁর বিশাল ক্ষমতা ও রহমতে যাবতীয় বিপদ-মুসিবত অপসারণ করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ ﴿ وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَ يَসْقِينِ إِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ ﴿ وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ ﴿ وَالَّذِي اطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لِي খাটীঅতী ইয়োমাদ দীন
“যিনি আমাকে পয়দা করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে (অন্ধকারে) চলার পথ দেখিয়েছেন। তিনি আমাকে আহার্য দেন। তিনিই আমার পানীয় যোগান। আর আমি যখন রোগাক্রান্ত হই তখন তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন। তিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, তিনি আমাকে আবার নতুন জীবন দেবেন। বিচারের দিন তাঁর কাছ থেকে আমি এ আশা করব যে, তিনি আমার গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন।” (সূরা ২৬; শু'আরা ৭৮-৮২)

অতএব, তাঁর শেফা ছাড়া কোনো শেফা নেই, তাঁর বিপদমুক্তি ছাড়া কোনো বিপদমুক্তি নেই এবং তাঁর শক্তি ছাড়া কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যদি আল্লাহ তাআলা তোমাকে কোনো দুঃখ-কষ্ট দেন, তাহলে তিনি ছাড়া অন্য কেউ নেই তা দূরীভূত করার। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তাহলে তাঁর সে কল্যাণ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান তাকেই কল্যাণ পৌঁছান, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা ১০; ইউনুস ১০৭)

এ কারনেই আইয়ুব (আ) যখন ইজ্জত এবং মহত্ত্বের মালিক, ক্ষমার একমাত্র অধিকারী, শেফাদানকারী, সকলের জন্যে যথেষ্ট, স্বীয় নির্দেশ এবং বিশাল ক্ষমতার দ্বারা সকল বিপদ অপসারণকারী মহান আল্লাহর নিকট চরম অসুস্থতার মুহূর্তে কায়মনোবাক্যে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আহ্বান করলেন। আল্লাহ তাআলার ভাষায়,
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّةَ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّحِمِينَ
“স্মরণ করুন! যখন আইয়ুব (আ) তাঁর মালিককে ডেকে বলেছিলেন, হে আল্লাহ আমাকে এক কঠিন অসুখ পেয়ে বসেছে, আমায় আপনি সুস্থ করে দিন, আপনিই হচ্ছেন দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৮৩)

যাবতীয় পবিত্রতা ও গুণগান আপনারই জন্যে, আপনি আমাদেরকে আপনার নিকট চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদেরকে তা কবুলের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার যে কষ্ট ছিল তা আমি দূর করে দিলাম, তাঁকে তাঁর পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম, তাদের সবাইকে আমার কাছ থেকে বিশেষ দয়া এবং আমার বান্দাদের জন্যে উপদেশ হিসেবে আরো সমপরিমাণ দান করলাম।” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৮৪)

সুতরাং, রোগীর উচিত বেশি বেশি দু'আ করা এবং কবুলের পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস সহকারে আল্লাহর নিকট চাওয়া যে, তিনি তাঁকে সুস্থ করবেন, রোগমুক্ত করবেন আর সে যেন আল্লাহর সুন্দর নামগুলো দিয়ে দু'আ করে।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 “বাহাসে নামেন না কেন?”

📄 “বাহাসে নামেন না কেন?”


আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর আমি কুরআনে যা কিছু নাযিল করি তা হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে (তাদের রোগের) উপশমকারী ও রহমত। কিন্তু এ সত্ত্বেও তা যালিমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।” (সূরা ১৭; বনী ইসরাঈল ৮২)

কুরআনে কারীমের এ মহান আয়াত নিয়ে যিনি গবেষণা করবেন তিনি নিশ্চিতভাবে এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবেন যে, কুরআন নিরাময় এবং রহমত। এতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এ হচ্ছে আল্লাহর সে কালাম, যার সামনের অথবা পেছনের কোনো দিক থেকেই বাতিল আসতে পারে না। সকল পবিত্রতা সে সত্তার জন্যে, যার নির্দেশ কাফ এবং নূন-এর মধ্যে নিহিত। তিনি যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চান তখন বলেন, "কুন" হয়ে যাও। আর তখনই তা হয়ে যায়। কাজেই আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত ও প্রতিষ্ঠিত হবে; আর তা "কুন" শব্দের মধ্যে। যদি শুধু তাঁর "কুন" শব্দের মধ্যে এমন প্রভাব থাকে তাহলে তাঁর সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ কালামের প্রভাব কেমন হবে?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অতএব, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা, এ কুরআনের এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে আর আরেক প্রান্ত তোমাদের হাতে। একে তোমরা আঁকড়ে ধর, কখনো তোমরা ধ্বংস হবে না। এরপর কখনো তোমরা পথহারা হবে না।” (আত-তারগীব ১/৭৯)

আর ইবনে মাসউদের হাদীস, যা ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা যাবতীয় রোগ-ব্যাধির নিরাময়ে (চিকিৎসায়) দু'টো জিনিসকে আঁকড়ে ধর— মধু ও কুরআন।” আর মধু সম্পর্কে যেমনটি আমরা জানি, এটি সে আল্লাহর সৃষ্টি, যিনি সবকিছু সূক্ষ্ম ও দৃঢ় করে বানিয়েছেন। যদি মধু, যা একটা সময়ের পর নষ্ট হয়ে যায় তার এমন নিরাময়কারী শক্তি থাকে, তাহলে শরীর মন এবং আত্মার উপর আল্লাহর কালামের কেমন শক্তি এবং প্রভাব হতে পারে? নিঃসন্দেহে সেটি রহমত এবং সুস্থতা ছাড়া আর কিছু নয়।

যেমনটি ইবনুল কাইয়্যেম আল যাউজিয়্যাহ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আত-তিববুন নববী-তে বলেছেন, 'স্রষ্টাপ্রদত্ত আর মানবীয় চিকিৎসা, দৈহিক আর আত্মীক চিকিৎসা এবং আসমানী আর যমিনী চিকিৎসাকে একত্রিত করা হয়েছে এ হাদীসে। মানুষ যদি কুরআন এবং মধুর দ্বারা চিকিৎসা করে তাহলে সে দু'শক্তিকে একত্রিত করলো, আসমানী শক্তি আর যমিনী শক্তি। যাকে কুরআন সুস্থ করে না, তাকে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সুস্থ করতে পারবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية