📄 বিরোধিতা ও যুলুম নির্যাতনের মোকাবেলায় করণীয়
وَلَرَبِّكَ فَاصْبِرْهُ
অর্থ: তোমার প্রভুর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধরো, অটল থাকো। (সূরা ৭৪ আল মুদ্দাসসির: আয়াত ৭)
إِنْ كَفَيْنَكَ الْمُسْتَهْزِءِ يْنَ
অর্থ: বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে তোমার জন্যে আমিই যথেষ্ট। (সূরা ১৫: ৯৫)
رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا وَاصْبِرُ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ মজরান জَمِيلاً وَذَرْنِى وَالْمُكَذِّبِينَ أُولী النَّعْمَةِ وَمَهِلَهُمْ قَلِيلاه إِنْ لَدَيْنَا أَنْكَالاً وَجَحِيمًا وَطَعَامًا ذَاغُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيْمَانِ
অর্থ: তিনি প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের প্রভু। তিনি ছাড়া কোনো ত্রাণকর্তা নেই। সুতরাং তাকেই উকিল (কার্যসম্পাদনকারী) নিয়োগ করো। তারা যা কিছু বলে (অভিযোগ আপত্তি ও মিথ্যারোপ করে), তাতে সবর অবলম্বন করো এবং সৌজন্যের সাথে তাদের পরিহার করে চলো। আর আমার হাতে ছেড়ে দাও মিথ্যারোপকারী নিয়ামতের (কর্তৃত্ব ও সম্পদের) অধিকারীদেরকে এবং (এই জগতে কিছুটা ভোগ করার) অবকাশ তাদের দাও। কারণ, ডাণ্ডাবেড়ি তো আমার হাতেই, আরো রয়েছে প্রজ্জ্বলিত আগুন, পুঁজ গলা খাদ্য আর মর্মন্তুদ আযাব। (সূরা ৭৩ মুজ্জাম্মিল: আয়াত ৯-১৩)
وَاصْبِرُ وَمَا مَبْرُكَ إِلَّا بِاللهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَاتَكَ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ
অর্থ: সবর করো, তোমার সবরের সাথেই আল্লাহর সাহায্য জড়িত। তাদের (অভিযোগ ও বিরোধিতার) কারণে তুমি দুঃখ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে মন ছোট করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বান উত্তম কর্মপরায়ণদের সাথে রয়েছেন। (সূরা ১৬ আন নহল: আয়াত১২৭-১২৮)
📄 ইসলাম এবং মুমিনরাই বিজয়ী হবে
কুরআন মজিদের যে আয়াতগুলো উল্লেখ করা হলো, তা থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আল্লাহর কিতাবের বাহক ও প্রচারকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন নয়। ষড়যন্ত্র সর্বকালেই হয়েছে এবং হবে। কিতাবের প্রকৃত অনুসারীদের বিরুদ্ধে সর্বকালেই অভিযোগ আপত্তি উত্থাপিত হবে, তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন হবে, ষড়যন্ত্র করা হবে। কিন্তু, কিতাবের প্রকৃত অনুসারী মুমিনরা সর্বাবস্থায় যদি সবর ও ধৈর্যের সাথে ইসলামের কাজ করে যায়, তবে অবশ্যই ইসলাম বিজয়ী হবে এবং মুমিনরা দুনিয়া ও আখেরাতে সাফল্য লাভ করবে। বিজয় মুমিনদেরই পদচুম্বন করবে। বাতিল অবশ্যই পরাজিত হবে:
فَإِنْ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
অর্থ: জেনে রাখো, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে আছে স্বস্তি। (সূরা ৯৪ নাশরাহ : ৫)
وَقُلْ جَاءَ الْحقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ : إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
অর্থ: তুমি বলো: সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিতাড়িত হয়েছে, আর মিথ্যা তো বিতাড়িত হতে বাধ্য। (সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৮১)
إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْأَشْهَادُ
অর্থ: আমি অবশ্যই অবশ্যই সাহায্য করবো আমার রসূলদের এবং যারা ঈমানের উপর অটল থাকে তাদের, পৃথিবীর জীবনেও এবং যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে সেদিনও। (সূরা ৪০ আল মুমিন: আয়াত ৫১)
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ মੱਸَ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلَهُ ، وَتِلْكَ الأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ َ وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ ، وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّلِمِينَ وَلَيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَفِرِينَ
অর্থ: তোমরা (তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে) হীনবল (weak) হয়ো না, মনভাঙা হয়ো না; তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা (সত্যিকার) মুমিন হও। এখন যদি তোমাদের উপর আঘাত এসেই থাকে, তবে অনুরূপ আঘাত তাদেরও লেগেছিল। আমি মানুষের মধ্যে সুদিন-দুর্দিন পর্যায়ক্রমে আবর্তন ঘটাই; যাতে করে আল্লাহ, মুমিনদের যাচাই (test) করে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে শহীদ হিসাবে গ্রহণ করতে পারেন, আর আল্লাহ যালিমদের পছন্দই করেন না। (বর্তমান দুর্দিন আল্লাহ এজন্যেই আবর্তিত করেছেন) যাতে করে তিনি মুমিনদের পরিশোধন (purify) করতে পারেন এবং অবিশ্বাসী বিরুদ্ধবাদীদের নিশ্চিহ্ন (destroy) করতে পারেন। (সুরা ৩ আলে ইমরান : আয়াত ১৩৯-১৪১)
আল্লাহর কিতাবের বাহক ও প্রচারকদের আল্লাহ তায়ালা এভাবে সান্ত্বনা দেন:
أَمْ يُرِيدُونَ كَيْدًا ، فَالَّذِينَ كَفَرُوا হ্যমُ الْمَكِيدُونَ
অর্থ: নাকি তারা ষড়যন্ত্র করতে চায়? জেনে রাখো মূলত (সত্যকে) অস্বীকারকারীরাই হবে ষড়যন্ত্রের শিকার। (সূরা ৫২ আত তূর: আয়াত ৪২)
টিকাঃ
* এটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে বিয়াম অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ৫ম TOT ক্লাসে প্রদত্ত লেখকের বক্তব্য। বক্তব্য প্রদান কালে এর শিরোনামে ছিলো মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর পূর্বের রসূলগণের প্রতি যেসব মন্দ উপাধি এবং অপবাদ আরোপ করা হয়।