📄 শত্রুতা, বিদ্রূপ, বিবাদ ও বাধা প্রদানের ধরণ
মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর অনুসারীগণ সমাজে ইসলামের যে আলো প্রজ্জ্বলিত করেন, বিরোধীরা তা নিভিয়ে দিতে উদ্যত হয়:
يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمَّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُونَ
অর্থ : তারা আল্লাহর নূরকে (কুরআন ও ইসলামকে) ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরকে পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও অমান্যকারীরা তা অপছন্দ করে। (সূরা ৬১ আস সফ: আয়াত ৮)
তারা নবীগণকে আছাড় মেরে বিনাশ করে দিতে চায়:
وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ
অর্থ : বিরুদ্ধবাদীরা যখন কুরআন শুনে, তখন তারা চোখের তীব্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছাড় মেরে ফেলে দিতে চায় এবং মুখে বলে: একে তো ভূতে ধরেছে। (সূরা ৬৮ আল কলম: আয়াত ৫১)
بَلْ عَجিবْتَ وَيَسْخَرُونَ
অর্থ: তুমি তো তাদের (সত্যের বিরোধিতা দেখে) বিস্মিত হচ্ছো, অথচ তারা (তোমাকে নিয়ে) করছে বিদ্রূপ। (সূরা ৩৭ আস সাফফাত: আয়াত ১২)
وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا حَتَّى إِذَا جَاءُوكَ يُجَادِلُونَكَ
অর্থ: তারা যদি (ইসলাম সত্য ও বাস্তব হবার) সকল প্রমাণ-নিদর্শনও দেখে, তবু তারা তার প্রতি ঈমান আনবে না। এমনকি তারা তোমার কাছে এলে (এই মহাসত্য নিয়ে) বিতর্কে লিপ্ত হয়। (সূরা ৬ আল আন'আম : আয়াত ২৫)
وَهُمْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْثَوْنَ عَنْهُ وَإِنْ يُهْلِكُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
অর্থ: তারা জনগণকে (কুরআনের কথা, ইসলামের কথা) শ্রবণে বাধা দেয়, বারণ করে, নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে। আসলে এসবের মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদেরই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়; অথচ তারা তা উপলব্ধি করে না। (সূরা ৬ আন'আম : আয়াত ২৬)
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنَ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ
অর্থ: অমান্যকারী-বিরুদ্ধবাদীরা (জনগণকে) বলে 'তোমরা এই কুরআন (-এর কথা) শুনো না। যেখানে কুরআন (-এর কথা) আলোচিত হবে, সেখানেই হট্টগোল বাধিয়ে দাও যাতে করে তোমরা জয়ী হতে পারো।' (সূরা ৪১: ২৬)
الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالآخِرَةِ هُمْ كَفِرُونَ أُولَئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ
অর্থ: যারা আল্লাহর পথে (আল্লাহর কাজে) বাধা দেয় আর তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে এবং আখিরাত (এর বিচারকে) অস্বীকার করে, তারা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) অক্ষম-পরাস্ত করতে পারবে না। (সূরা ১১ হুদ: ১৯-২০)
📄 ষড়যন্ত্র যুলুম নির্যাতন হত্যা
আল্লাহর বাণীবাহক এবং তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের ধরণ সম্পর্কে দেখুন কুরআন মজিদের বিবরণ:
وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الَّهَتَكُمْ
অর্থ: এবং তারা (নূহের বিরুদ্ধে) এক জঘন্যতম ষড়যন্ত্র করছিল। এছাড়া তারা জনগণকে বলেছিল : 'তোমরা (নূহের কথায়) তোমাদের পূজনীয়দের ত্যাগ করো না।' (সূরা ৭১ নূহ: আয়াত ২২)
قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانْصُرُوا الِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَعِلِينَ قُلْنَا يُنَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَّمَا عَلَى إِبْرَمِيرَ وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَهُمُ الْأَخْسَرِينَ .
অর্থ: তারা বললো (সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলো): 'তোমরা তাকে (ইবরাহিমকে) আগুনে পুড়িয়ে মারো, আর তোমাদের উপাস্য ও পূজনীয়দের সাহায্য করো যদি কিছু করতে চাও।' কিন্তু আমি (আগুনকে) বলে দিলাম: 'হে আগুন! ইবরাহিমের জন্যে সুশীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।'-এভাবে তারা (ইবরাহিমের বিরুদ্ধ) এক জঘন্য ষড়যন্ত্র পাকিয়েছিল। কিন্তু আমি তাদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে ছাড়লাম। (সূরা ২১ আল আম্বিয়া: আয়াত ৬৮-৭০)
قَالُوا أَخْرِجُوا اَلَ لُوْطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ ، إِنَّهُمْ أَنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ
অর্থ: তারা বললো: তোমরা লূতকে সপরিবারে দেশ থেকে বহিষ্কার করো, তারা বড় পাক-পবিত্র (clean) থাকতে চায়! (সুরা ২৭ আন নামল: আয়াত ৫৬)
قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلْغُ الْمُبِينُ قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ ج لَئِن لَّمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيرُه
অর্থ: (আমার রসূলরা) তাদের বলেছিল: 'আমাদের প্রভু (আল্লাহ) জানেন, আমরা অবশ্যই তোমাদের কাছে তাঁর প্রেরিত রসূল! তাঁর বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব।' জবাবে তারা বললো: আমরা তোমাদেরকে আমাদের ক্ষতির কারণ মনে করি। যদি তোমরা (তোমাদের মিশন থেকে) বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবো এবং কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবো। (সূরা ৩৬ ইয়াসীন: আয়াত ১৬-১৮)
قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيْهِ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِ وَإِنَّا لَصَدِقُونَ وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
অর্থ: তারা (নগরীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা) বললো: তোমরা আল্লাহর কসম (শপথ) করো যে: 'আমরা অবশ্যই রাত্রিকালে তার (সালেহর) এবং তার পরিবার পরিজনের উপর আক্রমণ করবো। তারপর তার কোনো অলি-অভিভাবক খুনের অভিযোগ করলে আমরা তাকে বলবো: তার পরিবার পরিজনকে কারা হত্যা করেছে আমরা তা দেখি নাই, আমরা সত্যবাদী।' আসলে তারা এক জঘন্য চক্রান্ত করেছিল; এদিকে আমরাও করে রেখেছিলাম একটি কৌশল, কিন্তু তারা কিছুই টের পায় নাই। (সূরা ২৭ আন নামল: আয়াত ৪৯-৫০)
قُتِلَ أَصْحَبُ الْأَخْدُودِهِ النَّارِ ذَاتِ الْوَقَوْدِهِ إِذْهُمْ عَلَيْهَا قُعُودُهُ وَهُمْ عَلَى مَا يَفْعَلُونَ بِالْمُؤْمِنِينَ شُهُودُهُ وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّا أَن يُؤْمِنُوا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِه
অর্থ: অভিশপ্ত হয়েছে গর্ত ওয়ালারা অর্থাৎ অনেক ইন্ধনে অগ্নিসংযোগকারীরা। যখন তার কিনারায় বসেছিল। তারা বিশ্বাসীদের সাথে যা করছিল, তা নিরীক্ষা করছিল। তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। (সূরা ৮৫: ৪-৮)
পূর্বের নবীগণ এবং তাদের অনুসারীদের মতোই মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরণের শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র করা হয়:
وَإِذْ يَمْكُرُبِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ ، وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ ، وَاللَّهُ خَيْرُ الْمُكِرِينَ
অর্থ: স্মরণ করো (হে মুহাম্মদ)! যখন অবিশ্বাসী বিরুদ্ধবাদীরা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল তোমাকে বন্দী করার জন্যে, কিংবা তোমাকে হত্যা করার জন্যে, অথবা তোমাকে (তোমার আবাসভূমি থেকে) বহিষ্কার করার জন্যে। তারা (এসব) ষড়যন্ত্র করছিল আর আল্লাহও কৌশল করছিলেন তাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী। (সূরা ৮ আনফাল: আয়াত ৩০)
وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ
অর্থ: এই লোকেরাই আল্লাহর রসূলকে তার স্বদেশভূমি থেকে বের করে দেয়ার সংকল্প করেছিল। (সূরা ৯ আত তাওবা: আয়াত ১৩)
📄 বিরোধিতা ও যুলুম নির্যাতনের মোকাবেলায় করণীয়
وَلَرَبِّكَ فَاصْبِرْهُ
অর্থ: তোমার প্রভুর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধরো, অটল থাকো। (সূরা ৭৪ আল মুদ্দাসসির: আয়াত ৭)
إِنْ كَفَيْنَكَ الْمُسْتَهْزِءِ يْنَ
অর্থ: বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে তোমার জন্যে আমিই যথেষ্ট। (সূরা ১৫: ৯৫)
رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا وَاصْبِرُ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ মজরান জَمِيلاً وَذَرْنِى وَالْمُكَذِّبِينَ أُولী النَّعْمَةِ وَمَهِلَهُمْ قَلِيلاه إِنْ لَدَيْنَا أَنْكَالاً وَجَحِيمًا وَطَعَامًا ذَاغُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيْمَانِ
অর্থ: তিনি প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের প্রভু। তিনি ছাড়া কোনো ত্রাণকর্তা নেই। সুতরাং তাকেই উকিল (কার্যসম্পাদনকারী) নিয়োগ করো। তারা যা কিছু বলে (অভিযোগ আপত্তি ও মিথ্যারোপ করে), তাতে সবর অবলম্বন করো এবং সৌজন্যের সাথে তাদের পরিহার করে চলো। আর আমার হাতে ছেড়ে দাও মিথ্যারোপকারী নিয়ামতের (কর্তৃত্ব ও সম্পদের) অধিকারীদেরকে এবং (এই জগতে কিছুটা ভোগ করার) অবকাশ তাদের দাও। কারণ, ডাণ্ডাবেড়ি তো আমার হাতেই, আরো রয়েছে প্রজ্জ্বলিত আগুন, পুঁজ গলা খাদ্য আর মর্মন্তুদ আযাব। (সূরা ৭৩ মুজ্জাম্মিল: আয়াত ৯-১৩)
وَاصْبِرُ وَمَا مَبْرُكَ إِلَّا بِاللهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَاتَكَ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ
অর্থ: সবর করো, তোমার সবরের সাথেই আল্লাহর সাহায্য জড়িত। তাদের (অভিযোগ ও বিরোধিতার) কারণে তুমি দুঃখ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে মন ছোট করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বান উত্তম কর্মপরায়ণদের সাথে রয়েছেন। (সূরা ১৬ আন নহল: আয়াত১২৭-১২৮)
📄 ইসলাম এবং মুমিনরাই বিজয়ী হবে
কুরআন মজিদের যে আয়াতগুলো উল্লেখ করা হলো, তা থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আল্লাহর কিতাবের বাহক ও প্রচারকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন নয়। ষড়যন্ত্র সর্বকালেই হয়েছে এবং হবে। কিতাবের প্রকৃত অনুসারীদের বিরুদ্ধে সর্বকালেই অভিযোগ আপত্তি উত্থাপিত হবে, তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন হবে, ষড়যন্ত্র করা হবে। কিন্তু, কিতাবের প্রকৃত অনুসারী মুমিনরা সর্বাবস্থায় যদি সবর ও ধৈর্যের সাথে ইসলামের কাজ করে যায়, তবে অবশ্যই ইসলাম বিজয়ী হবে এবং মুমিনরা দুনিয়া ও আখেরাতে সাফল্য লাভ করবে। বিজয় মুমিনদেরই পদচুম্বন করবে। বাতিল অবশ্যই পরাজিত হবে:
فَإِنْ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
অর্থ: জেনে রাখো, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে আছে স্বস্তি। (সূরা ৯৪ নাশরাহ : ৫)
وَقُلْ جَاءَ الْحقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ : إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
অর্থ: তুমি বলো: সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিতাড়িত হয়েছে, আর মিথ্যা তো বিতাড়িত হতে বাধ্য। (সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৮১)
إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْأَشْهَادُ
অর্থ: আমি অবশ্যই অবশ্যই সাহায্য করবো আমার রসূলদের এবং যারা ঈমানের উপর অটল থাকে তাদের, পৃথিবীর জীবনেও এবং যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে সেদিনও। (সূরা ৪০ আল মুমিন: আয়াত ৫১)
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُمْ مُؤْمِنِينَ إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ মੱਸَ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلَهُ ، وَتِلْكَ الأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ َ وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ ، وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّلِمِينَ وَلَيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَفِرِينَ
অর্থ: তোমরা (তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে) হীনবল (weak) হয়ো না, মনভাঙা হয়ো না; তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা (সত্যিকার) মুমিন হও। এখন যদি তোমাদের উপর আঘাত এসেই থাকে, তবে অনুরূপ আঘাত তাদেরও লেগেছিল। আমি মানুষের মধ্যে সুদিন-দুর্দিন পর্যায়ক্রমে আবর্তন ঘটাই; যাতে করে আল্লাহ, মুমিনদের যাচাই (test) করে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে শহীদ হিসাবে গ্রহণ করতে পারেন, আর আল্লাহ যালিমদের পছন্দই করেন না। (বর্তমান দুর্দিন আল্লাহ এজন্যেই আবর্তিত করেছেন) যাতে করে তিনি মুমিনদের পরিশোধন (purify) করতে পারেন এবং অবিশ্বাসী বিরুদ্ধবাদীদের নিশ্চিহ্ন (destroy) করতে পারেন। (সুরা ৩ আলে ইমরান : আয়াত ১৩৯-১৪১)
আল্লাহর কিতাবের বাহক ও প্রচারকদের আল্লাহ তায়ালা এভাবে সান্ত্বনা দেন:
أَمْ يُرِيدُونَ كَيْدًا ، فَالَّذِينَ كَفَرُوا হ্যমُ الْمَكِيدُونَ
অর্থ: নাকি তারা ষড়যন্ত্র করতে চায়? জেনে রাখো মূলত (সত্যকে) অস্বীকারকারীরাই হবে ষড়যন্ত্রের শিকার। (সূরা ৫২ আত তূর: আয়াত ৪২)
টিকাঃ
* এটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে বিয়াম অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ৫ম TOT ক্লাসে প্রদত্ত লেখকের বক্তব্য। বক্তব্য প্রদান কালে এর শিরোনামে ছিলো মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর পূর্বের রসূলগণের প্রতি যেসব মন্দ উপাধি এবং অপবাদ আরোপ করা হয়।