📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 বিরোধিতা ও প্রতিরোধের প্রেক্ষাপট তৈরি

📄 বিরোধিতা ও প্রতিরোধের প্রেক্ষাপট তৈরি


মূসা-এর দাওয়াতে জনগণ যখন আকৃষ্ট হয়ে পড়ে তখন মিশর সম্রাট ফেরাউন জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে বলে: إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُون অর্থ: তোমাদের কাছে প্রেরিত এই রসূল অবশ্যই একটা পাগল, জিনে ধরা লোক। (সূরা ২৬ আশ শোয়ারা: আয়াত ২৭)

ফেরাউন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর রসূল মূসাকে উদ্দেশ্য করে বলে :
لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ
অর্থ: তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে ইলাহ (সার্বভৌম কর্তা) হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কারারুদ্ধ করবো। (সূরা ২৬ আশ শোয়ারা: আয়াত ২৯)

ফেরাউন যতোই বিরোধিতা করতে থাকে, জনগণ ততোই আল্লাহর দীনের সত্যতা উপলব্ধি করতে থাকে এবং মূসার পক্ষে চলে যায়। ফলে ফেরাউন জনগণকে বুঝাতে থাকে :
إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَه
অর্থ: আমি আশঙ্কা করছি, সে (মূসা) তোমাদের দীনের (ধর্ম ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার) পরিবর্তন ঘটাবে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। (সূরা ৪০ মুমিন: ২৬)

ফেরাউন আরো বলে:
وَقَالَ فِرْعَوْنَ ذَرُونِي أَقْتُلْ مُوسَى وَلْيَدْعُ رَبَّهُ
অর্থ: তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও আমি মূসাকে হত্যা করি, সে তার প্রভুকে ডেকে দেখুক (তাকে রক্ষা করে নাকি)। (সূরা ৪০ আল মু'মিন: আয়াত ২৬)

শুধু মূসাকেই নয় মূসার সঙ্গী সাথীদেরকেও ফেরাউন তার রাষ্ট্র ক্ষমতার জোরে হত্যা করার নির্দেশ দেয়:
اقْتُلُوا أَبْنَاءَ الَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ
অর্থ: মূসার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের সব পুরুষকে হত্যা করো। (সূরা ৪০ আল মু'মিন : আয়াত ২৫)

সামূদ জাতি আল্লাহর রসূল সালেহ আলাইহিস সালামকে ধর্মদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাঁর সাথে এভাবে বিতর্কে লিপ্ত হয়:
قَالُوا يُصْلِحُ قَدْ كُنْتَ فِيْنَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَنَا أَن نَّعْبُلَ مَا يَعْبُلُ آبَاؤُنَا وَإِنَّনَا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ
অর্থ : হে সালেহ! তুমি ছিলে আমাদের (জাতির) আশা ভরসার স্থল। আর এখন কিনা তুমি আমাদের (ধর্ম ত্যাগ করে) আমাদেরকেই নিষেধ করছো সেইসব ইলাহদের ইবাদত করতে যাদের ইবাদত করে আসছে আমাদের চৌদ্দ পুরুষ! (সূরা ১১ হুদ: আয়াত ৬২)

বিশ্বনবী আখেরি রসূল মুহাম্মদ সা.-এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিলো, তিনি কেন সকল উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করলেন? সব ইলাহকে তিনি কেন এক ইলাহ্ বানিয়ে ফেললেন?
أَجَعَلَ الْأَلِهَةَ إِلَها وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ
অর্থ: সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে ফেলেছে? এতো এক আজব কথা! (সূরা ৩৮ সোয়াদ: আয়াত ৫)

إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوا الْمَيْنَا لِسَاعِرٍ مَجْنُونٌ
অর্থ: তাদেরকে যখন বলা হতো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-আল্লাহ ছাড়া কোনো সার্বভৌম কর্তা নেই', তখন তারা অহংকারে ফেটে পড়তো এবং বলতো : 'আমরা কি একটা পাগল কবিয়ালের কথায় আমাদের ইলাহদের (উপাস্য প্রভুদের) ত্যাগ করবো?' (সূরা ৩৭ সাফফাত: ৩৫-৩৬)

বিভিন্ন রকম উপাস্য ও দেবদেবীর পূজা করা ছিলো তখনকার জাহিলিয়াতের ধর্মীয় ভিত্তি। জীবনের সকল বিষয় এবং সকল ক্ষেত্রের জন্যে তারা বানিয়ে নিয়েছিল আলাদা উপাস্য-দেবতা। কেউ ছিলো ভাগ্যের দেবতা, কেউ ছিলো শুভাশুভের দেবতা, কেউ ছিলো বিয়ে শাদীর দেবতা, কেউ ছিলো অর্থ বিত্ত ও ধন দৌলতের দেবতা, কেউ ছিলো জয় ও সাফল্যের দেবতা, কেউ ছিলো জীবনের দেবতা, কেউবা ছিলো মৃত্যুর দেবতা। এভাবে বিভিন্ন কাজের দেবতা ছিলো আলাদা আলাদা। আরবরা এসব দেবতাকে বলতো ইলাহ্ এবং বহুবচনে আলেহা। মুহাম্মদ সা.-এর অপরাধ ছিলো, তিনি সকল ইলাহকে এক ইলাহতে পরিণত করে ফেলেছিলেন। তাঁর বিরোধিতার এটা ছিলো অন্যতম প্রধান কারণ।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 নবী রসূলগণের বিরোধিতাকারীদের কর্মকাণ্ড

📄 নবী রসূলগণের বিরোধিতাকারীদের কর্মকাণ্ড


বিরুদ্ধবাদীরা রসূলগণের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ সংঘটিত করেছিল, সেগুলো ছিলো এরকম :
১. নূহ আলাইহিস সালামকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
২. ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়।
৩. হুদ, সালেহ, শুয়াইব, ইউনুস আলাইহিমুস সালামকে প্রতিরোধ ও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
৪. মূসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়।
৫. মূসা আলাইহিস সালামের অনুসারী পুরুষদের হত্যা করা হয়।
৬. যাকারিয়া এবং ইয়াহিয়া সহ শত শত নবীকে হত্যা করা হয়।
৭. ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়।
৮. মুহাম্মদ সা. কে নানা রকম বিদ্রূপ গালি এবং অপবাদ আরোপ করা হয়। তাঁকে চরম নির্যাতন করা হয়। হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তাঁকে-
ক. উটের নাড়িভুড়ি দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
খ. গলায় চাদর পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
গ. পাথর মেরে মেরে রক্তাক্ত করা হয়।
ঘ. বয়কট করা হয়, শিবে আবি তালিবে তিন বছর বন্দি করে রাখা হয়।
ঙ. তায়েফে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
চ. সাহাবীদের ঘরবাড়ি ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
ছ. রসূল সা. কে হত্যার জন্য তাঁর বাড়ি ঘেরাও করা হয়।
জ. তাঁকে হিজরত করতে বাধ্য করা হয়।
ঝ. ইহুদিদের নানা রকম ষড়যন্ত্র।
ঞ. নবীর নাতিকে হত্যা করা হয়।
ট. নবীর অনুসারী বড় বড় আলেম ও মনীষীদের হত্যা করা হয়।

আধুনিক কালে ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র করা হয়, সেগুলো মূলত নবী রসূলগণের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ বিরোধিতা করা হয়েছিল সেগুলোরই ধারাবাহিকতা। সেকাল এবং একালে বিরোধিতা ও অভিযোগের ক্ষেত্রে পার্থক্য শুধু- ১. পরিভাষাগত এবং ২. পদ্ধতি ও কৌশলগত।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআনের কাজে বিরোধিতাকারী কারা?

📄 কুরআনের কাজে বিরোধিতাকারী কারা?


কুরআনের কাজে শত্রুতার ক্ষেত্রে যায়েনবাদী ইহুদিরাই অগ্রগামী। তারপর মুশরিকরা। তারপর খ্রিষ্টানদের কোনো কোনো গোষ্ঠী। বাকিরা এই তিন শ্রেণীরই অন্তর্ভুক্ত, অথবা তাদের অনুসারী বা মানসিক দাস। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনে মহান আল্লাহ পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন:
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا
অর্থ: অবশ্যই তুমি মুমিনদের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উগ্র দেখতে পাবে ইহুদিদের এবং মুশরিকদের। (সূরা ৫ মায়িদা: আয়াত ৮২)

এই একই আয়াতে খ্রিষ্টানদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, তারা অন্যদের তুলনায় মুমিনদের ব্যাপারে বন্ধুসুলভ। অন্যত্র বলা হয়েছে:
وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا طَ وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
অর্থ: তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের থেকে এবং মুশরিকদের থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। তবে তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো এবং ন্যায়নীতি অবলম্বন করো, তবে অবশ্যই সেটা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সূরা ৩ আলে ইমরান: ১৮৬)

মূলত, এরা ইসলাম ও ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ আপত্তি ও অপবাদ ছড়ায়, যা মুমিনদের মানসিক কষ্ট দেয়। এদের অন্তরে রয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষ। কুরআনের বাহকদের অগ্রগতি ও সাফল্য দেখলে তারা ক্রোধে ও ক্ষোভে আঙুল কামড়ায়।
وَاِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْاَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ ، قُلْ مُوْتُوْا بِغَيْظِكُمْ
অর্থ: তারা নিজেরা যখন একান্তে মিলিত হয়। তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে তারা নিজেদের আঙুল কামড়ায়। তুমি বলো: তোমরা তোমাদের আক্রোশ নিয়েই মরো। (সূরা ৩ আলে ইমরান: আয়াত ১১৯)

اِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ، وَاِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوْا بِهَا ، وَاِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا ، اِنَّ اللهَ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيْطٌ
অর্থ: তোমরা কোনো কল্যাণ লাভ করলে তা তাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তোমাদের কোনো অমঙ্গল দেখলে তারা আনন্দে ফুলে উঠে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন করো, তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। অবশ্যই আল্লাহ তাদের কর্মকাণ্ড পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। (সূরা ৩ আলে ইমরান : আয়াত ১২০)

وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوْذُوا حَتَّى أَتْهُمْ نَصْرُنَا ، وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَتِ اللهِ ، وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَّبَائِ الْمُرْسَلِيْنَ
অর্থ: (হে মুহাম্মদ!) তোমার পূর্ববর্তী অনেক রসূলকেই অস্বীকার করা হয়েছে। তারা এতে সবর করেছে। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছা পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছে। আল্লাহর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। তোমার কাছে রসূলদের কিছু ইতিহাস তো পৌঁছেছেই। (সূরা ৬ আন'আম : আয়াত ৩৪)

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 শত্রুতা, বিদ্রূপ, বিবাদ ও বাধা প্রদানের ধরণ

📄 শত্রুতা, বিদ্রূপ, বিবাদ ও বাধা প্রদানের ধরণ


মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর অনুসারীগণ সমাজে ইসলামের যে আলো প্রজ্জ্বলিত করেন, বিরোধীরা তা নিভিয়ে দিতে উদ্যত হয়:
يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمَّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُونَ
অর্থ : তারা আল্লাহর নূরকে (কুরআন ও ইসলামকে) ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরকে পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও অমান্যকারীরা তা অপছন্দ করে। (সূরা ৬১ আস সফ: আয়াত ৮)

তারা নবীগণকে আছাড় মেরে বিনাশ করে দিতে চায়:
وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ
অর্থ : বিরুদ্ধবাদীরা যখন কুরআন শুনে, তখন তারা চোখের তীব্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছাড় মেরে ফেলে দিতে চায় এবং মুখে বলে: একে তো ভূতে ধরেছে। (সূরা ৬৮ আল কলম: আয়াত ৫১)

بَلْ عَجিবْتَ وَيَسْخَرُونَ
অর্থ: তুমি তো তাদের (সত্যের বিরোধিতা দেখে) বিস্মিত হচ্ছো, অথচ তারা (তোমাকে নিয়ে) করছে বিদ্রূপ। (সূরা ৩৭ আস সাফফাত: আয়াত ১২)

وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا حَتَّى إِذَا جَاءُوكَ يُجَادِلُونَكَ
অর্থ: তারা যদি (ইসলাম সত্য ও বাস্তব হবার) সকল প্রমাণ-নিদর্শনও দেখে, তবু তারা তার প্রতি ঈমান আনবে না। এমনকি তারা তোমার কাছে এলে (এই মহাসত্য নিয়ে) বিতর্কে লিপ্ত হয়। (সূরা ৬ আল আন'আম : আয়াত ২৫)

وَهُمْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْثَوْنَ عَنْهُ وَإِنْ يُهْلِكُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
অর্থ: তারা জনগণকে (কুরআনের কথা, ইসলামের কথা) শ্রবণে বাধা দেয়, বারণ করে, নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে। আসলে এসবের মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদেরই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়; অথচ তারা তা উপলব্ধি করে না। (সূরা ৬ আন'আম : আয়াত ২৬)

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنَ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ
অর্থ: অমান্যকারী-বিরুদ্ধবাদীরা (জনগণকে) বলে 'তোমরা এই কুরআন (-এর কথা) শুনো না। যেখানে কুরআন (-এর কথা) আলোচিত হবে, সেখানেই হট্টগোল বাধিয়ে দাও যাতে করে তোমরা জয়ী হতে পারো।' (সূরা ৪১: ২৬)

الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالآخِرَةِ هُمْ كَفِرُونَ أُولَئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ
অর্থ: যারা আল্লাহর পথে (আল্লাহর কাজে) বাধা দেয় আর তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে এবং আখিরাত (এর বিচারকে) অস্বীকার করে, তারা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) অক্ষম-পরাস্ত করতে পারবে না। (সূরা ১১ হুদ: ১৯-২০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00