📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 রসূলের প্রতি আরোপিত মন্দ উপাধি ও অপবাদ সমূহ

📄 রসূলের প্রতি আরোপিত মন্দ উপাধি ও অপবাদ সমূহ


কুরআনের দাওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীরা মুহাম্মদ সা.-এর প্রতি সেইসব অপবাদই আরোপ করে, যেসব অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল তাঁর পূর্বেকার রসূলদের প্রতি। কুরআন সাক্ষ্য দিচ্ছে:

مَا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِنْ قَبْلِكَ
অর্থ: এমন একটি কথাও তোমাকে বলা হচ্ছেনা, যা তোমার পূর্বেকার রসূলদের বলা হয়নি। (সূরা ৪১ হামীম আস সাজদা: আয়াত ৪৩)

وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ
অর্থ: তোমার পূর্বেও রসূলগণকে অস্বীকার করা হয়েছে। (সূরা ৬: ৩৪)

এখন দেখা যাক, মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর পূর্বেকার রসূলগণকে কি কি অপবাদ দিয়ে অস্বীকার করা হয়েছে? রসূলগণের বিরুদ্ধে প্রত্যাখ্যানকারীদের অভিযোগ এবং অপবাদ ছিলো বিচিত্র ধরণের। কুরআন থেকে কিছু অপবাদ এবং অভিযোগ এখানে উল্লেখ করা হলো:

১. ساحر (সাহির) : ম্যাজিসিয়ান- জাদুকর :
كَذلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّن رَّসُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونَ
অর্থ: এমনি করে তোমার পূর্বে একজন রসূলও আসেনি, যাকে তারা ম্যাজিসিয়ান বা পাগল বলেনি। (সূরা ৫১ যারিয়াত: আয়াত ৫২)

২. ساحر عليم (সাহিরুন আলিম): বিজ্ঞ ম্যাজিসিয়ান :
قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسْحِرٌ عَلِيمٌ
অর্থ: ফেরাউনের জাতির নেতারা বললো: এ-তো (মূসা-তো) এক বিজ্ঞ ম্যাজিসিয়ান। (সূরা ৭ আল আরাফ: আয়াত ১০৯)

৩. ساحর مبين (সাহিরুম মুবিন): সুস্পষ্ট ম্যাজিসিয়ান :
قَالَ الْكَفِرُونَ إِنْ هَذَا لَسْحِرٌ مُّبِينٌ
অর্থ: এবং কাফিরা বলেছিল: এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিসিয়ান। (সূরা ১০ : ০২)

৪- كذاب (কাযযাব) : পাকা মিথ্যাবাদী :

৫. ساحর كذاب (সাহিরুন কাযযাব): পাকা মিথ্যাবাদী ম্যাজিসিয়ান :
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِايْتِنَا وَسُلْطَنٍ مُّبِينٍ إِلَى فِرْعَوْنَ وَهَامَنَ وَقَارُونَ فَقَالُوا سَحِرٌ كَذَّابٌ
অর্থ: আমি পাঠিয়েছি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউন, হামান এবং কারূণের নিকট। তারা বললো, এতো পাকা মিথ্যাবাদী ম্যাজিসিয়ান। (সূরা ৪০ আল মু'মিন: আয়াত ২৩-২৪)

৬. كذاب اشر (কাযযাবুন আশির): উদ্ধত মিথ্যাবাদী :
الْقِي الذِّكْرُ عَلَيْهِ مِنْ بَيْنِنَا بَلْ هُوَ كَذَّابٌ أَشِرَه
অর্থ: আমাদের মধ্যে কি কেবল তার (সালেহ) কাছেই যিকর নাযিল হলো? বরং সে একজন উদ্ধত মিথ্যাবাদী। (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ২৫)

৭. مَجْنُونٌ (মাজনুন): পাগল, উন্মাদ, জিনে ধরা:

৮. مَجْنُونٌ وَارْدُجِرٍ (মাজনুন ওয়াজদুজির): পাগল এবং ভয় পাওয়া:
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ فَكَذَّبُوا عَبْدَنَا وَقَالُوا مَجْنُونٌ وَازْدুজِرَه
অর্থ: এদের পূর্বেও (রসূলকে) অস্বীকার করেছিল নূহ- এর জাতি। তারা অস্বীকার করেছিল আমার দাসকে এবং বলেছিল এতো পাগল এবং তাকে ভয় দেখানো হয়েছে। (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ৯)

৯. رَجُلٌ مَسْحُورٌ (রাজুলুম মাসহুর): জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি :
إِذْ يَقُولُ الظَّلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلاً مَسْحُورًاه
অর্থ: স্মরণ করো যখন যালিমরা বলছিল তোমরাতো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছো। (সূরা ১৭ বনি ইসরাইল: আয়াত ৪৭)

১০. شاعر (শায়ের) : কবি :
بَلِ افْتَرَهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ
অর্থ: বরং সে (মুহাম্মদ) এটা (কুরআন) উদ্ভাবন করে নিয়েছে, বরং সে একজন কবি। (সূরা ২১ আম্বিয়া: আয়াত ৫)

১১. شَاعِرٍ مَجْنُونٌ (শায়িরুম মাজনুন): পাগল কবি :
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوا الْمَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍ
অর্থ: তারা বলছিল: আমরা কি একজন পাগল কবির জন্যে আমাদের ইলাহদের ত্যাগ করবো? (সূরা ৩৭ আস সাফ্ফাত: আয়াত ৩৬)

১২. كاهن (কাহিন) : গণক :
فَذَكِّرْ فَمَا أَنْتَ بِنِعْمَتِ رَبِّكَ بِكَامِنٍ وَلَا مَجْنُونٍ
অর্থ: উপদেশ দিতে থাকো। তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি গণকও নও, পাগলও নও। (সূরা ৫২ আত্ তুর: আয়াত ২৯)

টিকাঃ
* এটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে বিয়াম অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ৫ম TOT ক্লাসে প্রদত্ত লেখকের বক্তব্য। বক্তব্য প্রদান কালে এর শিরোনামে ছিলো মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর পূর্বের রসূলগণের প্রতি যেসব মন্দ উপাধি এবং অপবাদ আরোপ করা হয়।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআনের বিরুদ্ধে প্রত্যাখ্যানকারীদের অপবাদ

📄 কুরআনের বিরুদ্ধে প্রত্যাখ্যানকারীদের অপবাদ


কুরআনের আহ্বান প্রত্যাখ্যানকারীরা কুরআনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অপবাদ এবং অভিযোগ উত্থাপন করে। যেমন:
১. এটা একটা মিথ্যা জিনিস : افتك
২. এটা মনগড়া উদ্ভাবিত বাণী : افترنه
৩. এসব রচনাতে অন্য লোকেরা তাকে সাহায্য করেছে,
৪. এটা তো পূর্বকালের উপকথা : أَسَاطِيرُ الْأوْلِينَ
৫. সে এসব উপকথা লিখিয়ে নিয়েছে,
৬. এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তাকে পড়ে শুনানো হয় :
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا إِنَّكَ فَتِرِيهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ أَخَرُونَ فَقَدْ جَاءُوا ظلما و زوراه وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْলَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَمِيلاه
অর্থ: কাফিরেরা বলে : এটি মিথ্যার জাল, যা এ লোকটিই রচনা করেছে এবং অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা এতে তাকে সাহায্য করেছে। বস্তুতঃ এসব বলে কাফিররা জুলুম ও মিথ্যায় লিপ্ত হয়েছে। তারা বলে, 'এগুলো পুরাতন লোকদের রচিত জিনিস। সে এটা নকল করিয়েছে এবং তা সকাল-সন্ধ্যায় তাকে পড়ে শুনানো হয়। (সূরা ২৫ আল ফুরকান: আয়াত ৪-৫)

৭. এ কুরআন তার নিজের রচনা : تَقُولُون (সূরা ৫২ আত্ তুর: আয়াত ৩৩)
৮. এটা একটা ম্যাজিক : هَذَا سِحْرٌ । (সূরা ৪৩ আয যুখরুফ : আয়াত ৩০)
৯. এটা একটা সুস্পষ্ট ম্যাজিক : إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ । (সূরা ৬:৭, ১১:৭, ২৯:১৩, ৩৪:৪৩, ৩৭:১৫, ৪৬:৭, ৬২:৬)
১০. এটা একটা উদ্ভাবিত ম্যাজিক- ইন্দ্রজাল : مَا هُذَا إِلَّا سِحْرٌ مُقْتَرَى (সূরা ২৮ আল কাসাস : আয়াত ৩৬)
১১. এটা একটা চিরাচরিত ম্যাজিক : سِحْرٌ مُسْتَمِرُّ । (সূরা ৫৪ আল কামার : আয়াত ০২)
১২. এটাতো মানুষেরই কথা : إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ (৭৪:২৫, ১৬:১০৩)
১৩. তারা বলে : তুমি কারো কাছ থেকে এসব কথা পড়ে এসেছো : وَلِيَقُولُوا (সূরা ৬ আল আন'আম : আয়াত ১০৫)
১৪. শয়তান তাকে এসব কথা শিখিয়ে দেয় : تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيطِينُ (সূরা ২৬ আশ শোয়ারা: আয়াত ২১০)

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 রসূলের নিকট প্রত্যাখ্যানকারীদের অভিযোগ ও দাবি দাওয়া

📄 রসূলের নিকট প্রত্যাখ্যানকারীদের অভিযোগ ও দাবি দাওয়া


১. সমগ্র কুরআন একবারে নাযিল হলোনা কেন?
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً
অর্থ : কাফিররা বলে : কুরআন তার প্রতি একবারে একটি গ্রন্থকারে নাযিল হলোনা কেন? (সূরা ২৫ আল ফুরকান : আয়াত ৩২)

২. তার কাছে কোনো নিদর্শন পাঠানো হয়না কেন?
وَقَالُوا لَوْ لَا نُزِّلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ
অর্থ : তারা আরো বলে : তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন পাঠানো হলোনা কেন? (সূরা ৬ আল আন'আম : আয়াত ৩৭)

৩. তার প্রতি একটা ধনভাণ্ডার অবর্তীর্ণ হয়না কেন?
يَقُولُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ كَنزٌ
অর্থ : তারা বলে : তার প্রতি একটি ধনভাণ্ডার নাযিল হলোনা কেন? (সূরা ১১ হুদ : আয়াত ১২)

৪. তার সংগে ফেরেশতা থাকেনা কেন?
أَوْ جَاءَ مَعَهُ مَلَكَ
অর্থ : অথবা তার সাথে কোনো ফেরেশতা এলোনা কেন? (সূরা ১১ হুদ : আয়াত ১২)

৫. আমাদের ঈমান আনার জন্যে তোমাকে মাটির নিচ থেকে আমাদের জন্যে একটা ঝরণা ধারা উৎসারিত করতে হবে,
৬. তোমার একটা খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান থাকবে এবং তুমি তাতে অনেকগুলো ঝরণা প্রবাহিত করবে,
৭. আকাশকে খণ্ড বিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলে দেখাও,
৮. আল্লাহকে এবং ফেরেশতাদেরকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত করিয়ে দেখাও,
৯. তোমার স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত একটি ঘর থাকতে হবে,
১০. তুমি আকাশে আরোহণ করো,
১১. তুমি আকাশে উঠে আমাদের জন্যে একটা কিতাব নাযিল করো যেটা আমরা পড়তে পারবো :

وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِّن نَّخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهَرَ خِلْلَهَا تَفْجِيرًا ، أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلَئِكَةِ قَبِيلاً ، أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْت مِنْ زُخْرُفٍ অউ তَرْقَى فِي السَّمَاءِ ، وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرَقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتُبَا نَّقْرَؤُهُ ، قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُوْلاه

অর্থ: এবং তারা বলে, 'আমরা কখনই তোমার প্রতি ঈমান আনবো না, যতোক্ষণ না তুমি আমাদের জন্যে ভূমি থেকে একটা প্রস্রবণ উৎসারিত করবে, অথবা তোমার খেজুরের ও আঙ্গুরের একটা বাগান থাকবে যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দিবে ঝরণা ধারা। অথবা তুমি যেমন বলে থাকো তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড বিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলবে, অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত করবে। অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে, কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনবো না যতোক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি একটা কিতাব অবতীর্ণ করবে যা আমরা পাঠ করবো।' বলো: পবিত্র মহান আমার প্রভু! আমিতো একজন মানুষ রসূল মাত্র। (সূরা ১৭: আয়াত ৯০-৯৩)

১২. তুমিতো আমাদের মতোই একজন মানুষ,
১৩. তোমার অনুসারীরা তো নিচু শ্রেণীর লোক:
ফَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرِكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرِكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِى الرأي ج وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ ) بَلْ نَظُنُّكُمْ كُذِبِينَ
অর্থ: তার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা, যারা ছিলো কাফির তারা বললো, 'আমরা তোমাকে তো আমাদের মতো মানুষ ব্যতীত কিছু দেখছিনা; আমরা তো দেখছি, তোমার অনুসরণ করছে তারাই যারা আমাদের মধ্যে বাহ্য দৃষ্টিতেই অধম এবং আমরা আমাদের উপর তোমার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখছিনা, বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।" (সূরা ১১ হুদ: আয়াত ২৭)

১৪. হে সালেহ! তুমি তো আমাদের আশা ভরসার পাত্র ছিলে। অথচ আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যেসব জিনিসের ইবাদত করতো, এখন তুমি আমাদেরকে সেগুলোর ইবাদত করতে নিষেধ করছো? (সূরা ১১ হুদ: আয়াত ৬২)
১৫. হে শুয়াইব! তোমার সালাত কি আমাদের পূর্ব পুরুষদের উপাস্যদের ত্যাগ করার আদেশ দেয়? (সূরা ১১ হুদ: আয়াত ৮৭)
১৬. হে মূসা! তুমি কি আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে এসেছো? (সূরা ২০ তোয়া-হা: আয়াত ৫৭)
১৭. তোমাদের পূর্ব পুরুষরা যেসব জিনিসের ইবাদত করতো, এ তো সেগুলো থেকে তোমাদের বাধা দিতে এসেছে। (সূরা ৩৪ সাবা: আয়াত ৪৩)
১৮. আমার আশংকা হয় সে (মূসা) তোমাদের দীন বদল করে দেবে। (সূরা ৪০ আল মু'মিন: আয়াত ২৬)
১৯. সে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। (সূরা ৪০ আল মু'মিন: আয়াত ২৬)

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 দরবেশ, সুফী-সাধক ও দুনিয়া বিমুখ হবার দাবি

📄 দরবেশ, সুফী-সাধক ও দুনিয়া বিমুখ হবার দাবি


مَالِ هَذَا الرَّسُولُ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ
অর্থ: এ আবার কেমন রসূল- যে পানাহার করে এবং হাটে বাজারে চলাফেরা করে? (সূরা ২৫ আল ফুরকান: আয়াত ০৭)

مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ لا يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ .
অর্থ: এতো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। তোমরা যা খাও সে-ও তাই খায়। তোমরা যা পান করো, সেও তাই পান করে? (সূরা ২৩: ৩৩)

• তাদের বক্তব্যের জবাবে কুরআন বলে, রসূলরা মানুষ ছিলেন :
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
অর্থ: তোমার পূর্বে আমি যেসব রসূলদের পাঠিয়েছি তাদেরকেও স্ত্রী আর সন্তান-সন্তুতি দিয়েছি। (সূরা ১৩ রাদ: আয়াত ৩৮)

রসূল নিজেরও কোনো লাভ ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেন না :
قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ
অর্থ: তুমি বলো: আমি আমার নিজের ভালো-মন্দ এবং লাভ-ক্ষতি করারও কোনো অধিকার রাখিনা, তবে আল্লাহ যা চান তা-ই হয়। (সূরা ১০ : ৪৯)

وَإِن يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِن يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُه
অর্থ: আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্ট দেন বা তোমার কোনো ক্ষতি করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো মঙ্গল করেন, তবে তিনি অবশ্যই সর্ব শক্তিমান। (সূরা ৬ আন'আম: আয়াত ১৭)

• রসূল গায়েবও জানেন না এবং আল্লাহর ধন ভাণ্ডারের চাবিও তার কাছে নাই
قُلْ لا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكُ ، إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَى
অর্থ: তুমি তাদের বলো: আমি তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন ভাণ্ডার (-এর চাবি) আছে, একথাও বলছিনা যে আমি ফেরেশতা (মানবীয় দোষগুণের ঊর্ধ্বে)। বরং (আমি তো তোমাদের বলছি) আমি কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি অহী করা হয়। (সূরা ৬ আন'আম : আয়াত ৫০)

وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نذير و بَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অর্থ: আমি যদি গায়েব জানতামই, তবে তো নিজের জন্যে বহু সুযোগ সুবিধা করে নিতাম এবং আমাকে ক্ষতি আর অকল্যাণ স্পর্শই করতো না। মূলত আমি বিশ্বাসীদের জন্যে একজন সতর্ককারী এবং সুসংবাদদাতা ছাড়া আর কিছুই নই। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৮৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00