📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 অনুসরণ করো পূর্ণরূপে

📄 অনুসরণ করো পূর্ণরূপে


وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
অর্থ: তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সর্বোত্তম যে কিতাব (জীবন পদ্ধতি) নাযিল হয়েছে, তার অনুসরণ করো সেই সময়টি আসার আগেই, যখন হঠাৎ করে তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে পড়বে এবং তোমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারবে না। (সূরা ৩৯ যুমার: আয়াত ৫৫)

اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ
অর্থ: তোমরা এত্তেবা (অনুসরণ) করো সেই কিতাবের যা তোমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এবং তাঁকে ছাড়া আর কোনো অলি-আওলিয়ার এত্তেবা করো না। তোমরা উপদেশ কমই গ্রহণ করো। (সূরা ০৭ আ'রাফ: আয়াত ০৩)

وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
অর্থ: আর এই কিতাব এক মোবারক (কল্যাণময়) কিতাব যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি। সুতরাং তোমরা এটির এত্তেবা (অনুসরণ) করো এবং অবাধ্য হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করো, তাহলেই তোমরা রহম লাভ করবে। (সূরা ০৬ আন্'আম: আয়াত ১৫৫)

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
অর্থ: আর তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো আল্লাহর রশি (আল কুরআন) কে এবং (এর থেকে) তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা ০৩: আয়াত ১০৩)

বিদায় হজ্জের ভাষণে রসূল সা. তাঁর উম্মাহকে স্পষ্ট ভাষায় বলে গেছেন: تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةُ رَسُولِهِ
অর্থ: আমি তোমাদের মাঝে দুটো জিনিস রেখে গেলাম, যতোদিন তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, বিপথগামী হবে না। সে দুটো জিনিস হলো: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রসূলের সুন্নত। (মুসনাদে আহমদ)

পূর্বের আহলে কিতাবদেরও এই একই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল: خُذُوا مَا أَتَيْنَكُمْ بِقُوَّةٍ وَ اذْكُرُوا مَا فِيْهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ: শক্ত করে আঁকড়ে ধরো যে কিতাব আমি তোমাদের দিয়েছি সেটিকে, এবং অনুসরণ করো তাতে যে বিধান দেয়া হয়েছে, তবেই তোমরা রক্ষা পাবে (ধ্বংসের থেকে)। (সূরা ২ আল বাকারা: আয়াত ৬৩)

তুর পাহাড় মাথার উপর তুলে ধরে তাদের এ ধমক দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অতীতের আহলে কিতাবরা আল্লাহর কিতাবের সাথে জঘন্য অন্যায় আচরণ করে বিপথগামী এবং অধপতিত হয়েছে। তাদের আচরণ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: ১. তারা নিজেদের ইচ্ছা মতো আল্লাহর কিতাবে রদবদল করেছে। (২: ৭৫) ২. তারা নিজেদের পার্থিব স্বার্থে রচিত রীতি-নীতি আইন কানুনকে আল্লাহর কিতাবের বিধান বলে চালাতো। (২: ৭৯) ৩. তারা ধর্মীয় বিধানের বিনিময়ে সামান্য স্বার্থ ক্রয় করতো। (২: ৭৯) ৪. তারা কিতাবের বাহক নবীগণকে হত্যা করেছে। (২: ৬১, ৯১, ৩: ২১, ১১২) ৫. তারা নিজেদের স্বার্থে আল্লাহর কিতাবকে গোপন করতো। (২: ৪২, ১৭৪) ৬. তারা জনগণকে আল্লাহর কিতাব বুঝতে দিতো না। (৬২: ৫) ৭. তারা আল্লাহর কিতাব নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত ছিলো। (২: ২১৩)

টিকাঃ
* এটি রাজধানী বিয়াম অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি আয়োজিত মাসিক টট্ TOT ক্লাসের ৭ম অধিবেশনে প্রদত্ত লেখকের বক্তব্য। উল্লেখ্য তখন শিরোনাম ছিলো: কুরআনের ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 আল্লাহর কিতাব আংশিকভাবে মানার কঠিন পরিণতি

📄 আল্লাহর কিতাব আংশিকভাবে মানার কঠিন পরিণতি


افَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتٰبِ وَتَكْفুরُونَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَاء مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزَى فِي الحَيَوةِ الدُّنْيَا ، وَيَوْمَ الْقِيمَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدَّ العَذَابِ ، وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
অর্থ: তবে কি তোমরা আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ করবে অমান্য? তোমাদের যারাই এমনটি করবে, তাদের একমাত্র প্রতিদান হলো, তারা পার্থিব জীবনে থাকবে হীনতা আর লাঞ্ছনার মধ্যে এবং কিয়ামতের দিন তাদের নিক্ষেপ করা হবে কঠিনতম শাস্তির দিকে। তোমরা যা করো সে ব্যাপারে আল্লাহ গাফিল নন। (সূরা ২ বাকারা: আয়াত ৮৫ শেষাংশ)

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 আল্লাহ কিতাব প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করো

📄 আল্লাহ কিতাব প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করো


هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كرة المشركونه
অর্থ: তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন আল হুদা এবং দীনে হক নিয়ে, যাতে করে সে তার প্রচার, প্রকাশ, প্রতিষ্ঠা ও বিজয়ী করে (অন্য) সকল দীনের উপর, যদিও এ কাজ মুশরিকদের জন্যে বড়ই কষ্টকর। (সূরা ৯ আত তাওবা: আয়াত ৩৩; সূরা ৪৮ আল ফাতহ: আয়াত ২৮; সূরা ৬১ আসসফ: আয়াত ৯)

كِتُبْ أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّোরِ
অর্থ: এ কিতাব আমি নাযিল করেছি তোমার প্রতি, যাতে করে তুমি মানুষকে অন্ধকার রাশি থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসতে পারো। (সূরা ১৪ ইবরাহিম : আয়াত ১)

كِتَبٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ
অর্থ: এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং এর দ্বারা মানুষকে সতর্ক করার কাজে তোমার অন্তরে যেনো কোনো প্রকার কুণ্ঠা সৃষ্টি না হয়। (সূরা ৭ আরাফ: আয়াত ২)

يأَيُّهَا الرَّسُولُ بِلَغَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ طَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رسالته ط وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ طَ
অর্থ: হে রসূল! তোমার প্রভুর কাছ থেকে যে কিতাব নাযিল হয়েছে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। যদি তা না করো, তবে তুমি রিসালাতের দায়িত্ব পালন করলে না। (এ কাজে) আল্লাহই তোমাকে মানুষের দুষ্কৃতি থেকে রক্ষা করবেন। (সূরা ৫ আল মায়িদা: আয়াত ৬৭)

আল্লাহর কিতাবের প্রতিষ্ঠাই প্রাচুর্য ও উন্নতির উপায়। আল্লাহ পাক বলেন:

وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَيةَ وَالإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِم مِّن রَّبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِنْ فوقهِم وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ
অর্থ: তারা যদি কায়েম করতো তাওরাত, ইনজিল আর যা কিছু তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তাদের প্রভুর কাছ থেকে, তাহলে তারা অবশ্যই তাদের খাদ্যের যোগান লাভ করতো তাদের উপর থেকে এবং পায়ের নিচে থেকে। (সূরা ৫ মায়িদা : আয়াত ৬৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00