📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআনের মূল লক্ষ্য কী?

📄 কুরআনের মূল লক্ষ্য কী?


মহাগ্রন্থ আল কুরআনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে তার ইহকালীন ও পরকালীন প্রকৃত মুক্তি, কল্যাণ, শান্তি ও সাফল্যের পথ প্রদান করা এবং পথ প্রদর্শন করা, যাতে করে সে তার মুক্তি, কল্যাণ, শান্তি ও সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللهِ نُورٌ وَكِتَبٌ مُّبِينٌ ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السلم ويُخْرِجُهُم مِنَ الظُّلُمتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيرٍ

অর্থ: আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে একটি আলো এবং একটি কিতাব। এর সাহায্যে আল্লাহ তাঁর সন্তোষের অনুসারীদের পরিচালিত করেন 'শান্তির পথে' এবং তাদের বের করে আনেন অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে এবং তাদের পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর। (সূরা ৫: ১৫-১৬)

إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ

অর্থ: নিশ্চয়ই এ কুরআন পথ প্রদর্শন করে সেই দিকে যা সবচাইতে সঠিক। (সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৯)

يأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مّিন رَّبِّكُمْ وَانْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا فَلَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَاعْتَصَمُوا بِهِ فَسَيُدْخِلْهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِّنْهُ وَفَضْلٍ لا وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا .

অর্থ : হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে একটি প্রমাণ। আর সেই সাথে আমি তোমাদের কাছে নাযিল করেছি এক উদ্ভাসিত আলো। এখন যারা (তার আলোকে) ঈমান আনবে আল্লাহ্র প্রতি আর আঁকড়ে ধরবে সেই আলো, তিনি তাদের দাখিল করবেন তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যে এবং (এ উদ্দেশ্যে) তাদেরকে তাঁর দিকে পরিচালিত করবেন সিরাতুল মুস্তাকিমে। (সূরা ৪ নিসা : আয়াত ১৭৪-১৭৫)

وَاللَّهُ يَدْعُوا إِلَى دَارِ السَّلْمِ ، وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

অর্থ: (হে মানুষ!) আল্লাহ তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছেন শান্তির ঘরের দিকে এবং তিনি যাকে চান সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। (সূরা ১০ ইউনুস: আয়াত ২৫)

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআনের মূল উদ্দেশ্য কী?

📄 কুরআনের মূল উদ্দেশ্য কী?


আল কুরআনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তার প্রকৃত মুক্তি, কল্যাণ, শান্তি ও সাফল্যের পথ অবলম্বন ও অনুসরণের:
১. আহবান জানানো, উদ্বুদ্ধ করা, উৎসাহিত করা এবং প্রেরণা দান করা।
২. এ পথে চলার শুভ পরিণতির বর্ণনা দেয়া এবং সুসংবাদ দেয়া।
৩. এ পথের পরিচয় তুলে ধরা এবং এ পথে চলার বিস্তারিত কর্মনীতি ও কর্মপদ্ধতি পেশ করা।
৪. এপথের উপযুক্ত বিশ্বাস, চারিত্রিক গুণাবলী এবং করণীয় ও বর্জনীয় সমূহ অবহিত করে মুক্তি ও সাফল্য লাভের যোগ্যতা অর্জনের আহবান জানানো।
৫. ভ্রান্ত পথে চলার অশুভ পরিণতির বর্ণনা দেয়া এবং সতর্ক করা।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ কুরআনের বাহক মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা. কে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন:

وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّাসِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ

অর্থ : আর আমি তোমার প্রতি আয যিকর (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যেনো তুমি তা মানুষের সামনে পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরো, যাতে করে তাদের জন্যে যা (যে চলার পথ) নাযিল করা হয়েছে, তা (গ্রহণ করার বিষয়টি) তারা ভেবে চিন্তে দেখতে পারে। (সূরা ১৬ আন নহল: আয়াত ৪৪)

قُلْ يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الْحقُّ مِن رَّبِّكُمْ ، فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ ، وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ، وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بَوَكِيلٍ

অর্থ: (হে মুহাম্মদ! মানুষকে) বলে দাও হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে মহাসত্য (আল কুরআন)। সুতরাং যে কেউ সঠিক পথ গ্রহণ করবে, সঠিক পথ গ্রহণে তারই কল্যাণ হবে। আর যে কেউ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করবে, ভ্রান্ত পথ তারই ক্ষতির কারণ হবে। আমি তোমাদের দায় দায়িত্ব বহনকারী নই। (সূরা ১০ ইউনুস: আয়াত ১০৮)

وَاللَّهُ يَدْعُوا إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ ، وَيُبَيِّنُ أَيْتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يتذكرونه

অর্থ: আল্লাহ তাঁর ইচ্ছায় আহবান জানাচ্ছেন জান্নাতের দিকে এবং ক্ষমার দিকে আর তিনি তাঁর আয়াত সমূহ মানুষের জন্যে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা ২ আল বাকারা: আয়াত ২২১)

سَابَقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ .

অর্থ: তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে আসো তোমাদের প্রভুর ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা আসমান জমিনের প্রশস্ততার মতো। সেটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ঐসব লোকদের জন্যে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি। (সূরা ৫৭ আল হাদিদ: আয়াত ২১)

وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ ، وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ،

অর্থ: আর এটিই হলো আমার প্রদত্ত সিরাতুল মুস্তাকিম। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো। এর বাইরের পথ সমূহের অনুসরণ করো না। তাহলে তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। (সূরা ৬: আয়াত ১৫৩)

وَهُذَا كِتَبْ أَنْزَلْنَهُ مُبْرَكَ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

অর্থ: আমাদের অবতীর্ণ এই কিতাব বরকতময়। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং সতর্ক হও। আশা করা যায় তোমরা অনুকম্পা প্রাপ্ত হবে। (সূরা ৬ আনআম: আয়াত ১৫৫)

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআনের আলোচ্য বিষয় কী?

📄 কুরআনের আলোচ্য বিষয় কী?


মূল বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিশদ বর্ণনাই হচ্ছে কুরআন মজিদের আলোচ্য বিষয়।

মহান আল্লাহ নিজে আল কুরআনের কোনো আলোচ্যসূচি প্রদান করেননি। তাছাড়া এ মহাগ্রন্থে সূচিবদ্ধ আলোচনাও করা হয়নি। এ গ্রন্থ অতি উচ্চ মর্যাদার এক অভিনব গ্রন্থ যা চিরন্তন সত্যে সমুদ্ভাসিত এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিজস্ব বাণীর বৈশিষ্ট্যে সমুন্নত। এমন কোনো বিষয় নেই যা আল কুরআনে আলোচিত হয়নি। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَبِ مِنْ شَيْءٍ

অর্থ: এ কিতাবে আমরা কোনো কিছুই বাদ দিইনি। (সূরা ৬ আনআম: আয়াত ৩৮)

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِতَبَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ

অর্থ: আমরা তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের বর্ণনা সম্বলিত এবং পথনির্দেশ দয়া ও সুসংবাদ হিসেবে আত্মসমর্পণকারীদের জন্যে। (সূরা ১৬ আন নহল: আয়াত ৮৯)

কুরআন বিশেষজ্ঞগণ নিজস্ব গবেষণার ভিত্তিতে কুরআনের আলোচ্য বিষয় সাজিয়েছেন। আমাদের দৃষ্টিতে কুরআনের আলোচ্য বিষয় হলো:
১. আল্লাহর অস্তিত্ব, এককত্ব, ক্ষমতা ও গুণাবলীর বর্ণনা।
২. মানুষের সামগ্রিক জীবন পদ্ধতির বর্ণনা।
৩. আত্মগঠনের জন্যে হিকমত, উপদেশ ও উদাহরণ উপমা সমূহের বর্ণনা।
৪. সেই সব নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞার বর্ণনা, যেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে গোটা মানব জাতির কল্যাণ।
৫. ঈমানের দৃঢ়তা এবং সিদ্ধান্তের অবিচলতার জন্যে পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের কাহিনী বর্ণনা, যেনো তাঁদের অনুসরণ ও অনুবর্তন করে সফলতা ও কামিয়াবি হাসিল করা যায়।
৬. অতীতের অহংকারী অত্যাচারী লোকদের বর্ণনা, যারা সত্য এবং সত্যের আহবানকারীদের অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাদের এ অস্বীকৃতি ও প্রত্যাখ্যানের অশুভ পরিণতির বর্ণনা।
৭. পারস্পরিক সম্পর্ক, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং জনসাধারণ, আত্মীয় স্বজন ও পরিবার পরিজনের সাথে আচরণ ও সম্পর্কের নীতি ও প্রক্রিয়া আলোচনা।
৮. সৎ কাজ করা, অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ন্যায় ও সততার অনুসরণের জন্যে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৯. আসমান, যমীন এবং এতদোভয়ের মাঝখানে যেসব বিস্ময়কর জিনিস রয়েছে, এবং মানুষ, জীব জন্তু ও উদ্ভিদের ব্যাপারে চিন্তা করে দেখার জন্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যেনো এগুলো থেকে শিক্ষা ও উপদেশ লাভ করা যায়। এবং স্রষ্টার সঠিক পরিচয় ও মহিমা উপলব্ধি করা যায়।
১০. এ বিশ্বজাহানের পরিণাম ও ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য ঘটনাবলী ও প্রকৃত ব্যাপার সমূহের সংবাদ দেয়া হয়েছে। এ জগত ধ্বংসের পর দ্বিতীয়বারে উত্থান এবং আখিরাতের যিন্দিগীতে কোন্ ধরণের লোকদের কিরূপ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে আর কাদের চিরতরে আযাবে নিপতিত করা হবে, তার মর্মস্পর্শী আলোচনা করা হয়েছে।

মোট কথা, মানুষের চিরস্থায়ী কল্যাণের জন্যে এ গ্রন্থে অসংখ্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা মানব রচিত কোনো গ্রন্থে পাওয়া সম্ভবই নয়। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্যে পড়ুন আমাদের লেখা গ্রন্থ 'আল কুরআন আত তাফসির' ৪র্থ সংস্করণ পৃষ্ঠা ৩৩-৩৫।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআন মানা না মানার ফলাফল

📄 কুরআন মানা না মানার ফলাফল


وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْتُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

অর্থ: জনপদের লোকেরা যদি ঈমান আনতো ও তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করতো, তাহলে আমরা তাদের প্রতি আসমান ও যমিনের বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম। কিন্তু তারা তো অমান্যই করলো। এ কারণে আমরা তাদেরকে তাদের নিজেদেরই করা খারাপ কাজের দরুন পাকড়াও করলাম। (সূরা ৭: আয়াত ৯৬)

أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى طَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أولُوا الْأَلْبَابِ

অর্থ: এটা কি করে সম্ভব যে, যে ব্যক্তি তোমার প্রভুর এই কিতাবকে যা তিনি তোমার প্রতি নাযিল করেছেন সত্য বলে জানে, আর যে ব্যক্তি এই মহা সত্যের ব্যাপারে অন্ধ এরা দু'জনই সমান হয়ে যাবে? উপদেশ তো বুদ্ধিমান লোকেরাই গ্রহণ করে থাকে। (সূরা ১৩ আর রা'দ: আয়াত ১৯)

وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَتَفَرَّقُونَ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِايْتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ فأُولئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ

অর্থ: যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। যারা (পৃথিবীর জীবনে) ঈমান এনে আমলে সালেহ করেছিল তারা থাকবে উচ্চ মর্যাদার জান্নাতের বিলাসী জীবন যাপনের মধ্যে। আর যারা কুফুরি করেছিল এবং প্রত্যাখ্যান করেছিল আমার আয়াত এবং আখিরাতের সাক্ষাতকে, তাদেরকে রাখা হবে আযাবের মধ্যে। (সূরা ৩০ রুম: আয়াত ১৪-১৬)

এ প্রসঙ্গে আরো দ্রষ্টব্য: সূরা ২ আল বাকারা: আয়াত ২-১৬, সূরা ৪৩ যুখরুফ : আয়াত ৬৭-৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00