📄 আপনার বিবেক কী বলে?
আপনি পুরুষ হোন কিংবা মহিলা, আপনার কাজের জন্যে আপনাকে একান্ত ব্যক্তিগতভাবেই জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর কাছে। তাই আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনি যে কোনো দৃষ্টিভঙ্গিই পোষণ করুন না কেন, একবার কুরআন পড়ে দেখুন। মুক্ত ও নিরপেক্ষ মনে এ গ্রন্থটিকে অধ্যয়ন করুন। আপনার বিবেক, নিরপেক্ষ মন আর মানবিক যুক্তি যদি এ মহাগ্রন্থকে গ্রহণ করে, তবে আসুন, আপনি এ গ্রন্থকে আঁকড়ে ধরুন। বিবেক ও যুক্তিকে সম্মান দিন।
আপনি তো কতো গ্রন্থ, কতো বই-পুস্তকই পড়েন। সকল বই পত্রের মতো আল কুরআন পড়বার অধিকারও আপনার আছে। আপনি কেন বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত এই মহা গ্রন্থকে উপেক্ষা করছেন? এর ফলে কি আপনি এক বিরাট জিনিস হারাচ্ছেন না? আপনি সব ব্যাপারেই সক্রিয় হতে পারলে কুরআন পাঠের ব্যাপারে কেন সক্রিয় হতে পারবেন না?
তাই আসুন, কুরআন পড়ুন এবং কুরআনের সত্যতা, অকাট্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। বিবেক যদি এটিকে গ্রহণ করে, তবে আপনার পক্ষে বিবেকের বিরুদ্ধে যাওয়া কি ঠিক হবে?
পৃথিবীতে যতো বই পুস্তক ও গ্রন্থই লেখা হয়, সেটা যেকোনো বিষয়েই লেখা হয়ে থাক না কেন, হোক তা প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, হোক সমাজ বিজ্ঞান, হোক আইন-কানুন, কিংবা হোক তা অন্য কোনো বিষয়ের, তা মূলত লেখা হয় অনুসরণ, বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্যে। ব্যক্তিগত চিঠি থেকে আরম্ভ করে পত্র-পত্রিকা পর্যন্ত সবকিছু থেকেই মানুষ সংবাদ, তথ্য, তত্ত্ব, উপদেশ, সতর্কতা, কর্মনীতি, কর্মপন্থা ও নির্দেশিকা গ্রহণ করে।
অথচ আল কুরআন হলো মানুষের স্রষ্টা, মালিক ও প্রতিপালক মহান আল্লাহর বাণী। এ বাণীতে তিনি গোটা মানব জাতির জন্যে জীবন যাপনের হিদায়াত বা নির্দেশিকা প্রদান করেছেন। তাই মানুষের উচিত দুনিয়ার যে কোনো বই পুস্তক ও গ্রন্থের চাইতে আল কুরআনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে, অতীব গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং অপরিহার্য বিধান হিসেবে গ্রহণ করে পাঠ করা, শিখা, বুঝা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করা। সেই সাথে জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল কুরআনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। এ গ্রন্থে প্রদত্ত নির্দেশিকার আলোকে ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ উদ্দেশ্যে সর্বত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেয়া। ব্যাপকভাবে কুরআন শিখা, বুঝা এবং শিক্ষাদানের আয়োজন করা আর কুরআন চর্চার আন্দোলন গড়ে তোলা। আপনার বিবেক কি এই অকাট্য যুক্তি অগ্রাহ্য করবে?