📄 মানার কিতাব বুঝার কিতাব আল কুরআন
আল্লাহ যখনই কোনো নবীর মাধ্যমে কোনো জাতির কাছে কিতাব নাযিল করেছেন, তা করেছেন অনুসরণ, অনুকরণ করার জন্যে এবং সে কিতাব অনুযায়ী জীবন যাপন করার জন্যে। তিনি এই একই উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ সা.-এর মাধ্যমে মানুষের জন্যে কুরআন নাযিল করেছেন। একথা তিনি কুরআনে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন:
وَهُذَا كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ مُبٰرَكٌ فَاتَّبِعُوْهُ وَاتَّقُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ اَنْ تَقُوْلُوْا إِنَّمَآ اُنْزِلَ الْكِتٰبُ عَلٰى طَآئِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا ص وَإِنْ كُنَّا عَنْ دِرَاسَتِهِمْ لَগٰفِلِيْنَ اَوْ تَقُوْلُوْا لَوْ اَنَّا اُنْজِلَ عَلَيْنَا الْكِتٰبُ لَكُنَّآ اَهْدٰى مِنْهُمْ فَقَدْ جَآءَكُمْ بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ ، فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَّبَ بِاٰيٰতِ اللّٰهِ وَصَدَفَ عَنْهَا سَنَجْزِى الَّذِيْنَ يَصْدِفُوْنَ عَنْ اٰيٰতِنَا سُوْءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا يَصْدِفُوْنَ
অর্থ: আর আমি এ কিতাব নাযিল করেছি একটি আশীর্বাদপূর্ণ (blessed) কিতাব হিসেবে। কাজেই তোমরা এর অনুসরণ করো এবং (এর নির্দেশ অমান্য করার ক্ষেত্রে) আল্লাহকে ভয় করো। এভাবেই তোমরা লাভ করবে অনুকম্পা (mercy)। (এ কিতাব অবতীর্ণের পর) এখন আর তোমরা একথা বলতে পারবে না যে: কিতাব তো দেয়া হয়েছিল আমাদের পূর্বের দুটি দলকে (ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে) এবং তারা তাতে কী পাঠ করতো, তাতো আমরা কিছুই জানিনা।' কিংবা এখন আর তোমরা এ অভিযোগও করতে পারবে না যে: আমাদের প্রতি যদি কিতাব নাযিল হতো, তবে আমরা ওদের চাইতে অধিক সঠিক পথের অনুসারী হতাম।' সুতরাং এখন আর এসব কথা বলার সুযোগ নেই। এখন তো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট প্রমাণ (clear proof), পথনির্দেশ (guidance) এবং অনুকম্পা (mercy) এসেছে। এখন যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার চাইতে বড় ভুল আর কে করবে? যারা আমার আয়াত (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাদের এই সত্য বিমুখতার কারণে আমি তাদের নিকৃষ্ট আযাবে (evil torment) নিমজ্জিত করবো।' (সূরা ৬ আল আন'আম : আয়াত ১৫৫-১৫৭)
এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, কুরআন নাযিল করা হয়েছে অনুসরণ করার জন্যে। স্বয়ং আল্লাহ কুরআনকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর অনুসরণ করার জন্যে অবশ্যই কুরআন পড়তে এবং বুঝতে হবে। কিতাব নাযিল না করলে না পড়ার, না বুঝার ও অনুসরণ না করার ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত অভিযোগ থাকতে পারতো, কিন্তু এখন আর সে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। এখন যে ব্যক্তি কুরআন বুঝার ও অনুসরণ করার চেষ্টা করবে না, সে সব চাইতে বড় যালিম। সে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট শাস্তি ভোগ করবে।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে যে পথ প্রদর্শন করেছেন, তা-ই সত্য সঠিক পথ। এটাই দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি, কল্যাণ ও সাফল্যের পথ। এ জন্যে কুরআন প্রদর্শিত পথ হচ্ছে নূর বা আলো। এ ছাড়া বাকি সব মত ও পথ হচ্ছে অন্ধকার। কারণ বাকি সবই জাহান্নামের পথ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্যে:
الوقف كتُبْ أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ
অর্থ : হে মুহাম্মদ! এটি একটি কিতাব। আমরা এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে করে তুমি মানুষকে অন্ধকার রাশি থেকে আলোতে নিয়ে আসো।' (সূরা ১৪ ইবরাহিম : আয়াত ১)
فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ لَا أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ: কাজেই যারা তাঁর (রসূলের) প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, সাহায্য-সহযোগিতা করে এবং তার প্রতি যে নূর (আল কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে- তা মেনে চলে, তারাই হবে সফলকাম।' (সূরা ७ আ'রাফ: আয়াত ১৫৭)
هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ أَيْتَ ، بَيِّنَتٍ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ
অর্থ: তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর দাসের প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (কুরআন) নাযিল করেছেন, যাতে করে তিনি তোমাদের বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোতে।' (সূরা ৫৭ আল হাদীদ: আয়াত ৯)
এ আয়াতগুলোতে কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে, তাহলো মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসা। যে ব্যক্তি কুরআন বুঝলো না, তার কাছে তো আলো আর অন্ধকার দুটোই সমান। সুতরাং আলো দেখতে হলে কুরআন বুঝতে হবে। কুরআন না বুঝলে আলোতে আসার সুযোগ কোথায়?
কুরআন বলছে, আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেছেন যেনো মানুষ কুরআনের বক্তব্য বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, তা থেকে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করে:
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ط وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيْهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا
অর্থ: এরা কি এ কুরআনকে চিন্তাভাবনা ও বিচার বিবেচনা (consider) করে দেখে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো রচিত হতো, তবে অবশ্যই তারা এতে বক্তব্যের অসংগতি খুঁজে পেতো।' (সূরা ৪ আন নিসা : আয়াত ৮২)
كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ إِلَيْكَ مُبٰرَكٌ لِّيَدَّبَّرُوْٓا اٰيٰتِهٖ وَلِيَتَذَكَّرَ اُولُوا الْاَلْبَابِ
অর্থ: এটি একটি বই। আমরা এটি তোমার কাছে অবতীর্ণ করেছি। এটি একটি আশীর্বাদ। এই আশীর্বাদ গ্রন্থ আমরা এজন্যে নাযিল করেছি যাতে করে মানুষ এর আয়াতগুলো সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে এবং বুঝ-বিবেকওয়ালা লোকেরা যেনো এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।' (সূরা ৩৮ সোয়াদ: আয়াত ২৯)
اَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْاٰنَ اَمْ عَلٰى قُلُوبٍ اَقْفَالُهَا
অর্থ: তারা কি মনোযোগ সহকারে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরগুলোতে তালা লাগানো রয়েছে?' (সূরা ৪৭ মুহাম্মদ: আয়াত ২৪)
এই তিনটি আয়াতেই যারা কুরআন বুঝার চেষ্টা করে না এবং মনোযোগ সহকারে কুরআন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে না, আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, কুরআন যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো রচিত হতো, তবে এতে অনেক অসংগতি ও স্ববিরোধী বক্তব্য পাওয়া যেতো, কিন্তু যারা কুরআন বুঝে এবং কুরআন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, তাদের কাছে একথা পরিষ্কার যে, কুরআনে কোনো অসংগতি নেই, কোনো স্ববিরোধী বক্তব্য নেই। তাই এটি কিছুতেই আল্লাহ ছাড়া আর কারো রচিত হতে পারে না। কেবল আল্লাহর বাণীই এমন সুসামাঞ্জস্যপূর্ণ ও সুবিন্যস্ত (well-ordered) হতে পারে।
যারা কুরআন বুঝে না, তাদের পক্ষে কুরআনকে আল্লাহর বাণী বলে প্রমাণ করার সুযোগ নেই।
- সূরা সোয়াদের আয়াতটিতে বলা হয়েছে, কুরআন নাযিলই করা হয়েছে বুঝার জন্যে, চিন্তাভাবনা করে দেখার জন্যে।
- বলা হয়েছে, বুঝ-বুদ্ধিওয়ালা লোকেরাই কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
- সূরা মুহাম্মদের আয়াতটিতে বলা হয়েছে, যারা কুরআন থেকে বুঝার চেষ্টা করে না, কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের অন্তরে তালা লেগে আছে।
সম্মানিত পাঠকগণের ভেবে দেখার জন্যে বলছি, দেখুন, মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শুনে, হাত দিয়ে স্পর্শ করে, মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে; কিন্তু এই অঙ্গগুলো দিয়ে বুঝতেও পারে না, উপলব্ধিও করতে পারে না। মানুষ বুঝে এবং উপলব্ধি করে তার অন্তর ও মন-মস্তিস্ক দিয়ে। যারা তাদের মন-মস্তিস্ক কাজে লাগায় না, তাদের চোখ কী দেখলো তার খবর তারা রাখে না। তাদের কান কী শুনলো সে খবর তারা রাখে না। তাদের শরীরে কিসের স্পর্শ লাগলো, সে বোধ তাদের থাকে না। তাদের মুখ কী পাঠ করলো তাদের মর্মে তা পৌঁছে না। তাই বলা হয়েছে তাদের অন্তরে তালা লেগে আছে। যারা কুরআন বুঝার চেষ্টা করে না, মন-মস্তিস্ক খাটায় না এবং বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগায় না, তাদের সম্পর্কে কুরআন বলে:
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا الْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ، أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَ لا يَهْتَدُونَ وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَ نِدَاءٌ ، صُمَّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لا يَعْقِلُونَ
অর্থ: আর যখন তাদের বলা হয়: আল্লাহ (কুরআনে) যে বিধান নাযিল করেছেন, তোমরা তা মেনে চলো।' তখন তারা বলে: 'আমাদের বাপ-দাদারা যে পথে চলেছে, আমরা সে পথেই চলবো।' আচ্ছা, তাদের বাপ-দাদারা যদি বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে না থাকে এবং সঠিক পথ লাভ করে না থাকে, তবু কি তারা তাদের অনুসরণ করবে? যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান মুতাবিক চলতে অস্বীকার করে, তাদের উপমা হলো রাখালের পশু। রাখাল তার পশুকে ডাকে, কিন্তু পশু তার ডাকাডাকির শব্দ (আওয়াজ) ছাড়া আর কিছুই শুনে না (বুঝে না)। আসলে এই লোকেরা কালা, বোবা, অন্ধ। তাই তারা কিছুই বুঝতে পারে না।' (সূরা ২ আল বাকারা: আয়াত ১৭০-১৭১)
وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْئِدَتُهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِذْ كَانُوا يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ .
অর্থ: আমি তাদের কান দিয়েছিলাম, চোখ দিয়েছিলাম, অন্তর দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর আয়াতকে অমান্য-অস্বীকার করার কারণে তাদের কান তাদের কোনো উপকার করেনি, তাদের চোখ তাদের কোনো উপকারে আসেনি, আর তাদের অন্তর তাদের কোনো কাজে আসেনি।' (সূরা ৪৬ আল আহকাফ: আয়াত ২৬)
فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ
অর্থ: আসলে তাদের চোখ অন্ধ নয়, বরং অন্ধত্ব চেপে বসেছে তাদের বুকের মধ্যকার অন্তরে।' (সূরা ২২ আল হজ্জ : আয়াত ৪৬)
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مستوراة وجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا
অর্থ: তুমি যখন কুরআন পড়ো (পেশ করো), তখন আমরা তোমার ও আখিরাতে অবিশ্বাসীদের মাঝখানে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিই এবং তাদের অন্তরের উপর আবরণ ছড়িয়ে দিই যাতে করে তারা তা (কুরআন) না বুঝে, তাছাড়া তাদের কানেও তালা লাগিয়ে দিই।' (সূরা ১৭ বনি ইসরাঈল: আয়াত ৪৫-৪৬)
كَلابَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অর্থ: কখনো নয়, বরং আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করার কারণে তাদের অন্তরে মরীচিকা পড়ে গেছে।' (সূরা ৮৩ মুতাফফিকীন: আয়াত ১৪)
এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, যারা কুরআন অস্বীকার করে, তারা তাদের বিরোধিতার কারণে কুরআনকে হৃদয়ংগম করতে পারে না, কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না।
- যারা অর্থ না বুঝে কুরআনের শব্দ উচ্চারণ করাকেই যথেষ্ট মনে করে, তাদের উপমা হচ্ছে রাখালের ভেড়া, যারা রাখালের কথার শব্দ শুনে, কিন্তু মর্ম বুঝে না।
- যারা অর্থ ও মর্ম না বুঝে কুরআন পড়ে, তাদের ও কুরআনের মাঝখানে একটা পর্দা ঝুলে আছে। তারা কুরআনের শব্দ শুনে, তবে কুরআনকে দেখে না।
📄 আপনার বিবেক কী বলে?
আপনি পুরুষ হোন কিংবা মহিলা, আপনার কাজের জন্যে আপনাকে একান্ত ব্যক্তিগতভাবেই জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর কাছে। তাই আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনি যে কোনো দৃষ্টিভঙ্গিই পোষণ করুন না কেন, একবার কুরআন পড়ে দেখুন। মুক্ত ও নিরপেক্ষ মনে এ গ্রন্থটিকে অধ্যয়ন করুন। আপনার বিবেক, নিরপেক্ষ মন আর মানবিক যুক্তি যদি এ মহাগ্রন্থকে গ্রহণ করে, তবে আসুন, আপনি এ গ্রন্থকে আঁকড়ে ধরুন। বিবেক ও যুক্তিকে সম্মান দিন।
আপনি তো কতো গ্রন্থ, কতো বই-পুস্তকই পড়েন। সকল বই পত্রের মতো আল কুরআন পড়বার অধিকারও আপনার আছে। আপনি কেন বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত এই মহা গ্রন্থকে উপেক্ষা করছেন? এর ফলে কি আপনি এক বিরাট জিনিস হারাচ্ছেন না? আপনি সব ব্যাপারেই সক্রিয় হতে পারলে কুরআন পাঠের ব্যাপারে কেন সক্রিয় হতে পারবেন না?
তাই আসুন, কুরআন পড়ুন এবং কুরআনের সত্যতা, অকাট্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। বিবেক যদি এটিকে গ্রহণ করে, তবে আপনার পক্ষে বিবেকের বিরুদ্ধে যাওয়া কি ঠিক হবে?
পৃথিবীতে যতো বই পুস্তক ও গ্রন্থই লেখা হয়, সেটা যেকোনো বিষয়েই লেখা হয়ে থাক না কেন, হোক তা প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, হোক সমাজ বিজ্ঞান, হোক আইন-কানুন, কিংবা হোক তা অন্য কোনো বিষয়ের, তা মূলত লেখা হয় অনুসরণ, বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্যে। ব্যক্তিগত চিঠি থেকে আরম্ভ করে পত্র-পত্রিকা পর্যন্ত সবকিছু থেকেই মানুষ সংবাদ, তথ্য, তত্ত্ব, উপদেশ, সতর্কতা, কর্মনীতি, কর্মপন্থা ও নির্দেশিকা গ্রহণ করে।
অথচ আল কুরআন হলো মানুষের স্রষ্টা, মালিক ও প্রতিপালক মহান আল্লাহর বাণী। এ বাণীতে তিনি গোটা মানব জাতির জন্যে জীবন যাপনের হিদায়াত বা নির্দেশিকা প্রদান করেছেন। তাই মানুষের উচিত দুনিয়ার যে কোনো বই পুস্তক ও গ্রন্থের চাইতে আল কুরআনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে, অতীব গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং অপরিহার্য বিধান হিসেবে গ্রহণ করে পাঠ করা, শিখা, বুঝা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করা। সেই সাথে জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল কুরআনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। এ গ্রন্থে প্রদত্ত নির্দেশিকার আলোকে ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ উদ্দেশ্যে সর্বত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেয়া। ব্যাপকভাবে কুরআন শিখা, বুঝা এবং শিক্ষাদানের আয়োজন করা আর কুরআন চর্চার আন্দোলন গড়ে তোলা। আপনার বিবেক কি এই অকাট্য যুক্তি অগ্রাহ্য করবে?