📄 আল কুরআন আল্লাহর অনির্বান আলো
আল কুরআন বিশ্ববাসীর জন্যে মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত জীবন যাপনের বিধান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জিবরিল আমীনের মাধ্যমে মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট এই মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করেন। এটি অক্ষরে অক্ষরে আল্লাহর বাণী। এতে কোনো প্রকার শোবা-সন্দেহ নেই। এর প্রতিটি কথা, প্রতিটি বাণী, প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি তথ্য, প্রতিটি তত্ত্ব, প্রতিটি সংবাদ, প্রতিটি খবর, প্রতিটি ভবিষ্যৎ বাণী এবং এতে বর্ণিত প্রতিটি ঘটনা অকাট্য সত্য।
আল কুরআন আল্লাহর বাণী হবার ব্যাপারে ঐতিহাসিকভাবেও কোনো প্রকার সন্দেহ-সংশয় নেই। গত দেড় হাজার বছরে কেউ আল কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। যে-ই এসেছে চ্যালেঞ্জ করেছে, সে-ই হয়েছে কূপোকাত। আল কুরআন মানব জাতির প্রতি বিশ্ব-স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালার এক অসীম ও অফুরন্ত অনুগ্রহ। এ কুরআন গোটা মানব জাতির জন্যে আল্লাহর দেয়া নির্ভুল পথ-নির্দেশ ও শাশ্বত জীবন-বিধান।
এই মহাগ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু 'মানুষ'। কিসে মানুষের ভালো আর কিসে মানুষের মন্দ? কোটি মানুষের কল্যাণের পথ আর কোনটি অকল্যাণের? কিসে মানুষের লাভ আর কিসে তার ক্ষতি? কোনটি মানুষের ধ্বংসের পথ আর কোনটি মুক্তির? কোনটি শাস্তির পথ আর কোনটি পুরস্কারের? কোটি মানুষের স্রষ্টা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ আর কোনটি তাঁর অসন্তুষ্টির? -কুরআনের সব কথা আলোচিত হয়েছে এই লক্ষ্য বিষয়কে কেন্দ্র করেই।
মানুষকে আল্লাহর ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি এবং তাঁর বিধান ও হুকুম জানাবার জন্যে তিনি এক সুন্দর ও অনুপম নিয়ম প্রবর্তন করেন। সেই মানব সৃষ্টির প্রথম থেকে তিনি মানুষের মধ্য থেকেই কিছু লোককে নবী রসূল নিযুক্ত করেন। এই নবী রসূলদের মাধ্যমে তিনি মানুষকে তাঁর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির পথ ও তাঁর হুকুম বিধান জানিয়ে দিতে থাকেন। মুহাম্মদ সা. আল্লাহর সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আল্লাহ পৃথিবীতে আর কোনো নবী পাঠাবেন না। মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্যে আল্লাহ তাঁর প্রতি আল কুরআন নাযিল করেছেন। কুরআন আল্লাহ প্রদত্ত সর্বশেষ কিতাব। আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী, পৃথিবীতে মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-এর পর যেমন আর কোনো নবী তিনি পাঠাবেন না, ঠিক তেমনি আল কুরআনের পর আর কোনো কিতাবও পাঠাবেন না।
আল কুরআনই আল্লাহর প্রকৃত পরিচয়, রিসালাতের মর্যাদা, পরকালীন জবাবদিহিতা এবং জান্নাত এবং জাহান্নাম সম্পর্কে জানবার মূল সূত্র। একমাত্র এ কিতাবের মাধ্যমেই মানুষ খুঁজে পেতে পারে নিজের মুক্তির পথ। লাভ করতে পারে সত্য সঠিক জীবন বিধান। বিশ্বের সমস্যা নিপীড়িত ও শান্তির অন্বেষী মানবতাকে কেবল এ কিতাবই দিতে পারে সুখ শান্তি ও মুক্তির দিশা। এ কিতাবই এখন বিশ্ব মানবতার সামনে মুক্তির একমাত্র মনুমেন্ট।
📄 শান্তির পথ মুক্তির পথ আল কুরআন
মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। তাই কী বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এবং কী পদ্ধতিতে জীবন-যাপন করলে মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হবে, তা একমাত্র মানুষের স্রষ্টা মহান আল্লাহই জানেন। পরম করুণাময় স্রষ্টা মহান আল্লাহ মানুষের জীবন-দর্শন ও জীবন-যাপন পদ্ধতি হিসেবে নাযিল করেছেন আল কুরআন। এ কুরআনই মানুষের শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের একমাত্র গ্যারান্টি। আল্লাহ বলেন:
قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَبٌ مُّبِينٌ ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ
অর্থ : আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে এক আলো (নবী মুহাম্মদ সা.) এবং একটি সত্য ও সঠিক পথ প্রকাশকারী কিতাব, যার দ্বারা আল্লাহ তাঁর সন্তোষ সন্ধানকারীদের শান্তি ও নিরাপত্তার পথ দেখান এবং নিজের ইচ্ছায় তিনি তাদের বের করে আনেন সকল প্রকার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, আর তাদের পরিচালিত করেন সরল-সঠিক পথে (to the straight way)।' (সূরা ৫ আল মায়িদা : আয়াত ১৫-১৬)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَكُم بُরْهَٰنٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا
অর্থ: হে মানব জাতি! তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছে এক দৃঢ় প্রত্যয় সৃষ্টিকারী প্রমাণ (নবী মুহাম্মদ সা.), তাছাড়া আমরা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি একটি সুস্পষ্ট কিতাব (অর্থাৎ আল কুরআন)'। (সূরা ৪ আন নিসা : আয়াত ১৭৪)
هُذَا بَصَائِرُ مِنْ رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِكَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
অর্থ : এটি (আল কুরআন) হচ্ছে তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে অবতীর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সত্যায়িত প্রমাণ এবং সেই লোকদের জন্যে শাশ্বত গাইড ও অনুকম্পা, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে।' (সূরা ৭ আল আ'রাফ: আয়াত ২০৩)
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ
অর্থ: আমি আমার রসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি আল কিতাব আর সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি, যাতে করে মানবজাতি সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।' (সূরা ৫৭ আল হাদীদ: আয়াত ২৫)
هُذَا بَيَانَ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَ مَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থ: এটি (আল কুরআন) মানবজাতির জন্যে একটি সুস্পষ্ট বিবরণ (plain statement) আর বিবেকের অনুসারীদের জন্যে একটি জীবন পদ্ধতি ও পথ নির্দেশ।' (সূরা ৩ আলে ইমরান: আয়াত ১৩৮)
وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ
অর্থ: আমরা তোমার প্রতি এই কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যা প্রতিটি জিনিসের পরিষ্কার বিবরণ সম্বলিত। তাছাড়া আত্মসমর্পণকারীদের (মুসলিমদের) জন্যে এটি একটি শাশ্বত জীবন-পদ্ধতি, একটি অনুকম্পা এবং সুসংবাদ।' (সূরা ১৬ আন নহল: আয়াত ৮৯)
মানুষের মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার এ বাণীগুলো থেকে আল কুরআনের প্রকৃত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এ যেনো কুরআনের জীবন্ত ছবি। এই ছবিতে আঁকা হয়েছে:
- কুরআন সত্য ও সঠিক পথ প্রদর্শক।
- কুরআন মানুষকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথ দেখায়।
- কুরআন আল্লাহর সন্তোষ সন্ধানকারীদের সকল প্রকার অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে আনে।
- কুরআন আল্লাহর সন্তোষ সন্ধানকারীদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- কুরআন এক সুস্পষ্ট আলো।
- কুরআন আল্লাহর অবতীর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সত্যায়িত প্রমাণ।
- কুরআন বিশ্বাসীদের জন্যে শাশ্বত গাইড।
- কুরআন বিশ্বাসীদের জন্যে এক অতিবড় অনুকম্পা।
- কুরআন সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি।
- মানব জাতিকে ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠা করাই কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য।
- কুরআন একটি জীবন-পদ্ধতি, একটি পথ নির্দেশ।
- কুরআন এক অতিবড় অনুকম্পা ও সুসংবাদ।
📄 অনুসরণ করা ছাড়া সুফল লাভ করা যায়না
কিন্তু, যে কোনো বাণীর মতোই আল কুরআনের বাণীও বিমূর্ত উপদেশ ও পথ-নির্দেশই বটে। শুধু অনুসরণ, অনুবর্তন এবং বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই আল্লাহর বাণী হয়ে উঠতে পারে মূর্ত এবং মানুষ লাভ করতে পারে তার সুফল ও কার্যকারিতা। আর মূলত মানা ও বাস্তবায়ন করার জন্যেই নাযিল করা হয়েছে আল কুরআন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
ذلِكَ أَمْرُ اللهِ أَنْزَلَهُ إِلَيْكُمْ وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّاتِهِ وَيُعْظِرْ لَهُ أَجْرًاه
অর্থ: এ (কুরআন) হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ (command), এটি তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন। অতএব যে-ই আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করাকে ভয় করে চলবে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় জীবন যাপন করবে, তার অপরাধসমূহ মুছে দেয়া হবে এবং সম্প্রসারিত (enlarge) করা হবে তার জন্যে শুভ পুরস্কার।' (সূরা ৬৫ আত তালাক: আয়াত ৫)
وَهَذَا كِتَبٌ أَنْزَلْنَهُ مُبْرَكَ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
অর্থ: আর আমাদের অবতীর্ণ এ কিতাব সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। তাই তোমরা এটিকে অনুসরণ করো, মেনে চলো এবং (এতে প্রদত্ত) নির্দেশ অমান্য করাকে ভয় করো। আশা করা যায় এভাবেই তোমরা (আল্লাহর) অনুকম্পা লাভ করতে সক্ষম হবে।' (সূরা ৬ আল আনআম: আয়াত ১৫৫)
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا ، وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ لَا مَالَكَ مِنْ اللَّهِ مِنْ وَلِي وَلَا وَاق
অর্থ : এভাবেই আমরা এ কুরআনকে আরবি ভাষায় নাযিল করেছি (কর্তৃপক্ষের) চূড়ান্ত রায় হিসেবে। (হে মুহাম্মদ!) আল্লাহর বিধানের জ্ঞান তোমার কাছে পৌঁছে যাবার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশি ও দাবির অনুসরণ করো, তবে তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে না কোনো অভিভাবক পাবে আর না কোনো রক্ষক।' (সূরা ১৩ আর রা'দ : আয়াত ৩৭)
وَلَقَدْ يَসَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرِه
অর্থ: অবশ্যি আমরা এ কুরআন বুঝার জন্যে সহজ করে নাযিল করেছি। অতএব কে আছে এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে? (সূরা ৫৪ আল কামার: আয়াত ৪০)
وَالَّذِينَ كَفَرُوا فَتَعْسًا لَّهُمْ وَأَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ
অর্থ: যারা (আল্লাহর হুকুম) অমান্য করছে তাদের ধ্বংস নিশ্চিত। আর আল্লাহ তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করে দিয়েছেন। এমনটি এজন্যে করেছেন যেহেতু তারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধানকে অনুসরণ করতে অপছন্দ করেছে। ফলে তিনি তাদের সমস্ত আমল ও কার্যক্রম নিষ্ফল বানিয়ে দিয়েছেন।' (সূরা ৪৭ মুহাম্মদ: আয়াত ৮-৯)
إِنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ لِلنَّাসِ بِالْحَقِّ ، فَمَنِ اهْتَدَى فَلِنَفْسِهِ ، وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا
অর্থ: (হে মুহাম্মদ!) আমরা গোটা মানব সমাজের জন্যে এ মহাসত্য কিতাব (কুরআন) তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। এখন যে ব্যক্তিই এতে প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করবে, তাতে সে নিজেরই কল্যাণ করবে।' (সূরা ৩৯ যুমার: আয়াত ৪১)
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنْزِيلاً ، فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ آثِمًا أَوْ كَفُورًا .
অর্থ: (হে মুহাম্মদ!) আমরা তোমার প্রতি আল কুরআন নাযিল করেছি অল্প অল্প করে (by stages)। অতএব, তুমি দৃঢ়তার সাথে তোমার প্রভুর নির্দেশ পালনে অটল থাকো। আর তাদের (সমাজের) মধ্যকার কোনো পাপিষ্ঠ কিংবা অবিশ্বাসীর আনুগত্য-অনুসরণ করো না।' (সূরা ৭৬ আদ দাহার: আয়াত ২৩-২৪)
এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার হয়ে গেলো, মানুষের স্রষ্টা মহান আল্লাহ আল কুরআন নাযিল করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্যে। তিনি কুরআন নাযিল করেছেন মানুষের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হিসেবে, যাতে করে মানুষ কুরআনের ভিত্তিতে জীবন যাপন করে। যাতে করে মানুষ বাস্তব জীবনে কুরআন মেনে চলা ও অনুসরণ করার মাধ্যমে অর্জন করে দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি ও কল্যাণ। এ আয়াতগুলোর সার কথা হলো:
- কুরআন হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ (Command)।
- যারা আল্লাহর এই নির্দেশের ভিত্তিতে জীবন যাপন করবে তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তাদের দেয়া হবে সম্প্রসারিত পুরস্কার।
- কুরআন মানুষের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি যদি মানুষ কুরআন মেনে চলে এবং এর ভিত্তিতে জীবন যাপন করে।
- কুরআন মহাবিশ্বের একমাত্র কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহ প্রদত্ত রায়। কুরআন বাদ দিয়ে মানব রচিত নিয়ম-বিধি অনুসরণ করা মানে আল্লাহর অভিভাবকত্ব থেকে বিমুখ হওয়া।
- কুরআন বুঝা এবং এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করা খুবই সহজ।
- আল্লাহর হুকুম অমান্য করা মানে নিজেকে ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষেপ করা।
- কুরআন অমান্যকারীদের সমস্ত কর্মতৎপরতা নিষ্ফল যাবে।
- যে ব্যক্তি কুরআনের অনুসরণ করবে সে নিজেরই কল্যাণ করবে।
- কুরআন ভাগে ভাগে নাযিল করা হয়েছে দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর নির্দেশের উপর অটল থাকার জন্যে।
- কুরআন অমান্যকারী পাপিষ্ঠদের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব অস্বীকার ও অমান্য করতে হবে।
একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেলো, মানুষ যদি শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণ চায়, তবে তাকে অবশ্যই আঁকড়ে ধরতে হবে আল কুরআন। এছাড়া শান্তি মুক্তি ও কল্যাণের বিকল্প কোনো পথ নেই। তাছাড়া যারা আল্লাহর বাণী হিসেবে আল কুরআনের প্রতি ঈমান রাখেন, শুধুমাত্র আল কুরআনের অনুসরণ ও বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি ও সাফল্যের গ্যারান্টি। অপরদিকে কুরআনের অনুসরণ ও বাস্তবায়নের পথ পরিত্যাগ করাই হলো তাদের ধ্বংস ও অধ:পতনের উন্মুক্ত গহ্বর।
📄 মানার কিতাব বুঝার কিতাব আল কুরআন
আল্লাহ যখনই কোনো নবীর মাধ্যমে কোনো জাতির কাছে কিতাব নাযিল করেছেন, তা করেছেন অনুসরণ, অনুকরণ করার জন্যে এবং সে কিতাব অনুযায়ী জীবন যাপন করার জন্যে। তিনি এই একই উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ সা.-এর মাধ্যমে মানুষের জন্যে কুরআন নাযিল করেছেন। একথা তিনি কুরআনে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন:
وَهُذَا كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ مُبٰرَكٌ فَاتَّبِعُوْهُ وَاتَّقُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ اَنْ تَقُوْلُوْا إِنَّمَآ اُنْزِلَ الْكِتٰبُ عَلٰى طَآئِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا ص وَإِنْ كُنَّا عَنْ دِرَاسَتِهِمْ لَগٰفِلِيْنَ اَوْ تَقُوْلُوْا لَوْ اَنَّا اُنْজِلَ عَلَيْنَا الْكِتٰبُ لَكُنَّآ اَهْدٰى مِنْهُمْ فَقَدْ جَآءَكُمْ بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ ، فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَّبَ بِاٰيٰতِ اللّٰهِ وَصَدَفَ عَنْهَا سَنَجْزِى الَّذِيْنَ يَصْدِفُوْنَ عَنْ اٰيٰতِنَا سُوْءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا يَصْدِفُوْنَ
অর্থ: আর আমি এ কিতাব নাযিল করেছি একটি আশীর্বাদপূর্ণ (blessed) কিতাব হিসেবে। কাজেই তোমরা এর অনুসরণ করো এবং (এর নির্দেশ অমান্য করার ক্ষেত্রে) আল্লাহকে ভয় করো। এভাবেই তোমরা লাভ করবে অনুকম্পা (mercy)। (এ কিতাব অবতীর্ণের পর) এখন আর তোমরা একথা বলতে পারবে না যে: কিতাব তো দেয়া হয়েছিল আমাদের পূর্বের দুটি দলকে (ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে) এবং তারা তাতে কী পাঠ করতো, তাতো আমরা কিছুই জানিনা।' কিংবা এখন আর তোমরা এ অভিযোগও করতে পারবে না যে: আমাদের প্রতি যদি কিতাব নাযিল হতো, তবে আমরা ওদের চাইতে অধিক সঠিক পথের অনুসারী হতাম।' সুতরাং এখন আর এসব কথা বলার সুযোগ নেই। এখন তো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট প্রমাণ (clear proof), পথনির্দেশ (guidance) এবং অনুকম্পা (mercy) এসেছে। এখন যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার চাইতে বড় ভুল আর কে করবে? যারা আমার আয়াত (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাদের এই সত্য বিমুখতার কারণে আমি তাদের নিকৃষ্ট আযাবে (evil torment) নিমজ্জিত করবো।' (সূরা ৬ আল আন'আম : আয়াত ১৫৫-১৫৭)
এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, কুরআন নাযিল করা হয়েছে অনুসরণ করার জন্যে। স্বয়ং আল্লাহ কুরআনকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর অনুসরণ করার জন্যে অবশ্যই কুরআন পড়তে এবং বুঝতে হবে। কিতাব নাযিল না করলে না পড়ার, না বুঝার ও অনুসরণ না করার ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত অভিযোগ থাকতে পারতো, কিন্তু এখন আর সে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। এখন যে ব্যক্তি কুরআন বুঝার ও অনুসরণ করার চেষ্টা করবে না, সে সব চাইতে বড় যালিম। সে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট শাস্তি ভোগ করবে।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে যে পথ প্রদর্শন করেছেন, তা-ই সত্য সঠিক পথ। এটাই দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি, কল্যাণ ও সাফল্যের পথ। এ জন্যে কুরআন প্রদর্শিত পথ হচ্ছে নূর বা আলো। এ ছাড়া বাকি সব মত ও পথ হচ্ছে অন্ধকার। কারণ বাকি সবই জাহান্নামের পথ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্যে:
الوقف كتُبْ أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ
অর্থ : হে মুহাম্মদ! এটি একটি কিতাব। আমরা এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে করে তুমি মানুষকে অন্ধকার রাশি থেকে আলোতে নিয়ে আসো।' (সূরা ১৪ ইবরাহিম : আয়াত ১)
فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ لَا أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থ: কাজেই যারা তাঁর (রসূলের) প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, সাহায্য-সহযোগিতা করে এবং তার প্রতি যে নূর (আল কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে- তা মেনে চলে, তারাই হবে সফলকাম।' (সূরা ७ আ'রাফ: আয়াত ১৫৭)
هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ أَيْتَ ، بَيِّنَتٍ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ
অর্থ: তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর দাসের প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (কুরআন) নাযিল করেছেন, যাতে করে তিনি তোমাদের বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোতে।' (সূরা ৫৭ আল হাদীদ: আয়াত ৯)
এ আয়াতগুলোতে কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে, তাহলো মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসা। যে ব্যক্তি কুরআন বুঝলো না, তার কাছে তো আলো আর অন্ধকার দুটোই সমান। সুতরাং আলো দেখতে হলে কুরআন বুঝতে হবে। কুরআন না বুঝলে আলোতে আসার সুযোগ কোথায়?
কুরআন বলছে, আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেছেন যেনো মানুষ কুরআনের বক্তব্য বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, তা থেকে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করে:
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ط وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيْهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا
অর্থ: এরা কি এ কুরআনকে চিন্তাভাবনা ও বিচার বিবেচনা (consider) করে দেখে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো রচিত হতো, তবে অবশ্যই তারা এতে বক্তব্যের অসংগতি খুঁজে পেতো।' (সূরা ৪ আন নিসা : আয়াত ৮২)
كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ إِلَيْكَ مُبٰرَكٌ لِّيَدَّبَّرُوْٓا اٰيٰتِهٖ وَلِيَتَذَكَّرَ اُولُوا الْاَلْبَابِ
অর্থ: এটি একটি বই। আমরা এটি তোমার কাছে অবতীর্ণ করেছি। এটি একটি আশীর্বাদ। এই আশীর্বাদ গ্রন্থ আমরা এজন্যে নাযিল করেছি যাতে করে মানুষ এর আয়াতগুলো সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে এবং বুঝ-বিবেকওয়ালা লোকেরা যেনো এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।' (সূরা ৩৮ সোয়াদ: আয়াত ২৯)
اَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْاٰنَ اَمْ عَلٰى قُلُوبٍ اَقْفَالُهَا
অর্থ: তারা কি মনোযোগ সহকারে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরগুলোতে তালা লাগানো রয়েছে?' (সূরা ৪৭ মুহাম্মদ: আয়াত ২৪)
এই তিনটি আয়াতেই যারা কুরআন বুঝার চেষ্টা করে না এবং মনোযোগ সহকারে কুরআন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে না, আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, কুরআন যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো রচিত হতো, তবে এতে অনেক অসংগতি ও স্ববিরোধী বক্তব্য পাওয়া যেতো, কিন্তু যারা কুরআন বুঝে এবং কুরআন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, তাদের কাছে একথা পরিষ্কার যে, কুরআনে কোনো অসংগতি নেই, কোনো স্ববিরোধী বক্তব্য নেই। তাই এটি কিছুতেই আল্লাহ ছাড়া আর কারো রচিত হতে পারে না। কেবল আল্লাহর বাণীই এমন সুসামাঞ্জস্যপূর্ণ ও সুবিন্যস্ত (well-ordered) হতে পারে।
যারা কুরআন বুঝে না, তাদের পক্ষে কুরআনকে আল্লাহর বাণী বলে প্রমাণ করার সুযোগ নেই।
- সূরা সোয়াদের আয়াতটিতে বলা হয়েছে, কুরআন নাযিলই করা হয়েছে বুঝার জন্যে, চিন্তাভাবনা করে দেখার জন্যে।
- বলা হয়েছে, বুঝ-বুদ্ধিওয়ালা লোকেরাই কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
- সূরা মুহাম্মদের আয়াতটিতে বলা হয়েছে, যারা কুরআন থেকে বুঝার চেষ্টা করে না, কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের অন্তরে তালা লেগে আছে।
সম্মানিত পাঠকগণের ভেবে দেখার জন্যে বলছি, দেখুন, মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শুনে, হাত দিয়ে স্পর্শ করে, মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে; কিন্তু এই অঙ্গগুলো দিয়ে বুঝতেও পারে না, উপলব্ধিও করতে পারে না। মানুষ বুঝে এবং উপলব্ধি করে তার অন্তর ও মন-মস্তিস্ক দিয়ে। যারা তাদের মন-মস্তিস্ক কাজে লাগায় না, তাদের চোখ কী দেখলো তার খবর তারা রাখে না। তাদের কান কী শুনলো সে খবর তারা রাখে না। তাদের শরীরে কিসের স্পর্শ লাগলো, সে বোধ তাদের থাকে না। তাদের মুখ কী পাঠ করলো তাদের মর্মে তা পৌঁছে না। তাই বলা হয়েছে তাদের অন্তরে তালা লেগে আছে। যারা কুরআন বুঝার চেষ্টা করে না, মন-মস্তিস্ক খাটায় না এবং বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগায় না, তাদের সম্পর্কে কুরআন বলে:
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا الْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ، أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَ لا يَهْتَدُونَ وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَ نِدَاءٌ ، صُمَّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لا يَعْقِلُونَ
অর্থ: আর যখন তাদের বলা হয়: আল্লাহ (কুরআনে) যে বিধান নাযিল করেছেন, তোমরা তা মেনে চলো।' তখন তারা বলে: 'আমাদের বাপ-দাদারা যে পথে চলেছে, আমরা সে পথেই চলবো।' আচ্ছা, তাদের বাপ-দাদারা যদি বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে না থাকে এবং সঠিক পথ লাভ করে না থাকে, তবু কি তারা তাদের অনুসরণ করবে? যারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান মুতাবিক চলতে অস্বীকার করে, তাদের উপমা হলো রাখালের পশু। রাখাল তার পশুকে ডাকে, কিন্তু পশু তার ডাকাডাকির শব্দ (আওয়াজ) ছাড়া আর কিছুই শুনে না (বুঝে না)। আসলে এই লোকেরা কালা, বোবা, অন্ধ। তাই তারা কিছুই বুঝতে পারে না।' (সূরা ২ আল বাকারা: আয়াত ১৭০-১৭১)
وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْئِدَتُهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِذْ كَانُوا يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ .
অর্থ: আমি তাদের কান দিয়েছিলাম, চোখ দিয়েছিলাম, অন্তর দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর আয়াতকে অমান্য-অস্বীকার করার কারণে তাদের কান তাদের কোনো উপকার করেনি, তাদের চোখ তাদের কোনো উপকারে আসেনি, আর তাদের অন্তর তাদের কোনো কাজে আসেনি।' (সূরা ৪৬ আল আহকাফ: আয়াত ২৬)
فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ
অর্থ: আসলে তাদের চোখ অন্ধ নয়, বরং অন্ধত্ব চেপে বসেছে তাদের বুকের মধ্যকার অন্তরে।' (সূরা ২২ আল হজ্জ : আয়াত ৪৬)
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مستوراة وجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا
অর্থ: তুমি যখন কুরআন পড়ো (পেশ করো), তখন আমরা তোমার ও আখিরাতে অবিশ্বাসীদের মাঝখানে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দিই এবং তাদের অন্তরের উপর আবরণ ছড়িয়ে দিই যাতে করে তারা তা (কুরআন) না বুঝে, তাছাড়া তাদের কানেও তালা লাগিয়ে দিই।' (সূরা ১৭ বনি ইসরাঈল: আয়াত ৪৫-৪৬)
كَلابَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অর্থ: কখনো নয়, বরং আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করার কারণে তাদের অন্তরে মরীচিকা পড়ে গেছে।' (সূরা ৮৩ মুতাফফিকীন: আয়াত ১৪)
এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, যারা কুরআন অস্বীকার করে, তারা তাদের বিরোধিতার কারণে কুরআনকে হৃদয়ংগম করতে পারে না, কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না।
- যারা অর্থ না বুঝে কুরআনের শব্দ উচ্চারণ করাকেই যথেষ্ট মনে করে, তাদের উপমা হচ্ছে রাখালের ভেড়া, যারা রাখালের কথার শব্দ শুনে, কিন্তু মর্ম বুঝে না।
- যারা অর্থ ও মর্ম না বুঝে কুরআন পড়ে, তাদের ও কুরআনের মাঝখানে একটা পর্দা ঝুলে আছে। তারা কুরআনের শব্দ শুনে, তবে কুরআনকে দেখে না।