📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 মু’জিযার প্রকারভেদ

📄 মু’জিযার প্রকারভেদ


নবী রসূলগণকে প্রদত্ত আয়াত বা মু'জিযা প্রধানত তিন প্রকার। সেগুলো হলো: ১. কোনো অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত করা, ২. গায়েব-এর সংবাদ বলা এবং ৩. আল্লাহর বাণী।

অতীতের রসূলগণকে আল্লাহ পাক অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত করার মু'জিযা বেশি বেশি প্রদান করেন। তিনি মূসা আলাইহিস সালামকে নয়টি সুস্পষ্ট মু'জিযা প্রদান করেন।২ এর মধ্যে ছিলো লাঠির মু'জিযা, বগলে হাত ঢুকিয়ে জ্যোতির্ময় হাত বের করা, রক্ত বর্ষণ, ব্যাঙের উৎপাত ইত্যাদি। সালেহ আলাইহিস সালামকে দিয়েছিলেন উটনির মু'জিযা।৩ ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ পাক অলৌকিক ঘটনাবলী সংঘটিত করা এবং গায়েব-এর সংবাদ বলে দেয়ার মু'জিযা প্রদান করেছিলেন। ভূমিষ্ট হবার সাথে সাথে তিনি ইসরায়েলীদের নিকট নিজের নবুয়্যতের ঘোষণা প্রদান করেন।

টিকাঃ
২. সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ১০১; সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৩৩।
৩. সূরা ১১ হুদ: আয়াত ৬৪।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 আল কুরআন : মুহাম্মদ রসূলুল্লাহর সা. মু’জিযা

📄 আল কুরআন : মুহাম্মদ রসূলুল্লাহর সা. মু’জিযা


মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ সা.-কে ইন্দ্রীয় মু'জিযার পরিবর্তে জ্ঞানগত মু'জিযা প্রদান করা হয়েছে। তাহলো আল কুরআন। আল কুরআনের মু'জিযা হবার অর্থ- এ কিতাব অক্ষরে অক্ষরে আল্লাহর বাণী। কোনো মানুষের পক্ষে অনুরূপ কোনো গ্রন্থ রচনা করা, এমনকি এটির একটি ছোট অধ্যায়ের (সূরার) মতো কোনো অধ্যায় (সূরা) রচনা করাও একেবারেই অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে কুরআনের মোকাবেলায় মানুষ সম্পূর্ণ অসহায় এবং কুরআনের প্রতিপক্ষ হতে মানুষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

বিরুদ্ধবাদীরা মুহাম্মদ সা.-এর নিকট তাঁর নবুয়্যতের পক্ষে মু'জিযা দাবি করতো। রসূল সা. নিজেও ভাবতেন, ওদের দাবি অনুযায়ী কোনো মু'জিযা দেখিয়ে দিলে হয়তো লেঠা চুকে যাবে, তারা আমার নবুয়্যত মেনে নেবে। কিন্তু অতীতে কোনো নবীর বেলায় এমনটি হয়নি। তাদেরকে মু'জিযা দেয়া হয়েছিল, তারা তা জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু তারপরও বিরোধিতাকারীরা ঈমান আনেনি। তাঁর মু'জিযা সমূহের বিষয়ে কুরআন মজিদে বলা হয়েছে:৪

اَنِّىْ قَدْ جِئْتُكُمْ بِاٰيَةٍ মِّن রَّبِّكُمْ اَنِّىْ اَخْلُقُ لَكُمْ مِّنَ الطِّيْنِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَانْفُخُ فِيهِ فَيَكُوْنُ طَيْرًا بِاِذْنِ اللّٰهِ، وَاُبْرِئُ الْاَكْمَهَ وَالْاَبْرَصَ وَاُحْيِ الْمَوْتٰى بِاِذْنِ اللّٰهِ وَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَاْكُلُوْনَ وَمَا تَدَّخِرُوْনَ لَا فِى بُيُوْتِكُمْ،

অর্থ: (ঈসা ইসরায়েলীদের বলেছিল:) আমি তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে তোমাদের জন্যে আয়াত (মু'জিযা) নিয়ে এসেছি: আমি কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করে তাতে ফুঁ দেবো। ফলে আল্লাহর হুকুমে তা (জীবন্ত) পাখি হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দেবো এবং মৃতকে জীবিত করবো আল্লাহর হুকুমে। আর তোমরা ঘরে যা খাও এবং যা সঞ্চয় করো সে বিষয়ে তোমাদের খবর দেবো। (সূরা ৩ আলে ইমরান: আয়াত ৪৯)

তাই মুহাম্মদ সা.-কে জানিয়ে দেয়া হলো:

وَإِن يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَّا يُؤْمِنُوا بِهَا جِ

অর্থ: তারা আমার প্রতিটি আয়াত (মু'জিযা) দেখলেও তাতে ঈমান আনবেনা। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৪৬)

আল্লাহর পক্ষ থেকে রসূল সা.-কে জানিয়ে দেয়া হলো এবং পরামর্শ দেয়া হলো:

وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِرْ بِآيَةٍ قَالُوا لَوْলَا اجْتَبَيْتَهَا ، قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَى إِلَى مِن ربِّي جَ هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِকَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

অর্থ: তুমি যখন তাদের সামনে কোনো আয়াত (মু'জিযা) পেশ করছোনা, তখন তারা বলে: তুমি নিজের (নবুয়্যত প্রমাণের) জন্যে কোনো আয়াত বেছে নাওনি কেন? তুমি তাদের বলো: আমি তো কেবল অহির অনুসরণ করি, যা আমার প্রভু আমার কাছে পাঠান। এটি তো অন্তর্দৃষ্টির আলো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এবং পথনির্দেশ ও অনুকম্পা তাদের জন্যে, যারা মেনে নেয়। (সূরা ৭: ২০৩)

أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

অর্থ: তাদের জন্যে কি (মু'জিযা হিসেবে) যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি এই কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি, যা তাদের তিলাওয়াত করে শুনানো হয়। এতে অবশ্যি রয়েছে অনুকম্পা এবং উপদেশ তাদের জন্যে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে। (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৫১)

টিকাঃ
৪. দ্রষ্টব্য: সূরা ১৯ মরিয়ম: আয়াত ২৯-৩৫।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 কুরআন সর্বাঙ্গীন ও পূর্ণাঙ্গ মু’জিযা (Perfect Miracle)

📄 কুরআন সর্বাঙ্গীন ও পূর্ণাঙ্গ মু’জিযা (Perfect Miracle)


কুরআন মজিদ সকল দিক থেকে, সর্বাঙ্গীনভাবে এবং সকল বিবেচনায় এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অপ্রতিহত মু'জিযা। এই মু'জিযা শাশ্বত, চিরন্তন ও জীবন্ত। এই মু'জিযা সর্বব্যাপী ও চিরবিস্ময়। আল কুরআনের এই মু'জিযা প্রধানত এর: ১. ভাষাগত, ২. ভাবগত, ৩. গুণগত, ৪. জ্ঞানগত, ৫. বোধগত, ৬. বুদ্ধিগত (যুক্তিগত), ৭. ফলগত, ৮. প্রভাবগত, ৯. প্রত্যয়গত, ১০. সত্যতাগত, ১১. শুদ্ধতাগত, ১২. সুরক্ষাগত।

এই সকল দিক থেকেই কুরআন বিস্ময়কর মু'জিযা। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি কুরআন মজিদে মু'জিযাকে বলা হয়েছে আয়াত। আয়াত-এর আভিধানিক অর্থ চিহ্ন বা নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা নিজেই কুরআন মজিদের একটি নাম নির্ধারণ করেছেন আয়াতুল্লাহ (آيَاتُ ٱللَّٰهِ) অর্থাৎ আল্লাহর নিদর্শন। আবার কুরআনের প্রতিটি বাক্যকেও পৃথক পৃথক ভাবে আয়াত (নিদর্শন) বলা হয়। এর অর্থ সামগ্রিকভাবে গোটা কুরআন এবং পৃথকভাবে এর প্রতিটি বাক্য একেকটি মু'জিযা।

📘 কুরআন বোঝার পথ ও পাথেয় > 📄 আল কুরআনের জীবন্ত ও বিস্ময়কর মু’জিযা সমূহ

📄 আল কুরআনের জীবন্ত ও বিস্ময়কর মু’জিযা সমূহ


০১. অদৃশ্য স্রষ্টার দৃশ্য বাণী: মানুষ তার স্রষ্টাকে দেখেনা, তিনি অদৃশ্য। কিন্তু আমরা তাঁর বাণী পড়ি, দেখি, শুনি, পড়ে আন্দোলিত হই। কুরআন অনুভব ও বিশ্বাসে আমাদেরকে স্রষ্টার সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়। আমরা কথা বলি আমাদের প্রিয় প্রভুর সাথে কুরআনের ভাষায়।

০২. কুরআন বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণের বিস্ময় message sending and receiving miracle: আরেক অনন্য মুজিযা হলো, সীমাহীন দূরত্ব থেকে বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণ কৌশল। অথচ রসূলের কাছে তখন কোনো যন্ত্র ছিলোনা।

০৩. নিরক্ষর ব্যক্তির হৃদয়ে মহাজ্ঞান ভাণ্ডার: মানুষ বিস্ময়ে কিংকর্তব্য বিমূঢ়। তাই তারা এটার মানবীয় ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করে কবিতা, ম্যাজিক, জ্যোতির্বিদ্যা, জিনে ধরা, পাগলের বার্তা ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে। কিন্তু নিজেদের এসব মন্তব্যের উপর নিজেরাও স্থির থাকতে পারেনা।

০৪. বিস্ময়করভাবে ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন বার্তা সমূহ স্মৃতিতে অবিচ্ছিন্ন ধারণ।

০৫. অফুরন্ত জ্ঞান ভাণ্ডার: কুরআন মজিদ জ্ঞানের এক অফুরন্ত ফল্গুধারা যা কখনো ফুরায় না। এর জ্ঞানভাণ্ডার অতীতের গর্ভে বিলীন হয়না এবং ভবিষ্যতের আগমনে অকেজো হয়না। সূর্যালোকের মতো প্রতিদিনই ঘটে এর জ্ঞানের নবোদয়।

০৬. সত্য অনির্বাণ: একদিকে অবতীর্ণের সূচনা থেকে কুরআনের সত্যতা ছিলো অনাবিল স্বচ্ছ। অপরদিকে মানব জ্ঞানের পরিধি যতোই বাড়ছে, ততোই প্রকাশিত ও বিকশিত হচ্ছে আল কুরআনের বিস্ময় ও সত্যতা।

০৭. সার্বজনীনতা: আল কুরআনের আরেক বিস্ময় হলো এর সার্বজনীনতা। কুরআন বলছে তাকে অবতীর্ণ করা হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্যে (সূরা ২:১৮৫, ১৪:০১)। বিগত দেড় হাজার বছরের ইতিহাস সাক্ষী বিশ্বের সর্বগোত্র, সর্বজাতি, সর্বধর্ম, সর্বভাষা, সর্ববর্ণ এবং সর্বশ্রেণীর নারী কিংবা নর যে-ই কুরআন শুনেছে, পাঠ করেছে এবং হৃদয়ঙ্গম করেছে, সে-ই কুরআনকে হৃদয় দিয়েছে, এর প্রতি ঈমান এনেছে এবং এটিকে জীবন যাপনের গাইড বুক হিসেবে গ্রহণ করেছে।

০৮. কুরআন কাঁপিয়ে দেয় পাষাণের হৃদয়: আরব কি অনারব, যে-ই মনোযোগ দিয়ে কুরআন পড়ে, বুঝার চেষ্টা করে কুরআনের বক্তব্য, যতোই পাষাণ হৃদয় হোক তার, কুরআন কাঁপিয়ে তোলে তার সত্তাকে। তারপর বিগলিত করে দেয় তার হৃদয় মন। উমর থেকে নিয়ে আহমদ দীদাত এবং হাজারো আধুনিক মানুষ পর্যন্ত ১৪শ বছরের ইতিহাস এর সাক্ষী।

০৯. কুরআন শত্রুকে আপন করে দেয়: আল্লাহর রসূলের যারা ছিলো জানের শত্রু, কুরআন শুনে কিংবা কুরআন পড়ে তারা হয়ে যায় তাঁর প্রাণের বন্ধু। উমর, আমর, আকরামা এবং খালিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইতিহাস তো আর ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি। আজো অব্যাহত রয়েছে সেই ধারা। থাকবে চিরকাল। এ এক মহাবিশ্বয়।

১০. ভাষাবিশারদ মহা পণ্ডিতরা সব কুপোকাত: যারা ধারণা করেছিল, কিংবা শত্রুতার বশে বা বিদ্বেষ বশে বলেছিল, কুরআন স্রষ্টার বাণী নয়। এগুলো কোনো কবির শিখিয়ে দেয়া বুলি, কিংবা জিনেরা শিখিয়ে দেয়, কিংবা কোনো ভাষাবিশারদ রাতে এসে মুখস্ত করিয়ে দেয়, কিংবা সবই ম্যাজিক, কিংবা অতীতের কাহিনী মাত্র; কুরআন তাদেরকে অনুরূপ একটি কুরআন, কিংবা অন্তত একটি সূরা তৈরি করার চ্যালেঞ্জ প্রদান করে। এ চ্যালেঞ্জের সামনে সবাই জানে আরবি ভাষার রথি মহারথি কবি পণ্ডিতরা সবাই কুপোকাত।

১১. ভাষার মাধুর্য আর সুরের সম্মোহন অবিরাম নিশিদিন।

১২. প্রতিনিয়ত পঠন, পাঠন, লিখন, শিখন, বিশ্বময়। শিশু কিশোর, যুবক বৃদ্ধ, নারী পুরুষ সকলে সব সময়।

১৩. প্রতিনিয়ত হিফয এবং প্রতি যুগে লাখো লাখো হাফেযে কুরআন।

১৪. প্রতিদিন সালাতে পাঠ করে শত কোটি মানুষ।

১৫. দিবসনিশি দরস, তফসির, গবেষণার ধারা চলছে অবিরাম।

১৬. সম্পূর্ণ অবিকৃত: যেমন নাযিল হয়েছে, তেমনই আছে।

১৭. সংস্কার ও সম্পাদনা মুক্ত। এ কাজের কোনো প্রয়োজন পড়েনি, পড়বেওনা।

১৮. কোনো প্রকার বিরোধপূর্ণ বক্তব্য নেই: সবই পরিপূরক।

১৯. সকল তত্ত্ব ও তথ্য সত্য প্রমাণিত: যেমন সব কিছুর জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি (সূরা জারিয়াত: ৪৯) মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্রমবিকাশ প্রক্রিয়া (সূরা মু'মিনুন ১২-১৪) এবং আরো অনেক বিষয়।

২০. সকল ভবিষ্যৎ বাণী সত্য প্রমাণিত: যেমন নবীকে মক্কায় ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা (সূরা কাসাস: ৮৫), মক্কা বিজয় (সূরা আল ফাতহ: ১)।

২১. তাৎপর্য সমূহ উন্মোচিত হয়ে চলেছে: জ্ঞান গবেষণার ক্রমোন্নতি এবং ভবিষ্যতের আগমন ক্রমেই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর ভাবে প্রকাশ করে চলেছে কুরআনের বক্তব্য ও তত্ত্ব সমূহের তাৎপর্য।

২২. স্রষ্টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেশ: তাঁর এককত্ব, অনন্যতা ও সঠিক মর্যাদা প্রকাশ করা হয়েছে। এ যেনো একেবারে প্রত্যক্ষ জ্ঞান।

২৩. মানব জীবনের সূচনা ও ধারাবাহিকতা এবং সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে চিরন্তন ও অনাবিল গাইড লাইন।

২৪. জগত ও জীবন সম্পর্কে নিখুঁত ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন।

২৫. মানব সৃষ্টির সূচনা এবং মানব জাতির বংশগত ঐক্যের তথ্য প্রকাশ।

কুরআন এক শাশ্বত ও জীবন্ত মু'জিযা

আল কুরআন সর্বজয়ী সাবলীল বচনের অবিরল বন্ধনে, নিরেট সত্যের অবগুণ্ঠন উন্মোচনে, ভাব ব্যঞ্জনার অদম্য সম্মোহনে, অনাবিল সুরের অনুপম আবেশে অনির্বাণ। আল কুরআন শাশ্বত জীবন পদ্ধতির জ্যোতির্ময় প্রকাশে, ভাব অনুভবের অপূর্ব প্রতিফলনে, বক্তব্যের যৌক্তিকতায়, বিবেকের অভ্যর্থনায় প্রশান্তিময়। ভাষা ও বাকরীতির অনন্য উচ্চতায়, ভাব ও বাস্তবতার নিখুঁত বাঁধনে, বিষয়বস্তু ও ভাষণের অটুট সাদৃশ্যে কুরআন এক চিরন্তন বিস্ময়। সত্যের অনাবিল আলোকচ্ছটার অনুপম সম্মোহনে আল কুরআন হৃদয়াবেগ সৃষ্টিতে বহমান নদীর অবিরল ধারা। আল কুরআন আহত হৃদয়ের সান্ত্বনা আর ব্যাহত পথের নির্দেশনা। আল কুরআন সুস্থ বিবেকের প্রশান্তি এবং বক্র মানুষের মর্মজ্বালা।

কুরআনকে ভ্রান্ত বলার এবং ব্যর্থ করার সাধ্য কারো নেই। কুরআনকে নিঃশেষ করার প্রসেস মানুষের আয়ত্তে নেই।

কুরআন সর্বজয়ী সর্বজ্ঞানী সর্বস্রষ্টা মহান আল্লাহর বাণী। কুরআনের বাণী ও ভাষ্য চিরন্তন, চির শাশ্বত ও চিরঞ্জীব। বিশ্ববাসীর কাছে কুরআন এক জীবন্ত মু'জিযা। মানব সমাজের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা শুধুমাত্র আল কুরআনের অনুবর্তন কিংবা প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই নিহিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00