📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 সাহাবাদের প্রয়োগ বিধি

📄 সাহাবাদের প্রয়োগ বিধি


সাহাবা ও তাবেঈন 'নস্থ' শব্দটিকে প্রায়ই আভিধানিক অর্থে অর্থাৎ কোন কিছু দূর করা বা লোপ করার অর্থে প্রয়োগ করেছেন। তাঁদের ব্যবহার অনুসারে 'নস্থ' অর্থ দাঁড়ায় এই, আগের আয়াতের কোন নির্দেশ পরের আয়াত দ্বারা বাতিল করা এবং তার বিভিন্ন ধারা হতে পারে। হয়তো পরবর্তী আয়াত দ্বারা এটা ব্যাখ্যা করে বলে দেয়া যে, আগের আয়াতের নির্দেশটির সময় পার হয়ে গেছে। অথবা পরবর্তী আয়াতে এমন কোন কথা থাকে, যার ফলে আগের আয়াতের সাধারণ নির্দেশটির বদলে চিন্তাধারা অন্য দিকে চলে যায়। ফলে পয়লা আয়াতের হুকুমটি আপনা আপনিই বাতিল হয়ে যায়। তানসীখের কখনও এরূপ রীতিও দেখা যায়, পরবর্তী আয়াতে বিশেষভাবে কোন শর্তের ওপরে জোর দেয়ার ফলে আগের আয়াতের ব্যাপক নির্দেশটি সীমিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশটিকে মনসূখ ধরা হয়। কখনও আবার পরবর্তী আয়াতে এরূপ তথ্য মেলে যাতে করে আগের আয়াতের একটা অস্পষ্ট অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। ফলে আগের অর্থটি মনসূখ হয়ে যায়।
এটা এমনি এক ক্ষেত্র যে, মানবীয় বুদ্ধি প্রয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যার ফলে দেখা দিয়েছে প্রচুর মতানৈক্য। যার ফলে মনসূখ আয়াত পাঁচশত পর্যন্ত পৌছে গেছে।
মনসূখ আয়াতের ব্যাপারে দ্বিতীয় স্বরণযোগ্য কথা হচ্ছে এই, সবকিছু নির্ভর করে ইতিহাস জানার ওপরে। কারণ সাহাবাদের ব্যবহারে 'নস্থ, যতরূপ অর্থ দিয়েছে, তা থেকে এটা নির্ধারণ করা মুশকিল যে, কোন্টি সত্যিকারের মনসূখ, আর কোনটি নয়। তাই 'মনসূখ' আয়াত ঠিক করার জন্যে অতীতের ইতিহাস ঘাটতে হয়। কখনো অতীতের পূণ্যাত্মাদের সর্ববাদী সম্মত মতকে দলীল ঠিক করা হয়। কখনও আবার আলেমদের সর্বসম্মত রায়কে ভিত্তি করে মনসূখ ঠিক করা হয়। সাধারণের কথা থাক-বড় বড় ফিকাহ্ বিদরা পর্যন্ত এ পথেই পা বাড়িয়েছেন। অথচ এ ধরনের ঐক্যমত বা ইজমার ওপরে নির্ভর করা ভুল। কারণ এ সম্ভাবনা থেকেই যায় যে, আয়াতের মর্ম ভুল বুঝা হয়েছিল। সে অবস্থায় ‘মনসূখের আর আস্থা কোথায়? স্থূল কথা, মনসূখ আয়াতের বিতর্কটি অনেক ঘোরালো ব্যাপার। এর শেষ প্রান্তে পৌঁছা কঠিন ব্যাপার।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 মুহাদ্দিসদের পথ

📄 মুহাদ্দিসদের পথ


মুহাদ্দিসরা নিজেদের এক আলাদা পথ তৈরী করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা কেবল আলোচ্য শ্রেণীগুলোকে যথেষ্ট ভাবেন নি। এ ছাড়া আরও বস্তু তাঁরা আমদানী করেন। যেমন সাহাবাদের ভেতরে যদি কোন ব্যাপার নিয়ে বিতর্ক হল, সে ক্ষেত্রে কেউ একটি আয়াত প্রমাণ বা উদাহরণ স্বরূপ উত্থাপন করলেন কিংবা স্বয়ং রসূল (সঃ) সে আয়াতের কোন হুকুম পাঠ করে শুনালেন মুহাদ্দিসরা এ ধরনের সব জায়গাই উদ্ধৃত করেন। তাছাড়া আয়াতের ওপরে আলোকপাত করার মত যদি কোন হাদীস থাকে কিংবা রসূল (সঃ) বা তাঁর সাহাবাদের কেউ আয়াতের বিশেষ কোন উচ্চারণ রীতি বা অর্থ বলে থাকেন এ প্রসংগে তাঁরা তাও টেনে নিয়ে আসেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px