📄 আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থে ষড়যন্ত্রমূলক ইয়াহুদী বর্ণনার অনুপ্রবেশ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 ইয়াহুদীদের বর্ণনা
এ প্রসংগে ইয়াহুদীদের বর্ণনা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তাদের বর্ণনার ভিত্তিতে কুরআনের অনেক ঘটনার বিশ্লেষণ দেয়া হয়েছে। অথচ তাদের বর্ণনার সত্যাসত্য সম্পর্কে আমাদের চুপ থাকতেই হয়েছে। সুতরাং সংশ্লিষ্ট ঘটনার ব্যাপারে আমাদের দুটি ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে হবে। কুরআনে ইংগিতময় ঘটনার যেগুলো সম্পর্কে আমাদের রসূল (সঃ)-এর কোন হাদীস মেলে না, আহলে কিতাবদের বর্ণনা বের করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা আদৌ উচিত নয়। হাদীসে কিছু মিললেই সেটাই যথেষ্ট ভাবতে হবে। যেমন :
وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ
এবং অবশ্যই আমি সুলায়মানকে পরীক্ষা করেছি ও তার তক্ত কাত করে ফেলে আবার সোজা করেছি। (সূরা ছদ-৩৭)
এ আয়াত প্রসংগে হযরত (সঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার সুলায়মান (আঃ) কোন ব্যাপারে ইচ্ছা জ্ঞান করতে গিয়ে 'ইনশা-আল্লাহ' বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। সে কারণে আল্লাহ্ তা'আলা পাকড়াও করেন। অথচ ইয়াহুদীরা এ ব্যাপারে একটি পাথর ও একটি সাপের কাহিনী বর্ণনা করেছে। এরূপ ক্ষেত্রে হযরত (সঃ) এর বর্ণনার মুকাবিলায় সে বর্ণনার কি বৈধ্যতা থাকতে পারে?
দ্বিতীয়, ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে এ বিখ্যাত প্রবাদটি মনে রাখা দরকার, 'ততটুকুই চাই, যতটুকু প্রয়োজন।' মানে, কুরআনের ইশারার সাথে যতটুকু ঘটনা সংশ্লিষ্ট থাকে, ঠিক ততটুকুই বর্ণনা করা, উচিত। তাহলে যা বলা হবে, কুরআনেও তার সমর্থন মিলবে। অতিরিক্ত বিশ্লেষণ বর্জনীয়।
📄 কুরআন নিজেই নিজের ব্যাখ্যা
এখানে আরেকটি অত্যন্ত মজার ব্যাপার রয়েছে। তা হল এই, কুরআনে একই ঘটনা কোথাও সংক্ষেপে, কোথাও বা অপেক্ষাকৃতবিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে। যেমন ফেরেশতাদের আপত্তি সম্পর্কে একখানে বলা হয়েছে :
قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ - আল্লাহ্ বললেন, তোমরা যা জান না আমি তাও ভালভাবেই জানি। (সূরা বাকরা ৩০)
তারপর অপর এক আয়াতে বলা হল:
أَلَمْ أَقُلْ لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ -
আমি তোমাদের বলি নাই যে, আকাশ ও পৃথিবীতে তোমাদের যত প্রকাশ্য ও গোপন কথা রয়েছে, সবই আমার জানা আছে। (সূরা বাকারা - ৩৩)
এটা ঠিক আগের কথাটিই। তবে তফাৎ এতটুকু যে, আগের বার সংক্ষেপে ও এবারে কিছুটা খুলে বলা হয়েছে। সুতরাং পয়লা আয়াতে যেটা বিশ্লেষণ সাপেক্ষ ছিল, দ্বিতীয় আয়াতে তা পূর্ণ হয়ে গেল। এভাবে দ্বিতীয় আয়াত যেন পয়লা আয়াতের তাফসীর হল।
এভাবে সূরা মরিয়মে হযরত ঈসা (আঃ)-এর কাহিনী সংক্ষেপে বলা হয়েছে। যেমনঃ
وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا - আর আমি তাকে মানুষের জন্যে নিজ নিদর্শন ও অনুগ্রহস্বরূপ গড়েছি। এটা এভাবেই হওয়া আমার মর্মী ছিল। (সূরা মারয়াম-২১)
আর এ ঘটনাটিকেই সূরা আল ইমরানে খুলে বলা হয়েছে :
وَرَسُولاً إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ - এবং বনী ইসরাঈলদের কাছে নবী করে পাঠালাম, (সে বলল) আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে এসেছি। (সূরা আল ইমরান-৪৯)
বস্তুত এ আয়াতে সুসংবাদটি খুলে বলা হল। পয়লা আয়াতে যেহেতু এ সংবাদটির সংক্ষেপে উল্লেখ ছিল, তাই তা থেকে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে,.... দ্বিতীয় আয়াতের অর্থটি দাঁড়ায় এই :
رَسُولاً إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةً -
আমি বনী ইসরাঈলের কাছে এ খবর দেবার রসূল পাঠিয়েছি, (যে বলবে) আমি আল্লাহর নিদর্শন ও অনুগ্রহ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি।
বস্তুত এ মর্মই সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লামা সূয়ূতী এর ব্যতিক্রমে অন্য একটি উহ্য কাজের সাথে এগুলোর সম্পর্ক জুড়ে দিয়ে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেনঃ فَلَمَّا بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَى بَنِي إِسْرَائِلَ قَالَ لَهُمْ إِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكُمْ بِأَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ .. الخ
যখন আল্লাহ্ তাআলা তাঁকে বনী ইসরাঈলদের নিকট পাঠালেন, তিনি বললেন, আমি তোমাদের প্রভুর প্রেরিত পুরুষ। কারণ আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহ্র নিদর্শন ও অনুগ্রহ নিয়ে এসেছি।
আমার মতে, আল্লামা সুয়ূতীর অভিমত ঠিক নয়। অবশ্য আল্লাহই ঠিক জানেন কোন্টা সত্য।
📄 দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা দানে সলফের মতানৈক্যের কারণ ও তার-সমাধানের উপায়
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।