📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 কুরআনের বিস্ময়কর দিক

📄 কুরআনের বিস্ময়কর দিক


যদি প্রশ্ন করা হয়, কুরআন বিস্ময়কর হল কি করে? জবাবে বলব, বিভিন্ন কারণে।
১। একটা হচ্ছে, কুরআনের অনন্য ও বিশিষ্ট রচনা রীতি। আরবরা বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের প্রতিভার দাপট দেখাত। আর সেগুলোতেই তারা শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা চালাত। তা ছিল কবিতা, বক্তৃতা, পত্রাবলী ও বাক ধারার ক্ষেত্র। এ চারটি ছাড়া তাদের অন্য পথ ছিল না। নতুন পথ রচনারও শক্তি ছিল না। ঠিক সে অবস্থায় আরবে নিরক্ষর নামে খ্যাত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সম্পূর্ণ এক নয়া রচনা রীতি আবিষ্কার করে দিয়ে অবশ্যই বিস্ময়ের সঞ্চার করেছেন।
২। তারপর বিনা লেখাপড়ায় আগের কোন জানাশোনা ছাড়াই অতীতের জাতিগুলোর সঠিক বিধি বিধান ও তাদের সর্বজন স্বীকৃত অবস্থার বর্ণনা করা কি আশ্চর্যের ব্যাপার নয়?
৩। তেমনি ভবিষ্যতে কি হবে না হবে, সে সম্পর্কে অক্ষরে অক্ষরে সঠিক খবর দেয়া বিস্ময়কর নয় কি? শুধু বিস্ময়কর নয়; বরং বিস্ময়ের একটা ধারাবাহিক ব্যবস্থা বটে। যাতে করে যুগে যুগে সে সব ভবিষ্যদ্বাণীর সফলতা দেখে মানুষ বিস্ময় অর্জন করে চলে।
৪। তাছাড়া কুরআনের আলংকারিক শ্রেষ্ঠত্বও একটা পরম বিস্ময়। এ শ্রেষ্ঠত্ব এমন যে, কোন মানুষ তার নাগাল পায় না। আমরা যেহেতু আরবী ভাষা ও সাহিত্যের আদি পর্ব থেকে অনেক পরে এসেছি, তাই আরবী ভাষার সৌন্দর্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম। ফলে আমরা না তার গভীরতায় পৌঁছতে পারি, না তার মূল্যায়ন আমাদের দ্বারা সম্ভব। অবশ্য এতটুকু বলা চলে যে, কুরআনের মত এতখানি উন্নত ও চিত্তাকর্ষক বাকবিন্যাস ও শব্দের এরূপ স্বতঃস্ফূর্ত ও অবাধ প্রয়োগ প্রাচীন ও নবীন আরবী সাহিত্য সম্পদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। অবশ্য এ সত্যটি কেবল উঁচুদরের ভাষাবিদ ও সাহিত্য রসিকই উপলদ্ধি করতে পারেন। সে জন্যে যতখানি সূক্ষ্ম রসবোধ ও সুস্থ বিচার শক্তি থাকা দরকার, তা উঁচুদরের কবি সাহিত্যিক ছাড়া কারুর ভেতরে থাকে না।
কুরআনের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হল এই, যদিও তার বর্ণনা রীতি ও প্রকাশ ভংগী প্রতি মুহূর্তে গতিশীল, পরিবর্তনশীল, তথাপি তার নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত রীতিতে কোনই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। বস্তুত কুরআনের মর্ম নিদর্শন ও অবদান সংশ্লিষ্ট হোক, কিংবা ঘটনা বা বিতর্কমূলক হোক, কখনও গাতনুগতিক বর্ণনা একাধিক স্থানে ব্যবহৃত হয়নি। একটি ব্যাপার যতবারই বলা হয়েছে, আলাদা রূপ দিয়ে নতুন ভংগীতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক স্থানেই বর্ণনার অনন্য সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে। সেখানে কারুর হাত দেবারই কল্পনা অচল।
এ আলোচনাও যদি কারুর সত্য উপলদ্ধির সহায়ক না হয়, তাহলে সে যেন সূরা আরাফ, সূরা হুদ ও সূরা শূরার যে সব জায়গায় আগেকার নবীদের অবস্থা ও ঘটনাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলো দেখে নেয়। তারপর তার সূরা 'সাফ্ফাত' এর কাহিনীগুলো এবং সূরা 'যারিয়াত' পড়ে দেখা উচিত। এভাবে যখন সে এক ব্যাপারকে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখবে, তখনই তার কাছে মূল সত্যটি সুস্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে।
তেমনি যেখানে পাপীর শাস্তি পূণ্যবানের পুরস্কারের উল্লেখ রয়েছে, সেখানেও সম্পূর্ণ নতুন নতুন ভংগীতে বর্ণনা করা হয়েছে। জাহান্নামীদের সাথে যে সব জায়গায় বিতর্ক ও বাদানুবাদের উল্লেখ রয়েছে, সে সব জায়গায়ও নতুন নতুন বর্ণনা রীতি অনুসরণ করা হয়েছে। সে যা হোক, এ ধরনের উদাহরণ দু' একটাই নয় বরং গোটা কুরআনই এতে ভরপুর রয়েছে। তা আলোচনা সময় সাপেক্ষ।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 অলংকার প্রয়োগ

📄 অলংকার প্রয়োগ


কুরআনে অনাড়ম্বর সাড়ম্বর দু'ধরনের বর্ণনাই বিদ্যমান। যেখানে যেরূপ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তাই করা হয়েছে। এরূপ ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে অলংকারশাস্ত্র পড়া দরকার। রূপক বাক্য কিংবা ইংগিতময় বাক্য সম্পর্কে জানতে হলেও সেটা দেখা দরকার। কুরআন তার শ্রোতাদের অযোগ্যতা ও অলংকারশাস্ত্রে অজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত থেকেও এরূপ আশ্চর্য সার্থকতার সাথে সে সব অনুসরণ করেছে যে, সব ধরনের লোকই তা সমানভাবে গ্রহণ করতে পেরেছে। এভাবে সব দিক সমানে রক্ষা করে এরূপ অনুপম রচনা সৃষ্টি সত্যিই বিস্ময়কর বটে।
زفرق تاقد مش هر كجاكه من نكرم کرشمه دامن دل می کشد که حال این جاست يَزِيدُكَ وَجْهَهُ حُسنًا إِذَا مَا زِدْتَه نظرا

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


মোটকথা, এর এসব দিক ছাড়াও আরেকটি বিস্ময়কর দিক রয়েছে, যা শরীয়তের গূঢ় রহস্য সম্পর্কে যারা অনবহিত, তাদের পক্ষে বুঝা সহজ নয়। তা হচ্ছে স্বয়ং কুরআনের সামগ্রিক রূপ ও তার বর্ণিত মর্মগুলো। তার ব্যাপ্তি, গভীরতা, সার্বজনীনতা ও অকাট্যতা-সব কিছুই তার শ্রেষ্ঠত্বের বড় দলীল। আর এগুলোই প্রমাণ করে, কুরআন বান্দার পথ প্রদর্শনের জন্যে আল্লাহ্ অবতীর্ণ গ্রন্থ বৈ নয়।
কোন বিদ্যাবিশারদ এবং বিজ্ঞ ডাক্তার যখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিখ্যাত কোন গ্রন্থ অধ্যায়ন করেন, আর তাতে রোগের কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে বিজ্ঞতাপূর্ণ বিশ্লেষণ দেখতে পান এবং ঔষধের বর্ণনা ও তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত আলোচনার ওপরে নজর ফেলেন, তখন তিনি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য হন যে, এ গ্রন্থ রচয়িতা একজন বিচক্ষণ ডাক্তার চিকিৎসা-বিজ্ঞানী। পক্ষান্তরে, একজন সাধারণ লোক তা দেখে কিছুই অনুমান করতে পারে না।
কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝার অবস্থাটি ঠিক তেমনি ব্যাপার। তত্ত্বোপলব্ধির ক্ষমতা নেই এমন সাধারণ স্তরের কেউ কখনো কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝতে পারে না। পক্ষান্তরে, শরীয়ত তথা বিধি-বিধানের রহস্যে অভিজ্ঞ ব্যক্তি যেহেতু ব্যক্তি ও সমাজ সংস্কারের জন্যে কতটুকু কিসের প্রয়োজন তা জানে, তাই তখন সে কুরআন অধ্যয়ন করে সংগে সংগে বুঝে ফেলে যে, এ সবের মর্ম অভিজ্ঞানের সেই উচ্চতম শীর্ষে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে মানুষের প্রবেশাধিকার নেই আদৌ। সুতরাং সে কুরআনের বিস্ময়কর শক্তি ও তার আল্লাহ্র বাণী হওয়ার ব্যাপারটি স্বতঃস্ফূত ভাবে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
وَالشَّمْسُ السَّاطِعَةُ تَدُلُّ بِنَفْسِهَا عَلَى نَفْسِهَا فَإِنْ كُنْتَ فِي حَاجَةٍ إِلَى الدَّلِيلِ فَلَا تُولِ وَجْهَكَ عَنْهَا آفتاب آمد دلیل آفتاب گر دلیلت باید از وی رو متاب

ফন্ট সাইজ
15px
17px