📄 ধর্ম বিশুদ্ধকরণ
এখানে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিতে পারে যে, একই সূরার ভেতরে সব ব্যাপারগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে কেন? কেন সে গুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়নি। মানে, শুরুতে আল্লাহ্ নির্দশন ও প্রশংসা বর্ণনা করতঃ তারপর ঘটনাগুলোর উল্লেখ করা হত। এরপর অবিশ্বাসীদের সাথে যুক্তি তর্কের অবতারণা করা হত। এভাবে সবগুলো একের পর এক করে সাজানো হত।
এ প্রশ্ন যথাযথ বটে। এটাও ঠিক যে, আল্লাহ্র জন্যে করাও কঠিন ছিল না। তিনি চাইলে সবই ধারাবাহিকভাবে বলতে পারতেন। তবে এ কথাও সত্য যে, আল্লাহ্ সব কিছুর ভেতরে কোন না কোন কলা কৌশল ও মংগলময় উদ্দেশ্য নিহিত থাকে। আর সেটা তারাই বুঝতে পারে, যাদের নিকটে রসূল আসে আর যাদের কাছে এ বাণী পাঠানো হয়। কুরআন যেহেতু রসূলে আরবী (সঃ) এর ওপরে অবতীর্ণ হয়েছে, আর আরববাসীর কাছে পৌঁছেছে, তাই তাদের ভাষা ও বর্ণনারীতি সামনে রেখেই তা রচিত হয়েছে, যেন তাদের প্রকৃতি তথা মন মগজের সাথে পুরোপুরি খাপ খায়। কুরআনের আয়াত 'লাওলা ফুচ্ছেলাত আয়াতুহু আ'জামীউন ওয়া আরাবীয়্যুন' ঠিক এ সত্যটির দিকেই ইংগিত করা হয়েছে।
মূলকথা হচ্ছে এই, কুরআন অবতীর্ণের সময়ে আরববাসীর কাছে ঐশী কিংবা মানবীয় কোন গ্রন্থই ছিল না। আজ আরব সাহিত্যিকরা যে ধরাবাহিকতা ও রীতি নীতির ওপরে জোর দিচ্ছে, সে যুগের আরবদের কাছে তা ছিল অপরিজ্ঞাত। যে সব কবি ইসলামের যুগে ছিল না, তাদের লেখা কিংবা হযরত (সঃ) ও হযরত উমর (রাঃ) এর চিঠিপত্র যদি অধ্যয়ন করা হয়, তাহলে এ সত্য আপনা থেকেই ধরা দেয়।
তাই কুরআনের ঘটনা বিন্যাসের ব্যাপারে যদি তৎকালীন আরবদের অজানা কোন পন্থা অনুসরণ করা হত, তা শুনে তারা হতভম্ব হয়ে যেত। ফলে তাদের বুদ্ধি এরূপ বিপর্যস্ত হত যে, সরল সহজ কথা বুঝতেও তাদের অসুবিধা হত।
অথচ কুরআন তো শুধু তাদের কিছু জানিয়েই ক্ষান্ত হবার ছিল না; পরন্তু তাদের মন ও মগজে তার কথাগুলো বসিয়ে দেয়াই উদ্দেশ্য ছিল। আর সে উদ্দেশ্য সাজানো গুছানো কথার চাইতে আকস্মিক কথা দ্বারাই বেশী সফল হবার ছিল। নাটকীয় বর্ণনাই শ্রোতার চিত্তকে অধিকতর আকৃষ্ট করে বলেই কুরআন সে পথ বেছে নিয়েছে।