📄 কিছু সূরাতে উল্লেখিত কাফিয়া মানা আনা হয়নি
এ আলোচনার গোড়াতেই এরূপ বিশ্লেষণ দেয়া হয়েছে যে, কিছু সূরায় এ রীতি অনুসৃত হয়েছে। কিন্তু কথাটা এ জন্যে বলা হয়েছে যে, কিছু আয়াতে আবার অন্য রীতি অনুসরণ করা হয়েছে। তাতে এ ধরনের কাফিয়া ও ওজন অনুসরণ করা হয়নি। বস্তুত, কতিপয় আয়াত সার্থক বক্তৃতা রীতি কিংবা পন্ডিতদের মুখনিসৃত প্রবাদ বাক্যের মতই বিশিষ্ট রীতিতে রচিত হয়েছে। নারীদের যে কাহিনী হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, হয়ত আপনিও তা শুনেছেন। তার কাফিয়ারও আপনি গুরুত্ব বুঝেছেন। তাতে অবশ্যই সেই ওজন ও কাফিয়া নেই, যা ওপরে বলে আসা হল。
কোন কোন সূরায় বক্তৃতার ঢঙ ছেড়ে পত্র রচনার রীতি অনুসরণ করা হয়েছে। তা নেহাৎ সরল ও সুস্পষ্ট। কোনরূপ অলংকারের ঝংকার সেখানে লক্ষ্য ছিল না। যেভাবে সবাই স্বাধীনভাবে পরস্পর আলাপ-আলোচনা করে, সরল সহজ কথাবার্তা চালায়, ঠিক তেমনি যেখানে স্বভাবতই কথা শেষ হয়, সেখানেই শেষ করে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের বাকরীতিতে রস ও আকর্ষণ সৃষ্টির রহস্য হল এই, আরববাসী স্বভাবতই সেখানে থামত, যেখানে তাদের শ্বাস থেমে যেত। বলা বাহুল্য বাক্য তাদের শ্বাসের শেষ সীমায় গিয়েই থামত। তাই সে বাক্যে স্বভাবতই বিশেষ এক ধরনের সামঞ্জস্য ও মিল সৃষ্টি হত। সেক্ষেত্রে সব শর্ত ও রীতিনীতি মুক্ত হয়েও তাতে আকর্ষন সৃষ্টিতে অসুবিধা হত না。
কুরআনের কোন কোন সূরায় ঠিক এই রীতিই অনুসরণ করা হয়েছে। এ রীতিতেই সে সব আয়াতগুলোকে লম্বা করা হয়েছে। সে যা-ই হোক আমি যতটুকু বুঝেছি, সবই বললাম। মূল সত্য তো কেবল আল্লাহই জানেন।