📄 ছোট আয়াতের সাথে বড় আয়াতের সম মাত্রায় আনার রহস্য
কুরআনে এ হিসেবে ওজনবিহীন কিছু আয়াত রয়েছে। কোন আয়াত তো সংক্ষিপ্ত, আর সাথেই রয়েছে লম্বা এক আয়াত। কিন্তু আদতে তাও মাত্রা ছাড়া নয়। কারণ এধরনের স্থানে হয় কাব্য বিন্যাসের এক বিশেষ ধারা অনুসৃত হয়েছে, নয় কোন প্রবাদ বাক্য গ্রহণ করা হয়েছে, কিংবা একই বাক্যাংশের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাই ছোট আয়াতও অবশেষে বড় আয়াতের সমান মাত্রায় এসে গেছে। কখনও শুরুর রাক্যাংশকে শেষের বাক্যাংশের তুলনায় ছোট করা হয়েছে। তার ফলে বাক্যের সৌন্দর্য ও রস অনেকগুণ বেড়ে গেছে। যেমন: خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ
ثُمَّ فِي سِلسِلَةٍ ذَرُعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ এ ধরনের যে সব আয়াতে শুরুর দু' অংশ ছোট ও তৃতীয় অর্থাৎ শেষ অংশ বড় হয়, শ্রোতা অজ্ঞাতেই পয়লা দু'অংশ এক আয়াত ধরে নেয় এবং শেষ অংশকে দ্বিতীয় পাল্লায় তুলে ওজন সমান করে নেয়।
📄 তিন বাহু আয়াত
এভাবে কখনও কখনও তিন যতিতেও বাক্য রচিত হয়ে। অর্থাৎ তিন যতি মিলে পূর্ণ এক চরণ ও চতুর্থ আয়াত একাই এক চরণ হয়। যেমন: يَوْمَ تَبْيَضُ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ فَأَمَّا الَّذِينَ اسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ
এ আয়াতে তিনটি অংশ আর তিনটি মিলে একটি পূর্ণ ওজন সৃষ্টি করেছে এবং তার পরের আয়াত সমান ওজনে এসেছেঃ
وَأَمَّا الَّذِينَ ابْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ .. الخ
কিন্তু যারা এ রহস্য বোঝে না, তারা এভাবে দুটো আয়াত না ধরে ধারাবাহিক কয়েকটি আয়াত মনে করে থাকে। সুতরাং এই সুন্দর মিলের ব্যাপারটি তারা দেখে না।
📄 দুই যক্তি আয়াত
কখনও আয়াতে দু'টো যতি বা কাফিয়া নেয়। কবিতায় সাধারণত যে রূপ নেয়া হয়। যেমন:
کالز هر فِي تَرْفِ وَالبَدْرِ فِي شَرف والبَحرِ في كرم والدهر في هِمَمِ
📄 বড় আয়াতকে ছোট আয়াতের সম মাত্রায় ব্যবহারের রহস্য
কখনও পাশাপাশি দু'টি আয়াতের একটি হয় লম্বা, অপরটি খাট। তা সত্ত্বেও দুয়ের ভেতরে ওজন ঠিকই থাকে। এ সমতার রহস্য মূলত আয়াত দুটোর বর্ণনারীতিতেই নিহিত থাকে। মূল রহস্য হল এই, যখন ওজন কাফিয়াসহ কোন সুন্দর বাক্য সৃষ্টি হয়ে এক পাল্লায় আসে, আর অন্য পাল্লায় সহজ সাবলীল ও আকর্ষণীয় একটি বাক্য বসে, সুরুচি তখন তাৎপর্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটিকেই মূল্য দেয় বেশী। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ সুযোগ থাকে যে, একটা কাফিয়া উপেক্ষা করে অন্য কাফিয়ায় গিয়ে ওজন শেষ করবে। সুস্থরুচির কেউ তখন এ দুয়ের ভেতরে আর অমিল অনুভব করবে না।