📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 পূর্বের অক্ষরের সমতা ও অধিক শ্রুতি মধুর

📄 পূর্বের অক্ষরের সমতা ও অধিক শ্রুতি মধুর


এরূপ অবস্থায় যদি পূর্ব অক্ষরের সমতাও শর্ত করা হয়, তাহলে নীতির দিক থেকে অপ্রয়োজনীয় হলেও অধিকতর শ্রুতিমধুর হবে ঠিকই। সূরা মরিয়ম এবং সূরা ফুরক্বান তার সাক্ষর বয়ে চলছে। তেমনি যদি সব আয়াতের একই অক্ষরে গিয়ে সমাপ্তির শর্ত লাগানো হয়, যেরূপ সূরা কেতালের আয়াতগুলো 'মীম' অক্ষরে ও সূরা রহমানের আয়াতগুলো 'নু' অক্ষরে শেষ হয়েছে তাতেও রস সৃষ্টির মাত্রা বাড়বে।
এভাবে আয়াতের এক বিশেষ সমষ্টির পরে কোন আয়াতের বারংবার উল্লেখের ভেতরেও বিশেষ ধরনের এক রস সৃষ্টি হয়। যেমন, সূরা শূরা, রহমান, সূরা কামার ও সূরা মুরসালাতের বর্ণনা রীতি।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 সূরার প্রথম ও শেষে “কাফিয়া” ছন্দের পরিবর্তন

📄 সূরার প্রথম ও শেষে “কাফিয়া” ছন্দের পরিবর্তন


কখনও শ্রোতার রুচি লক্ষ্য করে কিংবা বাক্যের সৌন্দর্যানুভুতি সৃষ্টির জন্যে প্রথম ও শেষ আয়াতের কাফিয়ার ঢং বদলে দেয়া হয়। যেমন, সূরা মরিয়মের শেষে ইদ্দা' ও হাদ্দা, এবং সূরা ফুরক্বানের শেষে 'সালামা' ও 'কিরামা' এবং সূরা 'সোয়াদ' এর শেষে 'তীন' 'সাজেদীন' ও মুনজেরীন' এসেছে। অথচ এটা সর্বজনবিদিত যে এ সব আয়াতের প্রথম দিকের ছন্দরীতি (কাফিয়া) সম্পূর্ণ অন্য ধরনের।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 কুরআনের “কাফিয়া” (ছন্দ) রীতি

📄 কুরআনের “কাফিয়া” (ছন্দ) রীতি


ওপরে ওজন ও কাফিয়ার যে মানদন্ড বলে দেয়া হল, কুরআনের অধিকাংশ সূরাই এর ভিত্তিতে বিরচিত। যদি কোন আয়াতে এর ব্যতিক্রমে শেষ অক্ষরে কাফিয়া দেখা না যায়, তা হলে সেটাকে এমনি বাক্যের সাথে মিলিয়ে দেয়া হয়, যার শেষে কাফিয়া বিদ্যমান রয়েছে। অবশ্য যে বাক্যটি বাড়ানো হয়, সেটাতে বিশেষ কোন বিধি নিষেধ থাকে না। কেবল আল্লাহ্ কোন নিদর্শন কিংবা সাধারণ সতর্কবাণী থাকে। কাফিয়া মিলানোর জন্যে সাধারণত নিম্ন ধরনের বাক্যের সংযোজন ঘটানো হয়:
وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ - এবং তিনিই (আল্লাহ্) বিজ্ঞতম ও সর্বজ্ঞ।
وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيماً এবং আল্লাহ্ তা'আলা জ্ঞান বিজ্ঞানে অদ্বিতীয়।
وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيراً - এবং আল্লাহ্ তা'আলা তোমরা যা কিছু কর, সব খবরই রাখেন।
لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ যেন তোমরা ভয় কর।
إِنَّ فِي ذَالِكَ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ নিশ্চয়ই এর ভেতরে জ্ঞানীদের জন্যে নিশ্চিত নিদর্শন রয়েছে। এভাবে কুরআন যেখানে সংকোচনের স্থলে সম্প্রসারণ নীতি অবলম্বন করেছে, সেখানেও এ পন্থা অনুসরণ করেছে。
فَسْئَلُ بِهِ خَبِيراً এবং এ ব্যাপারে যারা খবর রাখে তাদের জিজ্ঞেস কর।
এভাবে আয়াতের ধারাবাহিকতায় কখনো ওলট পালট হয়েছে। কখনও আগ-পিচ করা হয়েছে। কখনও অক্ষর বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। যেমন- الياس ال يَاسِينَ وَطُورِ سِينِينَ سيناء

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 ছোট আয়াতের সাথে বড় আয়াতের সম মাত্রায় আনার রহস্য

📄 ছোট আয়াতের সাথে বড় আয়াতের সম মাত্রায় আনার রহস্য


কুরআনে এ হিসেবে ওজনবিহীন কিছু আয়াত রয়েছে। কোন আয়াত তো সংক্ষিপ্ত, আর সাথেই রয়েছে লম্বা এক আয়াত। কিন্তু আদতে তাও মাত্রা ছাড়া নয়। কারণ এধরনের স্থানে হয় কাব্য বিন্যাসের এক বিশেষ ধারা অনুসৃত হয়েছে, নয় কোন প্রবাদ বাক্য গ্রহণ করা হয়েছে, কিংবা একই বাক্যাংশের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাই ছোট আয়াতও অবশেষে বড় আয়াতের সমান মাত্রায় এসে গেছে। কখনও শুরুর রাক্যাংশকে শেষের বাক্যাংশের তুলনায় ছোট করা হয়েছে। তার ফলে বাক্যের সৌন্দর্য ও রস অনেকগুণ বেড়ে গেছে। যেমন: خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ
ثُمَّ فِي سِلسِلَةٍ ذَرُعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ এ ধরনের যে সব আয়াতে শুরুর দু' অংশ ছোট ও তৃতীয় অর্থাৎ শেষ অংশ বড় হয়, শ্রোতা অজ্ঞাতেই পয়লা দু'অংশ এক আয়াত ধরে নেয় এবং শেষ অংশকে দ্বিতীয় পাল্লায় তুলে ওজন সমান করে নেয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px