📄 আয়াতের ওজন বা মাত্রা
বলা বাহুল্য, শ্বাসের এ সময়টিকেই কুরআনের মাত্রার মানদন্ড করা হয়েছে। সেটাকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দীর্ঘ, طويل মধ্যম, قصير ও متوسط। দীর্ঘ মাত্রার উদাহরণ হল সূরা নিসা, মধ্যম মাত্রার উদাহরণ হল সূরা আরাফ ও আনআম এবং হ্রস্ব মাত্রার উদাহরণ হল সূরা শূরা ও সূরা দুখান।
📄 কাফিয়া বা আয়াতের ছন্দ রীতি
আয়াতের মাত্রার মতই তার ছন্দরীতির ভিত্তিও হল শ্বাসের সময়। শ্বাসটি যে শব্দে গিয়ে নিঃশিষিত হবে, আয়াতের 'কাফিয়া' সেটাই নির্ধারিত হবে। কেবল সুক্ষ্ণ অনুভূতি সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারবে। শ্বাস গিয়ে 'আলিফে'ই শেস হোক কিংবা 'ইয়া'য় হোক, সে বাক্যের শেষ অক্ষর 'বা' হোক কিংবা 'জীম', তথাপি সেই 'কাফিয়া' হয়ে রসানুভূতির উদ্রেক করবে।
এই হিসেবেই 'য়ালামুন' 'মুমিনীন' ও 'মুস্তাকীম' তিনটা ভিন্ন ধরনের শব্দ হয়েও পরস্পর সম্পর্ক রাখে এবং পরস্পরের 'কাফিয়া' হয়ে দাঁড়ায়। আর 'খুরুজ', 'মারাজ' 'তাওহীদ, 'তেবার', ফেরাক', 'এজাব', ইত্যাদি পরস্পরের ভেতরে যতই পার্থক্য রাখুক, তথাপি নির্ধারিত রীতির ভেতরেই শামিল থাকছে।
📄 আলিফ দ্বারা সৃষ্ট ছন্দ
শেষে আলিফের সংযোজন ও "কাফিয়া" ছন্দের সৃষ্টি হয়। তেমনি, বাক্যের শেষে আলিফের সংযোজনও 'কাফিয়া' সৃষ্টি করে, হোক তার আগের অক্ষর. বিভিন্ন। যেমন 'করীমা', 'হাদীসা' ও 'বাসিরা'। কারণ কুরআনের নির্ধারিত নীতিতে এরা এত দূরত্ব সত্ত্বেও 'কাফিয়া' সৃষ্টি করতে পারে।
📄 পূর্বের অক্ষরের সমতা ও অধিক শ্রুতি মধুর
এরূপ অবস্থায় যদি পূর্ব অক্ষরের সমতাও শর্ত করা হয়, তাহলে নীতির দিক থেকে অপ্রয়োজনীয় হলেও অধিকতর শ্রুতিমধুর হবে ঠিকই। সূরা মরিয়ম এবং সূরা ফুরক্বান তার সাক্ষর বয়ে চলছে। তেমনি যদি সব আয়াতের একই অক্ষরে গিয়ে সমাপ্তির শর্ত লাগানো হয়, যেরূপ সূরা কেতালের আয়াতগুলো 'মীম' অক্ষরে ও সূরা রহমানের আয়াতগুলো 'নু' অক্ষরে শেষ হয়েছে তাতেও রস সৃষ্টির মাত্রা বাড়বে।
এভাবে আয়াতের এক বিশেষ সমষ্টির পরে কোন আয়াতের বারংবার উল্লেখের ভেতরেও বিশেষ ধরনের এক রস সৃষ্টি হয়। যেমন, সূরা শূরা, রহমান, সূরা কামার ও সূরা মুরসালাতের বর্ণনা রীতি।