📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 সূরার শেষ ফরমানের রূপে

📄 সূরার শেষ ফরমানের রূপে


যেভাবে পত্রের শেষে সারকথা বলে দেয়া হয়, কখনও মূল্যবান উপদেশ ও ওসীয়ত থাকে, কখনও উপসংহারে, পেছনের কথাগুলোর ওপরে জোর দেয়া হয়, কখনও তাদের সতর্ক করে দেয়া হয় যারা পত্রোল্লিখিত বিধি-নিষেধের বিরোধিতা করতে চায়, তেমনি কুরআনের বিভিন্ন সূরায়, কখনও বা কঠোরভাবে কিছুর ওপরে জোর দানের আয়াত দিয়ে শেষ করা হয়েছে। কখনও আবার ঠিক এভাবেই সূরাও শুরু করা হয়েছে।
এ ধরনের যে সব সূরা শুরু করা হয়েছে, সেগুলোর ভেতরে কোথাও আবার এমন ধরনের আয়াত রয়েছে যা বিরাট কল্যাণকর। আর তাতে অত্যন্ত উত্তম ও আলংকারিকভাবে আল্লাহ্ প্রশংসা করা হয়েছে। ঠিক তেমনি ভাবেই কোথাও আল্লাহ্ তায়ালার অবদান ও অনুগ্রহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
যেমন, এক সূরা শুরু করা হয়েছে স্রষ্টা ও সৃষ্টির ভেতরে পার্থক্য ও বৈষম্যের কথা দিয়ে। মাঝখানে এ আয়াত রয়েছে : قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى اللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ
বলে দাও, সব প্রশংসা শুধু আল্লাহ্রই প্রাপ্য। আর সেই বান্দাদের ওপরে আল্লাহ্ শান্তি রয়েছে, যাদের তিনি সম্মানিত করেছেন। যাদের তারা অংশীদার ঠিক করেছে, তিনি তাদের থেকে উত্তম। (সূরা নামাল-৫৯)
এরপর ধারাবাহিক পাঁচটি আয়াতে এ বিষয়টিই অত্যন্ত উত্তম ও আলংকারিক রীতিতে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এ রীতিই সূরা বাকারায় যেখানে বনী ইসরাঈলদের সাথে যুক্তি-তর্কের অবতারণা করা হয়েছে, সেখানে অনুসৃত হয়েছে। বিতর্কের সূচনা এভাবে করা হয়েছে:
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِي الَّتِي .. الخ হে বনী ইস্রাঈলগণ! আমার সে সব অবদান স্মরণ কর। (সূরা বাকারা ৪৮/১২২) ইত্যাদি আর এ বিতর্কের পরিসমাপ্তিও এ আয়াত দ্বারা করা হয়েছে। যে কথা দিয়ে বিতর্ক শুরু ঠিক তা দিয়েই তার সমাপ্তি ঘটানো চরম পান্ডিত্যের ওপরে নির্ভর করে।
এভাবে সূরা আল্ ইমরানে আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের উদ্বোধন করা হয় এ আয়াত দিয়ে:
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ . নিশ্চয়ই আল্লাহ্র কাছে ধর্ম শুধু ইসলাম। (সূরা আল ইমরান-১৯)
যেহেতু আহলে কিতাবদের থেকে ইসলামের স্বীকৃতিটাই আলোচ্য বিষয় ছিল, তাই বিতর্কের শুরুই করা হয়েছে মূল দাবী উত্থাপনের ভেতর দিয়ে যেন বিতর্কের মূল কথা ধারণায় জেগে থাকে। এর আলোকেই যেন বিতর্ক চলে এবং জবাবের বেলায়ও এ উদ্দেশ্যটি সামনে থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px