📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 তা’রীজ

📄 তা’রীজ


তা'রীজ অর্থ হচ্ছে পরোক্ষ আলোচনা। মানে, কথাটা সাধারণভাবেই বলে বিশেষ ব্যক্তিকেই ইংগিত করা। সে জন্যে তার দু' এটকা বৈশিষ্ট্য মাত্র বলে শ্রোতাকে আভাসে বুঝানো।

কুরআনে যখন এ ধরনের বর্ণনারীতি দেখা দেয়, তখন তা বুঝার জন্যে সংশ্লিষ্ট কাহিনী বা ঘটনাটি জানা থাকা দরকার হয়।

আমাদের হযরত (সঃ) যখন কারুর ব্যপারে বিরক্ত প্রকাশ করতেন, তখন তার নাম না নিয়ে বলতেন: مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَفْعَلُونَ كَذَا وَكَذَا - হল কি তাদের? এ সব করছে কেন?

কিংবা কুরআনে আছে: وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمراً .. الخ 'আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের কোন মীমাংসার পরে ঈমানদার নর-নারীর কিছুই বলার অধিকার থাকে না। (সূরা আহযাব-৩৬)

এখানে সাধারণভাবে মুমিন ও মুমিনাতদের কথা বলে মূলত বুঝানো হয়েছে হযরত যায়নব (রাঃ) ও তাঁর ভাইকে। আর: وَلَا يَا تَلِ أُولُوا الفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ এ আয়াতে মর্যাদা ও অবদান প্রাপ্তদের উল্লেখ করে কুরআন মূলত হযরত আবুবকর (রাঃ)-কে বুঝিয়েছে। (সূরা নূর-২২)

এ সব অবস্থায় মূল ঘটনা জানা না থাকলে মর্মোদ্ধার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 মাজাযে আকলী

📄 মাজাযে আকলী


মাজাযে আকলী অর্থাৎ ক্রিয়াকে মূলকর্তা ছেড়ে অন্য এক কর্তার সাথে জুড়ে দেয়া কিংবা মূলকর্ম ছেড়ে অন্য কিছুকে সেটার কর্ম বলে দেয়া।

এটা তো করা হয় যখন সেই ক্রিয়া ও তার কৃত্রিম কর্তার ও কর্মের ভেতরে কোথাও সাদৃশ্য থাকে, কিংবা বক্তা যার ব্যাপারে এরূপ বলে সেও মূলকর্তা বা কর্মের কেউ নয়, কিংবা তার সাথে যোগ রাখে। যেমন, সাধারণত বলা হয় :
بَنِى الْأَمِيرُ قَصْراً আমীর দালান গড়েছে।
অথচ আমীর তো আর নিজে গড়েনি। তেমনি বলা হয় :
أَنْبَتَ الرَّبِيعُ الْبَقْلَ বসন্ত তরি-তরকারী জন্ম দিয়েছে
এখানে বসন্ত তো আর তা জন্মায় না।

এ ধরনের বর্ণনারীতি কুরআনের অধিকাংশ স্থানে মেলে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px