📄 বর্ণনা রীতি বদল
কখনও বাক্যের বর্ণনারীতির বদল হয়ে থাকে। বাক্য হয়ত চায় মধ্যম পুরুষে বক্তব্য পেশ হওয়া। সেখানে হয়ত তৃতীয় পুরুষে বক্তব্য পেশ করা হয়। যেমন : আয়াত: حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ بِرِيحِ طَيِّبَةٍ 'এমনকি তোমরা যখন কিশতীতে থাক এবং সেগুলো মৃদু মলয়ের সাহায্যে ভেসে চলে।' (সূরা ইউনুস-২২)
এখানে کنتم -এ মধ্যম পুরুষে বহুবচন। সে চায় পূর্ণ বাক্য এ ঢঙে হবে। কিন্তু রীতি বদল হল। তৃতীয় পুরুষ করে جرین শব্দ ব্যবহার করা হল।
এভাবে কখনো বাক্য রীতি পরিবর্তিত করে 'ইনশা'কে খবর ও খবরকে ইনশা করা হয়। তেমনি ক্রিয়া দ্বারা আবদ্ধ বাক্য ইন্শা বাক্যে ও ইনশা- বাক্য ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যে পরিবর্তিত করা হয়। যেমন:
১। আয়াত: فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا এখানে নির্দেশক পদ যা ইনশা বাক্যের অন্তর্ভুক্ত। অথচ মর্মের দিক থেকে এটা ছিল ক্রিয়া আরদ্ধ বাক্য। উক্ত পদের রূপ ছিল। "لتمشوا" যা ঘটমান ক্রিয়া ছিল। (সূরা মুলক-১৫)
২। আয়াত: إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ 'যদি তোমরা ঈমানদার হও।' (সূরা বাকারা ৯৩) এখানে শর্তসূচক শব্দ দিয়ে বাক্য শুরু হওয়ায় এটাও ইনশা-বাক্য হল। অথচ মূল বাক্য খবর বাক্য বা ক্রিয়া-আরব্ধ বাক্য। তা হচ্ছেঃ إِيْمَانُكُمْ يَقْتَضِى هذا - অর্থাৎঃ তোমাদের ঈমানের এটাই চাহিদা।
৩। আয়াত: مِنْ أَجْلِ ذَالِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرًا ئِيلَ 'এই কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপরে ফরয করেছি।' (সূরা মায়েদা-৩২) বাক্যটি ছিল এই, 'বনী আদমের অবস্থার ওপরে ভিত্তি করে কিংবা সেই উদাহরণ অনুসারে আমি বনী ইসরাঈলের ওপরে এটা ফরয করেছি।' অথচ 'বনী আদমের অবস্থার ওপরে ভিত্তি করে কিংবা বনী আদমের অবস্থার উদাহরণ অনুসারে'-এ বাক্যাংশটি 'এই কারণে' (মিন্ আজালে যালিক) বাক্যাংশ দ্বারা পরিবর্তন করা হল। সাধারণত কিয়াস কোন কারণকে ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। বললে কেবল বিশ্লেষণ দেয়া হয় মাত্র। তা থেকে বেঁচে বাক্য সংকোচনের জন্যে এরূপ করা হয়েছে।
৪। اَرَيْتَ এটা প্রশ্নসূচক পদ। 'দেখা শব্দ থেকে গড়া হয়েছে। কিন্তু এখানে সতর্ক করার জন্যে প্রশ্নসূচক পদে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পরবর্তী বাক্যের প্রতি মন আকর্ষণ করার জন্যে এরূপ করা হয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এরূপ বলে থাকি। যেমন: আপনি দেখেছেন কি? শুনেছেন কি?
📄 বাক্যাংশের আপু পিছ করা
কখনও বাক্যের গাঁথুনীতে বাক্যাংশের আগের অংশ পেছনে ও পেছনের অংশ আগে আনা-নেয়া করা হয়। ফলে মূল অর্থ বুঝা দায় হয়। নীচের বিখ্যাত দুটা আরবী চরণ থেকে তা বুঝা যা যাবে:
بُثَيْنَةٌ شَأْنُهَا سَلبتُ فُوَادِي بِلَا جُرُمِ آتِيتُ بِهِ سَلاماً
📄 দূর অন্বায়
কখনও শব্দের সম্পর্ক দূরবর্তী কোন শব্দ কিংবা ভাবের সাথে সংযুক্ত হয়। সে কারণেও বাক্যটি দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে।
এ ধরনের আরও অবস্থা রয়েছে অনেক। যার ফলে আয়াতের মর্ম বুঝা কঠিন হয়ে থাকে। যেমন ধারাবাহিক 'ইল্লা' (ব্যতীত) ব্যবহার।
১। আয়াত: إِلَّا الَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُوهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَّا امْرَأَتَهُ 'দূত পরিবার ব্যতীত আমরা সবাইকে মুক্তি দিয়েছি, তাঁর স্ত্রী ব্যতীত।' (সূরা হিজর-৫৯)
এখানে এস্তেসনার পর আর এক এস্তেসনা প্রবেশের কারণে অর্থ দুবদ্ধ হয়েছে।
২। আয়াত: فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ 'এর পরেও কোন বস্তু তোমাকে পরকালে অবিশ্বাসী করেছে? (সূরা ত্বীন-৭)
এ আয়াতের একেবারেই সংলগ্ন রয়েছে। لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ 'নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মানুষকে সুন্দর কাঠামোতে গড়েছেন।' (সূরা তীন-৪) অথচ এ দু'আয়াতের অর্থে বাহ্যত কোনই মিল নেই। তাই দুর্বোধ্য হয়েছে।
৩। আয়াত : يَدْعُوا لَمَنْ ضَرَّهُ أَقْرَبُ مِنْ نَفْعِهِ অর্থ দাঁড়াল, তার জন্যে ডাকছে যার ক্ষতিটা কল্যাণের চাইতে কাছাকাছি হয়েছে। আদতে মর্ম এই তাকেই ডাকছে, যার মংগলের চাইতে অমংগলটাই নিকটবর্তী। এখানে من শব্দের বদলে لمن আসায় মর্মোদ্ধারে অসুবিধে দেখা দিয়েছে। (সূরা হজ্জ-১৩)
৪। আয়াত : لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ আয়াতের মূলরূপ ছিল : لتنؤ العصبة بها কিন্তু বর্ণনাভংগী বদলে যাওয়ায় শব্দেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, এ কারণেই অর্থ দুর্বোধ্য হয়েছে। (সূরা কাছাছ-২৬)
৫। আয়াত : وَامْسَحُوا بِرُءُ وَسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ 'এবং তোমাদের মাথা মুছ ও তোমাদের চরণগুলো .....। এর শেষভাগে হবার ছিলঃ واغسلوا ارجلكم এখানে দূর- অব্যয় ঘটিত দুর্বোধ্যতা দেখা দিয়েছে। (সূরা মায়েদা-৬)
৬। আয়াত: لَو لَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامَا وَأَجَلٌ مسمى "যদি তোমাদের ভাগ্য আগে নির্ধারিত না হত ও নির্দিষ্ট মুহূর্ত, তা হলে পাকড়াও হতে।" (সূরা ত্বহা-১২৯)
এখানে হওয়া প্রয়োজন ছিল: ولولا كلمة سبقت واجل مسمى لكان لزاما বাক-বিন্যাসের ব্যতিক্রমে এ দুর্বোধ্যতা এল।
৭। আয়াত: "তা না করলে তোমরা বিপদে পড়বে।" এর সংগেই- الا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ - (সূরা আনফাল-৭৩)
"অতঃপর তোমাদের ওপরে সাহায্য অপরিহার্য।" (সূরা আনফাল-৭২)
আসায় পারস্পরিক সম্পর্কের অভাবে দুর্বোধ্যতা দেখা দিয়েছে।
৮। আয়াত : إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ - "ইব্রাহীমের বাক্য ছাড়া।" (সূরা মুমতাহিনা-৪)
এই আয়াতটির সংশ্লিষ্ট আয়াত হল : لَقَدْ كَانَتْ لَكُمُ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ "ইব্রাহীমের ভেতরে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।" এ দুয়ের ঐক্য অস্পষ্ট বলেই দুর্বোধ্যতা দেখা দিয়েছে।
৯। আয়াত : يَسْأَلُونَكَ كَانَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا - (সূরা আ'রাফ-১৮৭)
এ আয়াতে বাক-বিন্যাসের ব্যতিক্রমের জন্যে দুর্বোধ্যতা এসেছে। আয়াতে 'আনহা' -এর স্থান ছিল 'য়্যাসয়ালূনাকা'-এর পরেই। কিন্তু বাক্যে عنها 'হাফিয়ান' -এর পরে আসায় শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝতে অসুবিধে হয়েছে বলেই এ দুর্বোধ্যতা দেখা দিল।" আয়াতটির রূপ হত এই : يَسْأَلُونَكَ عَنْهَا كَانَّكَ حَفِيٌّ
📄 বাক্যের মধ্যে অতিরিক্ত শব্দের কারণে
কখনও বাগধারা বা বাক্য- বিন্যাসের ব্যতিক্রম ছাড়া আরও কয়েকটি কারণে আয়াতের দুর্বোধ্যতা দেখা দেয়। যেমন :
১। (ছিফাত) বিশেষণ ব্যবহারের ফলে-
(ক) আয়াত : وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ: আর এমন পাখী নেই যা দু'ডানায় ভর দিয়ে উড়ে না। (সূরা আনআম-৩৮)
(খ) আয়াত: إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا "নিশ্চয়ই মানুষকে কোমলমতি গড়া হয়েছে। দুর্বিপাকে পড়লে তারা ভেংগে পড়ে ও সুখে থাকলে তারা মেতে ওঠে।" (সূরা মাআরিজ-১৯-২১)
২। কোন বাক্যাংশের (বদল) পুনরুক্তির ফলে-
لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ তাদের জন্যে যাদের দুর্বল ভাবা হল, তাদের জন্যে যারা ঈমান আনল। (সূরা আ'রাফ-৭৫)
৩। কখনও আতফে তফসিরী যৌগিক বাক্যের একটি অপরটির ব্যাখ্যা হলেঃ
حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً এমনকি যখন পূর্ণবয়স্ক হল এবং চল্লিশ বছরে পৌছল। (সূরা আহকাফ-১৫)
৪। কোন অক্ষর তাকরার বা শব্দের পুনরুল্লেখ ঘটলে-
(ক) আয়াত: وَمَا يَتَّبِعُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ شُرَكَاءَ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ যারা অনুসরণ করে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য অংশীদার, তারা যা অনুসরণ করে, তা অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ নয়। (সূরা ইউনুস-৬৬)
বাক্যের মূলরূপ এই: وَمَا يَتَّبِعُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ شُرَكَاءَ إِلَّا الظَّنَّ
(খ) আয়াত: وَلَمَّا جَانَّهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقُ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَ هُمُ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ
“এবং যখন তাদের কাছে তাদের গ্রন্থকে স্বীকৃতিদানকারী গ্রন্থ এল, অথচ এর আগে তারা কাফিরদের ওপরে তার সাহায্যেই প্রাধান্য বিস্তার করত, আর সেটাই যখন এল, তখন চিনতে পারল না এবং তা অস্বীকার করে বসল।" (সূরা বাকারা ৮৯)
এ আআতে جاء। এর পুনরাবৃত্তি ঘটায় অর্থ দুর্বোধ্য হয়েছে।
(গ) আয়াত: وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَو تَرَكُو مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا . عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ
'এবং তাদের ভয় করা উচিত আল্লহর্কে যারা ভয় পায় নাবালেগ সন্তানদের ছেড়ে মরতে এই ভেবে যে, তাদের পরে কি উপায় হবে? অতএব তাদের আল্লাহকেই ভয় করা উচিত। (সূরা নিসা-৯)
এখানেও 'আল্লাহ্-ভীতি' দুবার উল্লেখ করারয় মর্ম অস্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৫। আয়াত: يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ তোমাকে নব চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে? বলে দাও, তা হচ্ছে মানুষের জন্যে সময় নির্ধারক ও হজ্জের সময়- নির্দেশক। (সূরা বাকারা ১৮৯)
এখানে সংক্ষেপে হত: هي مواقيت للناس في الحج
"নব চাঁদ মানুষে জন্যে তাদের হজ্জের সময় নির্দেশক।" কিন্তু والحج বলায় একটু বাড়লেও লাভ হয়েছে বেশী। মানে, 'চাঁদ তো শুধু হজ্জের সময় নির্দেশের জন্যেই নয়; মানুষের পঞ্জিকা ঠিক করার জন্যে।'
৬। আয়াত: لِتُنْذِرَامَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ
"মক্কাবাসী ও তার পার্শ্ব বর্তীদের যেন সতর্ক কর এবং সতর্ক কর কিয়ামতের দিন সম্পর্কে।" (সূরা শূরা-৭)
تنذرام القرى يوم الجمع মূলরুপ হবে : এখানে দু'বার تنذر এসে গোলমাল বাধিয়েছে。
৭। আয়াত: تَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً "তুমি পাহাড় দেখবে তো সুসংবদ্ধ বলেই মনে করবে।" (সূরা নামাল - ৮৮) এখানে تحسبها অতিরিক্ত। ترى এর বিভিন্ন মর্মের ভেতরে এখানে حسبان বুঝাবার জন্যে এসেছে। আর তার ফলে বাক্য জটিল হয়েছে。
৮। আয়াত: كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَانْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
"মানুষ এক জাতিই ছিল। তারপর আল্লাহ্ তাদের সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ দানের জন্যে নবীদের পাঠালেন এবং তাদের সাথে সত্য গ্রন্থ পাঠালেন যেন তা দিয়ে মানুষের পারস্পরিক বিরোধ মীমাংসা করা হয়। এর বিরুদ্ধে কেউ আপন্তি তোলেনি। শুধু পূর্ব গ্রন্থানুসারীরা, তাও নতুন গ্রন্থ অবতীর্ণ হবার পরে কেবল জিদের বশবর্তী হয়ে বিরোধী সেজেছে। আল্লাহ্ যাদের চান সরল পথ দেখিয়ে দেন।" (সূরা বাকারা-২১৩)
ওপরের আয়াতটির প্রতিটি বাক্য সুবিন্যাস্ত ও সুসংবদ্ধ। তথাপি মাঝখানে وَمَا أَخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُو বাক্যাংশটি জুড়ে দেয়া হয়েছে এ জন্য যে فِيمَا اخْتَلَفُوفِيهِ অংশটির সর্বনামটি সুস্পষ্ট হোক। অর্থাৎ এ কথাটা পরিষ্কার হোক যে, পূর্বের ঐশীগ্রন্থ প্রাপ্তদের ভেতরকার যে অনৈক্য ও মতভেদের কথা বলা হয়েছে, গ্রন্থ হাতে পেয়েই তারা এসব মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে। তারা গ্রন্থের কিছু হুকুম মেনেছে, আর কিছু অস্বীকার করেছে।