📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 অবায় দ্বারা অবায় বদল

📄 অবায় দ্বারা অবায় বদল


যেমন:

১। আয়াত: فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ - 'তারপর যখন তার প্রভূ পাহাড়টি আলোকোজ্জ্বল করলেন।" (সূরা আ'রাফ-১৪৩)
এ আয়াত "جبل" এর সংগে (ل) যেদায়ক অব্যয় এসেছে। আর তা على অব্যয়ের পরিবর্তে এসেছে। অর্থাৎ যেভাবে প্রথম গাছের ওপরে জ্যোতির বিকাশ ঘটেছিল।

২। আয়াত: هم لها سَابِقُونَ 'তারা সেদিকে এগিয়ে গেল।' (সূরা মুমিনূন-৬১)
এ আয়াত এসেছে اليها এর বদলে।

৩। আয়াত : لا يَخَافُ لَدَى الْمُرْسَلُونَ الأَمَنَ ظَلَمَ 'আমার কাছে রসূলদের কোন ভয় নেই-একমাত্র আত্মপীড়ক ছাড়া।' (সূরা নমল ১০/১১)
এ আয়াতে اِلَّا এসেছে। لَكِنَّ -এর পরিবর্তে।

৪। আয়াত : لَا صَلِّبَنَّكُمْ فِي جُزُوعِ النَّخْلِ 'আমি অবশ্যই তোমাদের খেজুর শাখায় ফাঁসি দেব।' (সূরা ত্ব'হা-৭১)
আয়াতে عَلَى এর স্থলে فِي ব্যবহৃত হয়েছে।

৫। আয়াত : أَمْ لَهُمْ سُلَّمْ يَسْتَمِعُونَ فِيهِ - 'তাদের কাছে কি সিঁড়ি আছে যাতে চড়ে তারা শুনতে পায়?' (সূরা তুর-৩৮)
এ আয়াতে "عليه" এর স্থলে "فيه" ব্যবহৃত হয়েছে।

৬। আয়াত : السَّمَاء مُنْفَطِرٌ بِهِ- 'আকাশ তার ফলে বিদীর্ণ হবে।' (সূরা মুজ্জামিল -১৮)
এ আয়াতে فِيهِ এর স্থলে بِه ব্যবহৃত হয়েছে।

৭। আয়াত : مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ .... الخ 'তা নিয়ে অহংকার করে।' (সূরা মুমিনুন-৬৭)
এ আয়াতে عَنْهُ এর স্থলে بِه ব্যবহৃত হয়েছে।

৮। আয়াত : أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالاثْمِ - 'মর্যাদাবোধই তাদের পাপে লিপ্ত করল।' (সূরা বাকারা ২০৬)
এখানে حَمَلَتْهُ স্থলে أَخَذَتْهُ এবং عَلَى এর স্থলে بِ ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থ হবে, মর্যাদা ও ক্ষমতা তাকে পাপের দিকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

৯। আয়াত : فَاسْئَلُ بِهِ خَبِيراً . এ ব্যাপারে কোন পরিজ্ঞাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা কর।' (সূরা ফুরকান-৫৯)
এখানেও عَنْهُ এর স্থলে بِه এসেছে।

১০। আয়াত : وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ 'নিজের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদ খেয়ে বসবে না।' (সূরা নিসা-২)
এখানে ও مَعَ এর স্থলে إِلَى এসেছে। مَعَ الْمَرَافِقِ : إِلَى الْمَرَا فِي : অর্থ দাঁড়াবে, কনুইসহ।

১২। আয়াত: يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ (সূরা দাহার-৬) আল্লাহ্র বান্দা তা থেকে পানি পান করে।'
মূলত হতঃ يَشْرَبُ مِنْهَا عِبَادُ اللَّهِ 'আল্লাহ্ বান্দা তা থেকে পানি পান করে।'

১৩। আয়াত: مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا انْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ - 'যখন তারা বলে, আল্লাহ্ মানুষের কাছে কিছুই অবতীর্ণ করেন নি; তখন (সূরা আনাম-৯১) তারা আল্লাহ্ যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় না।'
এ আয়াতে أَنْ এসেছে أَن অব্যয়ের বদলে।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 বাক্যের বদলে বাক্য ব্যবহার

📄 বাক্যের বদলে বাক্য ব্যবহার


কখনও পূর্ণ একটা বাক্য অনুল্লেখ রেখে তার বদলে আরেকটি বাক্য ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় বাক্য যদি পয়লা বাক্যের মর্ম ব্যক্ত করে ও তার অস্তিত্বের আভাস দেয়, তা হলেই এরূপ করা হয়। এতে মর্ম তো যথাযথ থাকে, কিন্তু বাক্যের কাঠামো সংক্ষেপ করে। যেমন:

১। আয়াত: وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ (সূরা বাকারা-২২০) 'তোমরা যদি তাদের সাথে মিশ, তাহলে তারা তোমাদের ভাই হয়ে যাবে।
আদতে বাক্যটি ছিল এই: نْ تُخَالِطُوهُمْ لَبَأْسَ بِذَلِكَ لِأَنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ وَشَانُ الْآخِ أَنْ يُخَالِطُ أَخَاهُ .

২। আয়াত: لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْر ... الخ "আল্লাহ্ থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার অবশ্যই এর চেয়ে উত্তম।" (সূরা বাকার-১০৩)
বাক্যটি এরূপ হত:- لَوَجَدُوا ثَوَابًا وَمَثُوبَةً عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٍ

৩। আয়াত: إِنْ يَسْرِقُ فَقَدْ سَرَقَ أَنَّ لَهُ مِنْ قَبْلُ : 'যদি সে চুরি করে থাকে, তাহলে এর আগে তার ভাইও চুরি করেছে।' (সূরা ইউসুফ-৭৭)
বাক্যটি এরূপ ছিল: إِنْ سَرَقَ فَلَا عَجَبَ ، لِأَنَّهُ قَدْ سَرَقَ أَنَّ لَهُ مِنْ قَبْلُ ، لأَنَّهُ قَدْ 'সে যদি চুরি করে থাকে, অবাক হবার কিছু নেই। কারণ তার ভাইও চোর।'

৪। আয়াত: مَنْ كَانَ عَدُ وَالجِبْرِ يُلَ فَإِنَّهُ نَزَّ لَهُ عَلَي قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ 'যদি কেউ জিবরাঈলকে দুশমন ভাবে, তার মনে রাখা উচিত, আল্লাহ্ই তাকে তোমার অন্তরে অবতীর্ণ করেছেন।' (সূরা বাকারা -৯৭)
বাক্যটির মূল রূপ : مَنْ كَانَ عَدُ وَالجِبْرِيلَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لَهُ، فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِهِ فَعَدُوهُ يَسْتَحِقُّ أَنْ يُعَادِ بِهِ اللَّهُ تَعَالَى - 'যে ব্যক্তি জিব্রাঈলের শত্রু, সে আল্লাহর শত্রু। কারণ তিনিই তাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন। সুতরাং তার সাথে যে শত্রুতা করে সে আল্লাহ্ শত্রুতাই কামনা করে।'

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 অনির্দিষ্ট শব্দকে নির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা পরিবর্তন

📄 অনির্দিষ্ট শব্দকে নির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা পরিবর্তন


কখনও বাগধারা চায় যে, অনির্দিষ্ট শব্দকে নির্দিষ্ট করে ব্যবহার করা হোক। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্টতার চিহ্ন ও রীতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মর্ম অনির্দিষ্টই থাকে যেমন:

وَقِيلِهِ يَارَبِّ এখানে قِيلَ له قيله আসলে ১। এ পরিবর্তনে বাক্যের সংকোচন ঘটেছে।
حَقُّ الْيَقِينُ আসলে حق. يقين "ল" যোগ করা হয়েছে, শুধু উচ্চারণের সুবিধার জন্যে।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 লিঙ্গ ও বচনের পরিবর্তন

📄 লিঙ্গ ও বচনের পরিবর্তন


কখনও বাগধারার স্বাভাবিক চাহিদা মোতাবেক সর্বনাম স্ত্রীলিঙ্গ, কখনও বা পুংলিঙ্গ করা হয়। কখনও তাতে একবচন ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়, কখনও আবার এক বচনের স্থলে বহুবচন ব্যবহার দরকার হয়। এ পরিবর্তনের মূলে রয়েছে বাক্যে মূল অর্থের সংগতি বিধান। যেমন :

১। আয়াত: فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هُذَا رَبِّي هُذَا أَكْبَرُ - 'যখন সূর্যকে চমকাতে দেখল, বলল এই আমার সেই শ্রেষ্ঠ প্রভু।' (সূরা আনয়াম-৭৮)
এ আয়াতে 'শামস্' পুংলিঙ্গের স্থলে 'বাযিগাতান' এ সর্বনাম স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে।

২। আয়াত: مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْ قَدَنَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ 'তাদের উপমা এই, যেন একদল আগুন জ্বালাল আর যখনই চারিদিক আলোকিত হল, আল্লাহ্ তাদের দৃষ্টিশক্তি হরণ করলেন।' (সূরা বাকারা-১৭)
এ আয়াতে 'আদাআত' এ সর্বনাম বহুবচনের স্থলে এক বচন ব্যবহৃত হয়েছে।

এভাবে কখনও দ্বিবচনের জায়গায় একবচন ব্যবহৃত হয়েছে। যথাঃ
১। আয়াত: وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنُهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ
এ আয়াতে غنی। ক্রিয়াটি একবচন। অথচ তার কর্তা আল্লাহ্ ও রসূল দু'জন। ঠিক فضله এর সর্বনামের ও সেই অবস্থা যেহেতু আল্লাহ্ ও রসূলের একই করণীয় ব্যাপার, তাই দ্বিবচনের জায়গায় একবচন নেয়া হয়েছে।

২। আয়াতঃ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَآثَانِي رَحْمَةً مِنْ عِنْدِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ 'যদি আমি আমার প্রভুর থেকে প্রাপ্ত নিদর্শন পেয়ে থাকি এবং তাঁর থেকে রহমতও লাভ করি.... ইত্যাদি।' (সূরা হুদ-২৮)
এখানে عمیت এর সম্পর্ক رحمة ও بينة দুটোরই সাথে। সুতরাং দ্বিবচনের عميتا হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুটোরই অবস্থা এক বলে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px