📄 যেখানে উৎস অংশ তালাশ নিষ্প্রয়োজন
কুরআনের আরেকটি রীতি ঠিক এর কাছাকাছি ধরনের এবং তাও স্মরণ রাখা দরকার। কিছু আয়াত আছে যা, إِذْ শব্দ দ্বারা শুরু হয়। যেমন: وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ .. الخ "এবং যখন তোমাদের প্রভু ফেরেশতাদের বললেন... ইত্যাদি।" কিংবা- وَإِذْ قَالَ مُوسَى ... الخ "এবং যখন মুসা বলল... ইত্যাদি।"
এসব জায়গায় إِذْ অধিকরণকারক হয়ে ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু যে সব স্থানে إِذْ দ্বারা আকস্মিকতা বা ভীতি প্রকাশ উদ্দেশ্য হয়, তখন এ শব্দটার কৃতিত্ব এরূপ দেয়া যায় যে, কোন ভয়াবহ বা আকস্মিক ঘটনা প্রকাশের কোনরূপ বাক্যাংশ ব্যবহার না করেও একাই তা ফুটিয়ে তোলে। শুধু মাত্র "ইয়' শব্দটি ভাবনা-চিন্তাকে প্রভাবিত করে ফেলে। সুতরাং এরূপ স্থনে 'আমেল' খুঁজবার প্রয়োজন হয় না।
📄 “আযুনার পর ‘যার’ উহা রাখার রীতি ব্যাপক
আরবরা সাধারণত ان ধাতুর আগে 'যের দায়ক' অব্যয়কে উহ্য করে لان এর অর্থে ব্যবহার করত। কুরআন শরীফেও কোন কোন স্থানে এ রীতিটি অনুসরণ করা হয়েছে।
📄 ‘লাও’ শর্তিয়ার জাবব উহা রাখার রীতি ও ব্যাপক
কুরআনে কখনো কখনো শর্তমূলক বাক্যের শর্তোত্তর ভাগ উহ্য থাকে যেমন:
(১) وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمُوتِ .. الخ "এবং তুমি যদি দেখতে যখন জালিমরা মরণের কোলে ঢলে পড়বে... ইত্যদি।"
(২) وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْيَرُونَ الْعَذَابَ .. الخ "যদি জালিমরা জুলুমের শাস্তি দেখতে পেত!.... ইত্যাদি।"
এ ধরনের আয়াতে শর্তোত্তর অংশ উহ্য থাকে। কিন্তু এ বাগধারাটি মূল অর্থে প্রকাশ না পেয়ে "বিস্ময়' প্রকাশার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এখানেও উহ্য অংশ তালাশের প্রয়োজন থাকে না।
📄 এবদাল
এবদাল অর্থ হচ্ছে এক শব্দের স্থলে অন্য শব্দ বসানো। কুরআনে এর ব্যবহার প্রচুর। অবশ্য তার ধরন বিভিন্ন। কখনও ক্রিয়া দিয়ে ক্রিয়া, বিশেষ্য দিয়ে বিশেষ্য, অব্যয় দিয়ে অব্যয়, পূর্ণ বাক্য দিয়ে পূর্ণ বাক্য বদল করা হয়। তাছাড়া নির্দিষ্টকে অনির্দিষ্ট, পুলিংগকে স্ত্রীলিংগ, এক বচনকে বহুবচন দিয়েও পরিবর্তন করা হয়। নীচে বিস্তারিত আলোচনা দেয়া হল।