📄 অন্যান্য ধরনের হজফ
বাক্যের বিভিন্ন অংশ যথা -এর খবর বিধেয় (কিংবা কোন শর্তের 'জাযা' ক্রিয়ার কর্ম) অথবা বাক্যের উদ্দেশ্যাংশ ইত্যদি এ শর্তে অনুল্লেখ রাখা যেন পরবর্তী শব্দ বা বাক্যাংশে সে উহ্য অংশ ধরা পড়ে। কুরআনে এর ব্যাপক অনুসরণ রয়েছে যেমন:
১। আয়াত: فَلَوْ شَاءَ لَهَذَا كُمْ أَجْمَعِينَ ... الخ 'যদি আমি ইচ্ছে করতাম, তোমাদের সবাইকে হিদায়াত করতে পারতাম ...ইত্যাদি।'
এখানে 'ফালাও শা-আ'র পরে 'হিদায়াতাকুম' উহ্য আছে।
২। আয়াত: الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ "সত্য সেটাই যা তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে আসে।" এ আয়াতের শুরুতে هو শব্দ উহ্য আছে।
৩। আয়াত: لَا يَسْتَوِى مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ اعْظَمُ دَرَجَةٌ مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا - "তোমাদের যারা মক্কা জয়ের আগে ধনপ্রাণ উৎসর্গ করেছ আর যারা পরে উৎসর্গ করেছ, দু'দল সমান হবে না।"
এ আয়াতে 'মান আনফাকা মিন কাবলিল ফাতহে ওয়া কতালা'-এর পরে 'ওয়া মান আনফাকা বা'দাল ফাতহে ওয়া কাতালা' থাকা উচিত ছিল। কিন্তু শেষভাগের উলায়ীক আ'জামু 'দারাজাতাম মিনাল্লাজীনা' বাক্যাংশে সে মর্মের প্রকাশ ঘটেছে। অর্থাৎ জয়ের আগে যারা অর্থ দিয়েছে, যুদ্ধ করেছে আর যারা পরে করেছে তাদের দু'দলের মর্যাদা সমান হতে পারে না।
৪। আয়াত: وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِمُ الْأَكَانُوا عَنْهَا مُعْرِ ضِينَ "আর যখন তাদের বলা হয়, নিজ পরিবেশ থেকে বেঁচে চল, আল্লাহ্র অনুগ্রহের উপযোগী হবে এবং যখন তাদের কাছে আল্লাহর কোন নিদর্শন আসতো, তারা ঘাড় ফিরিয়ে নিত।" এ আয়াত 'খালফাকুম'-এর পরে 'আ'রায়ু' শব্দ মাহযুব রয়েছে।
📄 যেখানে উৎস অংশ তালাশ নিষ্প্রয়োজন
কুরআনের আরেকটি রীতি ঠিক এর কাছাকাছি ধরনের এবং তাও স্মরণ রাখা দরকার। কিছু আয়াত আছে যা, إِذْ শব্দ দ্বারা শুরু হয়। যেমন: وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ .. الخ "এবং যখন তোমাদের প্রভু ফেরেশতাদের বললেন... ইত্যাদি।" কিংবা- وَإِذْ قَالَ مُوسَى ... الخ "এবং যখন মুসা বলল... ইত্যাদি।"
এসব জায়গায় إِذْ অধিকরণকারক হয়ে ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু যে সব স্থানে إِذْ দ্বারা আকস্মিকতা বা ভীতি প্রকাশ উদ্দেশ্য হয়, তখন এ শব্দটার কৃতিত্ব এরূপ দেয়া যায় যে, কোন ভয়াবহ বা আকস্মিক ঘটনা প্রকাশের কোনরূপ বাক্যাংশ ব্যবহার না করেও একাই তা ফুটিয়ে তোলে। শুধু মাত্র "ইয়' শব্দটি ভাবনা-চিন্তাকে প্রভাবিত করে ফেলে। সুতরাং এরূপ স্থনে 'আমেল' খুঁজবার প্রয়োজন হয় না।
📄 “আযুনার পর ‘যার’ উহা রাখার রীতি ব্যাপক
আরবরা সাধারণত ان ধাতুর আগে 'যের দায়ক' অব্যয়কে উহ্য করে لان এর অর্থে ব্যবহার করত। কুরআন শরীফেও কোন কোন স্থানে এ রীতিটি অনুসরণ করা হয়েছে।
📄 ‘লাও’ শর্তিয়ার জাবব উহা রাখার রীতি ও ব্যাপক
কুরআনে কখনো কখনো শর্তমূলক বাক্যের শর্তোত্তর ভাগ উহ্য থাকে যেমন:
(১) وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمُوتِ .. الخ "এবং তুমি যদি দেখতে যখন জালিমরা মরণের কোলে ঢলে পড়বে... ইত্যদি।"
(২) وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْيَرُونَ الْعَذَابَ .. الخ "যদি জালিমরা জুলুমের শাস্তি দেখতে পেত!.... ইত্যাদি।"
এ ধরনের আয়াতে শর্তোত্তর অংশ উহ্য থাকে। কিন্তু এ বাগধারাটি মূল অর্থে প্রকাশ না পেয়ে "বিস্ময়' প্রকাশার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এখানেও উহ্য অংশ তালাশের প্রয়োজন থাকে না।