📄 কালামুল্লাহ দুর্বোধ্য হওয়ার কারণসমূহ
কুরআনের আয়াত কিংবা তার কোন স্থান বুঝতে কখনো এ জন্যে বেগ পেতে হয় যে, সেখানে ব্যবহৃত কোন শব্দ বা পরিভাষা প্রায় পরিত্যাজ্য বা কম ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেহেতু সে শব্দ বা পরিভাষার অর্থ সুস্পষ্ট নয়, তাই গোটা আয়াতের অর্থ বুঝাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ বিপদের প্রতিকারকল্পে দেখতে হবে যে, সাহাবা, তাবেঈন ও অতীতের আলেমরা সে শব্দ বা পরিভাষাটির অর্থ কি বুঝেছেন। এভাবে সেটার সঠিক অর্থ বুঝা যেতে পারে。
কুরআনের দুর্বোধ্যতা সৃষ্টির আরেকটি কারণ :
নাসিখ-মানসূখ সমস্যা অর্থাৎ কোন্ আয়াত পরে এসে আগের কোন্ আয়াত বাতিল করল, তা জানা থাকে না। তাই কুরআনে স্ববিরোধ পরিলক্ষিত হয়। ফলে সত্যিকারের তাৎপর্য বুঝার পথ থাকে না।
তেমনি শানে নুযূল অর্থাৎ আয়াতটি অবতীর্ণ হবার বিশেষ কারণটির প্রতি লক্ষ্য না থাকায়ও কোন্ আয়াতের তাৎপর্য ও তার মূল উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দুর্বোধ্যতার কয়েকটি কারণও এরূপ আছে যেগুলো মূলনীতি, ব্যাকরণ, বর্ণনা-রীতি ও ভাষা জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো না জানার জন্যেও কুরআন দুর্বোধ্য মনে হয়।
* বস্তুতঃ কিছু আয়াত এরূপ রয়েছে যার ভেতরে সম্পৃক্ত (মুযাফ) কিংবা গুণান্বিত (মওসুফ) বন্ধু অনুলেখ (মাহযুফ) থাকে।
* কখনও এক শব্দের বদলে অন্য শব্দ, এক অক্ষরের বদলে অন্য অক্ষর, এক ক্রিয়ার বদলে অন্য ক্রিয়া এবং এক কর্তার বদলে অন্য কর্তা ব্যবহার করা হয়।
* কখনও এক বচনের স্থলে বহুবচন ও বহুবচনের বদলে এক বচন ব্যবহার করা হয়。
* কখনও তৃতীয় পুরুষের স্থলে মধ্যম পুরুষ, কখনও বা মধ্যম পুরুষের স্থলে তৃতীয় পুরুষ ব্যবহার করা হয়।
* কোথাও বাক্যের আগের অংশ পরে ও পরের অংশ আগে ব্যবহারের রীতি অবলম্বন করা হয়। কোথাও সর্বনাম অনির্দিষ্ট থাকে।
* কখনও একই শব্দ দ্বারা বিভিন্ন ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করা হয়। কোথাও পুনরাবৃত্তি ও বিস্তারিত আলোচনার দ্বারা কাজ সারা হয়েছে। কোথাও আবার সংক্ষেপে ও ইঙ্গিতে বলা হয়েছে।
এ সব যদি লক্ষ্য করা না হয়, তা হলে যথার্থ অর্থ অনুধাবন করা কঠিন হবেই।
এভাবে কুরআনে কোথাও বাক্যালংকার ও ব্যঞ্জনা দ্বারা কাজ নেয়া হয়েছে। স্থানে স্থানে ইংগিত-ইশারা, দুর্বোধ্য শব্দ, আলংকারিক বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ সবের দিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার।
সুতরাং যারা কুরআনের ব্যাখা দানের মত সংকটপূর্ণ কাজে হাত দিতে চায় এবং কুরআন নিয়ে গবেষণার সৌভাগ্য অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য গোড়াতেই এসব বুঝে নেয়া প্রয়োজন। এ সবের উপমা-উদাহরণগুলো যেন তারা দেখে নেয়। তাহলে এরূপ দুর্বোধ্য জায়গায় তারা বিস্তারিত আলোচনার স্থলে ইংগিত ইশারায় কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।