📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 ইশারা-ইস্তিবাহি আয়াতের ব্যাখ্যা দান

📄 ইশারা-ইস্তিবাহি আয়াতের ব্যাখ্যা দান


এসব তো সার্বজনীন কল্যাণকর গোটা জাতির জন্যে প্রদত্ত বিধান। এর থেকে আরেকটু এগিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে হযরত (সঃ)-কে প্রশ্ন করায় যে সব জবাব এসেছিল তাও বিদ্যমান। কিংবা মুমিনরা জান-মাল লুটিয়ে যে সব ত্যাগ দেখিয়েছে, মুনাফিকরা সে ক্ষেত্রে যেরূপ স্বার্থপরতা ও কার্পণ্যের পরিচয় দিয়েছে, তার বর্ণনা রয়েছে। এ প্রসংগে আল্লাহ্ মুমিনদের প্রশংসা ও মুনাফিকদের ভৎর্সনা করেছেন। হযরত (সঃ)-এর জীবদ্দশায় আল্লাহ্ তাআলা যে শত্রুদের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষা করেছিলেন, তাও দেখা যায়। আল্লাহ্ পাক এ সব ব্যাপারের উল্লেখ করতে গিয়ে মুসলমানদের ওপরে তাঁর ইহসান ও অবদানের কথা প্রকাশ করেছেন। এরূপও দেখা গেছে যে, মুসলমানদের ধমক দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, কিংবা ইঙ্গিতে-ইশারায় কিছু বলে দেয়া হয়েছে। কোথাও বিশেষ ব্যাপারে বাধা-নিষেধের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় তৎক্ষণাত আয়াত এসে গেছে। তাফসীরকারদের কর্তব্য হচ্ছে এই, এরূপ ক্ষেত্রে আয়াতের সংশ্লিষ্ট সেই বিশেষ ঘটনাটি ও সংক্ষেপে বলে দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যুগে সংঘটিত বিশেষ যুদ্ধগুলোরও উল্লেখ কুরআনে আছে। সূরা আনফালে বদরের যুদ্ধ, সূরা আল্-ইমরানে ওহুদের যুদ্ধ, সূরা আহযাবে খন্দকের যুদ্ধ, সূরা ফাহে হুদায়বিয়ার সন্ধি, সূরা হাশরে বনূ নযীরের যুদ্ধ ও সূরা বারাআতে মক্কা বিজয় ও তবুকের যুদ্ধের উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী যেমন বিদায় হজ্জের উল্লেখ রয়েছে সূরা মায়েদায়, যয়নবের বিবাহের কাহিনী রয়েছে সূরা আহযাব ও সূরা তাহরীমে, মিথ্যা অপবাদের (হযরত আয়েশা (রাঃ) সম্পর্কিত) কাহিনী রয়েছে সূরা নূরে, জিনের সাথে রাসুলের (সঃ) সম্পর্কের কথা রয়েছে সূরা জিন ও আহ্কাফে, মসজিদে যেরারের (বিভেদমূলক) কথা রয়েছে সূরা বারাআতে এবং মিরাজের বর্ণনা মিলে সূরা বনী ইসরাঈলে।
এসব আয়াত মূলত 'আইয়্যামিল্লাহর অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু যেহেতু এগুলোর তাৎপর্য বুঝা সংশ্লিষ্ট কাহিনীর ওপরে নির্ভর করে, তাই এগুলোকে ভিন্ন একটা শ্রেণী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাফসীরকাররা যেন এ ধরনের আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি অবশ্যই উল্লেখ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px