📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 কাহিনীর উদ্দেশ্য

📄 কাহিনীর উদ্দেশ্য


এ সব কিস্সা-কাহিনী বর্ণনার উদ্দেশ্য লোকদের কাহিনীগুলো সঠিক ভাবে শুনিয়ে দেয়া নয়; বরং এগুলো বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে শির্ক ও মুশরিকের কিরূপ শোচনীয় পরিণতি দেখা দেয় এবং সে সবের জন্য কিভাবে আল্লাহ্ গযব নাযিল হয়, তা দেখানো। সঙ্গে সঙ্গে যেন তারা নিশ্চিত হতে পারে যে, আল্লাহ্ পাক তাঁর অনুগত খাঁটি বান্দাদের সর্বদা সহায়তা করে থাকেন।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 তায়কিরের বিল-মউত

📄 তায়কিরের বিল-মউত


কুরআনের এ অধ্যায়টিতে মৃত্যু ও তার পরবর্তীকালের ঘটনাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। মরণকালে মানুষ কিরূপ অসহায় হয়ে যায়, মরণের পরে কিভাবে বেহেশত বা দোযখের পালা আসে, আযাবের ফেরেস্তারা কেমন করে এসে থাকে ইত্যাদি। তাছাড়া কিয়ামতের নিদর্শন যথা, হযরত ঈসা (আঃ)-এর আকাশ থেকে অবতরণ এবং দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের অভিযান সম্পর্কিত ঘটনাও রয়েছে। এ প্রসংগে এও বলা হয়েছে, শিংগা কিভাবে ফু'কা হবে, পুণরুত্থান ও পূর্ণবিন্যাস কিভাবে ঘটবে, কিভাবে প্রশ্নোত্তর হবে, ইন্সাফের পাল্লা কেমন করে স্থাপিত হবে এবং আমলনামা কি করে ডান ও বাম হাতে দেয়া হবে। তৎসংগে মুমিনরা যে জান্নাতে আর কাফিররা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তাও বলা হয়েছে। কি করে সর্বসাধারণ জাহান্নামীরা সেখানে তাদের নেতাদের সাথে ঝগড়া করবে, তারা কি করে একে অপরের ওপরে দোষ চাপাবে, একে অপরকে গালি দেবে, মুমিনদের কেমন করে আল্লাহ্র সাথে দেখা হবে, কাফিরদের কিরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, তারও উল্লেখ রয়েছে।
এ অধ্যায়ে আযাবের জন্যে নির্মিত আগুনের কড়া ও শিকল, আর আযাবের বিভিন্ন ধারা যথা, হামীম, গাস্সাক, যক্কুম ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। জান্নাত ও সেখানকার নানারূপ নিয়ামত ও সুখ-শান্তি যথা হুর ও কুসূর, দুধ ও শরবতের নহর, উপাদেয় ও রুচিকর আহার্য, উত্তম ও আকর্ষণীয় পোশাক-পরিচ্ছদ এবং সুন্দরী নারীদের বর্ণনা রয়েছে। জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক চিত্তাকার্ষী সম্পর্ক ও সুমধুর আলাপনের চিত্র আঁকা হয়েছে। আর এ সব কাহিনীগুলো বিভিন্ন সূরায় ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে কোথাও ধারাবাহিক কোথাও বা এলোমেলোভাবে বলা হয়েছে। সূরা গুলোর আকৃতি-প্রকৃতি অনুসারে কোথাও সংক্ষেপে, কোথাও আবার ব্যাপ্তি সহকারে বলা হয়েছে। প্রত্যেক স্থানেই নতুন বর্ণনাভংগী অনুসৃত হয়েছে।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 ইলমুল আহকাম সংবিধান পর্যালোচনা মূলতত্ত্ব

📄 ইলমুল আহকাম সংবিধান পর্যালোচনা মূলতত্ত্ব


সংবিধান (আহকাম) নিয়ে আলোচনা সর্ব প্রথম তত্ত্ব হল এই, আমাদের হযরত (সঃ) হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের ভেতরে প্রেরিত হয়েছিলেন বলে তিনি ইব্রাহীম (আঃ)-এর সংবিধানকেই যথাসম্ভব রক্ষা করেছেন। প্রয়োজনে কোথাও হয়তো ব্যাপককে বিশেষ কিংবা নির্বিশেষকে সবিশেষ এবং কোথাও বাড়ানো বা কমানো হয়েছে।
দ্বিতীয় তত্ত্ব হল এই, আল্লাহ্ হযরত (সঃ)-এর সাহায্যে আরববাসীকে পবিত্র করতে চেয়েছিলেন এবং তাদের সাহায্যে অন্যান্য সব রাষ্ট্রের সংস্কার চেয়েছেন। সুতরাং ইসলামী সংবিধানের ভিত্তি আরববাসীর রীতি-নীতি ও অভ্যাসের ওপরে প্রতিষ্ঠিত করা অপরিহার্য ছিল।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 বিকৃত মিল্লাতে ইবরাহীমীর সংস্কার

📄 বিকৃত মিল্লাতে ইবরাহীমীর সংস্কার


বস্তুত যদি ইব্রাহীমী ধর্মের সংবিধান ও আরববাসীর রীতি-নীতি সামনে রেখে ইসলামী সংবিধান অধ্যয়ন করা হয়, তাহলে আমাদের রাসূল (সঃ) ইব্রাহীমী ধর্মানুসারী আরববাসীদের ধর্মের যে সংস্কার ও রদবদলের জন্যে এসেছিলেন, তাঁর প্রতিটি বিধানের কারণ এবং প্রত্যেক বিধি নিষেধের কল্যাণ ধর্মিতা সুস্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে।
সারকথা ইবাদাত অর্থাৎ পবিত্রতা, নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জ, যিকির পালনে বড়ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল। আর এই বিপর্যয়ের কারণও ছিল কয়েকটি। (১) ইবাদত পালনে অলসতা ও অমনোযোগ, (২) অজ্ঞতার কারনে ইবাদাতের পদ্ধতি নিয়ে পরস্পর বিবাদ। (৩) জাহেলী যুগের বিকৃতির অনুপ্রবেশ। এই সমস্ত কারণে মিল্লাতে ইব্রাহীমীর মধ্যে যে সকল ত্রুটির সৃষ্টি হয়েছিল, কুরআন শরীফ সে গুলোর সংশোধন ও সংস্কার করল এবং সহজ-সরল ও দৃঢ় করল। ফলে মিল্লাতে ইব্রাহীমীর আদর্শ গুলো সঠিক ও সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা লাভ করল।
ঠিক এভাবেই পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও নানা ধরনের কুসংস্কার, অন্যায় অনাচার জন্ম নিয়েছিল। তাই কুরআন তাদের সংশোধনের জন্য নীতিমালা দান করল ও বিধি-নিষেধ আরোপ করল এবং ছগিরা কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা দিল, যাতে মানুষ ঐ সমস্ত পাপাচার থেকে নিজেদের কে দূরে রাখে।
কুরআনে নামাযের প্রশ্নটিও সংক্ষেপে সেরে দিয়েছে। শুধু 'ইকামতে সালাত'-এর নির্দেশ জারী করেছে। আমাদের হযরত (সঃ) মোটামুটি সেই নির্দেশের আলোকে মসজিদ গড়লেন, জামাআতে নামায ও নামাযের ওয়াক্ত ইত্যাদি নিয়ম প্রবর্তন করলেন। তেমনি যাকাতের বিধানটিও সংক্ষেপে বলা হল। আমাদের রাসূল (সঃ) তার ব্যাখ্যা দিলেন।
এভাবে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যাপারে আলাদা আলাদা বিধান এসেছে। যেমন, সূরা বাকারায় রোযা ও হজ্জের, সূরা বাকারা, আনফাল ও অন্য কয়েকখানে জিহাদের, সূরা মায়েদা ও সূরা নূরে দন্ডবিধি, সূরা নিসায় মিরাসের (উত্তরাধিকার-সত্ত্ব) ও সূরা বাকারা, সূরা নিসা ও সূরা তালাকে বিবাহ বিচ্ছেদের বিধি-নিষেধগুলো এসেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px