📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 পব্ধ ইলমের পরিশিষ্ট, তফকীর বি আলরাইয়াহ

📄 পব্ধ ইলমের পরিশিষ্ট, তফকীর বি আলরাইয়াহ


জেনে রাখা প্রয়োজন, কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে গোটা মানব জাতির সভ্যতা ও আত্মিক পবিত্রতা সৃষ্টির জন্যে। সে ক্ষেত্রে আরব-অনারব কিংবা শহুরে বা গেঁয়োর প্রশ্ন নেই। সুতরাং ঐশী-কৌশলের চাহিদা এটাই ছিল যে, আল্লাহ্র নিদর্শন স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যে শুধু সে সব ব্যাপারে আলোচনা করা হবে যা অধিকাংশ লোকের জানা থাকে। তাই 'আলাইল্লাহ্' আলোচনার ধারায় অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ব্যাপারটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে সীমিত রাখা হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলীর এমন বর্ণনা দেয়া হয়েছে যা সাধারণ বুদ্ধির মানুষও সহজে অনুধাবন করতে পারে। সে জন্যে যেন 'ইলমে কালাম' কিংবা খোদায়ী কলাকৌশলের তত্ত্ব অধ্যয়নের প্রয়োজন দেখা না দেয়।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 আল্লাহর অস্তিত্ব

📄 আল্লাহর অস্তিত্ব


বস্তুত কুরআন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করেছে। প্রমাণের জন্যে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়াস নেই তাতে। কারণ আল্লাহর অস্তিত্বের ধারণাটি মানুষের ভেতরে ব্যাপক হয়ে আছে। পৃথিবীর ভেতরে এমন কোন সুস্থ ও স্বাভাবিক দেশ বা জাতি নেই, যেখানে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়।
অবশ্য আল্লাহর গুণাবলীর প্রশ্নটি চিন্তা ভাবনা ও সাধনা ব্যতিরেকে সহজে বুঝে ফেলার নয়। সত্য বলতে কি, তার তত্ত্ববুঝ ও বুঝানো উভয়ই অসম্ভব। কিন্তু সব চাইতে মুশকিলের ব্যাপার হল এই, যদি আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে কোনই ধারণা না নেয়া যায়, তাহলে পরিচয় লাভও সম্ভবপর নয়। অথচ সভ্যতা ও আত্মিক মার্জনা সৃষ্টির জন্যে সেই পরিচয়ই একমাত্র পথ। তাই আল্লাহ্র অপার লীলা সেই কঠিন পথটির এভাবে সমাধান ঘটিয়েছে যে, মানুষের গুণাবলীর ভেতরে এমন কতগুলো গুণ বেছে নিয়েছে যেগুলো সব মানুষেরই জানা আছে। সেই গুণগুলোকে খোদার সূক্ষ্ম ও দুর্বোধ্য গুণাবলীর স্থলে এমনভাবে পেশ করা হয়েছে, যাতে করে অক্ষম মানুষ সে সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিতে পারে। অথচ সংগে সংগে বলে দেওয়া হয়েছে, "এসবের কোন তুলনা নেই।"
কারণ সীমাবদ্ধ গুণের মানুষ যেন আল্লাহর গুণকে অনুরূপ ভাবতে গিয়ে ভুল ধারণা ও মুর্খতার শিকারে পরিণত না হয়।
এমন কতগুলো মানবীয় গুণও রয়েছে, তা যে শুধু আল্লাহর মর্যাদার অনুপযোগী তাই নয়; উপরন্তু সে সব যদি আল্লাহ্র সাথে সংযুক্ত করা হয় তা হলে মানুষ ভ্রান্ত ধারণা ও বিশ্বাসের শিকার হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, সন্তান জন্ম নেয়া, কান্নাকাটি করা, শোকে অধীর হওয়া ইত্যাদি। তাই এসব মানবীয় গুণকে আল্লাহ্র সাথে সংযুক্ত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অবশ্য যে সব গুণের সংযোজন মৌল বিশ্বাসে বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তি না ঘটায়, আর যে সব গুণের সংযোজন ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি করে, এ দুয়ের ভেতর পার্থক্য সৃষ্টি করা এমন সূক্ষ্ম ও কঠিন ব্যাপার, যেখানে মানবীয় চিন্তা ও জ্ঞান পৌঁছুতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রটি অবশ্যই চুপ থাকার ও বিরত থাকার। সুতরাং এ প্রশ্নে নিজ খেয়ালখুশির মতামত পেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 আল্লাহর নিদর্শন সমূহ

📄 আল্লাহর নিদর্শন সমূহ


তেমনি আল্লাহ্ কুদরতের নিশানা ও তাঁর অবদানের ভেতর সেগুলোই নির্বাচিত করা হয়েছে, যেগুলো শহুরে কিংবা গেঁয়ো, আরব কিংবা অনারব সবাই সমানভাবে বুঝতে পারে। এ কারনেই যে সব আধ্যাত্মিক অবদান শুধু আলেম ও ওলী-দরবেশের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে আছে, সে সবের উল্লেখ করা হয়নি। আর যে সব দুর্লভ অবদান শুধু রাজা বাদশাহর জন্যে নির্দিষ্ট রয়েছে, সেগুলোরও উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আলোচনার জন্যে যে গুলো বাছাই করা হয়েছে, তার ভিতরে আসমান যমীনের সৃষ্টি লীলা, মেঘের বারিবর্ষণ ও নদী-নালা হয়ে তা মাটির বুকে প্রবাহিত হওয়া, তা থেকে নানা ধরনের ফুল-ফল জন্ম নেয়া কিংবা মানুষকে প্রয়োজনীয় কারিগরী শিক্ষা প্রদান ইত্যাদি ব্যাপারকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।
তেমনি অনেক জায়গায় মানুষের আত্মিক ও চরিত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। আত্মিক বিচ্যুতি তাদের এই যে, সুখে ও দুঃখে তাদের কাজ ও স্বভাব একরূপ থাকে না। যখন তাদের বিপদ দেখা দেয়, তখন তারা একভাবে চলে, আর যখন বিপদ দূর হয়, তখন অন্যরূপ হয়ে যায়।

📘 কুরআন ব্যাখ্যার মুলনীতি 📄 তায়করীরি- আইযাযমিয়াহ

📄 তায়করীরি- আইযাযমিয়াহ


এভাবে অনুগত বান্দাদের পুরুষ্কার ও বিদ্রোহী বান্দাদের শাস্তিদানের ব্যাপারে আল্লাহর তরফ থেকে যা কিছু দেখা দিয়েছিল, সেগুলোর ভেতরেও কুরআনে এমন সব ঘটনা বেছে নেয়া হয়েছে, যেগুলো মানুষ শুনতে অভ্যস্ত ছিল। মোটামুটিভাবে সেগুলো আগে থেকেই তারা শুনে আসছিল। যেমন, নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় ও আদ সামুদ সম্প্রদায়ের কাহিনী তারা পুরুষানুক্রমেই শুনে আসছিল। তেমনি হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও বনী ইস্রাঈলী নবীদের কাহিনীগুলি আরবরা ইয়াহুদীদের সংস্পর্শে থেকে যুগ যুগ ধরে শুনছিল। বস্তুত কুরআনে সে সব ঘটনাই বারংবার বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে যেসব ঘটনা আরববাসী কমই শুনেছে কিংবা ইরান বা ভারতের যে সব ঐতিহাসিক কাহিনীর সাথে তাদের কোনই সংশ্রব ছিল না, সেগুলোর উল্লেখ তাতে নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px