📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 কিয়ামত পরিতাপের দিন

📄 কিয়ামত পরিতাপের দিন


মাসআলা-৩১৭ঃ কিয়ামতের দিন লোকদের জন্য আফসোসের দিন হবেঃ

﴿وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴾ (سورة مريم : ٣٩)
অর্থঃ "আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন, যখন সব ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যাবে, এখন তারা অসাবধানতায় আছে এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করছে না।” (সূরা মারইয়ামঃ ৩৯)

মাসআলা-৩১৮ঃ যমীনের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য অনুতাপঃ

﴿يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا ) (سورة النساء : ٤٢)
অর্থঃ "সে দিন বাসনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়ে ছিল এবং রাসূলের নাফরমানী করে ছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবেনা আল্লাহ্র নিকট কোন বিষয়।” (সূরা নিসাঃ ৪২)

মাসআলা-৩১৯ঃ দুনিয়াতে রাসূলের পথে চলার জন্য অনুতাপঃ

﴿وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا، يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا ، لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنسَانِ خَذُولًا﴾ (سورة الفرقان: ۲۷-۲۹)
অর্থঃ "যালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবেঃ হায় আফসোস! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম, হায় আমার দুর্ভাগ্য আমি যদি অমুককে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করতাম, আমার নিকট উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করে ছিল, শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়।" (সূরা আল ফুরকানঃ ২৭-২৯)

মাসআলা-৩২০ঃ আর একটু সুযোগ পাওয়ার জন্য আফসোসঃ

﴿وَأَنذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخِّرْنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ نُّجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرُّسُلَ أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُم مِّن قَبْلُ مَا لَكُم مِّن زَوَالٍ ) (سورة إبراهيم : ٤٤)
অর্থঃ "মানুষকে ঐ দিনের ভয় প্রদর্শন করুন, যেদিন তাদের নিকট আযাব আসবে, তখন যালেমরা বলবেঃ হে আমার পালন কর্তা আমাদেরকে সামান্য মেয়াদ পর্যন্ত সময় দিন, যাতে আমরা আপনার আহবানে সাড়া দিতে এবং রাসূলগণের অনুসরণ করতে পারি।" (সূরা ইবরাহিমঃ ৪৪)

মাসআলা-৩২১ঃ কিয়ামতের দিন দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দান করে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য আফসোসঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله تعالى لاهون اهل النار عذابا يوم القيامة لو ان لك ما في الارض من شئ اكنت تفتدى به فيقول نعم فيقول اردت - منك اهون من هذا وانت في صلب ادم ان لا تشرك بي شيئا فابيت الا ان تشرك بي (رواه البخاري)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনিঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সব চেয়ে হালকা শাস্তি হবে এমন এক জাহান্নামীকে লক্ষ্য করে আল্লাহ্ বলবেনঃ তোমার নিকট যদি পৃথিবী ভরপুর সম্পদ থাকত তাহলে কি তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য তা দান করে দিতে, সে বলবেঃ হাঁ, হে আল্লাহ্ দিয়ে দিব। আল্লাহ্ বলবেনঃ আমি পৃথিবীতে তোমার নিকট পৃথিবী ভরপুর সম্পদ ব্যয় করার চেয়ে বহুগুণ সহজ জিনিষ চেয়ে ছিলাম, যখন তুমি আদমের পিঠে ছিলে, আর তা ছিল আমার সাথে কাউকে অংশীদার করবে না। কিন্তু তুমি তা অস্বীকার করছ।" (বোখারী)²⁰¹

মাসআলা-৩২২ঃ কিয়ামতের দিন বদলা নেয়ার পর চতুষ্পদ জন্তুদেরকে মরতে দেখে কাফের আফসোস করে বলবেঃ হায়াসেও যদি মাটি হতঃ

عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنه قال اذا كان يوم القيامة مدت الارض مد الاديم وحشر الله الخلائق الانس والجن والدواب والوحوش فاذا كان ذلك اليوم جعل الله القصاص بين الدواب حتى تقص الشاة الجماء من القرناء بنطحتها فاذا فرغ الله من القصاص بين الدواب قال لها كوني ترابا فتكون ترابا فيراها الكافر فيقول يا ليتنى كنت ترابا (رواه الحاكم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন পৃথিবীকে টেনে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হবে, আর আল্লাহ্ সমস্ত সৃষ্টি, মানুষ, জ্বিন, চতুষ্পদ জন্তু, বন্যপশু, সব কিছুকে একত্রিত করবেন, সেদিন আল্লাহ্ চতুষ্পদ জন্তুদেরকে একের কাছ থেকে অপরকে বদলা নিয়ে দিবেন, এমনকি কোন শিং বিশিষ্ট বকরী যদি কোন শিংহীন বকরীকে মেরে থাকে, তাহলে তারও বদলা নেয়া হবে, যখন আল্লাহ্ প্রাণীদের বদলা নেয়া শেষ করবেন, তখন তাকে নির্দেশ দিবেন যে তোমরা এখন মাটিতে পরিণত হও। তখন কাফের এ দৃশ্য দেখে আফসোস করবে যে, হায়! আমিও যদি মাটি হয়ে যেতাম।” (হাকেম)²⁰²

মাসআলা-৩২৩ঃ আম্বীয়া এবং সৎ লোকগণ সুপারিশ করার পর যখন মুসলমানরা জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন কাফের কামনা করবে যে হায় আমরাও যদি মুসলমান হতামাঃ

عن ابن عباس رضى الله عنهما قال ما يزال الله يشفع ويدخل الجنة ويرحم ويشفع حتى يقول من كان من المسلمين فليدخل الجنة فذاك حين يقول ربما يؤد الذين كفروا لو كانوا مسلمين (رواه الحاكم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ বার বার সুপারিশের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে থাকবেন, আল্লাহ্ ধারাবাহিক ভাবে মুসলমানদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করতে থাকবেন, এমনকি আল্লাহ্ বলবেনঃ যে কেউ মুসলমান আছে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও। এটা হবে ঐ সময় যার ব্যাপারে এরশাদ হয়েছে, একটি সময় আসবে যখন কাফের আফসোস করে বলবেঃ আফসোস! তারা যদি মুসলমান হত।" (সূরা হুজরাতঃ ২) (হাকেম)²⁰³

মাসআলা-৩২৪ঃ ঈমানদারের জন্যও কিয়ামতের দিন আফসোসের কারণ হবেঃ

عن محمد بن ابي عميرة رضى الله عنه وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم احسبه رفعه الى النبي صلى الله عليه وسلم قال لو ان رجلا خر على وجهه من يوم ولد الى يوم يموت هرما في طاعة الله عز و جل الحقره ذلك اليوم ولود انه رد الى الدنيا كيما يزداد من الاجر والثواب (رواه احمد)
অর্থঃ "মোহাম্মদ বিন আবু ওমাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীদের একজন ছিলেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তার জন্ম থেকে নিয়ে বাধ্যক্য এবং মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্য করে সিজদায় রত থাকে, তবুও তার এ আমলকে কিয়ামতের দিন তুচ্ছ মনে করা হবে, বরং সে আকাঙ্খা করবে হায় যদি দুনিয়ায় ফেরত গিয়ে নেকীর পরিমাণ বাড়ানো যেত।” (আহমদ)²⁰⁴
মাসআলা-৩২৫ঃ বিপদ ও দুঃখে ধৈর্যধারণ কারীদের সোয়াব দেখে দুনিয়াতে আরাম ও সুখে জীবন যাপন কারীরা কামনা করবে হায় যদি তাদের শরীর দুনিয়াতে কেচি দিয়ে কেটে দিতঃ

عن جابر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يود أهل العافية يوم القيامة حين يعطى اهل البلاء الثواب لو ان جلودهم كانت قرضت فى الدنيا بالمقارض (رواه الترمذي)
অর্থঃ "জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন (পৃথিবীতে) সুস্থভাবে জীবন যাপন কারীরা অসুস্থ লোকদের সোয়াব দেখবে, তখন কামনা করবে যে, যদি পৃথিবীতে তাদের শরীরের চামড়া কেচি দিয়ে কেটে দেয়া হত।” (তিরমিযী)²⁰⁵

মাসআলা-৩২৬ঃ কিয়ামতের দিন লোকেরা আশা করবে যে হায় আমরা যদি দুনিয়াতে অভাব অনটনের জীবন যাপন করতামঃ

عن فضالة بن عبيد رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا صلى بالناس يخر رجال من قامتهم فى الصلاة من الخصاصة وهم اصحاب الصفة حتى تقول الاعراب هؤلاء مجانين او مجانون فاذا صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف اليهم فقال لو تعلمون مالكم عند الله لا جبتم ان تزدادوا فاقة وحاجة (رواه الترمذي)
অর্থঃ “ফুযালা বিন ওবাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন লোকদেরকে নামায পড়াতেন, তখন কোন কোন লোক ক্ষুধার কারণে পড়ে যেত, আর তারা ছিল সুফ্ফার অধিবাসী, খারপ লোকেরা বলত এরা পাগল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নামায শেষ করতেন, তখন তাদের নিকট যেতেন এবং বলতেন যে, যদি তোমরা জানতে যে, আল্লাহর নিকট এ অভাবীদের কি সোয়াব রয়েছে, তাহলে তোমরা কামনা করতে থাকবে যে, আমাদের অভাব অনটন যেন আরো বৃদ্ধি পায়।” (তিরমিযী)²⁰⁶

মাসআলা- ৩২৭ঃ যে বৈঠকে আল্লাহর যিকির করা হয়না রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি দরূদ পাঠ করা হয়না ঐ বৈঠক ঈমানদারদের জন্য আফসোসের কারণ হবেঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قعد قوم مقعدا لم يذكروا فيه عز وجل ويصلوا على النبي صلى الله عليه وسلم الا كان عليهم حسرة يوم القيامة وان دخلوا الجنة للثواب ( رواه احمد وابن حبان والحاكم والخطيب)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে বৈঠকে লোকেরা আল্লাহ্র যিকির করে না, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি দরূদ পাঠ করে না, সে বৈঠক কিয়ামতের দিন ঐ লোকদের জন্য আফসোসের কারণ হবে, যদিও সে তার নেক আমলের কারণে জান্নাতেই যাকনা কেন।" (আহমদ, ইবনু হিব্বান, হাকেম, খতীব)²⁰⁷

টিকাঃ
201-কিতাবুর রিকাক বাব সিফাতুল জান্না ওয়ান্নার。
202-কিতাবুল আহওয়াল, বাব জা'লুল কিসাস বাইনা দাওয়াব, তাহকীক আবু আবদুল্লাহ্ আবদুস্সালাম বিন আমর গোলুশ (৫/৮৭৫৬)
203 - আলবানী লিখিত কিতাবুসুন্না, পৃঃ৩৯২。
204 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স, ফসল ফিল হাউজ ওয়াল মিযান ওয়াসসিরাত,, খঃ৪ হাদীস নং- (৪/৫২৭১)
205 -আবওয়াবুয্যুহদ, বাব মাযায়া ফি যিহাবিল বাসার (২/১৯৬০)
206- আবওয়াবুয্যুহদ, বাব মাযায়া ফি মায়িসাতি সাহাবি ন্নাবি। (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
207-আলবানী লিখিত সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহীহা, খঃ১, হাদীস নং-৭৬。

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 জান্নাতীদের--- চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান

📄 জান্নাতীদের--- চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান


মাসআলা-৩২৮ঃ জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে চির দিন থাকবেঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال : ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فاذا ادخل الله تعالى اهل الجنة الجنة واهل النار النار اتى بالموت ملبيا فيوقف على السور الذي بين اهل الجنة واهل النار ثم يقال يا اهل الجنة فيطلعون خائفين ثم يقال يا اهل النار فيطلعون مستبشرين يرجون الشفاعة فيقال لاهل الجنة ولاهل النار هل تعرفون هذا ؟ فيقولون هؤلاء و هؤلاء قد عرفناه هو الموت الذي وكل بنا فيضجع فيذبح ذبحا على السور ثم يقال يا اهل الجنة خلود لا موت ويا اهل النار خلود لا موت (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ্ জান্নাতীদেরকে জান্নাতে এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দিবেন, তখন মৃত্যুকে একটি দেয়ালের ওপর এনে উপস্থিত করা হবে, যা জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মাঝখানে থাকবে। এর পর আহ্বান করা হবে যে, হে জান্নাতীরা! তারা চিন্তিত হয়ে তাকাবে, এর পর আহ্বান করা হবে হে জাহান্নামীরা! তারা আনন্দিত হয়ে তাকাবে, এর পর উভয় শ্রেণীকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা কি একে চিন? জান্নাতী ও জাহান্নামী উভয়ে বলবেঃ হাঁ আমরা ভাল করেই চিনি এটা মৃত্যু, যাকে পৃথিবীতে আমাদের জন্য অবধারিত করা হয়ে ছিল। তখন তাকে সকলের সামনে দেয়ালে শুয়িয়ে দেয়া হবে এবং যবাহ করা হবে, এর পর ঘোষণা হবে হে জান্নাতীরা তোমরা চির দিন জান্নাতে থাকবে তোমাদের আর মৃত্যু হবে না, হে জাহান্নামীরা তোমরা চির দিন জাহান্নামে থাকবে, তোমাদের আর মৃত্যু হবে না।” (তিরমিযী)²⁰⁸

মাসআলা-৩২৯ঃ মৃত্যুকে যবেহ করার ঘোষণায় জান্নাতীরা এত আনন্দিত হবে যে, যদি আনন্দে মৃত্যুবরণ করা সম্ভব হত তাহলে তারা মারা যেত আর এ ঘোষণায় জাহান্নামীরা এত বিষন্বিত হবে যে যদি বিষন্বতায় মারা যাওয়া সম্ভব হত তাহলে তারা মারা যেতঃ
عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه يرفعه قال اذا كان يوم القيامة اتى بالموت كالكبش الاملح فيوقف بين الجنة والنار فيذبح وهم ينظرون فلو ان احدا مات فرحا لمات اهل الجنة ولو ان احدا مات حزنا لمات اهل النار (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কালর মাঝে সাদা পশম বিশিষ্ট বকরীর আকৃতিতে মৃত্যুকে আনয়ন করে, জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে রেখে যবাহ করা হবে, জান্নাতী ও জাহান্নামীরা এ দৃশ্য অবলোকন করতে থাকবে, যদি আনন্দে মারা যাওয়া সম্ভব হত তাহলে জান্নাতীরা আনন্দে মারা যেত, আর বিষন্বতায় মারা যাওয়া যদি সম্ভব হত তাহলে জাহান্নামীরা বিষন্বতায় মারা যেত।” (তিরমিযী)²⁰⁹
সমাপ্ত

টিকাঃ
208 - আবওয়াব সিফাতুল জান্না, বাব মাযায়া ফি খুলুদি আহলিল জান্না। (২/২০৭২)
209--আবওয়াব সিফাতুল জান্না, বাব মাযায়া ফি খুলুদি আহলিল জান্না। (২/২০৭৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00