📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 মিযানের বর্ণনা

📄 মিযানের বর্ণনা


মাসআলা-২৭৮ঃ মিযানের প্রতি বিশ্বাস রাখা ওয়াজিবঃ

عن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الايمان ان تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورsوله وتؤمن بالجنة والنار والميزان وتؤمن بالبعث بعد الموت وتؤمن بالقدر خيره وشره (رواه البيهقي)
অর্থঃ “ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঈমান হল এই যে, তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, ফেরেস্তাদের প্রতি ঈমান আনবে, আল্লাহ্র নাযিল কৃত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনবে, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে, জান্নাত, জাহান্নাম ও মিযানের প্রতি ঈমান আনবে এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও ভাগ্যের ভাল ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।” (বাইহাকী) ১৭৩

মাসআলা-২৭৯ঃ প্রমাণ করার জন্য লোকদের আমল মিযানে উঠানো হবেঃ
মাসআলা-২৮০ঃ যার নেকীর পাল্লা ভারী হবে সে সফল হবে আর যার নেকীর পাল্লা হালকা হবে সে ব্যর্থ হবেঃ

وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ، فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ، نَارٌ حَامِيَةٌ ) (سورة القارعة : ٦-١١)
অর্থঃ "তখন যার পাল্লা ভারী হবে সেতো সুখী জীবন যাপন করবে, আর যার পাল্লা হালকা হবে তার ঠিকানা হবে হাবিয়া, আপনি কি জানেন তা কি? প্রজ্জলিত অগ্নি।" (সূরা ক্বারিয়া-৬-৯)

وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ، وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُم بِمَا كَانُواْ بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ) (سورة الأعراف: ۸-۹)
অর্থঃ "আর সেদিন যতার্থই ওজন হবে, অতপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে, যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই এমন হবে যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে।” (সূরা আ'রাফঃ ৮,৯)

فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ، وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ) (سورة المؤمنون: ۱۰۲-۱۰۳)
অর্থঃ "যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে, আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা জাহান্নামেই চিরকাল বসবাস করবে।" (সূরা মুমিনুনঃ ১০২,১০৩)

এাসআলা-২৮১ঃ মানুষের আমলের ওজন ইনসাফ ভিত্তিক হবে এমন কি কারো যদি বিন্দু পরিমাণ পাপ বা নেকী থাকে তারও ওজন হবেঃ

وَتَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ (سورة الأنبياء: ٤٧)
অর্থঃ "আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি যুলুম হবে না, যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয় আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণ করার জন্য আমিই যথেষ্ট।” (সূরা আম্বীয়া-৪৭)

عن ام سلمة رضى الله عنها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يحشر الناس يوم القيامة عراة حفاة فقالت ام سلمة فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم واسوتاه ينظر بعضنا الى بعض فقال شغل الناس قلت ما شغلهم ؟ قال نشر الصحائف فيها مثاقيل الذر ومثاقيل الخردل ( رواه الطبراني)
অর্থঃ “উম্মু সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে উলঙ্গ শরীর ও খালি পায়ে উঠানো হবে, উম্মু সালামা বলেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হায় আমাদের পর্দা! লোকেরাতো একে অপরের দিকে তাকাবে? তিনি বলেনঃ লোকেরা ব্যস্ত থাকবে। (কারো দিকে তাকানোর মত সুযোগ থাকবে না) আমি বললামঃ কি বিষয়ে তারা ব্যস্ত থাকবে? তিনি বললেন আমল নামা পাওয়ার ব্যাপারে। যেখানে সরিষা ও বিন্দু পরিমাণ আমলও থাকবে।” (ত্বাবারানী) 174

মাসআলা-২৮২ঃ কালিমা শাহাদাত কিয়ামতের দিন পাল্লায় সবচেয়ে ভারী হবেঃ

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنه يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان الله سيخلص رجلان من امتى على رؤوس الخلائق يوم القيامة فينشر عليه تسعة وتسعين سجلا كل سجل مثل مد البصر ثم يقول اتنكر من هذا شيئا ؟ اظلمك كتبتي الحافظون ؟ يقول لا يارب ! فيقول افلك عذر ؟ فيقول لا يارب فيقول بلى ان لك عندنا حسنة فانه لا ظلم عليك اليوم فيخرج بطاقة فيها اشهد ان لا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله فيقول: احضر وزنك فيقول يارب ! ما هذه البطاقة مع هذه السجلات ؟ فقال فانك لا تظلم قال فتوضع السجلات في كفه والبطاقة في كفه فطاشت السجلات وثقلت البطاقة ولا يثقل مع اسم الله شئ (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ এক বক্তিকে সমস্ত মানুষের সামনে হিসাব নেয়ার জন্য পৃথক করবেন, তার আমল নামার ৯৯টি রেকর্ড বুক তার সামনে রাখা হবে, এর মধ্যে প্রত্যেকটি রেকর্ড বুক এর আয়তন হবে মদীনা থেকে বাসরা পর্যন্ত, আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করবেন যে তুমি কি তোমার এ পাপের কোনটি অস্বীকার করছ? আমার ফেরেস্তারা তোমার প্রতি যুলুম করে নাইতো? বান্দা বলবেঃ না হে আমার রব। আল্লাহ্ বলবেনঃ এ পাপের ব্যাপারে তোমার কি কোন আপত্তি আছে? বান্দা বলবেঃ না হে আমার রব, এর পর আল্লাহ্ বলবেনঃ আচ্ছা থাম আমার নিকট তোমার একটি নেকী আছে, আজ তোমার প্রতি কোন প্রকার যুলুম করা হবে না। তখন একটি কাগজের টুকরা বের করা হবে যেখানে। 'আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মোহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু' লিখা থাকবে। আল্লাহ্ বলবেনঃ যাও এর ওজন কর, বান্দা বলবেঃ হে আমার রব এ ৯৯ টি রেকর্ড বুকের মোকাবেলায় এ কাগজের ওজন কি হবে? আল্লাহ্ বলবেনঃ তোমার প্রতি যুলুম করা হবে না, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃএর পর তার পাপের সমস্ত রেকর্ড এক পাল্লায় রাখা হবে, আর ঐ কাগজের টুকরাটি অপর পাল্লায় রাখা হবে, পাপের পাল্লাটি হালকা হবে আর কাগজের টুকরার পাল্লাটি ভারী হবে। বাস্তবেই আল্লাহ্ নামের চেয়ে ভারী আর কোন কিছু নেই।" (তিরমিযী)¹⁷⁵

মাসআলা-২৮৩ঃ নেক আমলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভারী হবে উত্তম চরিত্র:

عن أبي الدرداء رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما من شئ يوضع في الميزان اثقل من حسن الخلق وان صاحب حسن الخلق ليبلغ به درجة صاحب الصوم والصلاة ( رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবুদারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ মিযানে ওজন করা আমলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভারী হবে উত্তম চরিত্র। উত্তম চরিত্রের (অধিকারী অধিক পরিমাণে) নফল নামায ও নফল রোযাকারীর মর্যাদা হাসিল করবে।” (তিরমিযী)¹⁷⁶

মাসআলা-২৮৪ঃ মুখ থেকে বের হওয়া কথাও মিযানে মাপা হবেঃ
عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كلمتان خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان حبيبتان الى الرحمن سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم (متفق عليه)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু'টি কথা এমন যা মুখে উচ্চারণ করা সহজ, কিন্তু মিযানে তার ওজন অত্যন্ত বেশি, আর আল্লাহ্র নিকট তা অত্যান্ত প্রিয়, (তাহল) সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম।" (মোত্তাফাকুন আলাইহি)¹⁷⁷

عن أبي مالك الاشعرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الطهور شطر الايمان والحمد لله تملاء الميزان وسبحان الله والحمد لله تملاءن او تملاء ما بين السموات والارض (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবু মালেক আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক, (এক বার) আলহামদুলিল্লাহ্ বলা পাল্লাকে নেকী দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়, সুবহানাল্লাহ্ এবং আলহামদুলিল্লাহ্ বলা আসমান ও যমিন এর মাঝে সব কিছুকে নেকী দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া।" (মুসলিম)¹⁷⁸

মাসআলা-২৮৫৪ কর্মচারীর অন্যায় ও মালিকের দেয়া শাস্তি ওজন করা হবে কর্মচারীর অন্যায় ভারী হলে মালিক রক্ষা পাবে আর শাস্তির পাল্লা ভারী হলে মালিক শাস্তি পাবেঃ

عن عائشة رضى الله عنها ان رجلا من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم جلس بين يديه فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لى مملوكين يكذبونني ويعصونني واضربهم واشتمهم فكيف انا منهم ؟ فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم يحسب ما خانوك وعصوك وكذبوك وعقابك اياهم فان كان عقابك اياهم دون ذنوبهم كان فضلا لك، وان كان عقابك اياهم بقدر ذنوبهم كان كفافا، لا لك ولا عليك وان كان عقابك اياهم فوق ذنوبهم اقتص لهم منك الفضل الذي بقى قبلك فجعل الرجل يبكى بين يدى رسول الله ويهتف، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مالك ؟ ما تقرأ كتاب الله ؟ ونضع الموازين القسط ليوم القيامة فلا تظلم نفس شيئا وان كان مثقال حبة من خردل اتينا بها وكفى بنا حاسبين فقال الرجل يارسول الله صلى الله عليه وسلم ما اجد شيئا خيرا من فراق هؤلاء يعنى عبيده اشهدك كلهم احرار (رواه احمد والترمذی)
অর্থঃ “আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবাগণের মধ্যে একজন তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আমার কিছু কর্মচারী আছে যারা আমার সাথে মিথ্যা বলে, খিয়ানত করে এবং আমার অবাধ্য হয়। আমি তাদেরকে গালি গালাজ করি, মার ধরর করি, কিয়ামতের দিন মিযানে এর হিসাব কি হবে? রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কর্মচারীদের খিয়ানত, মিথ্যা ও অবাধ্যতার হিসাব করা হবে এবং তাদেরকে দেয়া শাস্তিরও হিসাব করা হবে, যদি তোমার দেয়া শাস্তি তাদের অন্যায়ের তুলনায় কম হয়, তাহলে তুমি সোয়াব পাবে, আর তোমার দেয়া শাস্তি যদি তাদের অন্যায়ের সমান সমান হয়, তাহলে তোমার কোন শাস্তি হবে না এবং সোয়াবও হবে না। কিন্তু তোমার দেয়া শাস্তি যদি তাদের অন্যায়ের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত শাস্তির বদলা তোমার কাছ থেকে নেয়া হবে, (একথা শুনে) ঐ বক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনেই চিল্লাতে ও কাঁদতে শুরু করল, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন কাঁদছ, তুমিকি কোরআ'ন মাজীদের এ আয়াত পাঠ কর না? “আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি যুলুম করা হবে না, যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণ করার জন্য আমিই যথেষ্ট”। একথা শুনে ঐ ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার ব্যাপারে আর কোন কিছু এর চেয়ে উত্তম মনে করিনা যে, আমি তাদেরকে আযাদ করে দিব। আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি তারা সবাই আজ থেকে আযাদ।" (তিরমিযী)¹⁷⁹

মাসআলা-২৮৬ঃ জিহাদের জন্য প্রস্তুত কৃত ঘোড়ার খানা পিনা পায়খানা পেসাবও কিয়ামতের দিন মুজাহিদেও, নেকীর পাল্লায় ওজন করা হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من احتبس فرسا في سبيل الله ايمانا بالله وتصديقا بوعده فان شبعه وريه وروثه وبوله في ميزانه يوم القيامة (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃরাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রতি ঈমান নিয়ে তাঁর ওয়াদাকে সত্য মনে করে, আল্লাহ্র পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘোড়া প্রস্তুত করে রাখে, তাহলে ঐ ঘোড়ার খানা-পিনা, পেসাব পায়খানা, কিয়ামতের দিন মুজাহিদের পাল্লায় রাখা হবে।" (বোখারী)¹⁸⁰
মাসআলা-২৮৭ঃ শুধু একটি নেকী বেশী হওয়ার কারণে মানুষ জান্নাতে চলে যাবে, আবার শুধু একটি নেকী কম হওয়ার কারণে মানুষ জাহান্নামে চলে যাবেঃ

মাসআলা-২৮৮ঃ নেক ও পাপ সমান সমান হলে লোকেরা আ'রাফে থাকবেঃ

عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال يحاسب الناس يوم القيامة فمن كانت حسناته اكثر من سياته بواحدة دخل الجنة ومن كانت سياته أكثر من حسناته بواحدة دخل النار ثم قرأ فمن ثقلت موازينه فاؤلئك هم المفلحون ومن خفت موازينه فاؤلئك الذين خسروا انفسهم ثم قال ان الميزان يخفف بمثقال حبة او ترجح قال ومن استوت حسناته وسياته كان من اصحاب الاعراف (ذكره ابن المبارك فى زوائد الزهد)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদের নিকট হিসাব চাওয়া হবে, যার নেকী তার পাপের তুলনায় একটি বেশি হবে সে জান্নাতে চলে যাবে, আর যার নেকীর চেয়ে একটি পাপ বেশি হবে সে জাহান্নামে চলে যাবে, এর পর আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কোরআ'ন মাজীদের এ আয়াত তেলওয়াত করলেন, " যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে, আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা জাহান্নামেই চিরকাল বসবাস করবে" এর পর আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেনঃ মিযান একটি বিন্দু পরিমাণ আমলের কারণে ভারী বা হালকা হয়ে যাবে, এর পর তিনি বললেনঃ যার নেকী ও পাপ সমান সমান হবে সে আ'রাফ বাসীদের অর্ন্তভুক্ত হবে।" (হাদীসটি ইবনু মোবারক যাওয়ায়েদু য্যুহদ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন)¹⁸¹

মাসআলা-২৮৯ঃ মিযানে আমল নামা ওজন করার সময় মানুষের অবস্থা এত কঠিন হবে যে নিকট আত্মীয় অন্তরঙ্গ সাথী, জানবাজ পীর মুরিদ একে অপরকে ভুলে যাবেঃ
নোটঃ এসংক্রান্ত হাদীসটি ৩১০ নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-৩৯০ঃ কাফেরদের পাহাড় পরিমাণ নেক আমল মাছির পাখার সমতুল্য হবেঃ

عن أبى هريرة رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انه ليأتى الرجل العظيم السمين يوم القيامة لا يزن جناح بعوضة عند الله اقرءوا (فلا نقيم لهم يوم القيامة وزنا) (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এক বিশাল দেহ বিশিষ্ট লোক আনা হবে, তার ওজন মাছির পাখার সমানও হবে না। কোরআ'ন মাজীদের আয়াত পাঠ কর এবং চিন্তা করঃ কাফেরদেরকে কিয়ামতের দিন আমি কোন মূল্যায়ন করব না”। (সূরা কাহাফ-১০৫) (মুসলিম)¹⁸²

قال ابو سعيد الخدرى رضى الله عنه يؤتى باعمال كجبال تهامة فلا تزن شيئا ذكره القرطبي)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, কাফের কিয়ামতের দিন তোহামা পাহাড়ের সমান নেক আমল নিয়ে আসবে, কিন্তু এর কোনই মূল্য হবে না।” (কোরতুবী)¹⁸³

টিকাঃ
173-আরবানী লিখিত সহীহ আল জামে'আস্ সাগীর, খাঃ২ হাদীস নং-২৭৯৫。
174 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স ফি যিকরিল হিসাব, খঃ৪ হাদীস নং- (৪/৫২৪৩)
175 -আবওয়াবুল ঈমান, বাব ফিমান ইয়ামুতু ওয়াহুয়া ইয়াশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২/২১২৭)
176 -আবওয়াবুল বিররি ওয়াসসিলা, বাব মাযায়া ফি হুসনিল খুলক (২/১৬২৯)
177-আলল্গুলু ওয়াল মারযান খ: ২, হাদীস নং-১৭২৭。
178-আলবানী লিখিত সংক্ষিপ্ত সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১২০。
179 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স ফি যিকরিল হিসাব, খঃ৪ হাদীস নং- (৪/৫২৮০)
180 - কিতাবুল জিহাদ, বাব মান ইহতাবাসা ফারাসান লিকাউলিহি আয্যা ওয়াযাল্লা ওয়া মিন রিবাতিল খাইল。
181 -আত্ তাযকিরা লিল কুরতুবী, আবওয়াবুল মিযান, বাব যিকরু আসহাবিল আ'রাফে, পৃঃ-২৯৮。
182 - কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন, বাব হালুল কাফের আল আযীম আসামীন。
183 - তাযকিরা লিল কুরতুবী, আবওয়াবুল মিযান, বাব মাযায়া ফিল মিযান。

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 পুলসিরাত

📄 পুলসিরাত


মাসআলা-২৯১ঃ পুলসিরাত চুলের চেয়ে চিকন এবং তারবারীর চেয়ে ধাড়াল হবেঃ

قال ابو سعيد الخدرى رضى الله عنه بلغنى ان الجسر ادق من الشعرة واحد من السيف (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আমার নিকট এ হাদীস পৌঁছেছে যে, পুলসিরাত চুলের চেয়েও চিকন আর তরবারীর চেয়েও ধারাল।" (মুসলিম)¹⁸⁴

মাসআলা-২৯২ঃ জাহান্নামের ওপর রাখা পুলসিরাত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই অতিক্রম করতে হবেঃ

وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا ، ثُمَّ تُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقُوا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جنيا ) (سورة مريم: ۷۱-۷۲)
অর্থঃ "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তথায় পৌঁছবে না, এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা, এর পর আমি মোত্তাকিনদেরকে উদ্ধার করব এবং যালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দিব।" (সূরা মারইয়ামঃ ৭১-৭২)

عن ام مبشر الانصارى رضى الله عنها انها سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول عند حفصة لا يدخل النار ان شاء الله من اصحاب الشجارة احد من الذين بايعوا تحتها قالت بلى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فانتهرها فقالت حفصة رضى الله عنها وان منكم الا واردها فقال النبي صلى الله عليه وسلم قد قال الله تعالى ثم ننجى الذين اتقوا ونذر الظالمين فيها جثيا (رواه مسلم)
অর্থঃ “উম্মু মুবাশের আনসারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে উম্মুল মুমেনীন হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর নিকট একথা বলতে শুনেছি, ইনশাআল্লাহ্ বৃক্ষের নিচে বাইআ'ত কারী সাহাবীদের মধ্যে কোন একজনও জাহান্নামে যাবে না। হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেন নয়? তিন হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে একথা বলার কারণে ধমক দিলেন, হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এ আয়াত পাঠ করল, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ (এর সাথে সাথেই) আল্লাহ্ একথা বলেছেনঃ আমি মোত্তাকীনদেরকে এথেকে রক্ষা করব, এবং যালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দিব।” (মুসলিম)¹⁸⁵

মাসআলা-২৯৩ঃ সর্ব প্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুলসিরাত অতিক্রম করবেনঃ
মাসআলা-২৯৪ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পর তাঁর উম্মতরা পুলসিরাত অতিক্রম করবেঃ
মাসআলা-২৯৫ঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় নবীগণও এদুয়া করবেন "হে আল্লাহ্ বাঁচাও হে আল্লাহ্ বাঁচাওঃ
মাসআলা-২৯৬ঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকার কারণে নবীগণ ব্যতীত অন্য কারো মুখ দিয়ে কোন কথা বের হবে নাঃ
মাসআলা-২৯৭ঃ পুলসিরাতে আগুনের তৈরী হুক থাকবে যা লোকদেরকে তাদের পাপ অনুযায়ী ধরে ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেঃ

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ويضرب الصراط بين ظهرانی جهنم فاكون انا وامتى اول من يجيز ولا يتكلم يومئذ الا الرسل ودعوى الرسل يومئذ اللهم سلم سلم وفي جهنم كلاليب مثل شوك السعدان هل رايتم السعدان قالوا نعم يارسول الله صلى الله عليه وسلم قال فانها مثل شوك السعدان غير انه لا يعلم ما قدر عظمها الا الله تخطف الناس باعمالهم فمنهم الموبق يعنى بعمله ومنهم المجازى حتى ينجى (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুলসিরাত জাহান্নামের পিঠের ওপর রাখা হবে, সমস্ত নবীগণের মধ্যে আমিই সর্ব প্রথম স্বীয় উম্মতদেরকে নিয়ে পুলসিরাত অতিক্রম করব, নবীগণ ব্যতীত অন্য আর কেউ কোন কথা বলতে পারবে না। আর রাসূলদের মুখেও শুধু একাথাই থাকবে যে, হে আল্লাহ্ বাঁচাও, হে আল্লাহ্ বাঁচাও। জাহান্নামে সা'দানের কাঁটার ন্যায় হুক থাকবে, তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরাকি সা'দানের কাটা দেখেছ? তারা বললঃ হাঁ হে আল্লাহর রাসূল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি বললেনঃ জাহান্নামের হুকও ঐ সা'দানের কাঁটার ন্যায় হবে। অবশ্য এর জ্ঞান এক মাত্র আল্লাহরই আছে যে তা কত বড় হবে। ঐ হুক লোকদেরকে তাদের পাপ অনুযায়ী ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। লোকদের মধ্যে কিছু এমন হবে যারা তাদের পাপের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, আবার কেউ আহত হবে, কিন্তু পুলসিরাত অতিক্রম করে চলে যাবে।” (মুসলিম) ¹⁸⁶

মাসআলা-২৯৮ঃ পুলসিরাত অতিক্রমের পূর্বে চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে যাবেঃ
মাসআলা-২৯৯ঃ উম্মত মুহাম্মাদীর মধ্যে সর্ব প্রথম ফকীর ও মুহাজিরগণের দল পুলসিরাত অতিক্রম করবেঃ

عن ثوبان رضى الله عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال كنت قائما عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء حبر من احبار اليهود فقال جئت اسئلك فقال سل فقال: اليهودي اين يكون الناس يوم تبدل الارض غير الارض والسموات فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هم في ظلمة دون الجسر قال فمن اول الناس اجازة قال فقراء المهاجرين (رواه مسلم)
অর্থঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, ইহুদীদের আলেমদের মধ্য থেকে একজন এসে বললঃ আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছি, তিনি বললেনঃ জিজ্ঞেস কর, ইহুদী বললঃ যে এ পৃথিবী অন্য কোন পৃথিবী এবং আকাশের সাথে পরিবর্তন করা হবে তখন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ পুলসিরাতের নিকট অন্ধকারের মধ্যে থাকবে। ইহুদী আবার জিজ্ঞেস করল মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম কে পুলসিরাত অতিক্রম করবে? তিনি বললেনঃ গরীব মুহাজিররা।" (মুসলিম) ¹⁸⁷

মাসআলা-৩০০ঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় প্রত্যেক মুমেনকে দু'টি করে আলোক বর্তিকা দেয়া হবে, একটি তার সামনে থাকবে আর অপরটি তার ডান হাতেঃ

يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾ (سورة الحديد: ١٢)
অর্থঃ "যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে তাদের সামনে ও ডানে জ্যোতি ছুটো ছুটি করবে, বলা হবে আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চির কাল থাকবে।" (সূরা হাদীদঃ ১২)
মাসআলা-৩০১৪: কোন কোন ঈমানদারদেরকে বড় পাহাড়ের সমান আলোক বর্তিকা দেয়া হবে, কাউকে খেজুর গাছের সমান, সবচেয়ে অল্প পরিমাণ নূর পায়ের আংটির আকৃতিতে হবেঃ
মাসআলা-৩০২ঃ প্রত্যেক ব্যক্তি তার আলো অনুযায়ী দ্রুত বা মন্থর গতিতে পুলসিরাত অতিক্রম করবেঃ

عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ثم يقول ارفعوا رؤوسكم فيرفعون رؤوسهم فيعطيهم نورهم على قدر اعمالهم فمنهم من يعطى توره مثل الجبل العظيم يسعى بين ايديهم ومنهم من يعطى نوره اصغر من ذلك ومنهم من يعطى مثل النخلة بيده ومنهم من يعطى اصغر من ذلك حتى يكون آخرهم رجلا يعطى نوره على ابهام قدمه يضئ مرة ويطفئ مرة فاذا اضاء قدم قدمه واذا اطفئ قام قال والرب تبارك وتعالى امامهم حتى يمر بهم في النار فيبقى اثره كحد السيف قال فيقول مروا فيمرون على قدر نورهم منهم من يمر كطرفة العين ومنهم من يمر كالبرق ومنهم من يمر كالسحاب ومنهم من يمر كانقضاء الكواكب ومنهم من يمر كالريح ومنهم من يمر كشد الفرس ومنهم من يمر كشد الرجل حتى يمر الذي يعطى نوره على ظهر قدميه يحبو على وجهه ويديه ورجليه تجريد وتعلق يد وتجر رجل وتعلق رجل وتصيب جوانبه النار فلا يزال كذالك حتى يخلص فاذا خلص وقف عليها فقال الحمد لله الذي اعطانی مالم يعط احدا اذا انجانى منها بعد اذ رايتها ( رواه ابن أبي الدنيا والطبراني والحاكم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (হাশরের মাঠে আল্লাহ্ কে সেজদা করার পর) আল্লাহ বলবেনঃ মাথা উাঠাও, মুমেন তার মাথা উঠাবে, এর পর আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী আলো দান করবেন, তাদের মধ্যে কাউকে বড় পাহাড় সমান আলো দেয়া হবে, যা তাদের আগে আগে দৌড়াতে থাকবে, আবার কাউকে এর চেয়ে কম আলো দেয়া হবে, আবার কাউকে খেজুরের সমান আলো দেয়া হবে, যা তার হাতে থাকবে, আবার কাউকে এর চেয়ে ছোট আলো দেয়া হবে, এমনকি যাকে সবচেয়ে ছোট আলো দেয়া হবে, তা মানুষের পায়ের আঙ্গুলে থাকবে, যা এক বার আলোকিত হবে, আরেক বার নিভে যাবে, যখন তা আলোকিত হবে তখন লোক চলবে, যখন নিভে যাবে তখন লোকও দাঁড়িয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ্ তাদের সামনে থাকবেন এবং তাদেরকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার জন্য পুলসিরাতের নিকটে নিয়ে আসবেন। পুলসিরাত দেখে তরবারীর চেয়েও ধারালো মনে হবে, তাদেরকে নিদের্শ দেয়া হবে যে, তোমরা পুলসিরাত অতিক্রম কর। তখন প্রত্যেকে তার আলো অনুযায়ী পুলসিরাত অতিক্রম করবে, তাদের মধ্যে কেউ চোখের পলকে তা অতিক্রম করবে, কেউ বিদ্যুতের গতিতে অতিক্রম করবে, কেউ বাদলের গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ তারকা বিচ্ছুরিত হওয়ার গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ বাতাসের গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ কোন দ্রুতগামী ব্যক্তির গতিতে তা অতিক্রম করবে, এমন কি যার আলো তার পায়ের আঙ্গুলে থাকবে সে কখনো উপুড় হয়ে, কখনো সোজা হয়ে, কখনো হাতে পায়ে আঘাত পেয়ে তা অতিক্রম করবে, তার হাত পুলসিরাতের হুক টেনে ধরে লটকিয়ে ফেলবে, আবার কখনো তার পা টেনে ধরে তাকে লটকিয়ে ফেলবে, তার শরীরে আগুনের স্পর্শ লাগবে, সে এভাবে উঠে, পড়ে, ঝুলে পুল সিরাত অতিক্রম করবে, যখন পুলসিরাত অতিক্রম করবে, তখন দাঁড়িয়ে বলবেঃ ঐ আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি আমার প্রতি এত অনুগ্রহ করেছেন, যা অন্য কারো ওপর করেন নাই। তিনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন, অথচ আমি তা দেখেছি, (আমি সেখানে পতিত হচ্ছিলাম প্রায়)।” (ইবনু আবিদ্দুনইয়া, ত্বাবারানী, হাকেম)¹⁸⁸

মাসআলা-৩০৩ঃ পুল সিরাত পিছলানো এবং পতিত হওয়ার স্থানঃ
মাসআলা-৩০৪৪ কোন মুমেন বিজলীর গতিতে পুলসিরাত অতিক্রম করবে কেউ চোখের পলকে তা অতিক্রম করবে, কেউ বাতাসের গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ পাখির গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ ঘোড়ার গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ উটের গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ সুস্থ ও নিরাপদে তা অতিক্রম করবে, কেউ পড়ে, উঠে, ঝুলে, আহত হয়ে ব্যথা পেয়ে তা অতিক্রম করবে, আবার কেউ পড়ে, উঠে, আঘাত পেয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবেঃ

عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم وما الجسر قال دحض مزلة فيه خطاطيف وكلاليب وحسك تكون بنجد فيها شويكة يقال لها السعدان فيمر المؤمنون كطرف العين و كالبرق وكالريح وكاطير و كاجاويد الخيل والركاب فناج مسلم و مخدوش مرسل ومكدوس في نار جهنم رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ পুলসিরাত কেমন হবে? তিনি বললেনঃ তা পিছলা খাওয়া ও পতিত হওয়ার স্থান, সেখানে কাঁটা ও আংটা থাকবে, এবং এমন কিছু কাঁটা থাকবে যা নজদ এলাকায় পাওয়া যায়, যাকে সা'দুন বলা হয়, কোন কোন মুমেন পুলসিরাত চোখের পলকে অতিক্রম করবে, কেউ বিজলির গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ বাতাসের গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ পাখির গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ ঘোড়ার গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ উটের গতিতে তা অতিক্রম করবে, কেউ সুস্থ ও নিরাপদে তা অতিক্রম করবে, কেউ আঘাত প্রাপ্ত হবে কিন্তু এর পরও তা অতিক্রম করবে, আবার কেউ আঘাত প্রাপ্ত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।” (মুসলিম)¹⁸⁹
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال يوضع الصراط على سواء جهنم مثل حد السيف المرهف مدحضة مزلة عليه كلاليب من نار يخطف بها فممسك يهوى فيها و مصروع ومنهم من يمر كالبرق فلا ينشب ذالك ان ينجو ثم كجرى الفرس ثم كرمل الرجل ثم كمشى الرجل ثم يكون آخرهم انسانا رجل قد لوحته النار ولقى فيها شرا حتى يدخله الله الجنة بفضله ورحمته فيقال له تمن وسل فيقول اى رب اتهزأ منى وانت رب العزة فيقال له تمن وسل حتى اذا انقطعت به الامانى قال لك ما سألت ومثله معه (رواه الطبراني)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ পুল সিরাত জাহান্নামের ওপর রাখা হবে, যা তলোয়ারের চেয়েও ধার হবে, আর তাহবে পিছলানো এবং পতিত হওয়ার স্থান, তাতে থাকবে আগুনের কাঁটা, যা লোকদেরকে টেনে ধরবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে, আবার কাউকে আহত করবে, লোকদের মধ্যে কেউ বিজলির গতিতে তা অতিক্রম করবে, তাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথে কোন বাধা থাকবে না, কেউ বাতাশের গতিতে তা অতিক্রম করবে, জাহান্নাম থেকে মুক্তির পথে তাদেরও কোন বাধা থাকবে না, কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার ন্যায় তা অতিক্রম করবে, কেউ তাড়িত লোকের ন্যায় তা অতিক্রম করবে, কেউ পায়ে হাঁটা লোকের গতিতে তা অতিক্রম করবে, সর্বশেষ ঐ ব্যক্তি তা অতিক্রম করবে যাকে জাহান্নাম টেনে নিতে চাইবে এবং তা অতিক্রম করতে তার কষ্টও হবে, শেষে আল্লাহ্ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তাকে জান্নাতে দিবেন, এর পর তাকে বলবেনঃ যা খুশি তা চাও, সে বলবে হে আমার রব! আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন আপনিতো সম্মানিত রব! তাকে আবারো বলা হবে যা খুশি তা চাও, এমনকি যখন তার সমস্ত দাবি পুরন করা হবে, তখন আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হয়েছে, এর সাথে তোমাকে যা দেয়া হয়েছে তার অনুরূপ পরিমাণ আরো দেয়া হল।” (ত্বাবারানী)¹⁹⁰

মাসআলা-৩০৫ঃ পুলসিরাতের ডান পাশে আমানত এবং বাম পাশে অত্মীয়তার সম্পর্ক দন্ডয়মান থাকবে যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বা আমানতের খিয়ানত করেছে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবেঃ
মাসআলা-৩০৬ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুলসিরাতের নিকট দাঁড়িয়ে স্বীয় উম্মতের জন্য দুয়া করবেন হে আল্লাহ্ তাদেরকে বাঁচাও। হে আল্লাহ্ তাদেরকে বাঁচাও!ঃ

عن حذيفة وابى هريرة رضى الله عنهما قالا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وترسل الامانة والرحم فتقومان جنبتي الصراط يمينا وشمالا فيمر اولكم كالبرق قال قلت بابی انت وامی اى شئ كمر البرق ؟ الم تروا الى البرق كيف يمر ويرجع في طرفة عين ثم كمر الريح ثم كمر الطير وشد الرجال تجرى بهم اعمالهم ونبيكم قائم على الصراط يقول رب سلم سلم حتى تعجز আ'মালুল 'ইবাদি হাত্তা ইয়াজিউর রাজুলু ফালা ইয়াস্তাত্বিউস সায়রা ইল্লা যুহফান ক্বালা ওয়া ফী হাফাতিস সিরাত্বি কালালীবু মু'আল্লাক্বাতুন মামুরাতুন তা'খুযু মান উমিরতু বিহী ফামুখদাশুন নাঝুন ওয়া মাকদুশুন ফিন্নার (রওয়াহু মুসলিম)
অর্থঃ “হুযাইফা ও আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে পাঠানো হবে, তারা পুলসিরাতের ডান ও বাম পাশে দণ্ডায়মান থাকবে, তোমাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি বিদ্যুতের গতিতে তা অতিক্রম করবে, হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করল আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক, কোন জিনিস বিদ্যুতের গতিতে অতিক্রম করতে পারে? তিনি বললেনঃ তুমি কি দেখ নাই কিভাবে বিদ্যুত চোখের পলকে আসে যায়। এর পর কিছু লোক বাতাসের গতিতে তা অতিক্রম করবে, এর পর কিছু লোক পাখির গতিতে তা অতিক্রম করবে, এর পর কিছু লোক মানুষ দৌড়ানোর গতিতে তা অতিক্রম করবে, এর পর অন্য লোকেরাও নিজ নিজ আমল অনুযায়ী পুলসিরাত অতিক্রম করবে, আর তোমাদের নবী পুলসিরাতের পাশে দাঁড়িয়ে দুয়া করতে থাকবে, হে আল্লাহ্ আমার উম্মতদেরকে নিরাপদ রাখ, হে আল্লাহ্ আমার উম্মতদেরকে নিরাপদ রাখ। এর পর নেক আমল ওয়ালা লোকের সংখ্যা কমতে থাকবে, এর পর এক ব্যক্তি আসবে সে দাঁড়িয়ে পুলসিরাত অতিক্রম করতে পারবে না, বরং নিজে নিজে সেখানে বার বার পড়ে যাবে, উভয় দিকে আমানত ও আত্মীয়তার সম্পর্কের কাঁটা ঝুলে থাকবে, যার ব্যাপারে নির্দেশ হবে তারা তাকে ধরে ফেলবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে, কোন কোন লোক আহত হয়ে পুলসিরাত অতিক্রম করবে, আবার কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জাহান্নামে পতিত হবে।” (মুসলিম)¹⁹¹

মাসআলা-৩০৭ঃ হাশরের মাঠে উম্মত মুহাম্মাদীকে সহযোগীতা করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুল সিরাত মিযান ও হাউজে কাওসারের পাশে উপস্থিত থাকবেনঃ

عن انس رضى الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يشفع لي يوم القيامة فقال انا فاعل قال قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاين اطلبك ؟ قال اطلبني اول ما تطلبني على الصراط قال قلت فان لم القك على الصراط ؟ قال فاطلبني عند الميزان قلت فان لم القك عند الميزان ؟ قال فاطلبني عند الحوض فاني لا اخطى هذه الثلاث المواطن (رواه الترمذي)
অর্থঃ “আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আবেদন করলাম, তিনি যেন কিয়ামতের দিন সুপারিশ করেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের জন্য সুপারিশ করব, আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আপনাকে কোথায় তালাশ করব? তিনি বললেনঃ সর্ব প্রথম আমাকে পুল সিরাতে খুঁজবে, আমি জিজ্ঞেস করলাম যদি আপনাকে ওখানে না পাই? তিনি বললেনঃ এর পর আমাকে মিযানের পাশে খুঁজবে, আমি জিজ্ঞেস করলাম যদি এখানেও না পাই তাহলে কোথায় খুঁজব? তিনি বললেনঃ তাহলে আমাকে হাউজ কাওসারের নিকট খুঁজবে। আমি এ তিনটি স্থান ব্যতীত আর কোথাও যাব না।” (তিরমিযী)¹⁹²

মাসআলা-৩০৮ঃ নামায পুলসিরাতে আলো দিবেঃ
নোটঃএসংক্রান্ত হাদীসটি ১৫৮ নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-৩০৯ঃ অন্ধকারে মসজিদে গমন কারী ব্যক্তির জন্য পুলসিরাতে আলো থাকবেঃ

عن بريدة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال بشر المشائين في الظلم الى المساجد بالنور التام يوم القيامة (رواه ابوداود والترمذي)
অর্থঃ "বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ অন্ধকারে মসজিদে গমনকারীদের জন্য কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ আলোর সুসংবাদ দাও।” (আবুদাউদ, তিরমিযী)¹⁹³

মাসআলা-৩১০ঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার সময়টি এত কঠিন হবে যে তখন লোকেরা তাদের ঘনিষ্ট জনদের কথাও ভুলে যাবেঃ

عن عائشة رضى الله عنها قالت ذكرت النار فبكيت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يبكيك؟ قلت ذكرت النار فبكيت فهل تذكرون اهليكم يوم القيامة؟ فقال اما في ثلاثة مواطن فلا يذكر احد احدا عند الميزان حتى يعلم ايخف ميزانه ام يثقل؟ و عند تطاير الصحف حتى يعلم اين يقع كتابه في يمينه ام شماله ام وراء ظهره؟ و وعند الصراط اذا وضع بين ظهرى جهنم حتى يجوز (رواه ابوداود)
অর্থঃ "আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতে ছিলাম, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ কেন কাঁদছ? আমি বললামঃ জাহান্নামের কথা স্মরণ হল তাই আমি কাঁদতে ছিলাম। কিয়ামতের দিন কি আপনি আপনার পরিবার পরিজনদের কথা স্মরণ রাখবেন, না রাখবেন না? তিনি বললেনঃ তিনটি স্থান এমন হবে যেখানো কেউ কাউকে স্মরণ রাখতে পারবে না। মিযানের নিকট যতক্ষণ না মানুষ বুঝতে পারবে যে, তার নেকীর পাল্লা ভারী হল না হালকা? আমল নামা পাওয়ার স্থানে, যতক্ষণ না মানুষ জানতে পারবে যে তার আমলা নামা ডান হাতে পেল না বাম হাতে, না পিছন দিক দিয়ে। পুল সিরাতে, যখন তা জাহান্নামের ওপর স্থাপন করা হবে, যতক্ষণ না লোকেরা তা অতিক্রম করবে।” (আবুদাউদ)¹⁹⁴

মাসআলা-৩১১ঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় লোকেরা শেষ পর্যন্ত যেন এ আলো বাকী থাকে এজন্য দুয়া করতে থাকবেঃ

(يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ) (سورة التحريم : ٨)
অর্থঃ "সেদিন আল্লাহ্ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না, তাদের নূর তাদের সামনে ও ডান দিকে ছুটো ছুটি করবে, তারা বলবে হে আমাদের পালন কর্তা, আমাদের আলোকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর সর্ব শক্তি মান।" (সূরা তাহরীমঃ ৮)

মাসআলা-৩১২ঃ অত্যাচারিত অত্যাচারিকে পুলসিরাতের ওপর আটকে দিবে এবং অত্যাচারের বদলা না নিয়ে তাকে পুলসিরাত অতিক্রম করতে দিবে নাঃ
নোটঃএ সংক্রান্ত হাদীসটি ২৭৭ নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-৩১৩ঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার ব্যাপারে সালাফদের ভয়ঃ

قال معاذ بن جبل رضى الله عنه ان المؤمن لا يسكن روعه حتى يترك جسر جهنم وراءه
অর্থঃ "মোয়ায বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মোমেন ব্যক্তি পুলসিরাত অতিক্রম না করা পর্যন্ত শান্তি অনুভব করবে না।"¹⁹⁵

سئل عطاء السلمى رحمه الله ما هذا الحزن قال ويحك الموت في عنقى والقبر بيتي وفي القيامة موقفى وعلى جسر جهنم طريقي لا ادرى ما يصنع بي
অর্থঃ "আতা আঙ্গুলমী (রাহিমাহুল্লাহ্) কে চিন্তিত দেখে, জিজ্ঞেস করা হল যে, তুমি কেন চিন্তা করছ? তিনি বললেনঃ তোমার অকল্যাণ হোক তুমি কি জাননা মৃত্যু আমার গর্দানের নিকটে, কবর আমার ঘর, কিয়ামতের দিন আমাকে আল্লাহর আদালতে উপস্থিত হতে হবে, আর জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাত আমাকে অতিক্রম করতে হবে, অথচ আমি জানিনা আমার অবস্থা কি হবে।"¹⁹⁶
كان ابو ميسرة رحمه الله اذا اوى الى فراشه قال يليت امى لم تلدنى ثم يبكى فقيل له ما يبكيك يا ابا ميسرة ؟ قال اخبرنا انا واردها ولم نخبر انا صادرون عنها
অর্থঃ "আবু মাইসারা (রাহিমাহুল্লাহ) যখন বিছানায় যেতেন তখন বলতেন, হায় আফসোস! আমার মা যদি আমাকে জন্ম না দিত, আর কাঁদতে থাকতেন, তাকে জিজ্ঞস করা হল হে আবু মাইসারা তুমি কেন কাঁদছ? তিনি বলতেন আমাদের একথা তো জানা আছে যে, আমাদেরকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে, কিন্তু আমাদের জানা নেই যে, আমারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাব কিনা?"¹⁹⁷

عن الحسن البصري رحمه الله قال قال رجل لاخيه هل اتاك انك وارد النار ؟ قال نعم قال فهل اتاك انك صادر عنها قال لا ! قال فقيم الضحك ؟ قال فما ربى ضاحكا حتى لحق الله
অর্থঃ "হাসান বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনেঃ এক ব্যক্তি তার ভাইকে বললঃ তোমার কি জানা আছে যে, তোমাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে? সে বললঃ হাঁ। সে আবার জিজ্ঞেস করল তোমার কি জানা আছে যে, তুমি সেখান থেকে মুক্তি পাবে? সে বললঃ না!। তখন ঐ ব্যক্তি বললঃ তাহলে তুমি কি করে হাসছ? এর পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ বক্তির ঠোঁটে হাসি দেখা যায় নাই।"¹⁹⁸

টিকাঃ
184 - কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাত রুইয়াতুল মুমিনীন ফিল আখেরা রাব্বুহুম。
185-কিতাব ফাযায়েল আসহাবুস সাজারা。
186 - কিতাবুল ঈমান, বাব মারেফাত ত্বারিকুররুইয়া。
187 -কিতাবুল হায়েয, বাব বায়ান সিফাতু মানিইর রাজুলি ওয়াল মারআ ওয়া ইন。
188 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স, ফসল ফিল হাশর,, খঃ৪ হাদীস নং- (৪/৫২৬৫)
189 -বাবুল ঈমান, বাব মারেফা তরিকুলরুইয়া。
190 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স, ফসল ফিল হাউজ ওয়াল মিযান ওয়াসসিরাত,, খঃ৪ হাদীস নং- (৪/৫৩১০)
191-কিতাবুল ঈমান, বাআদনা আহলুল জান্না মানযিলাতান ফিহা。
192 - আবত্তাব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়অ ফি শা'ন সিরাত, (১২/১৯৮১)
193 -সুনান আবুদাউদ, কিতাবুস্ সালা, বাব মাযায়া ফিল মাসিয়ি ইলাস সালা فیযফুলাম, হাদীস নং-৫৬১。
194 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স, ফসল ফিল হাউজ ওয়াল মিযান ওয়াসসিরাত,, খঃ৪ হাদীস নং- (৪/৫৩০৬)
195 - আলা ফাওয়ায়েদ (১৫২)
196 - সিফাতুস সাফওয়া (৩/৩২৭)
197 - ইবনু কাসীর (৩/১৭৯)
198-ইবনু কাসীর (৩/১৭৯)

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 পুলসিরাত ও মুনাফেক

📄 পুলসিরাত ও মুনাফেক


মাসআলা-৩১৪ঃ মুনাফেককেও মোমেনের ন্যায় আলো দেয়া হবে কিন্তু রাস্তায় থাকতেই তার আলো নিভে যাবেঃ

মাসআলা-৩১৫ঃ আলো নিভার পর মুনাফেক ও মুমেনের মাঝে নিন্মোক্ত কথপোকতন হবেঃ
মুনাফেকঃ আমাদের প্রতিও একটু করুনার দৃষ্টি দিন এবং স্বীয় নূর থেকে আমাদেরকেও কিছু দিন।
মুমেনঃ এ আলো দুনিয়াতে পাওয়া যায় সেখান থেকে আনতে পারবে সেখান থেকে নিয়ে আস গিয়ে।
মুনাফেকঃ দুনিয়াতে কি আমরা তোমাদের সাথে নামায রোযা সাদকা করি নাই?
মুমেনঃ হাঁ নামায রোযা তো করেছ কিন্তু ইসলাম ও কুফরীর বিষয়ে তোমরা মুসলমানদের চেয়ে কাফেরদের সাথেই তোমাদের সুসম্পর্ক ছিলঃ

﴿يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاء أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ﴾ (سورة الحديد: ١٣ - ١٤)
অর্থঃ "যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ এবং কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের আলো থেকে, বলা হবে তোমরা পিছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ কর, অতপর উভয় দলের মাঝে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে, তার অভ্যান্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব, তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হাঁ কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদ গ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পিছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহ্র আদেশ পৌঁছেছে, সবাই তোমাদেরকে আল্লাহ্ সম্পর্কে প্রতাড়িত করেছে।" (সূরা হাদীদঃ ১৩-১৪)

عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال ويعطى كل انسان منهم منافق او مؤمن نورا ثم يتبعونه وعلى جسر جهنم كلاليب وحسك تأخذ من شاء الله تعالى ثم يطفئا نور المنافقين ثم ينجو المؤمنون (رواه مسلم)
অর্থঃ “জাবের বিন আবদুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ (কিয়ামতের দিন পুল সিরাত অতিক্রম করার সময়) প্রত্যেককে চাই মুমেন হোক আর মুনাফেক আলো দেয়া হবে, পুলসিরাতে আংটা ও কাঁটা থাকবে ঐ আংটা ও কাঁটা যাদেরকে আল্লাহ্ নির্দেশ দিবে তাদেরকে ধরে ফেলবে, মুনাফেকদের আলো রাস্তায় শেষ হয়ে যাবে, আর ঈমানদাররা তাদের আলোর মাধ্যমে পুলসিরাত অতিক্রম করে চলে যাবে।” (মুসলিম)¹⁹⁹

টিকাঃ
199-কিতাবুল ঈমান বাব আদনা আহলুল জান্না মানযিলাতান فیہا。

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 কান্তরার বর্ণনা

📄 কান্তরার বর্ণনা


মাসআলা-৩১৬ঃ পুলসিরাত নিরাপদ ভাবে অতিক্রম কারী ঈমানদার দেরকে কান্তারা নামক স্থানে থামিয়ে দেয়া হবে, তাদের পরস্পরের অসন্তুষ্টি এবং অভিযোগ মিটানো হবে এর পর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, যাতে করে তারা জান্নাতে তৃপ্তী নিয়ে থাকতে পারেঃ

عن ابي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يخلص المؤمنون من النار فيحسبون على قنطرة بين الجنة والنار فيقص لبعضهم من بعض مظالم كانت بينهم في الدنيا حتى اذا هذبوا ونقوا اذن لهم في دخول الجنة (رواه البخاري)
অর্থঃ “আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুলসিরাত অতিক্রম করার পর মুমেন ব্যক্তিকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে কান্তারা নামক স্থানে থামিয়ে রাখা হবে, পৃথিবীতে তারা একে অপরের ওপর যে যুলম বা যবর দস্তি করেছে তার প্রতিশোধ আদায় করা হবে, এমনকি যখন তারা পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার হবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে।” (বোখারী)²⁰⁰

টিকাঃ
200-কিতাবুররিকাক বাবুল কাসাস ইয়ামুল কিয়ামা。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00