📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 আল্লাহর আদালতে উপস্থিতি

📄 আল্লাহর আদালতে উপস্থিতি


মাসআলা-১৮৬ঃ আল্লাহর আদালতে ছোট বড় সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবেঃ

فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ، عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ) (سورة الحجر : ٩٢-٩٣)
অর্থঃ "অতএব আপনার পালনকর্তার কসম! আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।" (সূরা হিযরঃ ৯২-৯৩)

عن ابن عمر رضى الله عنهما عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال الا كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته فالامير الذى على الناس راع وهو مسئول عن رعيته والرجل راع على اهل بيته وهو مسئول عنهم والمرأة راعية على بيت بعلها وولده وهو مسئول عن رعيته (رواه مسلم)
অর্থঃ "ইবনু ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, যে ব্যক্তি মানুষের ওপর শাসক হবে, তাকে সমস্ত লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, পুরুষ তার পরিবারের লোকদের ওপর শাসক, তাই তাকে তার ঘরের লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, মহিলা তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের দায়িত্বশীল, তাই তাকে তার ঘর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, কাজের লোক তার মনিব ও তার সম্পদের দায়িত্বশীল, তাই তাকেও ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে, সতর্ক হও তোমাদের প্রত্যেকেই স্ব স্ব পরিবারের দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেসিত হবে।” (মুসলিম)।¹¹¹

মাসআলা-১৮৭ঃ ফেরেশতাদের জওয়াব দেহিঃ

( وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ أَهَؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ، قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنتَ وَلِيْنَا مِن دُونِهِم بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُم بِهِم مُّؤْمِنُونَ، فَالْيَوْمَ لَا يَمْلِكُ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ نَّفْعًا وَلَا ضَرًّا وَنَقُولُ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ) (سورة سبأ : ٤٠ - ٤٢)
অর্থঃ “যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেস্তাদেরকে বলবেনঃ এরাকি তোমাদেরই পূজা করত? ফেরেস্তারা বলবেঃ আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা নিজেদের পূজা করত, তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী, অতএব আজ তোমরা একে অপরের কোন উপকার বা অপকার করার অধিকারী হবে না। আর আমি যালেমদেরকে বলবঃ তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে মিথ্যা বলতে তা আস্বাদন কর।” (সূরা সাবাঃ ৪০-৪২)

মাসআলা-১৮৮ঃ নবীগণের জওয়াব দেহিঃ

( يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ قَالُوا لاَ عِلْمَ لَنَا إِنَّكَ أَنتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ) (سورة المائدة: ١٠٩)
অর্থঃ “যেদিন আল্লাহ্ সমস্ত নবীগণ কে একত্রিত করবেন, অতপর বলবেনঃ তোমরা কি উত্তর পেয়ে ছিলে? তারা বলবেঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।” (সূরা মায়েদাঃ ১০৯)

( وَإِذَا الرُّسُلُ أُقْتَتْ ) (سورة المرسلات : ١١)
অর্থঃ “যখন রাসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় নিরূপিত হবে।” (সূরা মোরসালাতঃ ১১)

মাসআলা-১৮৯ঃ ঈসা (আঃ) এর নিকট জওয়াব তলবঃ

( وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنتَ عَلامُ الْغُيُوبِ مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ، إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾ (سورة المائدة : ١١٦-١١٨)
অর্থঃ "যখন আল্লাহ্ বলবেন হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়ে ছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাশ্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেনঃ আপনি পবিত্র, আমার জন্য সোভা পায়না যে আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন আধিকার আমার নেই, যদি আমি বলে থাকি তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত, আপনিতো আমার মনের কথাও জানেন এবং আমি জানিনা যা আপনার মনে আছে, নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত। আমিতো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সেকথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করে ছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্র দাসত্ব অবলম্বন কর। যিনি আমার ও তোমার পালনকর্তা, আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম, যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, অতপর যখন আপনি আমাকে ওপরে উঠিয়ে নিয়েছেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ব বিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।" (সূরা মায়েদা-১১৬-১১৮)

মাসআলা-১৯০ঃ আল্লাহর ওলীদের নিকট জওয়াব তলবঃ

وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ ، قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاء وَلَكِن مَّتَعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا﴾ (سورة الفرقان : ۱۷ -۱۸)
অর্থঃ "সেদিন আল্লাহ্ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি উপশ্যদেরকে বলবেন তোমরাই কি আমার এ বান্দাদেরকে পথ ভ্রষ্ট করে ছিলে? না তারা নিজেরাই পথ ভ্রষ্ট হয়ে ছিল? তারা বলবে আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে অবিভাবক রূপে গ্রহণ করতে পারতাম না, কিন্তু আপনিইতো তাদেরকে এবং তাদের পিত্র পুরুষদেরকে ভোগসম্বার দিয়ে ছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়ে ছিল এবং তারা ছিল ধ্বংস প্রাপ্ত জাতি।” (সূরা ফোরকানঃ ১৭-১৮)

মাসআলা-১৯১৪ জ্বিনদের নিকট জওয়াব তলবঃ

وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الإِنسِ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُم مِّنَ الإِنسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَلْتَ لَنَا قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاء اللَّهُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ، وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظَّالِمِينَ بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ﴾ (سورة الأنعام : ۱۲۸ - ۱۲۹)
অর্থঃ "যেদিন আল্লাহ্ সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জ্বিন সম্প্রদায় তোমরা মানুষের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে নিয়েছ, তাদের মানব বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ করেছি, আপনি আমাদের জন্য যে সময় নির্ধারণ করে ছিলেন, আমরা তাতে উপনিত হয়েছি, আল্লাহ্ বলবেন আগুন হল তোমাদের বাসস্থান, তথায় তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে কিন্তু যখন চাইবেন আল্লাহ্। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময় ও মহাজ্ঞানী, এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দিব তাদের কাজ কর্মের কারণে।" (সূরা আনআ'মঃ ১২৮-১২৯)

মাসআলা-১৯২ঃ জ্বিন ও ইনসানের পক্ষ থেকে জওয়াব তলবঃ

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاء يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاوةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ) (سورة الأنعام : ١٣٠)
অর্থঃ “হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গাম্বরগণ আগমন করেননি, যারা তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এদ্বীনের সাক্ষাতের ভীতি প্রদর্শন করতেন, তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় পাপ স্বীকার করে নিলাম, পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে, তারা নিজেদের বিরোদ্ধে স্বীকার করে নিয়েছে যে তারা কাফের ছিল।" (সূরা আনআ'মঃ ১৩০)

মাসআলা-১৯৩ঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন কারীদের নিকট জওয়াব তলবঃ

وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ ، حَتَّى إِذَا جَاؤُوا قَالَ أَكَذَّبْتُم بِآيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ، وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ ) (سورة النمل : ٨٣-٨٥)
অর্থঃ" যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে, সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত, অতপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে, যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ বলবেন তোমরাকি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলছিলে, অথচ এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পূর্ণ জ্ঞান ছিলনা, না তোমরা অন্য কিছু করে ছিলে।” (সূরা নামলঃ ৮৩-৮৫)

মাসআলা-১৯৫ঃ মুশরেকদের নিকট জওয়াব তলবঃ

وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ، قَالَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَغْوَيْنَا أَغْوَيْنَاهُمْ كَمَا غَوَيْنَا تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ، وَقِيلَ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا يَهْتَدُونَ ، وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ، فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنْبَاءِ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ (سورة القصص: ٦٢-٦٦)
অর্থঃ "যেদিন আল্লাহ্ তাদেরকে আওয়াজ দিয়ে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরিক দাবী করতে তারা কোথায়? যাদের জন্য শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়েছে তারা বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! এদেরকেই আমরা পথভ্রষ্ট করে ছিলাম। আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ছিলাম, যেমন আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে ছিলাম। আমরা আপনার সামনে দায় মুক্ত হচ্ছি, তারা কেবল আমাদেরই ইবাদত করত না, বলা হবে তোমরা তোমাদের শরীকদের আহবান কর, তখন তারা ডাকবে অতপর তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা আযাব দেখবে হায়! তারা যদি সৎ পথ প্রাপ্ত হত, যেদিন আল্লাহ্ তাদেরকে ডেকে বলবেনঃ তোমরা রাসূলগণকে কি জওয়াব দিয়ে ছিলে? অতপর তাদের কথা বার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।" (সূরা কাসাসঃ ৬২-৬৬)

মাসআলা-১৯৫ঃ কিয়ামত অস্বীকার কারীদের নিকট জওয়াব তলবঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه وعن أبي سعيد رضى الله عنه قالا : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتى بالعبد يوم القيامة فيقول له الم اجعل لك سمعا وبصرا ومالا وولدا وسخرت لك الانعام و الحرث وتركت تراس وتربع فكنت تظن انك ملاقي يومك هذا ؟ فيقول لا فيقول له اليوم انساك كما نسيتني (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমি কি তোমাকে কান, চোখ, সম্পদ, সন্তান, দিই নি? তোমার জন্য বাসস্থান, আবাদ জমিনের ব্যবস্থাপনা করিনি, তোমাকে নেতৃত্বের ব্যবস্থাপনাও করে দিয়ে ছিলাম, যাতে করে তুমি এক চর্তুথাংশ গ্রহণ করতে পার (জাহিলিয়‍্যাতের যুগে গোত্রীয়শাসকরা শাসিতদের কাছ থেকে এক চর্তুথাংশ পরিমাণে চাঁদা নিত)। এর পরও কি আজকের দিনে এসাক্ষাতের কথা তোমার মনে ছিল? সে বলবে না, তখন আল্লাহ্ তাকে বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে ঐ ভাবে ভুলে গেছি যেমন তুমি আমাকে ভুলে গিয়ে ছিলা।” (তিরমিযী)¹¹²

মাসআলা-১৯৬ঃ মুনাফেকদের নিকট জওয়াব তলবঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيلقى العبد ربه فيقول ای فلان الم اكرمك واسودك وازوجك واسخر لك الخيل والابل وادرك ترأس وتربع ؟ بكتابك وبرسلك وصليت وصمت وتصدقت ويثنى بخير ما استطاع فيقول هاهنا اذا ثم يقول الآن نبعث شاهدا عليك فيتفكر فى نفسه من ذا الذي يشهد على ؟ فيختم على فيه ويقال لفخذه انطقى فينطق فخذه ولحمه وعظامه بعمله وذلك ليعذر من نفسه وذالك المنافق الذى يسخط الله عليه (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের সাথে সাক্ষাত করবেন, তখন জিজ্ঞেস করবেন হে অমুক আমি কি তোমাকে দুনিয়াতে সম্মান দেইনি? তোমাকে নেতৃত্ব দেইনি? তোমাকে স্ত্রী দেইনি? আমি কি তোমার জন্য উট ও ঘোড়ার ব্যবস্থা করিনি? আমি কি তোমাকে তোমার স্বজাতির শাসন ক্ষমতা দেইনি? যা থেকে তুমি এক চতুর্থাংশ পেতে? বন্দা বলবেঃ কেন নয় হে আমার প্রভূ! তুমি আমাকে সব কিছুই দিয়ে ছিলে। আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমার সাথে সাক্ষাতের কথা বিশ্বাস করতে? বান্দা বলবেঃ হাঁ হে আমার প্রভু, আমি তোমার প্রতি তোমার কিতাব সমূহের প্রতি তোমার রাসূলগণের প্রতি, বিশ্বাস রাখতাম। আমি নামায আদায় করেছি, রোযা রেখেছি, দান করেছি, ঐ ব্যক্তি যত দূর সম্ভব নিজের প্রশংসা করবে, নিজের ব্যাপারে ভাল ভাল কথা বলবে, আল্লাহ্ বলবেনঃ আচ্ছা একটু থাম আমি তোমার বিপক্ষে সাক্ষীর ব্যবস্থা করছি, বান্দা মনে মনে চিন্তা করবে যে, আমার বিপক্ষে কে সাক্ষী দিবে? আল্লাহ্ বান্দার মুখে তালা লাগিয়ে দিবেন, আর তার রানকে নির্দেশ দিবেন, সে তখন সাক্ষী দিতে থাকবে, তার রান, তার মাংস, তার হাড্ডি, বান্দার আমলের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ এসমস্ত সাক্ষী এজন্য ব্যবস্থা করবেন, যাতে করে বান্দার ওযর পেশ করার মত আর কোন রাস্তা না থাকে। এই মুনাফেক হবে যার ওপর আল্লাহ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট থাকবেন।” (মুসলিম)¹¹³

মাসআলা-১৯৭৪ পাপিষ্ঠরা আল্লাহর আদালতে অপমান ও লাঞ্ছনার কারণে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকবেঃ

﴿ وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُو رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۖ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ ﴾ (سورة السجدة : ١٢)
অর্থঃ "যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবেঃ হে আমাদের পালন কর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন আমরা সৎকর্ম করব, আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে গেছি।” (সূরা সাজদাঃ ১২)

মাসআলা-১৯৮৪ কাফের মুশরেকরা তাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আল্লাহ্ আদালতে মিথ্যা কসম করবেঃ

﴿ يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ جَمِيعًا فَيَحْلِفُونَ لَهُ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ ۚ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُونَ) (سورة المجادلة : ١٨)
অর্থঃ “যেদিন আল্লাহ্ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতপর তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে যেমন তোমাদের সামনে শপথ করে, তারা মনে করবে যে, তারা কিছু সৎ পথে আছে। সাবধান তারাইতো আসল মিথ্যাবাদী।" (সূরা মুযাদালাহঃ ১৮)

মাসআলা-১৯৯ঃ আল্লাহর আদালতে কারো ওপর বিন্দু পরিমাণেও যুলুম করা হবে নাঃ
﴿قَالَ قَرِينُهُ رَبَّنَا مَا أَطْغَيْتُهُ وَلَكِن كَانَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ ، قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُم بِالْوَعِيدِ ، مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ﴾ (سورة ق : ٢٧-٢٩)
অর্থঃ "তার সঙ্গী শয়তান বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি, বস্তুত সে নিজেই ছিল সুদূর পথ ভ্রাষ্টতায় লিপ্ত। আল্লাহ্ বলবেনঃ আমার সামনে বাক বিতন্ডা কর না, আমিতো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করে ছিলাম। আমার নিকট কথা রদবদল হয়না এবং আমি বান্দাদের প্রতি যুলুম করি না।" (সূরা ক্বাফঃ ২৭-২৯)

মাসআলা-২০০ঃ ঈমানদারদেরকে আল্লাহর আদালতে সম্মান ও মর্যাদার সাথে মেহমানের ন্যায় উপস্থিত করা হবেঃ

﴿يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَقْدًا﴾ (سورة مريم : ٨٥)
অর্থঃ "সেদিন দয়াময়ের নিকট মোত্তাকীদেরকে অতিথি রূপে সমবেত করব।” (সূরা মারইয়ামঃ ৮৫)

মাসআলা-২০১ঃ কিয়ামতের দিন আমল নামা পেশ এবং অপরাধীদের ওপর আল্লাহর কঠিন ফায়সালাঃ

﴿وَقَالَ قَرِينُهُ هَذَا مَا لَدَيَّ عَتِيدٌ، أَلْقِيَا فِي جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيدٍ، مَّنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ مُّرِيبٍ، الَّذِي جَعَلَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ فَأَلْقِيَاهُ فِي الْعَذَابِ الشَّدِيدِ﴾ (سورة ق : ٢٣-٢٦)
অর্থঃ "তার সঙ্গী ফেরেস্তারা বলবেঃ আমার নিকট যে আমল নামা ছিল তা এই, (বলা হবে) তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরোদ্ধ বাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গল জনক কাজে সীমালঙ্ঘনকারী ও সন্দেহ পোষণকারীকে, যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।" (সূরা ক্বাফঃ ২৩-২৬)
নোটঃ সঙ্গী ফেরেস্তা বলতে বোঝানো হয়েছে যারা পৃথিবীতে মানুষের সাথে থেকে তাদের আমল নামা প্রস্তুত করত।

মাসআলা-২০২ঃ আল্লাহ্র আদালতের ফায়সালার ওপর পুর্নবিবেচনার সুযোগ নেইঃ

﴿وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ﴾ (سورة الرعد: ٤١)
অর্থঃ "আল্লাহ্ নির্দেশ দেন তাঁর নির্দেশ পশ্চাতে নিক্ষেপ করার কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন"। (সূরা রা'দ-৪১)

﴿لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ﴾ (سورة الأنبياء : ٢٣)
অর্থঃ"তিনি যা করেন তৎসম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে"। (সূরা আম্বীয়াঃ ২৩)
(وَاللَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاء وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاء وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ) (سورة آل عمران: ۱۲۹)
অর্থঃ "আর যা কিছু আকাশ ও যমিনে রয়েছে তা সবই আল্লাহ্, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা তাকে আযাব দেন, আর আল্লাহ্ হচ্ছেন ক্ষমা কারী করুনাময়।" (সূরা আল ইমরানঃ ১২৯)

টিকাঃ
।।। - কিতাবুল ইমারাত, বাব ফযিলাতুল ইমামুল আদেল。
112-আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মিনহু (২/১৯৭৮)
113 - কিতাবুয্যুহদ ওয়াররিকাক。

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাউজ কাওসার

📄 হাউজ কাওসার


মাসআলা-২০৩ঃ হাশরের মাঠে প্রত্যেক নবীকে একটি করে হাউজ দেয়া হবে যেখানে তাদের উম্মতরা এসে পানি পান করবেঃ

عن سمرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لكل نبي حوضا وانهم يتباهون ايهم اكثر وارده وانى ارجوا ان اكون اكثرهم واردة (رواه الترمذي)
অর্থঃ "সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য হাউজ থাকবে, আর সমস্ত নবীগণ পরস্পরে গৌরব করবে যে, কার হাউজে সর্বাধিক লোক আসে, আমি আশা করছি যে তাদের মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক লোক আসবে।” (তিরমিযী)¹¹⁴

মাসআলা-২০৪ঃ হাউজ কাউসারের পানি সর্ব প্রথম দয়ার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পান করবেনঃ

عن عتبة بن عبد السلمى رضى الله عنه قال قام اعرابى الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما حوضك الذي تحدث عنه فقال هو كما بين الصنعاء الى بصرى ثم يمدنى الله فيه بكراع لا يدرى بشر ممن خلق اى طرفيه قال فكبر عمر رضوان الله عليه فقال اما الحوض فيزدحم عليه فقراء المهاجرين الذين يقتلون في سبيل الله ويموتون فى سبيل الله وارجو ان يوردني الله الكراع فاشرب منه رواه ابن حبان
অর্থঃ “উতবা বিন আবদুস্সলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দাঁড়িয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, যে হাউজের কথা আপনি বলছেন তা কি? তিনি বললেনঃ তা সানআ' থেকে বাসরার দূরত্বের ন্যায়, ঐ হাউজ থেকে একটি নালা আমার নিকট পর্যন্ত প্রবাহিত হবে, কোন মানুষ জানবে না যে ঐ নালাটি হাউজের কোন দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। একথা শুনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নারে তাকবীর বলল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাউজের পাশে গরীব মোহাজিরদের ভিড় হবে, যারা আল্লাহ্র পথে শহিদ হয়েছে, আর আমি আশা করছি যে, আল্লাহ্ ঐ নালাটি আমার নিকট পর্যন্ত প্রবাহিত করবেন, আর আমিই সর্ব প্রথম তা থেকে পানি পান করব।" (ইবনু হিব্বান)¹¹⁵

মাসআলা-২০৫ঃ গরীব মোহাজীরদের দল সর্ব প্রথম হাউজ কাওসার থেকে পানি পান কারী হবেঃ

عن ثوبان رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان اول الناس ورودا عليه فقراء المهاجرين الشعث رءوسا الدنس ثيابا الذين لا ينكحون المتنعمات ولا يفتح لهم السدد (رواه الترمذي)
অর্থঃ "সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমার হাউজে পানি পান করার জন্য সর্ব প্রথম আসবে গরীব মোহাজীর দের দল, যারা এল কেশী হবে, ময়লা পোশাক পরিহিত, যারা সুখে শান্তিতে লালিত পালিত নারীদেরকে বিয়ে করার সমর্থ রাখত না, যাদের জন্য আমীর ওমারাদের দরজা বন্ধ থাকত।” (তিরমিযী)¹¹⁶

মাসআলা-২০৬ঃ মদীনার আনসারদেরকে তিনি তাঁর হাউজে সাক্ষাতের ওয়াদা দিয়েছেনঃ

عن انس رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الانصار موعدكم حوضى (رواه البزار)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ হে আনসাররা তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাত হবে আমার হাউজে।” (বায্যার)¹¹⁷

মাসআলা-২০৭ঃ হাউজ কাউসারের পানি মেশক আম্বরের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময় মধুর চেয়ে মিষ্টি বরফের চেয়ে অধিক ঠান্ডা এবং দুধের চেয়ে অধিক সাদা হবেঃ
মাসআলা-২০৮ঃ যে ব্যক্তি এক বার হাউজ কাওসার থেকে পানি পান করবে তার কখনো পানির পিপাসা লাগবে না আর যে ঐ পানি পান করে নাই সে কখনো তৃপ্ত হবে নাঃ
عن انس رضی الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حوضى من كذا الى كذا فيه الانية عدد النجوم اطيب ريحها من المسك واحلى من العسل وابرد من الثلج، وابيض من اللبن من شرب منه شربة لم يظمأ ابدا ومن لم يشرب منه لم يرو ابدا ( رواه البزار والطبراني)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার হাউজের আয়তন হবে ওমুক স্থান থেকে ওমুক স্থান পর্যন্ত, তাতে নক্ষত্রসম পাত্র থাকবে, তার সুগন্ধি মেশক আম্বরের চেয়েও অধিক হবে, মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে, বরফের চেয়েও ঠান্ডা হবে, দুধের চেয়েও সাদা হবে, যে ওখান থেকে এক বার পানি পান করবে, সে আর কখনো পিপাসিত হবে না, যে ওখান থেকে পানি পান না করবে সে কখনো তৃপ্ত হবে না।" (বায্যার ও ত্বাবারানী)¹¹⁸

মাসআলা-২০৯ঃ যে ব্যক্তি হাউজ কাওসারের পানি পান করবে তার কখনো কোন চিন্তা বা ভয় থাকবে নাঃ

عن ابى امامة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من شرب شربة لم يظمأ بعدها ابدا لم يسود وجهه ابدا (رواه ابن حبان
অর্থঃ "আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওখান থেকে এক বার পানি পান করবে সে কখনো পিপাসিত হবে না এবং তার চেহারা কখনো কাল হবে না"। (ইবনু হিব্বান)¹¹⁹

মাসআলা-২১০ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজ কাওসারে সোনা ও চাঁদির পান পাত্র থাকবে যার সংখ্যা হবে আকাশের তারকাসমঃ

عن انس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ترى فيه اباريق الذهب والفضة كعدد تجوم السماء (رواه مسلم)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হাউজ কাওসারে তুমি সোনা ও চাঁদির পান পাত্র দেখতে পাবে, যার পরিমাণ হবে আকাশের তারকা সম।" (মুসলিম)¹²⁰

মাসআলা-২১১ঃ হাউজ কাউসারের আয়তন হবে মদীনা ও আম্মান (জর্ডানের) দূরত্বের সমানঃ
মাসআলা-২১২ঃ হাউজ কাউসারের পানি জান্নাত থেকে দু'টি নালার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে আসবে তার একটি নালা হবে সোনার অপরটি চাঁদিরঃ

عن ثوبان ان النبي صلى الله عليه وسلم قال انى لبعقر حوضى اذودو الناس لاهل اليمن اضرب بعصاي حتى يرفض عليهم فسئل عن عرضه فقال من مقامى الى عمان وسئل عن شرابه فقال اشد بياضا من اللبن واحلى من العسل يغث فيه ميزان يمدانه من الجنة احدهما من ذهب والآخر من ورق (رواه مسلم)
অর্থঃ "সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ হাউজ কাওসারের পাশে আমি ইয়ামেন বাসীদের সম্মানে অন্যদেরকে আমার লাঠি দিয়ে দূরে সরিয়ে দিব। তখন হাউজের পানি ইয়ামেন বাসীদের প্রতি প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তারা তৃপ্তি সহকারে খাবে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল হাউজের প্রশস্ততা কেমন হবে, তিনি বললেনঃ মদীনা থেকে আম্মান পর্যন্ত, এর পর হাউজের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, তা কেমন হবে? তিনি বললেনঃতা দুধের চেয়ে সাদা হবে, মধুর চেয়ে মিষ্টি হবে, এর পর তিনি বললেনঃ আমার হাউজে জান্নাত থেকে দু'টি নালার মাধ্যমে পানি আসতে থাকবে, তার মধ্যে একটি নালা হবে সোনার অপরটি চাঁদির।” (মুসলিম)¹²¹

মাসআলা-২১৩ঃ কাফের পানি পান করার জন্য হাউজ কাওসারের নিকট আসতে চাইবে কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ওখান থেকে দূরে সরিয়ে দিবেনঃ

عن حذيفة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده انى لا ذودو عنه الرجال كما يزود الرجل الابل الغريبة حوضا قيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتعرفنا ؟ قال نعم تردون على غرا محجلين من آثر الوضوء ليست لاحد غيركم ( رواه ابن ماجة)
অর্থঃ "হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঐ সত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! আমি হাউজ থেকে অমুসলিমদেরকে এমনভাবে দূরে সরিয়ে দিব, যেমন উটের মালিক তার আস্তানা থেকে অন্য মালিকদের উটকে দূরে সরিয়ে দেয়। জিজ্ঞেস করা হল হে আল্লাহ্র রাসূল আপনিকি সেদিন আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমরা যখন আমার নিকট আসবে তখন অজুর কারণে তোমাদের হাত, পা, কপাল চমকাতে থাকবে, এগুণ তোমরা ব্যতীত অন্য কোন উম্মতের মধ্যে থাকবে না।” (ইবনু মাযা)¹²²

মাসআলা-২১৪ঃ মোরতাদরাও হাউজ কাউসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত থাকবেঃ
عن أبي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا قائم على الحوض اذا زمرة حتى اذا عرفتهم خرج رجل من بينى وبينهم فقال هلم فقلت اين؟ قال الى النار والله قلت وما شأنهم قال انهم ارتدوا على أدبارهم القهقرى ثم اذا زمرة اخرى حتى اذا عرفتهم خرج رجل من بيني وبينهم فقال هلم قلت اين ? قال الى النار والله قلت ما شأنهم قال انهم ارتدوا على أدبارهم القهقرى فلا اراه يخلص منهم الا مثل همل النعم (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি হাউজ কাউসারের নিকট দাঁড়িয়ে থাকব, লোকদের একটি দল আমার সামনে আসবে, আমি তাদেরকে চিনতে পারব যে, তারা আমার উম্মত, ইতি মধ্যে আমার মাঝে ও তাদের মাঝে একজন লোক আসবে (সে হবে আল্লাহর প্রেরিত ফেরেস্তা) সে ঐ দলকে লক্ষ্য করে বলবেঃ এদিকে আস, আমি জিজ্ঞেস করব তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? সে বলবেঃ জাহান্নামে, আল্লাহ্র কসম! তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। আমি জিজ্ঞেস করব তাদের অন্যায় কি? সে বলবেঃআপনার পর তারা পিছনে ফিরে গিয়ে ছিল (ইসলাম ত্যাগ করে ছিল)। এরপর আরেকটি দল আমার সামনে আসবে আমি তাদেরকেও চিনতে পারব, যে তারা আমার উম্মত, ইতিমধ্যে আমার ও তাদের মাঝে এক জন ব্যক্তি আসবে, সে তাদেরকে বলবেঃ এদিকে আস? আমি জিজ্ঞেস করব তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে? সে বলবেঃ জাহান্নামের দিকে, আল্লাহর কসম! তাদেরকে জাহান্নামের দিকেই নিয়ে যাচ্ছি। আমি জিজ্ঞেস করব তাদের অন্যায় কি? সে বলবেঃতারা আপনার (মৃত্যুর) পর পিছনে ফিরে গিয়ে ছিল (ইসলাম ত্যাগ করে ছিল) আমি মনে করি লা ওয়ারিশ ওটের ন্যায় তাদের কেউ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে না।" (বোখারী)¹²³

মাসআলা-২১৫ঃ বিদআ'তীরাও হাউজ কাওসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হবেঃ

عن عبد الله رضى الله عن النبى صلى الله عليه وسلم قال انا فرطكم على الحوض وليرفعن رجال منكم ثم ليختلجن دوني فاقول يا رب اصحابي فيقال انك لا تدرى ما احدثوا بعدك (روا البخاري)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি তোমাদের আগে হাউজের নিকট পৌঁছে যাব, তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক আমার সামনে আসবে, অতপর তাদেরকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে, আমি বলব হে আমার প্রভূ! এরাতো আমার উম্মত উত্তরে বলা হবে তুমি জাননা তারা তোমার পর কি কি বিদআ'ত আবিষ্কার করে ছিল।" (বোখারী)¹²⁴
মাসআলা-২১৬ঃ মিথ্যুক ও জালেম শাসকদেরকে সহযোগীতা কারীরাও হাউজ কাউসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হবেঃ

عن عبد الله بن خباب عن ابيه رضى الله عنه قال كنا قعودا على باب النبي صلى الله عليه وسلم فخرج عليها فقال اسمعوا قلنا قد سمعنا قال اسمعوا قلنا قد سمعنا قال انه سيكون بعدي امراء فلا تصدقوهم بكذبهم ولا تعينوهم على ظلمهم فان من صدقهم بكذبهم واعانهم على ظلمهم لم يرد على الحوض ( رواه الطبراني وان حبان)
অর্থঃ আবদুল্লাহ্ বিন খাব্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দরজার সামনে বসা ছিলাম, তিনি আসলেন এবং বললেনঃ শোন, আমরা বললামঃ আমরা শোনর জন্য পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত আছি, তিনি আবার বললেনঃ শোনঃ আমরা বললামঃ আমরা শোনার জন্য পরিপূর্ণভাবে প্রস্ত আছি, এর পর তিনি বললেনঃ আমার পরে যে সমস্ত শাসক আসবে তাদের মিথ্যাকে গ্রহণ করবে না, আর তাদের যুলুমে তাদেরকে সহযোগীতা করবে না। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে গ্রহণ করবে এবং তাদের যুলুমের ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগীতা করবে, সে হাউজের নিকট আসতে পারবে না। (ত্বাবারানী, ইবনু হিব্বান)¹²⁵

টিকাঃ
114 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়াম, বাব মাযায়া ফিসিফাতিল হাউজ (২/১৯৮৮)
115 মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫৩০১)
116 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়াম, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল হাউজ (২/১৯৮৯)
117-কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাউজুন্নাবীয়িনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
118 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫২৫৮)
119- মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫২৪৫)
120-কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাউজি নাবিয়িনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
121 - কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাউজি নাবিয়িনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
122 - কিতাবুযুহদ, বাব যিকরুল হাউজ (২/৩৪৭১)
123 -কিতাবুর রিকাক, বাব ফির হাউজ。
124 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়াফি সিফাতিল হাউজ। (২/১৯৮৮)
125- মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৩৩১৫)

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 সুপারিশ

📄 সুপারিশ


মাসআলা-২১৭৯ঃ হাশরের মাঠে দীর্ঘসময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার মানুষ পিপাসা, অত্যন্ত গরম এবং দুর্গমময় ঘামে অতিষ্ঠ হয়ে বড় বড় নবীগণের নিকট উপস্থিত হবে যেন তাঁরা হিসাব শুরু করার জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে সমস্ত নবীগণ সুপারিশ করতে অস্বীকার করবে শেষে লোকেরা মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হবে আর তিনি আল্লাহর নিকট হিসাব শুরু করার জন্য সুপারিশ করবেন একেই শাফায়াত কোবরা বা বড় সুপারিশ বলা হয়ঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يجمع الله الناس يوم القيامة فيقولون لو استشفعنا على ربنا حتى يريحنا من مكاننا فيأتون ادم عليه السلام فيقولون انت الذى خلقك الله بيده ونفخ فيك من روحه وامر الملائكة فسجدوا لك فاشفع لنا عند ربنا فيقول لست هناكم ويذكر خطيئته ويقول ائتوا نوحا عليه السلام اول رسول بعثه الله فيأتونه فيقول لست هناكم ويذكر خطيئته ائتوا ابراهيم عليه السلام الذى اتخذه الله خليلا فيأتونه فيقول لست هناكم ويذكر خطيئته ائتوا موسى الذى كلمه الله فيأتونه فيقول لست هناكم ائتوا محمدا صلى الله عليه وسلم فقد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر فيأتوني فأستأذن على ربي فاذا رأيته وقعت ساجدا فيدعنى ما شاء الله ثم يقال لي ارفع رأسك سل تعطه وقل يسمع واشفع تشفع فارفع رأسي فاحمد ربي بتحميد يعلمنى ثم اشفع (متفق عليه)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকেরা একত্রিত হয়ে বলবে যে, আমাদের উচিত কারো দ্বারা আমাদের রবের নিকট সুপারিশের ব্যবস্থা করানো। যাতে করে আল্লাহ্ আমাদেরকে এ কষ্ট থেকে মুক্তি দেন। তখন লোকেরা আদম (আঃ) এর নিকট যাবে এবং বলবেঃ আপনাকে আল্লাহ্ স্বীয় হস্তে তৈরী করেছেন, রূহ দান করেছেন, ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন, তারা যেন আপনাকে সেজদা করে, আজ আপনি আমাদের রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন,(তিনি যেন হিসাব শুরু করেন এবং হাশরের মাঠের কষ্ট থেকে আমাদেরকে মুক্তি দেন) আদম (আঃ) বলবেনঃ আমি এর উপযুক্ত নই, তিনি তাঁর ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জিত হবেন, তিনি বলবেনঃ তোমরা নূহ (আঃ) এর নিকট যাও, সে আল্লাহর প্রেরিত সর্ব প্রথম রাসূল। লোকেরা তখন নূহ (আঃ) এর নিকট যাবে, তখন তিনি বলবেনঃ আজ আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না, তিনি তাঁর ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জিত হবেন, তিনি বলবেনঃ তোমরা ইবরাহিম (আঃ) এর নিকট যাও, তাঁকে আল্লাহ্ স্বীয় বন্ধু রূপে গ্রহণ করেছেন, লোকেরা ইবরাহিম (আঃ) এর নিকট আসবে, তিনি বলবেন আজ আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। তিনিও তার ভুলের জন্য লজ্জিত হবেন। তিনি বলবেনঃ তোমরা মূসা (আঃ) এর নিকট যাও, আল্লাহ্ দুনিয়াতে তাঁর সাথে কথা বলেছেনঃ লোকেরা তখন মূসা (আঃ) এর নিকট যাবে, তখন তিনি বলবেন আজ আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না, বরং তোমরা ঈসা (আঃ) এর নিকট যাও, লোকেরা ঈসা (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হবে তিনিও ঐ একেই কথা বলবেন। যে আজ আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না, তোমরা বরং মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট যাও, তার আগের ও পরের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, তখন লোকেরা আমার নিকট আসবে, আমি আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইব, আমি তাঁকে দেখা মাত্র সেজদায় পড়ে যাব, আল্লাহ্ যতক্ষণ চাইবেন ততক্ষণ আমি সেজদায় থাকব, এর পর তিনি আমাকে বলবেন তোমার মাথা উঠাও চাও, তোমাকে দেয়া হবে, তুমি বল তোমার কথা শোনা হবে, তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে, তখন আমি আমার মাথা উঠিয়ে আমার রবের প্রশংসা করব, এমন ভাষায় যা তিনি আমাকে শিক্ষা দিবেন, এর পর আমি সুপারিশ করব"। (মোত্তাফাকুন আলাইহি)¹²⁶

মাসআলা-২১৮ঃ শাফায়াত কোবরার (বড় সুপারিশ) এর জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জান্নাতের দরজা খোলাবেন, তাঁর আরশের নিচে পৌঁছে সিজদায় পড়ে যাবেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেখানে আল্লাহর গুণগান করবেন এর পর তাঁকে সুপারিশের জন্য অনুমতি দেয়া হবেঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم آتى باب الجنة يوم القيامة فاستفتح فيقول الخازن من انت فاقول محمد فيقول بك امرت لا افتح لاحد قبلك (رواه مسلم)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজার সামনে এসে তা খুলতে বলব, দারোয়ান জিজ্ঞেস করবে কে তুমি? আমি বলবঃ মোহাম্মদ, সে বলবে তোমার ব্যাপারেই আমি নির্দেশিত হয়েছি যে, তোমার পূর্বে অন্য কারো জন্য যেন এদরজা না খুলি।” (মুসলিম)¹²⁷

মাসআলা-২১৯ঃ শাফায়াত কোবরার (বড় শাফায়ত) এর বদৌলতে সর্ব প্রথম উম্মতে মোহাম্মদীর মধ্য থেকে ৪৯ লক্ষ লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবেঃ
عن ابي امامة رضى الله عنه يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وعدني ربي ان يدخل الجنة من امتى سبعين الفا لا حساب عليهم ولا عذاب ، مع كل الف سبعون الفا وثلاث حثيات من حثيات ربي (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমার রব আমাকে ওয়াদা দিয়েছে যে আমার উম্মতের মধ্য থেকে ৭০ হাজার লোক বিনা হিসেব ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে নিবেন, আর এ প্রত্যেক হাজারের সাথে থাকবে আরো ৭০ হাজার এবং আমার রবের আঞ্জলি পূর্ণ তিন আঞ্জলি।” (তিরমিযী)¹²⁸

মাসআলা-২২০ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশের বদৌলতে প্রথমে যবের পরিমাণ ঈমানদার ব্যক্তিদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে, এর পর পিপীলিকা বা বিন্দু পরিমাণ ঈমানদারদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে, এর পর যাদের অন্তরে পিপীলিকা বা বিন্দুর চেয়েও কম পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবেঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه في حديث الشفاعة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذن على ربي فيؤذن لى ويلهمنى محامد احمده بها لا تحضرني الآن فاحمده بتلك المحامد واخر له ساجدا فيقال يا محمد ارفع رأسك وقل يسمع لك وسل تعطه واشفع تشفع فاقول ياربي امتى امتى فيقال: انطلق فاخرج من كان في قلبه مثقال شعيرة من ايمان فانطلق فافعل ثم اعود فاحمده بتلك المحامد ثم اخر له ساجدا فيقال يا محمد ارفع رأسك وقل يسمع لك وسل تعطه واشفع تشفع فاقول ياربي امتى امتى فيقال انطلق فاخرج منها من كان في قلبه مثقال ذرة او خردلة من ايمان فانطلق فافعل ثم اعود فاحمده بتلك المحامد ثم اخر له ساجدا فيقال لي يا محمد ارفع رأسك وقل يسمع لك وسل تعطه واشفع تشفع فاقول يا رب امتى امتى فيقال انطلق فاخرج منها من كان في قلبه ادنى ادنى مثقال حبة خردل من ايمان فاخرجه من النار (متفق عليه)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সুপারিশের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃএর পর আমি আমার রবের নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুমতি চাইব, আমাকে অনুমতি দেয়া হবে, তখন আল্লাহ্ আমাকে তাঁর প্রশংসার এমন কিছু শব্দ শিক্ষা দিবেন যা এমূহর্তে আমার জানা নেই, আমি ঐ শব্দগুলো দিয়ে তাঁর প্রশংসা করব এবং সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, এরশাদ হবে হে মুহাম্মদ তোমার মাথা উাঠও, কথা বল কথা শোনা হবে, চাও দেয়া হবে, সুপারিশ কর গ্রহণ করা হবে, আমি বলবঃ হে আমার রব আমার উম্মত আমার উম্মত, এরশাদ হবে যাও এবং জাহান্নাম থেকে ঐ সমস্ত লোক যাদের অন্তরে যবের পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আমি যাব এবং তা করব। এর পর আবার (দ্বিতীয় বার) আল্লাহ্র নিকট উপস্থিত হব এবং ঐ শব্দগুলো দিয়েই আল্লাহর প্রশংসা করব ও সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। এরশাদ হবে হে মোহাম্মদ তোমার মাথা উঠাও কথা বল কথা শোনা হবে, চাও দেয়া হবে, সুপারিশ কর গ্রহণ করা হবে, আমি বলবঃ হে আমার রব আমার উম্মত আমার উম্মত, এরশাদ হবে যাও এবং জাহান্নাম থেকে ঐ সমস্ত লোকদেরকে বের করে আন যাদের অন্তরে পিপীলিকা পরিমাণ ঈমান আছে, আমি যাব এবং তা করব। এর পর আবার (তৃতীয় বার) আল্লাহ্র নিকট উপস্থিত হব এবং ঐ শব্দগুলো দিয়েই আল্লাহর প্রশংসা করব ও সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। এরশাদ হবে হে মোহাম্মদ তোমার মাথা ওঠাও কথা বল কথা শোনা হবে, চাও দেয়া হবে, সুপারিশ কর গ্রহণ করা হবে, আমি বলবঃ হে আমার রব আমার উম্মত আমার উম্মত, এরশাদ হবে যাও এবং জাহান্নাম থেকে ঐ সমস্ত লোকদেরকে বের করে আন যাদের অন্তরে বিন্দুর চেয়েও কম পরিমাণ ঈমান আছে, আমি যাব এবং তা করব।” (বোখারী ও মুসলিম)¹²⁹

মাসআলা-২২১ঃ কবীরা গোনাহগার মুসলমানরা জাহান্নামে চলে যাওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য সুপারিশ করবেন এবং তারা জান্নাতে যাবেঃ

عن جابر رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان شفاعتي يوم القيامة لاهل الكبائر من امتى (رواه ابن ماجة)
অর্থঃ "যাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমি আমার ঐ সমস্ত উম্মতদের জন্যও সুপারিশ করব, যারা কবীরা গোনায় লিপ্ত হয়েছে।" (ইবনু মাযা)¹³⁰

عن عمران بن حصين رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يخرج قوم من النار بشفاعة محمد فيدخلون الجنة ويسمون الجهنميين (رواه البخاري)
অর্থঃ "ইমরান বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশের বদৌলতে কিছু লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং তাদেরকে জান্নাতে দেয়া হবে, আর তাদেরকে লোকেরা জাহান্নামী বলে ডাকবে।" (বোখারী)¹³¹

মাসআলা-২২২ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশের পর অন্যান্য নবী ফেরেস্তা ওলী ও সৎ লোকেরাও সুপারিশ করবেঃ
عن عبد الله بن شقيق رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يدخل الجنة بشفاعة رجل من امتى اكثر من بنى تميم قيل يا رسول الله سواك ؟ قال سواى (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন শাকীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমার উম্মতের এক ব্যক্তির সুপারিশে তামীম বংশের চেয়েও অধিক লোক জান্নাতে যাবে, জিজ্ঞেস করা হল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এটাকি আপনার সুপরিশের অতিরিক্ত? তিনি বললেনঃ হাঁ আমার সুপারিশের অতিরিক্ত।” (তিরমিযী)¹³²

عن ابي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيقول الله عز وجل شفعت الملائكة وشفع النبيون وشفع المؤمنون ولم يبق الا ارحم الراحمين فيقبض قبضة من النار فيخرج منها قوم لم يعملوا خيرا قط (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'লা বলবেনঃ ফেরেস্তারা সুপারিশ করেছে, নবীগণ সুপরিশ করেছে, মুমেনরাও সুপারিশ করেছে এখন শুধু অত্যন্ত দয়ালু আল্লাহই বাকী আছেন, তখন আল্লাহ্ এক মুষ্টি ভরে জাহান্নাম থেকে এমন লোকদেরকে বের করবেন, যারা কখনো কোন সৎ আমল করে নাই।” (মুসলিম)¹³³

মাসআলা-২২৩ঃ শহীদ তার নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে ৭০ জন লোকের জন্য সুপারিশ করবেঃ

عن المقداد بن معد يكرب رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال للشهيد عند الله ست خصال يغفر له فى اول دفعة من دمه ويرى مقعده من الجنة ويجار من عذاب القبر ويأمن من الفزع الأكبر ويحلى حلة الايمان ويزوج من الحور العين ويشفع في سبعين انسانا من اقاربه (رواه ابن ماجة )
অর্থঃ "মিকদাদ বিন মা'দীকারাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট শহীদের ৬টি ফযিলত আছেঃ (১) তার রক্ত মাটিতে পড়া মাত্রই আল্লাহ্ তার গোনাহ মাফ করে দেন। (২) তাকে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হয়। (৩) কবরের আযাব থেকে রক্ষা করা হয়। (৪) কিয়ামতের দিন দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকবে। (৫) ঈমানের লিবাস পরানো হবে এবং হুর ঈনের সাথে তার বিয়ে হবে। (৬) কিয়ামতের দিন তার নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে ৭০ জন লোকের জন্য সুপারিশ করবে।" (ইবনু মাযা)¹³⁴

মাসআলা-২২৪ঃ ঈমানদার লোকেরা জান্নাতে যাওয়ার পর নিজের পরিচিত লোকদের জন্য সুপারিশ করবে এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে নিয়ে যাবেঃ

عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه في حديث رؤية الله تعالى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فما انتم باشد لى مناشدة فى الحق قد تبين لكم من المؤمن يومئذ للجبار فاذا راو انهم قد نجوا في اخوانهم يقولون ربنا اخواننا كانوا يصلون معنا ويصومون معنا ويعملون معنا فيقول الله تعالى اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال دينار من ايمان فاخرجوه ويحرم الله صورهم على النار فيأتونهم وبعضهم قد غاب في النار الى قدمه والى انصاف مساقيه فيخرجون من عرفوا ثم يعودون فيقول اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال نصف دينار فاخرجوه فيخرجون من عرفوا ثم يعودون فيقول اذهبوا فمن وجدتم في قلبه مثقال ذرة من ايمان فاخرجوه فيخرجون من عرفوا (متفق عليه)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহকে দেখা সংক্রান্ত হাদীসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আজ তোমরা তোমাদের অধিকারের ব্যাপারে আমার নিকট যতটা চাপ দিচ্ছ এর চেয়ে বহুগুণ বেশি করে ঈমানদাররা তাদের অধিকার দাবী করবে, যখন তারা নিশ্চিত হবে যে তারা মুক্তি পেয়ে গেছে, তখন তারা আল্লাহ্র নিকট আবেদন করবে যে, হে আমাদের প্রভু, আমাদের ভাই বোনেরা আমাদের সাথে নামায পড়ত, রোযা রাখত, আরো অন্যান্য ভাল কাজ করত, তাদেরকে আজ আপনি ক্ষমা করে দিন, আল্লাহ্ বলবেনঃ যাও যার অন্তরে দীনার পরিমাণ ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস। আল্লাহ্ ঐ গোনাহগারদের চেহারা জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিবেন, যখন ঈমানদাররা ওখানে আসবে তখন দেখবে যে, কিছু কিছু লোক তাদের কদম পর্যন্ত জাহান্নামে ডুবে আছে, আবার কেউ অর্ধ টাখনা পর্যন্ত জাহান্নামে ডুবে আছে, তখন তারা যাকে যাকে চিনবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসবে। এর পর আল্লাহ্ নিকট উপস্থিত হয়ে দ্বিতীয় বার সুপারিশ করবে আল্লাহ্ বলবেন আচ্ছা যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আস। তখন তারা সেখানে যাবে, যাদেরকে চিনবে তাদেরকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আসবে, এর পর আল্লাহর নিকট উপস্থিত হয়ে আবার সুপারিশ করবে তখন আল্লাহ্ বলবেনঃ যাও যাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আস, তখন লোকেরা গিয়ে যাদেরকে চিনবে তাদেরকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আসবে।" (বোখারী)¹³⁵

মাসআলা-২২৫ঃ কোন কোন ঈমান দার একাধিক লোকের জন্য সুপারিশ করবেঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الرجل ليشفع للرجلين والثلاثة ( رواه البزار )
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একজন (ঈমান দার) দুই তিন জন লোকের জন্য সুপারিশ করবে।" (বায্যার)¹³⁶

মাসআলা-২২৬ঃ রোযা ও কোরআ'নও সুপারিশ করবেঃ

عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة يقول الصيام أى رب منعته الطعام والشهوات فشفعنى فيه ويقول القرآن منعته النوم بالليل فشفعنى فيه قال فيشفعان (رواه احمد والطبرانی)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোযা ও কোরআ'ন বান্দার জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে, রোযা বলবেঃ হে আমার রব আমি এ লোককে পানা-হার, কাম চাহিদা পূর্ণ করা থেকে বারণ করে রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন, কোরআ'ন বলবেঃ হে আমার রব আমি এ লোককে রাতে রাত্রি জেগে ইবাদত করার জন্য ঘুম থেকে বাধা দিয়েছি, অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন এ উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।” (আহমদ, তাবারানী)¹³⁷

মাসআলা-২২৭ঃ সূরা বাক্বারা, সূরা আল ইমরান, সূরা মুলক তাদের পাঠকারীদের জন্য সুপারিশ করবেঃ

عن النواس بن سمعان رضى الله عنه قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قال يؤتى بالقرآن يوم القيامة واهله الذين كانوا يعملون به تقدمه سورة البقرة وآل عمران كانهما غمامتان او ظلتان سودان وان بينهما شرق او كانهما فرقان من طير صواف تحاجان عن صاحبهما (رواه مسلم)
অর্থঃ "নাওয়াস বিন সামআ'ন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন কোরআ'ন মাজীদ ও তার অনুসারীদেরকে এমনভাবে আনা হবে, যে সূরা বাক্বারা ও আল ইমরান ছায়ার ন্যায় তাদের আগে আগে থাকবে, যেন তা কোন বাদল বা কাল রংয়ের কোন সামিয়ানা, যা থেকে আলো চমকাচ্ছে, বা সাড়িবদ্ধ পাখীর দু'টি ঝাঁক যা তাদের পাঠকারীদের ব্যাপার আল্লাহর সাথে ঝগড়া করছে।” (মুসলিম)¹³⁸

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان سورة في القرآن ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له وهى تبارك الذي بيده الملك (رواه احمد والترمذي وابوداؤد والنسائ وابن ماجة)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোরআ'ন মাজীদের একটি সূরায় ত্রিশটি আয়াত রয়েছে, যা তার পাঠকারীর জন্য তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতে থাকবে। আর তা হল তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক।” (আহমদ, তিরমিযী, আবুদাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাযা)

মাসআলা-২২৮ঃ নেককার সন্তানরা তাদের পিতা-মাতার জন্য সুপারিশ করবেঃ

عن شرحبيل بن شفعة عن بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقال للوالدين يوم القيامة ادخلوا الجنة فيقولون ربنا حتى يدخل آباؤنا وامهاتنا قال فيأتون قال فيقول الله عز وجل مالي اراهم محبنطئين ادخلوا الجنة قال فيقولون يارب آباؤنا وامهاتنا قال ادخلوا الجنة انتم وآباؤكم (رواه احمد)
অর্থঃ “সুরাহ বিল বিন শুফয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর এক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন, কিয়ামতের দিন সন্তানদেরকে বলা হবে জান্নাতে প্রবেশ কর, বাচ্চারা বলবেঃ হে আমাদের প্রভূ যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ না করে ততক্ষণ আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব না, তখন তাদের পিতা-মাতাকে আনা হবে আল্লাহ্ বলবেনঃ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বাধা দেয়ার কারণ আছে, সন্তানরা বলবেঃ হে আল্লাহ্ তারা আমাদের পিতা-মাতা, আল্লাহ্ বলবেনঃ তোমরা এবং তোমাদের পিতা-মাতারা জান্নাতে প্রবেশ কর।" (আহমদ)¹³⁹

মাসআলা-২২৯ঃ মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশে এত লোক জান্নাতে যাবে যে জান্নাতের অর্ধেক লোক তাঁরই উম্মত হবেঃ
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم اما نرضون ان تكونوا ربع اهل الجنة قال فكبر ثم قال اما ترضون ان تكونوا ثلث اهل الجنة قال فكبرنا ثم قال اني لارجوا ان تكونوا شطر اهل الجنة وساخبركم عن ذلك مالمسلمون فى الكفار الا كشعرة بيضاء في ثور اسود كشعرة سوداء فى ثور ابيض (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমরা কি এতে খুশি নও যে জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ তোমরা হবে? একথা শুনে আমরা খুশি হয়ে আল্লাহু আকবার বললাম। এর পর তিনি আবার বললেনঃ তোমরা কি এতে খুশি নও যে জান্নাতীদের দুই তৃতীয়াংশ তোমরা হবে? একথা শুনে আমরা খুশি হয়ে আল্লাহু আকবার বললাম। এর পর তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করছি যে, জান্নাতীদের অর্ধেক তোমরা হবে, এর কারণ এইযে, কাফেরদের তুলনায় মুসলমানদের সংখ্যা এমন যেমন একটি কাল পশম বিশিষ্ট শরীরে একটি সাদা পশম, বা একটি সাদা পশম বিশিষ্ট শরীরে একটি কাল পশম।” (মুসলিম)¹⁴⁰

মাসআলা-২৩০ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশে এত উম্মত মোহাম্মদী জান্নাতে প্রবেশ করবে যে এতে তিনি আনন্দিত হবেনঃ

عن على بن ابى طالب رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اشفع لامتي حتى يناديني ربي تبارك وتعالى فيقول اقد رضيت يا محمد صلى الله عليه وسلم؟ فاقول اى رب قد رضیت (رواه البزار والطبراني)
অর্থঃ "আলী বিন আবু তালেব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করতে থাকব, এমনকি আমার রব আমাকে জিজ্ঞেস করবে হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তুমি কি সন্তুষ্ট হয়েছ? আমি বলবঃ হাঁ হে আমার রব এখন আমি সন্তুষ্ট।" (বায্যার, ত্বাবারানী)¹⁴¹

মাসআলা-২৩১ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধু ঐ সমস্ত লোকদের জন্য সুপারিশ করবেন যারা মৃত্যু পর্যন্ত তাওহীদের ওপর অটল ছিলঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لكل نبي دعوة مستجابة به فتعجل كل نبى دعوته وانى اختبأت دعوتى شفاعة لامتى يوم القيامة فهي نائلة ان شاء الله من مات من امتى لا يشرك بالله شيئا (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য এমন একটি দুয়া থাকে যা অবশ্যই কবুল যোগ্য, সমস্ত নবীগণ তাড়াহুড়া করে ঐ দুয়া দুনিয়াতে করে নিয়েছে, শুধু আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য তা রেখে দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ্ আমার এ সুপারিশ আমার উম্মতের প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি পাবে, যারা আল্লাহর সাথে শিরক না করে মারা গেছে।" (মুসলিম)¹⁴²

মাসআলা-২৩২ঃ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নবী ওলী শহিদ কেউই সুপারিশ করতে পারবে নাঃ

﴿ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ﴾ (سورة البقرة: ٢٥٥)
অর্থঃ "কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ব্যতীত।” (সূরা বাক্বারাঃ ২৫৫)

﴿ يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ﴾ (سورة هود : ١٠٥)
অর্থঃ "যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহ্র অনুমতি ব্যতীত কেউ কোন কথা বলতে পারবে না।" (সূরা হুদঃ ১০৫)

টিকাঃ
126-আল লুলু ওয়াল মারযান, খঃ১, হাদীস নং-১১৮。
127 - কিতাবুল ঈমান বাব ইসবাতুস্সাফায়া (২/১৯৮৪)
128 - আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়া ফিশ্মশাফায় (২/১৯৮৪)
129 - আল লুলু ওয়াল মারযান, খঃ১, হাদীস নং-১১৯。
130-আবওয়াবুষযুহদ, বাব যিকরুশশাফায়া (২/৩৪৭৯)।
131 - কিতাবুর রিকাক, বাব সিফাতুল জান্না ওয়ান্নার。
132-আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়া ফিশাফায়。
133-কিতাবুল ঈমান বাব ইসবাতু রুইয়াতুল মুমেনীনা ফিল আখেরা রাব্বাহুম,。
1.34 -আবওয়াবুল জিহাদ, বাব ফযলুশুহাদা ফি সাবীলিল্লাহ্ (২/২২৫৭)
135 - আল হুলু ওয়াল মারযান, খঃ১, হাদীস নং-১১৫。
136 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫৩৩৬)
137-আলবানী লিখিত সহীহ আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব হাদীস নং-৯৩৭。
138-কিতাব ফাযায়েল কোরআ'ন, বাব ফাযায়েল তেলওয়াতিল কোরআ'ন ওয়া সূরাতুল বাকারা。
139-মাজমাউয্যাওয়ায়েদ, কিতাবুল বা'স, বাব ফিশাফায়। (১০/১৮৫৫১)
140 - কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান কাওনি হাযিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না)
141 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫৩৩৮)
142-কিতাবুল ঈমান, বাব ইখতেবাউন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাওয়াতাহু শাফায়াতান লিল উম্মা。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00