📄 হাশরের মাঠে আল্লাহর আদালতের দৃশ্য
মাসআলা-১৭১ঃ আদালত স্থাপনের পূর্বে আকাশ ফেটে যাবে চতুর্দিকের খোলা ময়দানে বাদল বিস্তারিত হবে আর আল্লাহ্ ফেরেস্তাদের সাথে হাশরের মাঠে অবতরণ করবেনঃ
(وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ وَنُزِّلَ الْمَلَائِكَةُ تَنزِيلًا الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ لِلرَّحْمَنِ وَكَانَ يَوْمًا عَلَى الْكَافِرِينَ عَسِيرًا) (سورة الفرقان : ٢٥-٢٦)
অর্থঃ "সেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং সেদিন ফেরেস্তাদেরকে নামিয়ে দেয়া হবে, সেদিন সত্যিকার রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর আর কাফেরের জন্য দিনটি হবে কঠিন।” (সূরা ফোরকানঃ ২৫-২৬)
মাসআলা-১৭১ঃ আল্লাহ্র আদালতের আসে পাশে ফেরেস্তারা পাহাড়া দিতে থাকবেঃ
মাসআলা-১৭২ঃ আল্লাহর আরশ আট জন ফেরেশ্তা বহন করতে থাকবেঃ
(وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ) (سورة الحاقة : ١٧)
অর্থঃ "আর ফেরেস্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে এবং আট জন ফেরেস্তা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।" (সূরা হাক্কাঃ ১৭)
মাসআলা-১৭৩ঃ কিছু ফেরেস্তা কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেঃ
(وَجَاء رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا) (سورة الفجر : ٢٢)
অর্থঃ "এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেস্তাগণ সারি বদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন।" (সূরা ফাজরঃ ২২)
📄 আল্লাহর আদালতের সাক্ষীগণ
মাসআলা-১৭৪ঃ উম্মতে মোহাম্মদীর প্রতি ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর সাক্ষী স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিবেনঃ
মাসআলা-১৭৫ঃ অন্যান্য উম্মতদের নবীগণও তাদের নিজ নিজ কাউমের প্রতি ইসলাম পৌঁছানোর সাক্ষী দিবেঃ
(فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةِ بِشَهِيدٌ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاء شَهِيدًا) (سورة النساء : ٤١ )
অর্থঃ "আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে সাক্ষ্যদাতা, আর আপনাকে ডাকব তাদের ওপর সাক্ষ্যদাতা হিসেবে।" (সূরা নিসাঃ ৪১)
(وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاء عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ) (سورة البقرة : ١٤٣)
অর্থঃ "এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যম পন্থি সম্প্রদায় করেছি, যাতে করে তোমরা সাক্ষ্য দাতা হও, মানব মন্ডলীর জন্য এবং যাতে রাসূল সাক্ষ্য দাতা হন তোমাদের জন্য।” (সূরা বাকারাঃ ১৪৩)
মাসআলা-১৭৬ঃ যে সমস্ত উম্মত তাদের নবীদেরকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টা করবে ঐ নবীগণের ব্যাপারে উম্মতে মোহাম্মদীর আলেমগণ সাক্ষী হবে যে ঐ নবীগণ সত্যিই আল্লাহর দ্বীন তাদের উম্মতদের নিকট পৌঁছিয়েছেঃ
عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعى نوح يوم القيامة فيقول لبيك وسعديك يا رب فيقول هل بلغت ؟ فيقول نعم فيقال لامته هل بلغكم فيقولون ما اتانا من نذير فيقول من يشهد لك ؟ فيقول محمد وامته فيشهدون انه قد بلغ ويكون الرسول عليكم شهيدا فذالك قوله عز وجل وكذالك جعلناكم امة وسطا لتكونوا شهداء على الناس ويكون الرسول عليكم شهيدا (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ (আঃ) কে ডাকা হবে, তিনি উপস্থিত হয়ে বলবেন লাব্বাইক ওয়া সা'দাইক (আপনার নির্দেশ পালনের জন্য আমি উপস্থি) আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমার মিশন লোকদের নিকট পৌঁছাও নি? নূহ (আঃ) বলবেনঃহে আল্লাহ্ আমি তা পৌঁছিয়েছি। এর পর নূহ (আঃ) এর উম্মতদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে যে নূহ (আঃ) কি তোমাদের নিকট আমার মিশন পৌঁছায় নি? তারা বলবেঃ আমাদের নিকট তো কোন ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন আল্লাহ্ নূহ (আঃ) কে জিজ্ঞেস করবেন, তোমার কি কোন সাক্ষী আছে? তিনি বলবেনঃ মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উম্মত আমার সাক্ষী। তখন উম্মতে মোহাম্মদী সাক্ষ্য দিবে যে, নূহ (আঃ) সত্যিই আল্লাহ্র মিশন তাঁর উম্মতদের নিকট পৌঁছিয়েছে, আর রাসূল তোমাদের এ সাক্ষ্যের সত্যায়ন করবেন এবং এটিই ঐ আয়াতের অর্থ "এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যম পন্থি সম্প্রদায় করেছি, যাতে করে তোমরা সাক্ষ্য দাতা হও, মানব মন্ডলীর জন্য এবং যাতে রাসূল সাক্ষ্য দাতা হন তোমাদের জন্য"। (সূরা বাকারাঃ ১৪৩)
মাসআলা-১৭৭ঃ ফেরেস্তা, আম্বীয়া, সৎ লোক, শহীদগণও আল্লাহর আদালতের সাক্ষী হবেনঃ
(وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاء وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ) (سورة الزمر : ٦٩)
অর্থঃ "পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গাম্বর ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।" (সূরা যুমারঃ ৬৯)
মাসআলাঃ১৭৮ঃ কিরামান কাতেবীন (আমলানামা লিখার দায়িত্বে নিয়োজিত দু'ফেরেস্তার) লিখিত আমল নামাও মানুষের আমলের সাক্ষী হবেঃ
(وَإِنْ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ ، كَرَامًا كَاتِبِينَ، يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ) (سورة الإنفطار : ١٠-١٢)
অর্থঃ "অবশ্যই তোমাদের ওপর তত্ত্বাবদায়ক নিযুক্ত আছে, সম্মানিত আমল লিখক বৃন্দ, তারা জানে যা তোমরা কর।" (সূরা ইনফিতারঃ ১০-১২)
إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ ، مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ c عَتِيدٌ (سورة ق ۱۷-۱۸)
অর্থঃ "যখন দুই ফেরেস্তা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে, সে যে কথাই উচ্চারণ করে তাই গ্রহণ করার জন্য তার নিকট সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।" (সূরা ক্বাফঃ ১৭-১৮)
মাসআলা-১৭৯ঃ মানুষের হাত পা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও আল্লাহর আদালতে সাক্ষ্য দিবেঃ
حَتَّى إِذَا مَا جَاؤُوهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَأَبْصَارُهُمْ وَجُلُودُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ، وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (سورة فصلت : ২০-۲۱)
অর্থঃ "তারা যখন জাহান্নামের নিকটে পৌঁছবে তখন তাদের কান, চক্ষু, ও ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। তারা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবে তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে যে আল্লাহ্ সব কিছুকে বাক শক্তি দিয়েছেন, তিনিই আমাদেরকে বাক শক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তারই দিকে প্রত্যাবর্তীত হবে।” (সূরা হামীম সাজদাঃ ২০-২১)
الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) (سورة يس : ٦٥)
অর্থঃ "আজ আমি তাদের মুখে মোহর এটে দিব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃত কর্মের সাক্ষ্য দিবে।” (সূরা ইয়াসীনঃ ৬৫)
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (سورة النور : ٢٤)
অর্থঃ “যেদিন প্রকাশ করে দিবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত, ও তাদের পা যা কিছু তারা করত।” (সূরা নূরঃ ২৪)
عن انس بن مالك رضى الله عنه قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فضحك فقال هل تدرون مما اضحك قال قلنا الله ورسوله اعلم قال من مخاطبة العبد ربه يقول يارب ! الم تجرني من الظلم ؟ قال يقول بلى قال فيقول فانى لا اجيز على نفسى الا شاهدا منى قال فيقول كفى بنفسك اليوم عليك شهيدا وبالكرام الكاتبين شهودا قال فيختم على فيه فيقال لاركانه انطقي قال فتنطق باعماله قال ثم يخلى بينه وبين الكلام قال فيقول بعد الكن وسحقا كنت اناضل (رواه مسلم)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি হাসতে ছিলেন, আর আমাদেরকে জিজ্ঞেস করছিলেন যে, তোমরাকি জান আমি কেন হাসতেছি? আমরা বললাম আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই এ ব্যাপারে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ কিয়ামতের দিন বান্দা তার রবের সাথে কথপোকথনের কথা স্মরণ করে আমার হাসি পাচ্ছে। মানুষ বলবে হে আমার প্রভু তুমিকি আমাকে যুলুম থেকে আশ্রয় দেওনি? (তুমি ওয়াদা করেছ যে তুমি যুলম করবে না) আল্লাহ্ বললেনঃ হাঁ কেন নয়, মানুষ বলবেঃ আমি আমার বিরোদ্ধে অন্য কারো সাক্ষী বৈধ মনে করিনা, আমি শুধু আমার নিজের সাক্ষীকেই বিশ্বাস করি। আল্লাহ্ বলবেনঃ আজ তোমার নিজের সাক্ষীই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। এবং কিরামান কাতেবীনের সাক্ষী। তখন মানুষের মুখে মোহর লাগিয়ে দেয়া হবে (বন্ধ করে দেয়া হবে) এর পর মানুষের অঙ্গ পতঙ্গকে নিদের্শ দেয়া হবে যে বলঃ তখন তারা মানুষের আমল সম্পর্কে সাক্ষী দিতে থাকবে। এর পর মানুষকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে, তখন সে তার অঙ্গ পতঙ্গকে লক্ষ্য করে বলবেঃ তোমাদের ধ্বংস হোক, আমিতো তোমাদের সুবিধার জন্যই ঝগড়া করতে ছিলাম। (যাতে করে তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পার)।” (মুসলিম)¹⁰³
মাসআলা-১৮০ঃ অঙ্গ পতঙ্গের মধ্যে সর্ব প্রথম বাম রান সাক্ষী দিবেঃ
عن عقبة بن عامر رضى الله عنه انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول ان اول عظم من الانسان يتكلم يوم يختم على الافواه فخذه من الرجل الشمال (رواه احمد والطبرانی)
অর্থঃ "ওকবা বিন আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন তিনি বলেছেনঃ যেদিন যবান বন্ধ করে দেয়া হবে, ঐ দিন মানব অঙ্গের মধ্যে সর্বপ্রথম বাম রান সাক্ষ্য দিবে।” (আহমদ, তাবারানী)¹⁰⁴
মাসআলা-১৮১ঃ আযান দাতার আযান শ্রবণ কারী জ্বিন ইনসান পাথর বৃক্ষ সব কিছু তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবেঃ
عن ابي سعيد رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا يسمعه جن ولا انس ولا شجر ولا حجر الا شهد له (رواه ابن ماجة)
অর্থঃ "আবুসাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ মোয়ায্যিনের আযান শ্রবণকারী জ্বীন, মানুষ, পাথর, বৃক্ষ সবই তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে।” (ইবনু মাযা)¹⁰⁵
عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول انه لا يسمع مدى صوت المؤذن جن ولا انس ولا شيئ الا شهد له يوم القيامة (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ মোয়ায্যিনের আযান যে জ্বিন, মানুষ, বা যেই শুনুক সে কিয়ামতের দিন ঐ মোয়ায্যিনের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে।" (বোখারী)¹⁰⁶
মাসআলা-১৮২ঃ হাতের যেসমস্ত আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করা হয় ঐ সমস্ত আঙ্গুলসমূহ কিয়ামতের দিন সাক্ষী হবেঃ
عن يسرة رضى الله عنها كانت من المهاجرات قالت قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليكن بالتسبيح والتهليل والتقديس واعقدن بالانامل فانهم مسؤلات مستنطقات ولا تغفلن فتنسين الرحمة (رواه الترمذي وابوداؤد)
অর্থঃ "ইয়ুসরা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি হিযরত কারী মাহিলাদের এক জন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমরা তাসবীহ পাঠ করবে (সুবহানাল্লাহ বলবে) তাহলীল বলবে (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে) এবং তাকদীস করবে (সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস বলবে) তা নিয়মিত করবে এবং তা আঙ্গুলে গণনা করবে, কেননা কিয়ামতের দিন তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে এবং তারা উত্তর দিবে। এ তাসবীহ পাঠে অলসতা করবে না, তাহলে রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।” (তিরমিযী, আবুদাউদ)¹⁰⁷
মাসআলা-১৮৩ঃ সিজদার স্থান কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবেঃ
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنه قال من سجد في موضع عند شجر او حجر شهد له عند الله يوم القيامة ( ذكره ابن المبارك في زوائد الزهد )
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর বিন আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন পাথর বা বৃক্ষের নিকটবর্তী কোন স্থানে সিজদা দিবে, কিয়ামতের দিন তা আল্লাহ্র নিকট তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে”। (ইবনু মোবারক যাওয়ায়েদ আযযুহদ নামক গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন)¹⁰⁸
মাসআলা-১৮৪ঃ যমিনের টুকরাও আল্লাহর আদালতে সাক্ষী দিবেঃ
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الآية (يومئذ تحدث اخبارها قال اتدرون ما اخبارها ؟ قالوا الله ورسوله اعلم قال فان اخبارها ان تشهد على كل عبد او امة بما عمل على ظهرها تقول عمل يوم كذا وكذا فهذه اخبارها (رواه احمد والترمذي)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এ আয়াত "সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জান তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করা কি? তারা বললঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করা হল, প্রত্যেক বান্দা ও বান্দী তার বুকে যে আমল করেছে সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া, সে বলবে যে ওমক দিন ওমক কাজ করেছে, এহল তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করা।” (আহমদ ও তিরমিযী)¹⁰⁹
মাসআলা-১৮৫ঃ হাজরে আসওয়াদ (কাল পাথর) কিয়ামতের দিন তাকে স্পর্শকারীদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবেঃ
عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحجر والله ليبعثه الله يوم القيامة له عينان يبصر بهما ولسان ينطق به يشهد على من استلمه بحق ( رواه الترمذي)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজরে আসওয়াদ (কাল পাথর) সম্পর্কে বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ হাজরে আসওয়াদকে এমনভাবে পেশ করবেন যে, তখন তার দু'টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সে দেখবে, তার মুখ থাকবে, যা দিয়ে সে কথা বলবে, আর প্রত্যেক ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে, যারা তাকে স্পর্শ করেছে"। (তিরমিযী)¹¹⁰
টিকাঃ
103 - কিতাবুযহদ ওয়ার রাকায়েক, হাদীস নং-২৯৬৯。
104 - মাঘমাউয্যাওয়ায়েদ, বিশ্লেষণ আবদুল্লাহ্ আদ্দরবেস, কিতাবুল বা'স, বাব মাযায়া ফিল হিসাব (১০/১৮৩৯৯)
105 - আবওয়াবুল আযান, বাব ফযলিল আযান (১/৫৯১)
106 - কিতাবুল আযান বাব ফযলি তা'যিন。
107 - আলবানী লিখিত সহীহ সুনানে তিরমিযী, খঃ৩, হাদীস নং-২৮৩৫。
108-কোরতুবী লিখিত আত্তাযকিরা পৃৎ নং-২৬৯。
109 - মাযমাউয্যাওয়ায়েদ, বিশ্লেষণ আবদুল্লাহ্ আদ্দরবেস, কিতাবুল বা'স, বাব মাযায়া ফিল হিসাব (১০/১৮৩৯৯)
110-আবওয়াবুল হাজ্জ, বাবুসুজুদ আলাল হাজররিল আসওয়াদ, হাদীস নং-৯৬১。
📄 আল্লাহর আদালতে উপস্থিতি
মাসআলা-১৮৬ঃ আল্লাহর আদালতে ছোট বড় সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবেঃ
فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ، عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ) (سورة الحجر : ٩٢-٩٣)
অর্থঃ "অতএব আপনার পালনকর্তার কসম! আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।" (সূরা হিযরঃ ৯২-৯৩)
عن ابن عمر رضى الله عنهما عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال الا كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته فالامير الذى على الناس راع وهو مسئول عن رعيته والرجل راع على اهل بيته وهو مسئول عنهم والمرأة راعية على بيت بعلها وولده وهو مسئول عن رعيته (رواه مسلم)
অর্থঃ "ইবনু ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, যে ব্যক্তি মানুষের ওপর শাসক হবে, তাকে সমস্ত লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, পুরুষ তার পরিবারের লোকদের ওপর শাসক, তাই তাকে তার ঘরের লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, মহিলা তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের দায়িত্বশীল, তাই তাকে তার ঘর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, কাজের লোক তার মনিব ও তার সম্পদের দায়িত্বশীল, তাই তাকেও ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে, সতর্ক হও তোমাদের প্রত্যেকেই স্ব স্ব পরিবারের দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞেসিত হবে।” (মুসলিম)।¹¹¹
মাসআলা-১৮৭ঃ ফেরেশতাদের জওয়াব দেহিঃ
( وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ أَهَؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ، قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنتَ وَلِيْنَا مِن دُونِهِم بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُم بِهِم مُّؤْمِنُونَ، فَالْيَوْمَ لَا يَمْلِكُ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ نَّفْعًا وَلَا ضَرًّا وَنَقُولُ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ) (سورة سبأ : ٤٠ - ٤٢)
অর্থঃ “যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেস্তাদেরকে বলবেনঃ এরাকি তোমাদেরই পূজা করত? ফেরেস্তারা বলবেঃ আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা নিজেদের পূজা করত, তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী, অতএব আজ তোমরা একে অপরের কোন উপকার বা অপকার করার অধিকারী হবে না। আর আমি যালেমদেরকে বলবঃ তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে মিথ্যা বলতে তা আস্বাদন কর।” (সূরা সাবাঃ ৪০-৪২)
মাসআলা-১৮৮ঃ নবীগণের জওয়াব দেহিঃ
( يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ قَالُوا لاَ عِلْمَ لَنَا إِنَّكَ أَنتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ) (سورة المائدة: ١٠٩)
অর্থঃ “যেদিন আল্লাহ্ সমস্ত নবীগণ কে একত্রিত করবেন, অতপর বলবেনঃ তোমরা কি উত্তর পেয়ে ছিলে? তারা বলবেঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।” (সূরা মায়েদাঃ ১০৯)
( وَإِذَا الرُّسُلُ أُقْتَتْ ) (سورة المرسلات : ١١)
অর্থঃ “যখন রাসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় নিরূপিত হবে।” (সূরা মোরসালাতঃ ১১)
মাসআলা-১৮৯ঃ ঈসা (আঃ) এর নিকট জওয়াব তলবঃ
( وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنتَ عَلامُ الْغُيُوبِ مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ، إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾ (سورة المائدة : ١١٦-١١٨)
অর্থঃ "যখন আল্লাহ্ বলবেন হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়ে ছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাশ্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেনঃ আপনি পবিত্র, আমার জন্য সোভা পায়না যে আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন আধিকার আমার নেই, যদি আমি বলে থাকি তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত, আপনিতো আমার মনের কথাও জানেন এবং আমি জানিনা যা আপনার মনে আছে, নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত। আমিতো তাদেরকে কিছুই বলিনি, শুধু সেকথাই বলেছি যা আপনি বলতে আদেশ করে ছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্র দাসত্ব অবলম্বন কর। যিনি আমার ও তোমার পালনকর্তা, আমি তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলাম, যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, অতপর যখন আপনি আমাকে ওপরে উঠিয়ে নিয়েছেন, তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আপনি সর্ব বিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত।" (সূরা মায়েদা-১১৬-১১৮)
মাসআলা-১৯০ঃ আল্লাহর ওলীদের নিকট জওয়াব তলবঃ
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ ، قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاء وَلَكِن مَّتَعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا﴾ (سورة الفرقان : ۱۷ -۱۸)
অর্থঃ "সেদিন আল্লাহ্ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি উপশ্যদেরকে বলবেন তোমরাই কি আমার এ বান্দাদেরকে পথ ভ্রষ্ট করে ছিলে? না তারা নিজেরাই পথ ভ্রষ্ট হয়ে ছিল? তারা বলবে আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে অবিভাবক রূপে গ্রহণ করতে পারতাম না, কিন্তু আপনিইতো তাদেরকে এবং তাদের পিত্র পুরুষদেরকে ভোগসম্বার দিয়ে ছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়ে ছিল এবং তারা ছিল ধ্বংস প্রাপ্ত জাতি।” (সূরা ফোরকানঃ ১৭-১৮)
মাসআলা-১৯১৪ জ্বিনদের নিকট জওয়াব তলবঃ
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الإِنسِ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُم مِّنَ الإِنسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَلْتَ لَنَا قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاء اللَّهُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ، وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظَّالِمِينَ بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ﴾ (سورة الأنعام : ۱۲۸ - ۱۲۹)
অর্থঃ "যেদিন আল্লাহ্ সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জ্বিন সম্প্রদায় তোমরা মানুষের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে নিয়েছ, তাদের মানব বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ করেছি, আপনি আমাদের জন্য যে সময় নির্ধারণ করে ছিলেন, আমরা তাতে উপনিত হয়েছি, আল্লাহ্ বলবেন আগুন হল তোমাদের বাসস্থান, তথায় তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে কিন্তু যখন চাইবেন আল্লাহ্। নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময় ও মহাজ্ঞানী, এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দিব তাদের কাজ কর্মের কারণে।" (সূরা আনআ'মঃ ১২৮-১২৯)
মাসআলা-১৯২ঃ জ্বিন ও ইনসানের পক্ষ থেকে জওয়াব তলবঃ
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاء يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاوةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ) (سورة الأنعام : ١٣٠)
অর্থঃ “হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গাম্বরগণ আগমন করেননি, যারা তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এদ্বীনের সাক্ষাতের ভীতি প্রদর্শন করতেন, তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় পাপ স্বীকার করে নিলাম, পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে, তারা নিজেদের বিরোদ্ধে স্বীকার করে নিয়েছে যে তারা কাফের ছিল।" (সূরা আনআ'মঃ ১৩০)
মাসআলা-১৯৩ঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন কারীদের নিকট জওয়াব তলবঃ
وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ ، حَتَّى إِذَا جَاؤُوا قَالَ أَكَذَّبْتُم بِآيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ، وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ ) (سورة النمل : ٨٣-٨٥)
অর্থঃ" যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে, সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত, অতপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে, যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ বলবেন তোমরাকি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলছিলে, অথচ এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পূর্ণ জ্ঞান ছিলনা, না তোমরা অন্য কিছু করে ছিলে।” (সূরা নামলঃ ৮৩-৮৫)
মাসআলা-১৯৫ঃ মুশরেকদের নিকট জওয়াব তলবঃ
وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ، قَالَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَغْوَيْنَا أَغْوَيْنَاهُمْ كَمَا غَوَيْنَا تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ، وَقِيلَ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا يَهْتَدُونَ ، وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ، فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنْبَاءِ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ (سورة القصص: ٦٢-٦٦)
অর্থঃ "যেদিন আল্লাহ্ তাদেরকে আওয়াজ দিয়ে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরিক দাবী করতে তারা কোথায়? যাদের জন্য শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়েছে তারা বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! এদেরকেই আমরা পথভ্রষ্ট করে ছিলাম। আমরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ছিলাম, যেমন আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে ছিলাম। আমরা আপনার সামনে দায় মুক্ত হচ্ছি, তারা কেবল আমাদেরই ইবাদত করত না, বলা হবে তোমরা তোমাদের শরীকদের আহবান কর, তখন তারা ডাকবে অতপর তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা আযাব দেখবে হায়! তারা যদি সৎ পথ প্রাপ্ত হত, যেদিন আল্লাহ্ তাদেরকে ডেকে বলবেনঃ তোমরা রাসূলগণকে কি জওয়াব দিয়ে ছিলে? অতপর তাদের কথা বার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।" (সূরা কাসাসঃ ৬২-৬৬)
মাসআলা-১৯৫ঃ কিয়ামত অস্বীকার কারীদের নিকট জওয়াব তলবঃ
عن ابي هريرة رضى الله عنه وعن أبي سعيد رضى الله عنه قالا : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتى بالعبد يوم القيامة فيقول له الم اجعل لك سمعا وبصرا ومالا وولدا وسخرت لك الانعام و الحرث وتركت تراس وتربع فكنت تظن انك ملاقي يومك هذا ؟ فيقول لا فيقول له اليوم انساك كما نسيتني (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে এবং আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমি কি তোমাকে কান, চোখ, সম্পদ, সন্তান, দিই নি? তোমার জন্য বাসস্থান, আবাদ জমিনের ব্যবস্থাপনা করিনি, তোমাকে নেতৃত্বের ব্যবস্থাপনাও করে দিয়ে ছিলাম, যাতে করে তুমি এক চর্তুথাংশ গ্রহণ করতে পার (জাহিলিয়্যাতের যুগে গোত্রীয়শাসকরা শাসিতদের কাছ থেকে এক চর্তুথাংশ পরিমাণে চাঁদা নিত)। এর পরও কি আজকের দিনে এসাক্ষাতের কথা তোমার মনে ছিল? সে বলবে না, তখন আল্লাহ্ তাকে বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে ঐ ভাবে ভুলে গেছি যেমন তুমি আমাকে ভুলে গিয়ে ছিলা।” (তিরমিযী)¹¹²
মাসআলা-১৯৬ঃ মুনাফেকদের নিকট জওয়াব তলবঃ
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيلقى العبد ربه فيقول ای فلان الم اكرمك واسودك وازوجك واسخر لك الخيل والابل وادرك ترأس وتربع ؟ بكتابك وبرسلك وصليت وصمت وتصدقت ويثنى بخير ما استطاع فيقول هاهنا اذا ثم يقول الآن نبعث شاهدا عليك فيتفكر فى نفسه من ذا الذي يشهد على ؟ فيختم على فيه ويقال لفخذه انطقى فينطق فخذه ولحمه وعظامه بعمله وذلك ليعذر من نفسه وذالك المنافق الذى يسخط الله عليه (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের সাথে সাক্ষাত করবেন, তখন জিজ্ঞেস করবেন হে অমুক আমি কি তোমাকে দুনিয়াতে সম্মান দেইনি? তোমাকে নেতৃত্ব দেইনি? তোমাকে স্ত্রী দেইনি? আমি কি তোমার জন্য উট ও ঘোড়ার ব্যবস্থা করিনি? আমি কি তোমাকে তোমার স্বজাতির শাসন ক্ষমতা দেইনি? যা থেকে তুমি এক চতুর্থাংশ পেতে? বন্দা বলবেঃ কেন নয় হে আমার প্রভূ! তুমি আমাকে সব কিছুই দিয়ে ছিলে। আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমার সাথে সাক্ষাতের কথা বিশ্বাস করতে? বান্দা বলবেঃ হাঁ হে আমার প্রভু, আমি তোমার প্রতি তোমার কিতাব সমূহের প্রতি তোমার রাসূলগণের প্রতি, বিশ্বাস রাখতাম। আমি নামায আদায় করেছি, রোযা রেখেছি, দান করেছি, ঐ ব্যক্তি যত দূর সম্ভব নিজের প্রশংসা করবে, নিজের ব্যাপারে ভাল ভাল কথা বলবে, আল্লাহ্ বলবেনঃ আচ্ছা একটু থাম আমি তোমার বিপক্ষে সাক্ষীর ব্যবস্থা করছি, বান্দা মনে মনে চিন্তা করবে যে, আমার বিপক্ষে কে সাক্ষী দিবে? আল্লাহ্ বান্দার মুখে তালা লাগিয়ে দিবেন, আর তার রানকে নির্দেশ দিবেন, সে তখন সাক্ষী দিতে থাকবে, তার রান, তার মাংস, তার হাড্ডি, বান্দার আমলের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ এসমস্ত সাক্ষী এজন্য ব্যবস্থা করবেন, যাতে করে বান্দার ওযর পেশ করার মত আর কোন রাস্তা না থাকে। এই মুনাফেক হবে যার ওপর আল্লাহ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট থাকবেন।” (মুসলিম)¹¹³
মাসআলা-১৯৭৪ পাপিষ্ঠরা আল্লাহর আদালতে অপমান ও লাঞ্ছনার কারণে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকবেঃ
﴿ وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُو رُءُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۖ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ ﴾ (سورة السجدة : ١٢)
অর্থঃ "যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবেঃ হে আমাদের পালন কর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন আমরা সৎকর্ম করব, আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে গেছি।” (সূরা সাজদাঃ ১২)
মাসআলা-১৯৮৪ কাফের মুশরেকরা তাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আল্লাহ্ আদালতে মিথ্যা কসম করবেঃ
﴿ يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ جَمِيعًا فَيَحْلِفُونَ لَهُ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ ۚ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُونَ) (سورة المجادلة : ١٨)
অর্থঃ “যেদিন আল্লাহ্ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতপর তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে যেমন তোমাদের সামনে শপথ করে, তারা মনে করবে যে, তারা কিছু সৎ পথে আছে। সাবধান তারাইতো আসল মিথ্যাবাদী।" (সূরা মুযাদালাহঃ ১৮)
মাসআলা-১৯৯ঃ আল্লাহর আদালতে কারো ওপর বিন্দু পরিমাণেও যুলুম করা হবে নাঃ
﴿قَالَ قَرِينُهُ رَبَّنَا مَا أَطْغَيْتُهُ وَلَكِن كَانَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ ، قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُم بِالْوَعِيدِ ، مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ﴾ (سورة ق : ٢٧-٢٩)
অর্থঃ "তার সঙ্গী শয়তান বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি, বস্তুত সে নিজেই ছিল সুদূর পথ ভ্রাষ্টতায় লিপ্ত। আল্লাহ্ বলবেনঃ আমার সামনে বাক বিতন্ডা কর না, আমিতো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করে ছিলাম। আমার নিকট কথা রদবদল হয়না এবং আমি বান্দাদের প্রতি যুলুম করি না।" (সূরা ক্বাফঃ ২৭-২৯)
মাসআলা-২০০ঃ ঈমানদারদেরকে আল্লাহর আদালতে সম্মান ও মর্যাদার সাথে মেহমানের ন্যায় উপস্থিত করা হবেঃ
﴿يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَقْدًا﴾ (سورة مريم : ٨٥)
অর্থঃ "সেদিন দয়াময়ের নিকট মোত্তাকীদেরকে অতিথি রূপে সমবেত করব।” (সূরা মারইয়ামঃ ৮৫)
মাসআলা-২০১ঃ কিয়ামতের দিন আমল নামা পেশ এবং অপরাধীদের ওপর আল্লাহর কঠিন ফায়সালাঃ
﴿وَقَالَ قَرِينُهُ هَذَا مَا لَدَيَّ عَتِيدٌ، أَلْقِيَا فِي جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيدٍ، مَّنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ مُّرِيبٍ، الَّذِي جَعَلَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ فَأَلْقِيَاهُ فِي الْعَذَابِ الشَّدِيدِ﴾ (سورة ق : ٢٣-٢٦)
অর্থঃ "তার সঙ্গী ফেরেস্তারা বলবেঃ আমার নিকট যে আমল নামা ছিল তা এই, (বলা হবে) তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরোদ্ধ বাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গল জনক কাজে সীমালঙ্ঘনকারী ও সন্দেহ পোষণকারীকে, যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।" (সূরা ক্বাফঃ ২৩-২৬)
নোটঃ সঙ্গী ফেরেস্তা বলতে বোঝানো হয়েছে যারা পৃথিবীতে মানুষের সাথে থেকে তাদের আমল নামা প্রস্তুত করত।
মাসআলা-২০২ঃ আল্লাহ্র আদালতের ফায়সালার ওপর পুর্নবিবেচনার সুযোগ নেইঃ
﴿وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ﴾ (سورة الرعد: ٤١)
অর্থঃ "আল্লাহ্ নির্দেশ দেন তাঁর নির্দেশ পশ্চাতে নিক্ষেপ করার কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন"। (সূরা রা'দ-৪১)
﴿لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ﴾ (سورة الأنبياء : ٢٣)
অর্থঃ"তিনি যা করেন তৎসম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে"। (সূরা আম্বীয়াঃ ২৩)
(وَاللَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاء وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاء وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ) (سورة آل عمران: ۱۲۹)
অর্থঃ "আর যা কিছু আকাশ ও যমিনে রয়েছে তা সবই আল্লাহ্, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা তাকে আযাব দেন, আর আল্লাহ্ হচ্ছেন ক্ষমা কারী করুনাময়।" (সূরা আল ইমরানঃ ১২৯)
টিকাঃ
।।। - কিতাবুল ইমারাত, বাব ফযিলাতুল ইমামুল আদেল。
112-আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মিনহু (২/১৯৭৮)
113 - কিতাবুয্যুহদ ওয়াররিকাক。
📄 হাউজ কাওসার
মাসআলা-২০৩ঃ হাশরের মাঠে প্রত্যেক নবীকে একটি করে হাউজ দেয়া হবে যেখানে তাদের উম্মতরা এসে পানি পান করবেঃ
عن سمرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لكل نبي حوضا وانهم يتباهون ايهم اكثر وارده وانى ارجوا ان اكون اكثرهم واردة (رواه الترمذي)
অর্থঃ "সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য হাউজ থাকবে, আর সমস্ত নবীগণ পরস্পরে গৌরব করবে যে, কার হাউজে সর্বাধিক লোক আসে, আমি আশা করছি যে তাদের মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক লোক আসবে।” (তিরমিযী)¹¹⁴
মাসআলা-২০৪ঃ হাউজ কাউসারের পানি সর্ব প্রথম দয়ার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পান করবেনঃ
عن عتبة بن عبد السلمى رضى الله عنه قال قام اعرابى الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ما حوضك الذي تحدث عنه فقال هو كما بين الصنعاء الى بصرى ثم يمدنى الله فيه بكراع لا يدرى بشر ممن خلق اى طرفيه قال فكبر عمر رضوان الله عليه فقال اما الحوض فيزدحم عليه فقراء المهاجرين الذين يقتلون في سبيل الله ويموتون فى سبيل الله وارجو ان يوردني الله الكراع فاشرب منه رواه ابن حبان
অর্থঃ “উতবা বিন আবদুস্সলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দাঁড়িয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, যে হাউজের কথা আপনি বলছেন তা কি? তিনি বললেনঃ তা সানআ' থেকে বাসরার দূরত্বের ন্যায়, ঐ হাউজ থেকে একটি নালা আমার নিকট পর্যন্ত প্রবাহিত হবে, কোন মানুষ জানবে না যে ঐ নালাটি হাউজের কোন দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। একথা শুনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নারে তাকবীর বলল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাউজের পাশে গরীব মোহাজিরদের ভিড় হবে, যারা আল্লাহ্র পথে শহিদ হয়েছে, আর আমি আশা করছি যে, আল্লাহ্ ঐ নালাটি আমার নিকট পর্যন্ত প্রবাহিত করবেন, আর আমিই সর্ব প্রথম তা থেকে পানি পান করব।" (ইবনু হিব্বান)¹¹⁵
মাসআলা-২০৫ঃ গরীব মোহাজীরদের দল সর্ব প্রথম হাউজ কাওসার থেকে পানি পান কারী হবেঃ
عن ثوبان رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان اول الناس ورودا عليه فقراء المهاجرين الشعث رءوسا الدنس ثيابا الذين لا ينكحون المتنعمات ولا يفتح لهم السدد (رواه الترمذي)
অর্থঃ "সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমার হাউজে পানি পান করার জন্য সর্ব প্রথম আসবে গরীব মোহাজীর দের দল, যারা এল কেশী হবে, ময়লা পোশাক পরিহিত, যারা সুখে শান্তিতে লালিত পালিত নারীদেরকে বিয়ে করার সমর্থ রাখত না, যাদের জন্য আমীর ওমারাদের দরজা বন্ধ থাকত।” (তিরমিযী)¹¹⁶
মাসআলা-২০৬ঃ মদীনার আনসারদেরকে তিনি তাঁর হাউজে সাক্ষাতের ওয়াদা দিয়েছেনঃ
عن انس رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الانصار موعدكم حوضى (رواه البزار)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ হে আনসাররা তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাত হবে আমার হাউজে।” (বায্যার)¹¹⁷
মাসআলা-২০৭ঃ হাউজ কাউসারের পানি মেশক আম্বরের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময় মধুর চেয়ে মিষ্টি বরফের চেয়ে অধিক ঠান্ডা এবং দুধের চেয়ে অধিক সাদা হবেঃ
মাসআলা-২০৮ঃ যে ব্যক্তি এক বার হাউজ কাওসার থেকে পানি পান করবে তার কখনো পানির পিপাসা লাগবে না আর যে ঐ পানি পান করে নাই সে কখনো তৃপ্ত হবে নাঃ
عن انس رضی الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حوضى من كذا الى كذا فيه الانية عدد النجوم اطيب ريحها من المسك واحلى من العسل وابرد من الثلج، وابيض من اللبن من شرب منه شربة لم يظمأ ابدا ومن لم يشرب منه لم يرو ابدا ( رواه البزار والطبراني)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার হাউজের আয়তন হবে ওমুক স্থান থেকে ওমুক স্থান পর্যন্ত, তাতে নক্ষত্রসম পাত্র থাকবে, তার সুগন্ধি মেশক আম্বরের চেয়েও অধিক হবে, মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে, বরফের চেয়েও ঠান্ডা হবে, দুধের চেয়েও সাদা হবে, যে ওখান থেকে এক বার পানি পান করবে, সে আর কখনো পিপাসিত হবে না, যে ওখান থেকে পানি পান না করবে সে কখনো তৃপ্ত হবে না।" (বায্যার ও ত্বাবারানী)¹¹⁸
মাসআলা-২০৯ঃ যে ব্যক্তি হাউজ কাওসারের পানি পান করবে তার কখনো কোন চিন্তা বা ভয় থাকবে নাঃ
عن ابى امامة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من شرب شربة لم يظمأ بعدها ابدا لم يسود وجهه ابدا (رواه ابن حبان
অর্থঃ "আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওখান থেকে এক বার পানি পান করবে সে কখনো পিপাসিত হবে না এবং তার চেহারা কখনো কাল হবে না"। (ইবনু হিব্বান)¹¹⁹
মাসআলা-২১০ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাউজ কাওসারে সোনা ও চাঁদির পান পাত্র থাকবে যার সংখ্যা হবে আকাশের তারকাসমঃ
عن انس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ترى فيه اباريق الذهب والفضة كعدد تجوم السماء (رواه مسلم)
অর্থঃ "আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হাউজ কাওসারে তুমি সোনা ও চাঁদির পান পাত্র দেখতে পাবে, যার পরিমাণ হবে আকাশের তারকা সম।" (মুসলিম)¹²⁰
মাসআলা-২১১ঃ হাউজ কাউসারের আয়তন হবে মদীনা ও আম্মান (জর্ডানের) দূরত্বের সমানঃ
মাসআলা-২১২ঃ হাউজ কাউসারের পানি জান্নাত থেকে দু'টি নালার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে আসবে তার একটি নালা হবে সোনার অপরটি চাঁদিরঃ
عن ثوبان ان النبي صلى الله عليه وسلم قال انى لبعقر حوضى اذودو الناس لاهل اليمن اضرب بعصاي حتى يرفض عليهم فسئل عن عرضه فقال من مقامى الى عمان وسئل عن شرابه فقال اشد بياضا من اللبن واحلى من العسل يغث فيه ميزان يمدانه من الجنة احدهما من ذهب والآخر من ورق (رواه مسلم)
অর্থঃ "সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ হাউজ কাওসারের পাশে আমি ইয়ামেন বাসীদের সম্মানে অন্যদেরকে আমার লাঠি দিয়ে দূরে সরিয়ে দিব। তখন হাউজের পানি ইয়ামেন বাসীদের প্রতি প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তারা তৃপ্তি সহকারে খাবে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল হাউজের প্রশস্ততা কেমন হবে, তিনি বললেনঃ মদীনা থেকে আম্মান পর্যন্ত, এর পর হাউজের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, তা কেমন হবে? তিনি বললেনঃতা দুধের চেয়ে সাদা হবে, মধুর চেয়ে মিষ্টি হবে, এর পর তিনি বললেনঃ আমার হাউজে জান্নাত থেকে দু'টি নালার মাধ্যমে পানি আসতে থাকবে, তার মধ্যে একটি নালা হবে সোনার অপরটি চাঁদির।” (মুসলিম)¹²¹
মাসআলা-২১৩ঃ কাফের পানি পান করার জন্য হাউজ কাওসারের নিকট আসতে চাইবে কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ওখান থেকে দূরে সরিয়ে দিবেনঃ
عن حذيفة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده انى لا ذودو عنه الرجال كما يزود الرجل الابل الغريبة حوضا قيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اتعرفنا ؟ قال نعم تردون على غرا محجلين من آثر الوضوء ليست لاحد غيركم ( رواه ابن ماجة)
অর্থঃ "হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঐ সত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! আমি হাউজ থেকে অমুসলিমদেরকে এমনভাবে দূরে সরিয়ে দিব, যেমন উটের মালিক তার আস্তানা থেকে অন্য মালিকদের উটকে দূরে সরিয়ে দেয়। জিজ্ঞেস করা হল হে আল্লাহ্র রাসূল আপনিকি সেদিন আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমরা যখন আমার নিকট আসবে তখন অজুর কারণে তোমাদের হাত, পা, কপাল চমকাতে থাকবে, এগুণ তোমরা ব্যতীত অন্য কোন উম্মতের মধ্যে থাকবে না।” (ইবনু মাযা)¹²²
মাসআলা-২১৪ঃ মোরতাদরাও হাউজ কাউসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত থাকবেঃ
عن أبي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا قائم على الحوض اذا زمرة حتى اذا عرفتهم خرج رجل من بينى وبينهم فقال هلم فقلت اين؟ قال الى النار والله قلت وما شأنهم قال انهم ارتدوا على أدبارهم القهقرى ثم اذا زمرة اخرى حتى اذا عرفتهم خرج رجل من بيني وبينهم فقال هلم قلت اين ? قال الى النار والله قلت ما شأنهم قال انهم ارتدوا على أدبارهم القهقرى فلا اراه يخلص منهم الا مثل همل النعم (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি হাউজ কাউসারের নিকট দাঁড়িয়ে থাকব, লোকদের একটি দল আমার সামনে আসবে, আমি তাদেরকে চিনতে পারব যে, তারা আমার উম্মত, ইতি মধ্যে আমার মাঝে ও তাদের মাঝে একজন লোক আসবে (সে হবে আল্লাহর প্রেরিত ফেরেস্তা) সে ঐ দলকে লক্ষ্য করে বলবেঃ এদিকে আস, আমি জিজ্ঞেস করব তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? সে বলবেঃ জাহান্নামে, আল্লাহ্র কসম! তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। আমি জিজ্ঞেস করব তাদের অন্যায় কি? সে বলবেঃআপনার পর তারা পিছনে ফিরে গিয়ে ছিল (ইসলাম ত্যাগ করে ছিল)। এরপর আরেকটি দল আমার সামনে আসবে আমি তাদেরকেও চিনতে পারব, যে তারা আমার উম্মত, ইতিমধ্যে আমার ও তাদের মাঝে এক জন ব্যক্তি আসবে, সে তাদেরকে বলবেঃ এদিকে আস? আমি জিজ্ঞেস করব তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে? সে বলবেঃ জাহান্নামের দিকে, আল্লাহর কসম! তাদেরকে জাহান্নামের দিকেই নিয়ে যাচ্ছি। আমি জিজ্ঞেস করব তাদের অন্যায় কি? সে বলবেঃতারা আপনার (মৃত্যুর) পর পিছনে ফিরে গিয়ে ছিল (ইসলাম ত্যাগ করে ছিল) আমি মনে করি লা ওয়ারিশ ওটের ন্যায় তাদের কেউ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে না।" (বোখারী)¹²³
মাসআলা-২১৫ঃ বিদআ'তীরাও হাউজ কাওসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হবেঃ
عن عبد الله رضى الله عن النبى صلى الله عليه وسلم قال انا فرطكم على الحوض وليرفعن رجال منكم ثم ليختلجن دوني فاقول يا رب اصحابي فيقال انك لا تدرى ما احدثوا بعدك (روا البخاري)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমি তোমাদের আগে হাউজের নিকট পৌঁছে যাব, তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক আমার সামনে আসবে, অতপর তাদেরকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে, আমি বলব হে আমার প্রভূ! এরাতো আমার উম্মত উত্তরে বলা হবে তুমি জাননা তারা তোমার পর কি কি বিদআ'ত আবিষ্কার করে ছিল।" (বোখারী)¹²⁴
মাসআলা-২১৬ঃ মিথ্যুক ও জালেম শাসকদেরকে সহযোগীতা কারীরাও হাউজ কাউসারের পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হবেঃ
عن عبد الله بن خباب عن ابيه رضى الله عنه قال كنا قعودا على باب النبي صلى الله عليه وسلم فخرج عليها فقال اسمعوا قلنا قد سمعنا قال اسمعوا قلنا قد سمعنا قال انه سيكون بعدي امراء فلا تصدقوهم بكذبهم ولا تعينوهم على ظلمهم فان من صدقهم بكذبهم واعانهم على ظلمهم لم يرد على الحوض ( رواه الطبراني وان حبان)
অর্থঃ আবদুল্লাহ্ বিন খাব্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দরজার সামনে বসা ছিলাম, তিনি আসলেন এবং বললেনঃ শোন, আমরা বললামঃ আমরা শোনর জন্য পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত আছি, তিনি আবার বললেনঃ শোনঃ আমরা বললামঃ আমরা শোনার জন্য পরিপূর্ণভাবে প্রস্ত আছি, এর পর তিনি বললেনঃ আমার পরে যে সমস্ত শাসক আসবে তাদের মিথ্যাকে গ্রহণ করবে না, আর তাদের যুলুমে তাদেরকে সহযোগীতা করবে না। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে গ্রহণ করবে এবং তাদের যুলুমের ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগীতা করবে, সে হাউজের নিকট আসতে পারবে না। (ত্বাবারানী, ইবনু হিব্বান)¹²⁵
টিকাঃ
114 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়াম, বাব মাযায়া ফিসিফাতিল হাউজ (২/১৯৮৮)
115 মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫৩০১)
116 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়াম, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল হাউজ (২/১৯৮৯)
117-কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাউজুন্নাবীয়িনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
118 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫২৫৮)
119- মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫২৪৫)
120-কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাউজি নাবিয়িনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
121 - কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাউজি নাবিয়িনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
122 - কিতাবুযুহদ, বাব যিকরুল হাউজ (২/৩৪৭১)
123 -কিতাবুর রিকাক, বাব ফির হাউজ。
124 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়াফি সিফাতিল হাউজ। (২/১৯৮৮)
125- মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৩৩১৫)