📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠে ঈমানদারের অবস্থা

📄 হাশরের মাঠে ঈমানদারের অবস্থা


মাসআলা-১৬০ঃ সমস্ত নবীগণ হাশরের মাঠে নূরের মীম্বরে আসীন থাকবেন আর মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মিম্বর সবচেয়ে উঁচু হবে এবং অধিক আলোক উজ্জল হবেঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لكل نبي يوم القيامة منبرا من نور وانى لعلى اطولها و انورها رواه ابن حبان
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক নবীর জন্য নূরের মিম্বর থাকবে, আর আমি তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সর্বাধিক আলোকিত মিম্বরে থাকব।” (ইবনু হিব্বান)⁹⁹

মাসআলা-১৬১৪ হাশরের মাঠে সমস্ত নবীদের পতাকা থাকবে আর সবচেয়ে বড় ও উঁচু পতাকা হবে মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য অন্যান্য নবীগণও তাঁর পতাকা তলে থাকবেঃ

عن ابي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انا سيد ولد ادام يوم القيامة ولا فخر وبيدى لواء الحمد ولا فخر وما من نبى يومئذ آدم فمن سواه الا تحت لوائي وانا اول من تنشق عنه الارض ولا فخر (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমি হব সর্বশ্রেষ্ট আদম সন্তান, তবে এতে গৌরবের কিছু নেই, আমার হাতে প্রশংসিত পতাকা থাকবে, এতেও গৌরবের কিছু নেই, ঐ দিন আদম (আঃ) থেকে নিয়ে আমার পূর্ব পর্যন্ত এমন কোন নবী হবে না, যে আমার পতাকা তলে থাকবে না, আর সর্ব প্রথম আমার কবরই উন্মুক্ত করা হবে, এটাও গৌরবের কিছু নয়।” (তিরমিযী)¹⁰⁰

মাসআলা-১৬২ঃ ঈমানদারগণ হাশরের মাঠে সর্বপ্রকার দুশ্চিন্তা, লাঞ্ছনা ও অপমান মুক্ত থাকবেঃ

﴿ لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ ﴾ (সূরা আল-আম্বিয়াঃ ১০৩)
অর্থঃ "মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেস্তারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে, আজ তোমাদের দিন যেদিনের ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।" (সূরা আম্বীয়াঃ ১০৩)

﴿ مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ ﴾ (সূরা আন-নমল: ৮৯)
অর্থঃ "যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে সেদিন উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে।" (সূরা নামলঃ ৮৯)

মাসআলা-১৬৩ঃ ঈমানদারগণকে অধিক আনন্দিত করার জন্য হাশরের মাঠে তাদেরকে জান্নাত দেখানো হবেঃ

﴿ وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ ﴾ (সূরা আশ-শু'আরা: ৯০)
অর্থঃ "জান্নাত মোত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে।" (সূরা শুআরাঃ ৯০)

মাসআলা-১৬৪ঃ হাশরের মাঠে ঈমানদারগণের চেহারা তরতাজা ও আলোকউজ্জ্বল এবং হাসি খুশি থাকবেঃ

﴿ وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ ، ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ ﴾ (সূরা আবাস: ৩৮-৩৯)
অর্থঃ "অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জল, সহাস্য ও প্রফুল্ল হবে।" (সূরা আবাসাঃ ৩৮-৩৯)

মাসআলা-১৬৫ঃ হাশরের মাঠের পঞ্চাশ হাজার বছরের দীর্ঘ সময় ঈমানদারদের নিকট এক ঘন্টার ন্যায় মনে হবেঃ

عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قالوا فاين المؤمنون يومئذ ؟ قال توضع لهم كراسي من نور ويظلل عليهم الغمام يكون ذلك اليوم اقصر على المؤمنون من ساعة من نهار (رواه الطبراني وابن حبان)
অর্থঃ "সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের দিন মোমেন ব্যক্তিরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ তাদের জন্য নূরের চেয়ার রাখা হবে, বাদল তাদেরকে ছায় দিয়ে থাকবে, ঈমানদারদের জন্য হাশরের মাঠের লম্বা দিন এক ঘন্টার মত মনে হবে।” (তাবারানী ও ইবনু হিব্বান)
মাসআলা-১৬৬ঃ হাশরের দিনটি ঈমানদারদের জন্য সূর্য ঢলার পর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের সমান হবেঃ
নোটঃ এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১২০নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-১৬৭ঃ হাশরের মাঠের লম্বা দিনটি ঈমানদারদের জন্য জোহর থেকে আসরের মধ্যবর্তী সময়ের সমান হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم القيامة على المؤمنين كقدر ما بين الظهر والعصر (رواه الحاكم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মোমেনদের জন্য কিয়ামতের দিন, জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ের মত মনে হবে।” (হাকেম)¹⁰¹
নোটঃ ঈমানদারদের প্রতি হাশরের দিনের দৈর্ঘ তাদের নিজ নিজ আমল অনুযায়ী পার্থক্য হবে"।

মাসআলা-১৬৮ঃ হাশরের মাঠের কষ্ট ঈমানদারদের জন্য শর্দি লাগার ন্যায় হবেঃ
নোটঃ এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৬৯নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-১৬৯ঃ এক সুভাগ্যবান নারীর হাশরের মাঠে পর্দায় আবরিত থাকার কামনা এবং তার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুয়াঃ

عن الحسن بن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يحشر الناس يوم القيامة حفاة عراة فقالت امرأة يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فكيف يرى بعضنا بعضا ؟ فقال ان الابصار شاخصة فرفع بصره الى السماء فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ادع الله ان يستر عورتي قال الهم استر عورتها (رواه الطبراني)
অর্থঃ "হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে খালী পা, ও উলংগ শরীরে উঠানো হবে। এক মহিলা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন আমাদের এক জন অপর জনের প্রতি কিভাবে তাকাবে? তিনি বললেনঃ সেদিন চোখ ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে। (কারো দিকে তাকানোর মত ফুরসত থাকবে না) ঐ মহিলা তার দৃষ্টি আকাশের দিকে ফিরিয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লা! আল্লাহ্র নিকট আমার জন্য দোয়া করুন, তিনি যেন সেদিন আমাকে পর্দায় রাখেন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্ তুমি তাকে পর্দায় রাখ।" (তাবারানী)¹⁰²

টিকাঃ
99 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স ফাসলু ফি শাফায়া (৪/৫৩২৮)
100 -আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন আল কারীম, বাব ওয়া মিন সূরা বানী ইসরাঈল (৩/২৫১৬)।
101 -আলবানী লিখিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, খঃ৫, হাদীস নং-২৪৫৫。
102 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫২৪৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00