📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 পরকালে লাঞ্ছিত হওয়ার আমলসমূহ

📄 পরকালে লাঞ্ছিত হওয়ার আমলসমূহ


মাসআলা-১৩৬ঃ সোনা ও রূপার যাকাত আদায় না কারীদেরকে হাশরের মাঠে সোনা ও রূপার গরম পাত দিয়ে দাগ দেয়া হবেঃ

মাসআলা-১৩৭ঃ উট গরু মহিষ বকরী ও ভেড়ার যাকাত আদায় না কারীদেরকে এ সমস্ত প্রাণীরা পঞ্চাশ হাজার বছর পর্যন্ত হাশরের মাঠে পদদলিত করতে থাকবেঃ

মাসআলা-১৩৮ঃ হাশরের মাঠের অবস্থান পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবেঃ

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من صاحب ذهب ولا فضة لا يؤدى منها حقها الا اذا كان يوم القيامة صفحت له صفاح من نار فاحمى عليها في نار جهنم فيكوى بها جنبه وجبينه وظهره كلما ردت اعيدت له فى يوم كان مقداره خمسين الف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله اما الى الجنة واما الى النار قيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فالابل قال ولا صاحب ابل لا يؤدى منها حقها ومن حقها حلبها يوم وردها الا اذا كان يوم القيامة بطح لها بقاع قرقر اوفر ما كانت لا يفقد منها فصيلا واحدا تطؤه باخفافها وتعضه بافواهها كلما مر عليه أولاها رد عليه اخراها فى يوم كان مقداره خمسين الف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله اما الى الجنة واما الى النار قيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فالبقر والغنم قال ولا صاحب بقر ولا غنم لا يؤدى منها حقها الا اذا كان يوم القيامة بطح لها بقاع قرقر لا يفقد منها شيئا ليس فيها عقصاء ولا جلحاء ولا غضباء تنطحه بقرونها وتطؤه باظلافها كلما مر عليه اولادها رد عليه اخراها فى يوم كان مقداره خمسين الف سنة حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله اما الى الجنة واما الى النار (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সোনা ও চাঁদির মালিক কিন্তু তার হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন ঐ সোনা ও চাঁদির পাত তৈরী করা হবে, এর পর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে, এর পর তা দিয়ে তার ললাট, পার্শ্বদেশ, ও পিঠে দাগ দেয়া হবে, যখনই তা ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখন তা আবার গরম করার জন্য জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাকে আবার ঐ শাস্তি দেয়া হবে, (আর তা করা হবে এমন এক দিনে) যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। তার এ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে, এর পর তাদের কেউ পথ ধরবে জান্নাতের দিকে, আর কেউ জাহান্নামের দিকে। জিজ্ঞেস করা হল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ উটের মালিকের কি অবস্থা হবে? তিনি বললেনঃ যে উটের মালিক, তার উটের হক আদায় করবে না, আর উটের হক গুলোর মধ্যে পানি পানের দিন তার দুধ দোহন করে তা অন্যদেরকে দান করাও একটি, যখন কিয়ামতের দিন আসবে তখন তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটা তাজা হয়ে আসবে, এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে, এগুলো তাদের পা দিয়ে তাকে পদদলিত করতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে, এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে, তখন অপরটি অগ্রসর হবে, সারা দিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে, এদিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে, তাদের কেউ জান্নাতে আর কেউ জাহান্নামে যাবে।
এর পর জিজ্ঞেস করা হল ইয়া রাসূলাল্লাহ্! গরু ছাগলের মালিকদের কি অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেনঃ যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে, আর তার সেসব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে, এবং খুর দিয়ে পদদলিত করতে থাকবে, সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাঁকা বা ভাঙ্গা হবে না এবং তাকে পদদলিত করার ব্যাপারেও একটি বাদ থাকবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে তখন দ্বিতীয়টি এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারা দিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে, তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে"। (মুসলিম)⁷⁸

মাসআলা-১৩৯ঃ হাশরের মাঠে মুনাফেক ও বে-নামাযীদের লাঞ্ছনা ও অপমানের দৃশ্যঃ

يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ ، خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ) (سورة القلم : ٤٢ - ٤٣)
অর্থঃ "গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করার জন্য আহ্বান জানানো হবে, অতঃপর তারা তা করতে সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, তারা লাঞ্ছনা গ্রস্ত হবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তাদেরকে সেজদা করতে আহ্বান জানানো হত।" (সূরা কালামঃ ৪২-৪৩)।

عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث طويل فيكشف عن ساق فلا يبقى من كان يسجد اتقاء ورياء الا جعل الله ظهره طبقة واحدة كلما اراد ان يسجد خر على قفاه (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাঁর পায়ের গোছা খোলবেন, তখন যারা (দুনিয়াতে) একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে সেজদা করত তাদেরকে আল্লাহ্ সেজদা করার তাওফীক দিবেন, কিন্তু যারা নিজেদেরকে রক্ষা বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সেজদা করত, তাদের পিঠকে আল্লাহ্ কাঠ করে দিবেন, তখন তারা সেজদা করতে চাইলে পড়ে যাবে।” (মুসলিম)⁷⁹

মাসআলা-১৪০ঃ হত্যাকারী ও নিহত হাশরের মাঠে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে নিহতের শরীর থেকে রক্ত ঝড়তে থাকবে আর হত্যা কারীর মাথা ও কপাল নিহতের হাতে থাকবেঃ

عن ابن عباس رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يجئ المقتول بالقاتل يوم القيامة ناصيته ورأسه بيده واوداجه تشخب دما يقول يارب قتلنى هذا حتى يدنيه من العرش (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে এমনভাবে নিয়ে আসবে যে, হত্যাকারীর কপাল ও মাথা তার হাতে থাকবে, আর তার রগ সমূহ দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকবে এবং বলতে থাকবে, হে আমার প্রভূ সে আমাকে হত্যা করে ছিল, এ কথা বলতে বলতে সে হত্যাকারীকে আরশের নিকটবর্তীস্থানে নিয়ে আসবে।” (তিরমিযী)⁴⁰

মাসআলা-১৪১৪ কারো যমিন বা বাড়ি যবর দখল কারী কিয়ামতের দিন সাত তবক যমিন কাঁধে ঝুলন্ত অবস্থায় হাশরের মাঠে উপস্থিত হবেঃ

عن ابي سعيد بن زيد رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من ظلم من الارض شيئا طوقه من سبع ارضين (رواه البخاری)
অর্থঃ "সাঈদ বিন যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জোরপূর্বক করো যমিন ছিনিয়ে নিব, কিয়ামতের দিন তার কাঁধে সাত তবক যমিন ঝুলিয়ে দেয়া হবে।" (বোখারী)⁸¹

মাসআলা-১৪২ঃ সুদখোর কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে এমনভাবে উপস্থিত হবে যেন তাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়ঃ

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ) ( سورة البقرة: ٢٧٥)
অর্থঃ "যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতে দন্ডয়মান হবে যেভাবে দন্ডয়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়।" (সূরা বাকারাঃ ২৭৫)

মাসআলা-১৪৩ঃ অহংকার কারীরা হাশরের মাঠে পিপীলিকার ন্যায় হয়ে উপস্থিত হবেঃ

عن عمرو بن شعيب رضى الله عنه عن ابيه عن جده عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يحشر المتكبرون يوم القيامة امثال الذر فى صور الرجال يغشاهم الذل من كل مكان يساقون الى سجن في جهنم يسمى بولس تعلوهم نار الانيار يسقون من عصارة اهل النار طينة الخبال (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আমর বিন শুআইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন অহংকার কারীদেরকে পিপীলিকার ন্যায় মানব আকৃতিতে একত্রিত করবেন, সর্বপ্রকার লাঞ্ছনা ও অপমানে তারা পতিত হবে, তাদেরকে জাহান্নামের বন্দীশলায় আনা হবে যার নাম হবে 'বুলিশ' সেখানে উত্তপ্ত আগুন তাদেরকে ঘিরে রাখবে, আর তাদেরকে জাহান্নামীদের রক্ত ও পুঁজ খাওয়ানো হবে। এখাবারকে 'তীনাতুল খাবাল' বলা হয়।" (তিরমিযী)⁸²

মাসআলা-১৪৪ঃ নেতাদেরকে হাশরের মাঠে তাদের হাত গর্দানের সাথে বাঁধা অবস্থায় নিয়ে আসা হবেঃ

عن ابي امامة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال ما من رجل يلى امر عشرة فما فوق ذالك الا اتاه الله عز وجل مغلولا يوم القيامة يده الى عنقه فکه بره او اوبقه ائمه (رواه احمد)
অর্থঃ "আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দশ বা তার অধিক লোকের দায়িত্বশীল ছিল, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র নিকট উপস্থিত হবে গর্দানে তার হাত বাঁধা অবস্থায়, শেষে হয় তার নেক আমল এ অবস্থা থেকে মুক্ত করবে, অন্যথায় তার পাপ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।" (আহমদ)⁸³

মাসআলা-১৪৫ঃ ওয়াদা ভঙ্গকারী তার পিঠে ওয়াদা ভঙ্গের পতাকা বহন করে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবেঃ

عن ابي سعيد رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لكل غادر لواء عند استه يوم القيامة (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর সাথে একটি করে পতাকা থাকবে।” (মুসলিম)⁸⁴

মাসআলা-১৪৬ঃ একাধিক স্ত্রীর সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতে না পারা ব্যক্তি হাশরের মাঠে অর্ধাঙ্গ রোগে আক্রান্ত অবস্থায় উপস্থিত হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من كانت له امراتان فمال الى احداهما جاء يوم القيامة وشقه مائل (رواه ابوداود)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ যার দুজন স্ত্রী ছিল, আর সে তাদের কোন এক জনের প্রতি বেশি সম্পর্ক রাখত (উভয়ের মাঝে ইনসাফ করে নাই) কিয়ামতের দিন সে তার অর্ধেক দেহ বিকল অবস্থায় উপস্থিত হবে।" (আবুদাউদ)⁸⁵

মাসআলা-১৪৭ঃ অপরের প্রতি যুলুম কারী হাশরের মাঠে অন্ধকারে থাকবেঃ

عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الظلم ظلمات يوم القيامة (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ যুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারে রূপ নিবে।" (বোখারী)⁸⁶

মাসআলা-১৪৮ঃ চোর হাশরের মাঠে চুরির মাল কাঁধে নিয়ে উপস্থিত হবেঃ
عن عبادة بن الصامت رضى الله عنه بعثه على الصدقة فقال يا أبا الوليد اتق الله لا تأتى يوم القيامة ببعير تحمله له رغاء او بقرة لها خوار او شاة لها ثغاء قال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ذالك كذالك قال اى والذي نفسي بيده قال فوالذي بعثك بالحق لا اعمل لك على شئ ابدا ( رواه الطبرانی)
অর্থঃ "উবাদা বিন সামেত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে যাকাত আদায়ের জন্য দায়িত্ব দিলেন এবং বললেনঃ হে আবু ওলীদ, (যাকাতের মাল সম্পর্কে) আল্লাহকে ভয় করবে, কিয়ামতের দিন এমন ভাবে আসবে না যে তুমি নিজের কাধে উট বহন করে নিয়ে আসবে, আর তা আওয়াজ করতে থাকবে, বা গরু বহন করে নিয়ে আসবে, আর তা হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে, বা বকরী কাঁধে উঠিয়ে নিয়ে আসবে, আর তা ম্যা ম্যা করতে থাকবে, আর আমাকে সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ করবে। ওবাদা বিন সামেত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাতের মালে হের ফের করার কারণে এ পরিণতি হবে? তিনি বললেনঃ হাঁ ঐ সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! এ অবস্থা হবে। ওবাদা বিন সামেত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললঃ ঐ সত্বার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন আমি কখনো যাকাত আদায়ের কাজ করব না।" (ত্বাবারানী)⁸⁷

মাসআলা-১৪৯ঃ পেশাদার ভিক্ষুক হাশরের ময়দানে এমন ভাবে উপস্থিত হবে যে তার চেহারায় কোন মাংস থাকবে নাঃ

عن حمزة بن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما انه سمع أباه يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يزال الرجل يسأل الناس حتى يأتى يوم القيامة وليس في وجهه مزعة لحم (رواه مسلم)
অর্থঃ "হামযা বিন আবদুল্লাহ্ বিন ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লোকেরা মানুষের নিকট হাত পাততে থাকবে এমনকি কিয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় কোন মাংস থাকবে না।” (মুসলিম)⁴⁴

মাসআলা-১৫০ঃ লোক দেখানো আমলকারীকে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি দেয়া হবেঃ

عن المستورد رضى الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من قام برجل مقام سمعة ورياء فان الله يقوم به مقام سمعة ورياء يوم القيامة (رواه ابوداود)
অর্থঃ “মোস্তাওরাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাউকে (স্বার্থ হাসিলের জন্য) লৌকিকতার পর্যায়ে তুলে দিল, কিয়ামতের দিন অবশ্যই আল্লাহ্ তাকে ও লৌকিকতার স্তরে উঠাবেন।” (আবুদাউদ)⁸⁹

মাসআলা-১৫১ঃ কাউকে ব্যভিচারের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দাতাকে হাশরের মাঠে মিথ্যা অপবাদরে শাস্তি দেয়া হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال أبول القاسم صلى الله عليه وسلم من قذف مملوكة بالزنا يقام عليه الحد يوم القيامة الا ان يكون كما قال (رواه مسلم)
অর্থঃ “আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার কর্মচারীকে ব্যভীচারের অপবাদ দিল, কিয়ামতের দিন তাকে ব্যভীচারের শাস্তি দেয়া হবে, তবে যদি সে যা বলেছে তা সত্য হয়, তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে না।” (মুসলিম)⁹⁰
নোটঃ মিথ্যা অপবাদের শাস্তি হল ৮০টি ব্যত্রাঘাত।

মাসআলা-১৫২ঃ নিন্মোক্ত পাপে লিপ্ত বক্তিদের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ কোন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিও দিবেন না:
(১) টাখনার নিচে কাপড় পরিধান কারী (২) অনুগ্রহ করে খোঁটা দাতা (৩) মিথ্যা কসম করে মাল বিক্রয় কারীঃ

عن ابي ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر اليهم ولا يزكيهم ولهم عذاب اليم المسبل والمنان والمنفق سلعته بالحلف الكاذب (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের সাথে আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন কোন কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পাপ থেকে মুক্তও করবেন না, এমনকি তাদের প্রতি দৃষ্টি পাতও করবেন না। (১) টাখনার নিচে কাপড় পরিধান কারী (২) অনুগ্রহ করে খোঁটা দাতা (৩) মিথ্যা কসম করে মাল বিক্রয়কারী।" (মুসলিম)।⁹¹

মাসআলা-১৫৩ঃ নিম্নোক্ত তিন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে এবং লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবেঃ
(১) বৃদ্ধ ব্যভীচারী (২) অধিনস্তদের সাথে মিথ্যাবাদী শাসক (৩) অহংকারী ফকীরঃ
عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا يزكيهم قال ابو معاوية ولا ينظر اليهم ولهم عذاب اليم شيخ زان وملك كذاب وعائل مستکبر (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তিন প্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, এমনকি তাদেরকে পাপ থেকে মুক্তও করবেন না। আবু মোয়াবিয়া বললঃ তাদের দিকে তাকাবেনও না আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (১) বৃদ্ধ ব্যভিচারী (২) মিথ্যুক শাসক (৩) অহংকারী ফকীর।” (মুসলিম)⁹²

মাসআলা-১৫৪৪ হাশরের মাঠে লাঞ্ছনা ও অপমান কারী দুটি আমল:
(১) কোন মুসাফিরকে এমন স্থানে পানি পান না করানো যেখানে অন্য পানি পাওয়া যাচ্ছে না (২) অর্থনৈতিক উন্নতির স্বার্থে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের সাথে থাকাঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر اليهم ولا يزكيهم ولهم عذاب اليم رجل على فضل ماء بالفلاة يمنعه من ابن السبيل ورجل بايع رجلا بسلعة بعد العصر فحلف له بالله لاخذها بكذا وكذا فصدقه وهو على غير ذلك ورجل بايع اماما لا يبايعه الا لدنيا فان اعطاه منها وفى وان لم يعطه منها لم يف (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তিন প্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, এমনকি তাদেরকে পাপ থেকে মুক্তও করবে না। তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (১) ঐ ব্যক্তি যে জঙ্গলে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রাখে, অথচ মুসাফিরকে সেখান থেকে পানি নিতে বাধা দেয়। (সেখানে ঐ পানি ব্যতীত আর কোন পানিও নেই)।
(২) ঐ ব্যক্তি যে আসরের পর আল্লাহ্ নামে (মিথ্যা) কসম করে মাল বিক্রি করল যে, আমি তা এত দিয়ে খরীদ করেছি, আর ক্রেতা তা সত্য মনে করে ক্রয় করে নিল, অথচ দোকানী ঐ মাল ঐ দামে কিনে নাই। (৩) ঐ ব্যক্তি যে শুধু পার্থিব স্বার্থেই কোন শাসকের নিকট বাইয়াত করে, যদি শাসক তাকে কোন সুবিধা দেয় তাহলে সে তাকে মেনে চলে, আর কোন সুবিধা না দিলে তাকে অমান্য করে"। (মুসলিম)⁹³
মাসআলা-১৫৫ঃ হাশরের মাঠে আল্লাহর করুনাময় দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত আরো তিন বদ নসীবঃ (১) পিতা-মাতার অবাধ্য (২) পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্ভনকারী নারী (৩) দাইয়ুসঃ

عن ابن عمرو رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة لا ينظر اليهم يوم القيامة العاق لوالديه والمرأة المترجلة والديوث (رواه النسائ)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃকিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তিন ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। (১) পিতা-মাতার অবাধ্য ব্যক্তি (২) পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্ভনকারী নারী (৩) দাইয়ুস।" (নাসায়ী)⁹⁴
নোটঃ দাইয়ুস ঐ ব্যক্তি যার স্ত্রী বে-পর্দা হয়ে গাইর মাহরামদের (যাদের সাথে বিয়ে যায়েয) সামনে আসে অথচ তার আত্মমর্যাদাবোধ জাগেনা।

টিকাঃ
78 - কিতাবুযযাকাত, বাব ইসমু মানে' যাকাত。
79 - কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাত রুইয়াতুল মুমেনীন ফিল আখেরা রাব্বুহুম。
৪০-আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন, বাব ওয়ামিন সূরাতিন্নিসা (৩/২৪২৫)
৪। - কিতকাবুল মাযালেম, বাব ইসমু মান যলামা সাইআন মিনাল আরয。
81 - কিতকাবুল মাযালেম, বাব ইসমু মান যলামা সাইআন মিনাল আরয。
82-আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব নং১০ (৩/২০২৫)
83 -আরবানী লিখিত মেশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল ইমারা ওয়াল কাযা, রূফাসল আস্সালেস। (২/৩৭১৪)
84 - কিতাবুল জিহাদ, বাব তাহরীমিল গাদর。
85 -সহীহ সুনান আবুদাউদ, খঃ২, হাদীস নং-১৮৬৮。
86 -কিতাবুল মাযালেম, বাব যুলমু যুলমাতু ইয়ামাল কিয়ামা。
87 - আলবানী লিখিত, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ত তারহিব, খঃ১, হাদীস নং-৭৭৮。
৪৪-কিতাবুযযাকাত, বাব নাহি আনিল মাসআলা。
89 - কিতাবুল আদাব, বাব ফিল গীবা (৩/৪০৪৮)
90-কিতাবুল আঈমান, বাব সোহবাতুল মামালীক。
91 -কিতাবুল আইমান, বাব গিলয তাহরীমি ইসবালিল ইযার ওয়াল মান নিল আতিয়া。
92 - কিতাবুল আইমান, বাব গিলয তাহরীমি ইসবালিল ইযার ওয়াল মান্ নিল আতিয়া。
93 - কিতাবুল আইমান, বাব গিলয তাহরীম ইসবাল ওয়া বায়ান আস্সালাসা আল্লাযিনা লা ইয়ুকাল্লিমুহুমুল্লাহ্ ইয়ামুল কিয়ামা。
94 - কিতাবুযযাকাত, বাব আলমান্নান বিমা উ'তিয়া (২/২৪০২)

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠে লোকদের বিভিন্ন দলে ভাগ হওয়া

📄 হাশরের মাঠে লোকদের বিভিন্ন দলে ভাগ হওয়া


মাসআলা-১৫৬ঃ হাশরের মাঠে সমস্ত লোকদেরকে তাদের আক্বীদা ও আমল মোতাবেক বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবেঃ

وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ) (سورة يس : ٥٩)
অর্থঃ" হে অপরাধীরা আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও” (সূরা ইয়াসীন-৫৯)

وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ) (سورة النمل : ۸۳)
অর্থঃ "যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে, সেসব সম্প্রদায় থেকে যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত, অতপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে।" (সূরা নামল-৮৩)

عن أبي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كان يوم القيامة اذن موذن لتتبع كل امة ما كانت تعبد فلا يبقى احد كان يعبد غير الله من الاصنام والانصاب الا يتساقطون فى النار حتى اذا لم يبقى الا من كان يعبد الله من بر او فاجر وغير اهل الكتاب فيدعى اليهود فيقال لهم ما كنتم تعبدون ؟ قالوا كنا نعبد عزير بن الله فيقال كذبتم ما اتخذ الله من صاحبة ولا ولد فماذا تعبغون ؟ قالوا عطشنا يا ربنا فاسقنا فيشار اليهم الا تردون ؟ فيحشر الى النار كانها سراب يحتم بعضها بعضا فيتساقطون فى النار ثم تدعى النصرى فيقال لهم ما كنتم تعبدون ؟ قالوا كنا نعبدوا المسيح ابن الله فيقال لهم كذبتم ما اتخذ الله من صاحبة ولا ولد فماذا تبغون؟ فيقولون عطشنا يا ربنا فاسقنا فيشار اليهم الا تردون ؟ فيحشرون الى جهنم كانها سراب يحطم بعضها بعضا فيتساقطون فى النار حتى اذا لم يبق الا من كان يعبد الله من بر و فاجر اتاهم الله في ادنى صورة من التي راوه فيها قال فما تنتظرون ؟ تتبع كل امة ما كانت تعبد قالوا يارينا - فارقنا الناس في الدنيا افقر ما كنا اليهم ولم نصاحبهم فيقول انا ربكم فيقولون نعوذ بالله منك ولا نشرك بالله شيئا مرتين او ثلاثا حتى ان بعضهم ليكاد ان ينقلب فيقول هل بينكم وبينه أية فتعرفونه بها ؟ فيقولون نعم فيكشف عن ساق فلا يبقى من كان يسجد اتقاء ورياء الا جعل الله ظهره طبقة واحدة كلما اراد ان يسجد خر على قفاه ثم يرفعون رؤهم وقد تحول في صورته التي رواه فيها اول مرة فقال انا ربكم فيقولون: انت ربنا (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এক জন ঘোষক ঘোষণা করবে, প্রত্যেক উম্মত যারা যার ইবাদত বা পূজা করত তারা তার অনুসরণ কর। ফলে মুশরেকরা কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, যারা আল্লাহ্ ব্যতীত মূর্তি ও মূর্তিপূজার বেদীতে উপাসনা করত তাদের সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, অবশেষে যারা এক মাত্র আল্লাহ্ ইবাদত করত তারা পাপী বা নেক কার যাই হোকনা কেন থেকে যাবে, আর তাদের সাথে থাকবে আহলে কিতাবদের কিছু লোক, এরপর ইহুদীদের ডাকা হবে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা দুনিয়াতে কার ইবাদত করতে, তারা বলবে আমরা আল্লাহ্র পুত্র ওযাইরের ইবাদত করতাম, তখন তাদেরকে বলা হবে তোমরা জগন্যতম মিথ্যা কথা বলছ, কেননা আল্লাহর কোন স্ত্রী বা সন্তান কিছুই নেই। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে আমরা পিপাসিত, হে প্রভূ আপনি আমাদেরকে পানি পান করান, এর পর তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হবে যাও পানি পান কর, তখন তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। জাহান্নাম দেখে তাদের নিকট মরিচিকার ন্যায় মনে হবে, আগুনের লেলিহান শিখা পানির মত ঢেউ খেলবে এবং দেখে মনে হবে যেন একটি আরেকটিকে গ্রাস করছে। এর পর তারা পানির আশায় জাহান্নামে পড়ে যাবে। এর পর নাসারাদের ডাকা হবে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে আমরা আল্লাহ্ পুত্র মসীহ (ঈসার) ইবাদত করতাম, তাদেরকে বলা হবে তোমরা মিথ্যা কথা বলছ। কেননা আল্লাহ্ তো কোন স্ত্রী বা সন্তান নেই, তাদেরকেও জিজ্ঞেস করা হবে তোমরা এখন কি চাও। তারা বলবে আমরা পিপাসিত, হে প্রভু আপনি আমাদেরকে পানি পান করতে দিন, এর পর তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হবে যাও পানি পান কর গিয়ে, তখন তাদেরকেও জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, জাহান্নামে দেখে তাদের নিকট মরীচিকার ন্যায় মনে হবে, আগুনের লেলিহান শিখা দেখে মনে হবে, পানির মত তা ঢেউ খেলছে আর একটি অপরটিকে যেন গ্রাস করছে। তখন তারা জাহান্নামে পড়ে যাবে। পরিশেষে অবশিষ্ট থাকবে এক মাত্র আল্লাহ্ ইবাদত কারীরা তাদের মাঝে পাপীরাও থাকবে, নেককাররাও থাকবে, রাব্বুল আলামীন তাদের সামনে পরিচিত চেহারা নিয়ে উপস্থিত হয়ে বলবেনঃ তোমরা কার অপেক্ষায় আছ? তোমরা প্রত্যেকে যার ইবাদত করতে সে তার সাথে মিলে যাও। তখন তারা বলবে হে আমাদের প্রভূ! দুনিয়াতে আমরা তাদের থেকে আলাদা ছিলাম, আমরা দরিদ্র ও নিঃস্ব ছিলাম, কিন্তু তবুও এদের অনুসরণ করিনি। তিনি বলবেন আমি তোমাদের রব। তখন তারা বলবে 'নাউযুবিল্লাহি মিনকা'। আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না, একথাটি দু'বার বা তিন বার বলা হবে, তাদের কেউ কেউ ফিরে যেতে চাইবে, তখন তাদেরকে ডেকে নিয়ে আল্লাহ্ আবার জিজ্ঞেস করবেন যে, তোমাদের নিকট কোন পরিচয় আছে কি যা দেখে তোমরা তাঁকে চিনতে পারবে? তারা বলবে হাঁ। তখন তাঁর পায়ের নীচের অংশ (গোছা খোলা হবে) তখন যারা স্বেচ্ছায় পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে দুনিয়াতে তাঁকে সেজদা করত, তাদেরকে সেজদা করার অনুমতি দেয়া হবে, আর সাথে সাথেই সবাই সেজদায় পড়ে যাবে। কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু যারা লোকদেখানেরা জন্য সেজদা করত তারাও সেজদা করতে চাইবে কিন্তু তাদের মেরুদন্ডের হাড় শক্ত হয়ে একটি কাঠের ন্যায় হয়ে যাবে। ফলে তারা সেজদা করতে চাইলে পেছনের দিকে চিৎ হয়ে পড়ে যাবে। অতপর সেজদায় অবনতরা মাথা তুলে প্রথমে আল্লাহকে যে আকৃতিতে দেখেছিল ঠিক সেই আকৃতিতে দেখতে পাবে, তিনি বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। তারাও বলবেঃ হাঁ আপনিই আমাদের রব।” (মুসলিম)⁹⁵

মাসআলা-১৫৭ঃ চাঁদ সূর্য দেব-দেবী ইত্যাদি বাতেল মা'বুদের ইবাদত কারীরা হাশরের মাঠে স্ব স্ব মা'বুদদের সাথে থাকবেঃ

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يحشر الناس يوم القيامة فيقول من كان يعبد شيئا فليتبع فمنهم من يتبع الشمس ومنهم من يتبع القمر ومنهم من يتبع الطواغيت وتبقى هذه الامة فيها منافقوها فيأتياهم الله عز وجل فيقول انا ربكم فيقولون هذا مكاننا حتى يأتيانا ربنا فاذا جاء ربنا عرفناه فيأتياهم الله فيقول انا ربكم فيقولون انت ربنا فيدعوهم (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে একত্রিক করে বলা হবে, যে যার ইবাদত করত সে তার অনুসরণ করুক। তখন লোকদের মধ্যে কিছু সূর্যের অনুসরণ করবে, কিছু চন্দ্রের, কিছু অনুসরণ করবে বাতিল মা'বুদদের। শুধু এ উম্মত (মোহাম্মদী) বাকী থাকবে, তাদের মধ্যে মুনাফেকরাও থাকবে, আল্লাহ্ তাদের সামনে নুতন আকৃতিতে আসবেন এবং বলবেনঃ আমি তোমাদের প্রভু। লোকেরা বলবে যতক্ষণ আমাদের প্রভূ না আসবে ততক্ষণ আমরা এখানেই থেকে যাব, আমাদের রব যখন আসবে তখন আমরা তাঁকে চিনতে পারব। তখন আল্লাহ্ তাদের সামনে পূর্বের আকৃতিতে আসবেন এবং বলবেন আমি তোমাদের প্রভু! তারা বলবেঃ হাঁ। আপনিই আমাদের প্রভূ। তখন আল্লাহ্ তাদেরকে ডেকে নিবেন।” (বোখারী)⁹⁶

মাসআলা- ১৫৮ঃ বে-নামাযীরা হাশরের মাঠে কারুন ফেরআউন হামান উবাই ইবনে খালফ এর সাথে থাকবেঃ

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم انه ذكر الصلاة يوما فقال من حافظ عليها كانت له نورا وبرهان ونجاة يوم القيامة ومن لم يحافظ عليها لم يكن له نورا ولا برهانا ولا نجاة وكان يوم القيامة مع قارون وهامان و فرعون وابی ابن خلف (رواه ابن حبان)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এক দিন নামাযের কথা বলতে গিয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি তা সংরক্ষণ করবে তা তার জন্য কিয়ামতের দিন আলো, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে তা সংরক্ষণ করবে না, কিয়ামতের দিন তার কোন আলো, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় থাকবে না। সে কিয়ামতের দিন কারুন, হামান, ফেরআউন ও উবাই ইবনে খালফের সাথে থাকবে।” (ইবনু হিব্বান)⁹⁷

মাসআলা-১৫৯ঃ হাশরের মাঠে প্রত্যেক ব্যক্তি স্ব স্ব নবীর সাথে থাকবে সবচেয়ে বেশি লোক হবে মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথেঃ

عن ابن عباس رضى الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يمر معه الامة والنبي يمر معه النفر والنبى يمر معه العشرة والنبى يمر معه الخمسة والنبى يمر وحده فنظرت فاذا سواد كثير قلت يا جبريل هؤلاء امتى قال لا ؟ ولكن انظر الى الافق فنظرت فاذا سواد كثير قال هؤلاء امتك (رواه البخاري)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার সামনে সমস্ত নবীগণের উম্মতদেরকে পেশ করা হল, কোন কোন নবীর সাথে অনেক লোক যাচ্ছে, আবার কোন কোন নবীর সাথে অল্প কিছু লোক যাচ্ছে, আবার কোন কোন নবীর সাথে শুধু দশ জন লোক ছিল, আবার কারো সাথে মাত্র পাঁচ জন লোক ছিল, আবার কোন কোন নবী একাই ছিল। এর পর আমি বিরাট একটি দল দেখতে পেলাম, আমি জিবরীল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম হে জিবরীল এরাকি আমার উম্মত? জিবরীল বললঃ না একটু ঐ দিকে আকাশের কিনারার দিকে দেখুন, আমি তাকিয়ে বিরাট এক জনসমুদ্র দেখতে পেলাম। জিবরীল বললঃ এরা আপনার উম্মত।" (বোখারী)⁹⁸

টিকাঃ
95 - কিতাবুল ঈমান বাব ইসবাত রুইয়াতুল মুমিনীন ফিল আখেরা রাব্বাহুম。
⁹⁶ - কিতাবুল আযান বাব ফযলিসুজ্জুদ。
⁹⁷ - কিতাবুল আযান বাব ফযলিসুজুদ。
98 - কিতাবুর রিকাক, বাব ইয়াদখুলুনাল জান্না সাবউনা আলফ বিগাইরি হিসাব。

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠে ঈমানদারের অবস্থা

📄 হাশরের মাঠে ঈমানদারের অবস্থা


মাসআলা-১৬০ঃ সমস্ত নবীগণ হাশরের মাঠে নূরের মীম্বরে আসীন থাকবেন আর মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মিম্বর সবচেয়ে উঁচু হবে এবং অধিক আলোক উজ্জল হবেঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لكل نبي يوم القيامة منبرا من نور وانى لعلى اطولها و انورها رواه ابن حبان
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক নবীর জন্য নূরের মিম্বর থাকবে, আর আমি তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সর্বাধিক আলোকিত মিম্বরে থাকব।” (ইবনু হিব্বান)⁹⁹

মাসআলা-১৬১৪ হাশরের মাঠে সমস্ত নবীদের পতাকা থাকবে আর সবচেয়ে বড় ও উঁচু পতাকা হবে মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য অন্যান্য নবীগণও তাঁর পতাকা তলে থাকবেঃ

عن ابي سعيد الخدرى رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انا سيد ولد ادام يوم القيامة ولا فخر وبيدى لواء الحمد ولا فخر وما من نبى يومئذ آدم فمن سواه الا تحت لوائي وانا اول من تنشق عنه الارض ولا فخر (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমি হব সর্বশ্রেষ্ট আদম সন্তান, তবে এতে গৌরবের কিছু নেই, আমার হাতে প্রশংসিত পতাকা থাকবে, এতেও গৌরবের কিছু নেই, ঐ দিন আদম (আঃ) থেকে নিয়ে আমার পূর্ব পর্যন্ত এমন কোন নবী হবে না, যে আমার পতাকা তলে থাকবে না, আর সর্ব প্রথম আমার কবরই উন্মুক্ত করা হবে, এটাও গৌরবের কিছু নয়।” (তিরমিযী)¹⁰⁰

মাসআলা-১৬২ঃ ঈমানদারগণ হাশরের মাঠে সর্বপ্রকার দুশ্চিন্তা, লাঞ্ছনা ও অপমান মুক্ত থাকবেঃ

﴿ لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ ﴾ (সূরা আল-আম্বিয়াঃ ১০৩)
অর্থঃ "মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তান্বিত করবে না এবং ফেরেস্তারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে, আজ তোমাদের দিন যেদিনের ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।" (সূরা আম্বীয়াঃ ১০৩)

﴿ مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ ﴾ (সূরা আন-নমল: ৮৯)
অর্থঃ "যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে আসবে সেদিন উৎকৃষ্টতর প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে।" (সূরা নামলঃ ৮৯)

মাসআলা-১৬৩ঃ ঈমানদারগণকে অধিক আনন্দিত করার জন্য হাশরের মাঠে তাদেরকে জান্নাত দেখানো হবেঃ

﴿ وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ ﴾ (সূরা আশ-শু'আরা: ৯০)
অর্থঃ "জান্নাত মোত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে।" (সূরা শুআরাঃ ৯০)

মাসআলা-১৬৪ঃ হাশরের মাঠে ঈমানদারগণের চেহারা তরতাজা ও আলোকউজ্জ্বল এবং হাসি খুশি থাকবেঃ

﴿ وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ ، ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ ﴾ (সূরা আবাস: ৩৮-৩৯)
অর্থঃ "অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জল, সহাস্য ও প্রফুল্ল হবে।" (সূরা আবাসাঃ ৩৮-৩৯)

মাসআলা-১৬৫ঃ হাশরের মাঠের পঞ্চাশ হাজার বছরের দীর্ঘ সময় ঈমানদারদের নিকট এক ঘন্টার ন্যায় মনে হবেঃ

عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قالوا فاين المؤمنون يومئذ ؟ قال توضع لهم كراسي من نور ويظلل عليهم الغمام يكون ذلك اليوم اقصر على المؤمنون من ساعة من نهار (رواه الطبراني وابن حبان)
অর্থঃ "সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের দিন মোমেন ব্যক্তিরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ তাদের জন্য নূরের চেয়ার রাখা হবে, বাদল তাদেরকে ছায় দিয়ে থাকবে, ঈমানদারদের জন্য হাশরের মাঠের লম্বা দিন এক ঘন্টার মত মনে হবে।” (তাবারানী ও ইবনু হিব্বান)
মাসআলা-১৬৬ঃ হাশরের দিনটি ঈমানদারদের জন্য সূর্য ঢলার পর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের সমান হবেঃ
নোটঃ এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১২০নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-১৬৭ঃ হাশরের মাঠের লম্বা দিনটি ঈমানদারদের জন্য জোহর থেকে আসরের মধ্যবর্তী সময়ের সমান হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم القيامة على المؤمنين كقدر ما بين الظهر والعصر (رواه الحاكم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মোমেনদের জন্য কিয়ামতের দিন, জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ের মত মনে হবে।” (হাকেম)¹⁰¹
নোটঃ ঈমানদারদের প্রতি হাশরের দিনের দৈর্ঘ তাদের নিজ নিজ আমল অনুযায়ী পার্থক্য হবে"।

মাসআলা-১৬৮ঃ হাশরের মাঠের কষ্ট ঈমানদারদের জন্য শর্দি লাগার ন্যায় হবেঃ
নোটঃ এ সংক্রান্ত হাদীসটি ১৬৯নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-১৬৯ঃ এক সুভাগ্যবান নারীর হাশরের মাঠে পর্দায় আবরিত থাকার কামনা এবং তার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুয়াঃ

عن الحسن بن على رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يحشر الناس يوم القيامة حفاة عراة فقالت امرأة يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فكيف يرى بعضنا بعضا ؟ فقال ان الابصار شاخصة فرفع بصره الى السماء فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ادع الله ان يستر عورتي قال الهم استر عورتها (رواه الطبراني)
অর্থঃ "হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে খালী পা, ও উলংগ শরীরে উঠানো হবে। এক মহিলা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন আমাদের এক জন অপর জনের প্রতি কিভাবে তাকাবে? তিনি বললেনঃ সেদিন চোখ ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে। (কারো দিকে তাকানোর মত ফুরসত থাকবে না) ঐ মহিলা তার দৃষ্টি আকাশের দিকে ফিরিয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লা! আল্লাহ্র নিকট আমার জন্য দোয়া করুন, তিনি যেন সেদিন আমাকে পর্দায় রাখেন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্ তুমি তাকে পর্দায় রাখ।" (তাবারানী)¹⁰²

টিকাঃ
99 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, কিতাবুল বা'স ফাসলু ফি শাফায়া (৪/৫৩২৮)
100 -আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন আল কারীম, বাব ওয়া মিন সূরা বানী ইসরাঈল (৩/২৫১৬)।
101 -আলবানী লিখিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, খঃ৫, হাদীস নং-২৪৫৫。
102 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত তারগিব ওয়াত্ তারহিব, খঃ৪ হাদীস নং- (৫২৪৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00