📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠ

📄 হাশরের মাঠ


মাসআলা-১০৭ঃ সিরিয়া লোকদেরকে একত্রিত করার স্থান (হাশরের মাঠ) হবেঃ

عن معاوية بن حيدة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انكم تحشرون رجالا وركبانا و تجرون على وجوهكم ههنا واوما بيده نحو الشام (رواه احمد والحاكم)
অর্থঃ "মোয়াবিয়া বিন হাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা পায়ে হেঁটে, আরোহন করে, মুখের ওপর ভর করে এখানে একত্রিত হবে, এবলে তিনি সিরিয়ার দিকে ইশারা করলেন।” (হাকেম)।⁵¹

عن ميمونة بنت سعد رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الشام ارض المحشر والنشر ( رواه احمد)
অর্থঃ "মাইমুনা বিনতে সা'দ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সিরিয়া একত্রিত হওয়া এবং বিক্ষিপ্ত হওয়ার স্থান।" (আহমদ)।⁵²

মাসআলা-১০৮ঃ হাশরের মাঠের আকাশ ও যমিন বর্তমান আকাশ ও যমিন থেকে ভিন্ন হবেঃ

يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ) (٤٨) سورة إبراهيم
অর্থঃ “যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশ মন্ডলী ও মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহ্র সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।" (সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮)

عن مسروق رضى الله عنه قال : تلت عائشة رضى الله عنها هذه الآية يوم تبدل الارض غير الارض قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاين يكون الناس قال على الصراط (رواه الترمذي)
অর্থঃ "মাসরুক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এ আয়াতটি তেলওয়াত করলেন, "যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে” এবং জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ পুল সিরাতের ওপর"। (তিরমিযী)⁵³

মাসআলা-১০৯ঃ হাশরের মাঠ আলোক উজ্জল সাদা পরিষ্কার গোলবের ন্যায় পৃথিবীতে সমবেত করা হবেঃ

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاء وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ) (سورة الزمر : ٦٩ )
অর্থঃ "বিশ্ব তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, আমল নামা পেশ করা হবে এবং নবী ও সাক্ষীগণকেও হাজির করা হবে, সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না”। (সূরা যুমার-৬৯)

عن سهل بن سعد رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يحشر الناس يوم القيامة على ارض بيضاء عفراء كقرصة النقى ليس فيها علم لاحد (رواه مسلم)
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন লোকদেরকে সাদা উজ্জল পরিষ্কার গোলবের ন্যায় পৃথিবীতে সমবেত করা হবে যেখানে কারো কোন মালিকানার চিহ্ন থাকবে না।” (মুসলিম)⁵⁴

মাসআলা-১১০ঃ নূতন পৃথিবী সর্বপ্রকার পাপাচার যুলম অবিচার মুক্ত হবে সেখানে সমস্ত ফায়সালা ইনসাফ ভিত্তিক হবেঃ

عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله تعالى يوم تبدل الارض غير الارض قال ارض بيضاء لم يسفق عليها دم ولم عليها خطيئة ( رواه البزار)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আল্লাহ্র বাণীঃ "যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে" তিনি বললেনঃ সাদা উজ্জল যমিন হবে যেখানে কোন রক্ত পাত হয় নাই এবং যেখানে কোন পাপাচার হয় নাই।" (বায্যার)⁵⁵

মাসআলা-১১১ঃ হাশরের মাঠে প্রত্যেকে খুব কষ্ট করে দু'পা রাখার মত স্থান পাবেঃ

عن على بن حسين رضى الله عنه قال اذا كان يوم القيامة مد الله الارض من الاديم حتى لا يكون لاحد من البشر الا موضع قدميه ذكره في الزهد لابن مبارك)
অর্থঃ "আলী বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পৃথিবীকে টেনে চামড়ার ন্যায় করে দিবেন, ফলে প্রত্যেক ব্যক্তি সেখানে শুধু তার দু'পা রাখার মত স্থান পাবে।” (বায্যার) ⁵⁶

টিকাঃ
51 - সহীহ আলজামে আস সাগীর, লি আরবানী খঃ২, হাদীস নং-২২৯৮।
52 - সহীহ আলজামে আস সাগীর, লি আলবানী খঃ২, হাদীস নং-৩৬২০।
53 -আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন, বাব সূরা ইবরাহীম (৩/২৪৯৬)
54 - কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন ওয়া আহকামিহিম, বাব ফিল বা'সি ওয়ানুসুর ওয়া সিফাতুল আরয ইয়ামুল কিয়ামা।
55- মাযমাউয্যাওয়ায়েদ, খ:১০, হাদীস নং-১৮৩৬৫।
56 -আত্তাযকিরাতুল কুরতুবী, আবওয়াবুল মাউত, বাব আইনা ইয়াকুনুন্নাস।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠের ভয়াবহতা

📄 হাশরের মাঠের ভয়াবহতা


মাসআলা-১১২ঃ হাশরের মাঠের ভয়াবহতা মৃত্যু ও কবরের কষ্টের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি হবেঃ

عن انس رضي الله عنه لا اعلمه الا رفعة قال صلى الله عليه وسلم لم يلق ابن ادام شيئا منذ خلقه الله عز وجل اشد عليه من الموت ثم ان الموت اهون مما بعده وانهم ليلقون من هول ذلك اليوم شدة حتى يلجمهم العرق حتى ان السفن لو اجريت فيه اجرت (رواه الطبراني)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন থেকে আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে তার ওপর মৃত্যুর চেয়ে বেদনাদায়ক সময় আর কখনো আসে নাই, আর মৃত্যুর পরের স্ত রসমূহ মুত্যুর চেয়েও বেদনা দায়ক, নিশ্চয়ই লোকেরা হাশরের দিনের কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে যাবে, শরীর থেকে ঘাম ঝড়তে থাকবে, ঘাম এত অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হবে যে, যদি কেউ ঘামের মাঝে নৌকা চালাতে চায় তাহলে তাও সম্ভব হবে।” (ত্বাবারানী)⁵⁷

মাসআলা-১১৩ঃ হাশরের মাঠের গরম ঘামে দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে লোকেরা নিরুপায় হয়ে আল্লাহর নিকট দুয়া করবে, হে আল্লাহ্ আমাদেরকে হাশরের মাঠ থেকে মুক্তি দিন, যদিও তা জাহান্নামেই হোকনা কেনঃ

عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الرجل ليلجمه العرق يوم القيامة فيقول يا رب ارحنى ولو الى النار (رواه الطبراني)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন ঘাম কোন কোন লোকের মুখমন্ডল পর্যন্ত হবে, তখন সে দুয়া করতে থাকবে, হে আমার প্রভূ এ মুসিবত থেকে তুমি আমাকে মুক্তি দাও, যদিও তা জাহান্নামেই হোকনা কেন”। (ত্বাবারানী)¹⁴
মাসআলা-১১৪ঃহাশরের মাঠে সমস্ত নারী পুরুষ উলঙ্গ শরীর, জুতাহীন, খাতনাহীন হবে, কিন্তু ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকার কারণে কেউ কারো দিকে তাকাতে পারবে নাঃ
নোটঃ এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৮৯ নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-১১৫৪ঃ কাফেরদের ভয় ভীতিকে বৃদ্ধি করার জন্য জাহান্নামকে হাশরের মাঠের পাশে রাখা হবেঃ

(وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ) (سورة الشعراء : ٩١)
অর্থঃ "এবং বিপথগামীদের সামনে উন্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।” (সূরা শোয়ারাঃ ৯১)

মাসআলা-১১৬ঃ হাশরের মাঠে ভয়াবহতা দেখে কাফেরদের চেহারা কাল হয়ে যাবেঃ

وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاء سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ مَّا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ اللَّيْلِ مُظْلِمًا أَوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (سورة یونس : ۲۷)
অর্থঃ "আর যারা সঞ্চয় করেছে অকল্যাণ, অসৎ কর্মের বদলায় যে পরিমাণ অপমান তাদের তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে, কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহ্ হাত থেকে। তাদের মুখমন্ডল যেন ঢেকে দেয়া হয়েছে আঁধার রাতের টুকরো দিয়ে, এরা হল জাহান্নামী, এরা এতেই থাকবে অনন্ত কাল।" (সূরা ইউনুসঃ ২৭)

وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ، تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ أُوْلَئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ) (سورة عبس : ٤٠ - (٤٢
অর্থঃ "এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধূলি ধূসরিত তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে তারাই কাফের পাপিষ্ঠের দল।" (সূরা আবাসাঃ ৪০-৪২)

وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللهِ وُجُوهُهُم مُّسْوَدَّةٌ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى للْمُتَكَبِّرِينَ) (سورة الزمر : ٦٠)
অর্থঃ "যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখ কাল দেখবেন, অহংকারকারীদের আবাসস্থল জাহান্নাম নয় কি?” (সূরা যুমারঃ ৬০)

وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ، تَظُنُّ أَن يُفْعَلَ بِهَا فَاقِرَةٌ) (سورة القيامة : ٢٤-٢٥)
অর্থঃ "কোন কোন মুখ মন্ডল হয়ে পড়বে বিবর্ণ এ আশংকায় যে, এক ধ্বংসকারী বিপর্যয় আসন্ন।” (সূরা কিয়ামাঃ ২৪-২৫)

মাসআলা-১১৭ঃ তীর যেমন ধনুকে খুব কষ্ট করে রাখা হয় তেমনি লোকেরাও হাশরের মাঠে খুব কষ্ট করে ৫০ হাজার বৎসর থাকবেঃ
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنه قال تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم (يوم يقوم الناس لرب العالمين) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف بكم اذا جمعكم الله كما يجمع النبل في الكنانة خمسين الف سنة ثم لا ينظر الله اليكم (رواه الحاكم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর বিন আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াত তেলওয়াত করে বললেনঃ" যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।" (সূরা মোতাফফিফীনঃ ৬)
তিনি বললেনঃ তখন তোমাদের অবস্থা কি হবে? যখন আল্লাহ্ ৫০ হাজার বছরের জন্য এমন ভাবে একত্রিত করে রাখবেন, যেমন তীর ধনুকের সাথে মিশে থাকে, আর এসময়ে আল্লাহ্ তোমাদের দিকে তাকাবেনও না।” (হাকেম)⁵⁹

মাসআলা-১১৮ঃ কাফের মুশরেকদের জন্য হাশরের মাঠের অর্ধেক দিন ৫০ হাজার বছরের ন্যায় মনে হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم يقوم الناس لرب العالمين مقدار نصف يوم من خمسين الف ستة فيهون ذالك على المؤمن كتدلى الشمس للغروب الى ان تغرب ( رواه ابو يعلى و ابن حبان
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ "যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে" তার ব্যাখ্যায় বলেছেন এর অর্ধেক দিনের পরিমাণ ৫০ হাজার বছরের ন্যায় হবে, আর এ পরিমাণ মুমেনদের জন্য অত্যন্ত সাধারণ হবে, সূর্য ঢলার পর থেকে নিয়ে অস্ত যাওয়ার সময়ের পরিমাণ হবে।"⁶⁰

মাসআলা-১১৯ঃ কাফেরদের জন্য হাশরের মাঠের কষ্ট মৃত্যু যন্ত্রনায় বেহুশ হয়ে যাওয়ার মত হবে আর মুমেনের জন্য শর্দির মত মনে হবেঃ

عن انس رضى الله عنه قال حدثني نبي الله عليه وسلم اني لقائم انتظر امتى تعبر الصراط اذ جاء عيسى عليه السلام قال فقال هذه الانبياء قد جاءتك يا محمد يسألون او قال يجتمعون اليك يدعون الله ان يفرق بين جمع الامم الى حيث يشاء لغم ما هم فيه فالخلق ملجمون في العرق فاما المؤمن فهو عليه كالزكمة واما الكافر فيتغشاه الموت (رواه احمد)
অর্থঃ “আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেনঃ আমি আমার উম্মতের জন্য পুলসিরাতের ওপর অপেক্ষা করতে থাকব, যাতে করে তারা পুল অতিক্রম করতে পারে, হঠাৎ করে ঈসা (আঃ) এসে বলবেনঃ হে মুহাম্মদ এটি নবীদের দল তারা এসেছে, বা বলবেনঃ সমস্ত নবীগণ আপনার নিকট এসেছে আপনি আল্লাহর নিকট দুয়া করুন, যেন তিনি সৃষ্টির মাঝে ফায়সালা করে তাদেরকে যেখানে তিনি চান সেখানে যেন পাঠিয়ে দেন, যাতে করে তারা বর্তমানে যে কষ্টে আছে তা থেকে মুক্তি পায়। সৃষ্টি জীব ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে, ঈমানদারদের জন্য হাশরের মাঠের কষ্ট শর্দির কষ্টের মত মনে হবে। অথচ কাফেরদের নিকট হাশরের মাঠের কষ্ট মৃত্যু যন্ত্রনায় বেঁহুশ হওয়ার মত কষ্ট কর হবে।” (আহমদ) ⁶¹

টিকাঃ
57 -মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত্তারগিব ওয়াততার হিব, খঃ৪, হাদীস নং-৫২৫৮।
58 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত্তারগিব ওয়াস্ততার হিব, খঃ৪, হাদীস নং-৫২৬০।
59 - কিতাবুল আহওয়াল, বাব লা-ইদখুলু আহলুল জান্না হাতা ইয়ানকু আন মাযালিমিলদ্দুনইয়া।
60-মহিউদ্দীন আদীব লিখিত আত্তারগীব ওয়াত্তার হিব, খঃ৪, হাদীস নং-৫২৫৮।
61 - মাযমাউযযাওয়ায়েদ, বিশ্লেষণ আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ দরবেশ, কিতাবুল বা'স বাব ফিশিফা (১০/১৮৫০৬।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠে সূর্যের তাপ

📄 হাশরের মাঠে সূর্যের তাপ


মাসআলা-১২০ঃ হাশরের মাঠে সূর্য মানুষ থেকে এক মাইল দূরে থাকবে লোকেরা স্ব স্ব আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবেঃ

عن المقداد بن الاسود رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تدنى الشمس يوم القيامة من الخلق حتى تكون منه كمقدار ميل قال فيكون الناس على قدر اعمالهم فى العرق فمنهم من يكون الى كعبيه ومنهم من يكون الى ركبتيه ومنهم إلى حقويه منهم من يلجمه العرق الجاما قال واشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده الى فيه (رواه مسلم)
অর্থঃ “মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের কাছ থেকে এক মাইল দূরে থাকবে, আর লোকেরা স্ব স্ব আমল মোতাবেক ঘামের মাঝে ডুবে থাকবে, কারো টখনা পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত, কারো গলা পর্যন্ত, একথা বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর মুখের দিকে ইশারা করলেন।” (মুসলিম)⁶²

মাসআলা-১২১ঃ ঘাম কোন কোন লোকের পায়ের পাতা পর্যন্ত হবে, কোন কোন লোকের টাখনার নিচ পর্যন্ত হবে, কোন কোন লোকের হাটু পর্যন্ত, কোন কোন লোকের পেট পর্যন্ত, কোন কোন লোকের কোমর পর্যন্ত, কোন কোন লোকের কাঁধ পর্যন্ত, কোন কোন লোকের মুখ পর্যন্ত, কোন কোন লোক ঘামের মাঝে সাতার কাঁটবেঃ

عن عقبة بن عامر رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تدنو الشمس من الارض فيعرق الناس فمن الناس من يبلغ عرقه عقيبيه ومنهم من يبلغ نصف الساق ومنهم من يبلغ الى العجز ومنهم من يبلغ الى الخاصرة ومنهم من يبلغ منكبيه ومنهم من يبلغ عنقه ومنهم من يبلغ وسطه واشار بيده الجمها فاه رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يشير هكذا ومنهم من يغطيه عرقه وضرب بيده واشار وامر يده فوق رأسه من غير ان يصيب الرأس دور راحتيه يمينا وشمالا ( رواه احمد والطبراني وابن حبان والحاكم
অর্থঃ "ওকবা বিন আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্য পৃথিবীর নিকটবর্তী হয়ে যাবে, মানুষের শরীর থেকে ঘাম ঝড়তে থাকবে, ঘাম কারো পায়ের পাতা পর্যন্ত হবে, কারো ঘাম টাখনার নিচ পর্যন্ত হবে, কারো হাটু পর্যন্ত হবে, কারো পিট পর্যন্ত, কারো ঘাম কোমর পর্যন্ত হবে, কারো কাঁধ পর্যন্ত, কারো গর্দান পর্যন্ত, কারো মুখ পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন যেমন কারো মুখে লাগام লাগানো থাকে, ওকবা বিন আমের বলেনঃ আমি দেখলাম তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, কেউ ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে।" (আহমদ, ত্বাবারানী, ইবনু হিব্বান, হাকেম)⁶³

মাসআলা-১২২ঃ কোন কোন লোকের মুখের ওপরে কানের নিচ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবেঃ

عن ابن عمر رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم يوم يقوم الناس لرب العالمين قال يقوم احدهم فى الرشح الى انصاف اذنيه (رواه الترمذي)
অর্থঃ "ইবনে ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ "যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।" এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেনঃ কোন কোন লোক কানের নিচ পর্যন্ত ঘামের মাঝে ডুবে থাকবে।” (তিরমিযী)⁶⁴

মাসআলা-১২৩ঃ কিয়ামতের দিন মানুষের শরীর থেকে এত ঘাম ঝড়বে যে তা মাটির ওপর ১৪০ মিটার উঁচু হবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان العرق يوم القيامة ليذهب في الارض سبعين باعا وانه ليبلغ الى افواه الناس او الى اذانهم (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃকিয়ামতের দিন ঘাম মাটি থেকে ১৪০ মিটার উচু হবে, আর তা কোন কোন লোকের মুখ বা কান পর্যন্ত হবে।" (মুসলিম)⁶⁵

টিকাঃ
62 -কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাব সিফাত ইয়ওমুল কিয়ামা。
63 - মহিউদ্দীন আদীব লিখিত আত্তারগীব ওয়াত্তারহিব, কিতাবুল বা'স, ফাসল ঠিল হাশর (৪/৫২৫৭)।
64 -আবওয়াব তাফসীরুরল কোরআ'ন, বাব সূরা ওয়াইলুল লিল মোতাফইফফীন (৩/২৬৫৬)।
65 -কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাব সিফাত ইয়ামুল কিয়ামা।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠে --- কতিপয় আমল

📄 হাশরের মাঠে --- কতিপয় আমল


মাসআলা-১২৪ঃ সৎ আমল কিয়ামতের দিন সর্ব প্রকার ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করবেঃ

مَن جَاء بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَع يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ (سورة النمل: ۸۹)
অর্থঃ "যে কেউ সৎ কর্ম নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্টতার প্রতিদান পাবে এবং সেদিন তারা গুরুতর অস্থিরতা থেকে নিরাপদ থাকবে।” (সূরা নামলঃ ৮৯)

মাসআলা-১২৫ঃ নিন্মোক্ত সাত প্রকার লোক হাশরের মাঠে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে স্থান পাবেঃ
(১) ন্যায় পরায়ন বাদশা (২) যৌবনকালে ইবাদত কারী (৩) যার অন্তর মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে (৪) আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসে (৫) পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য সুন্দরী নারীর আহ্বানকে আল্লাহর ভয়ে প্রত্যাখ্যান করে (৬) গোপন ভাবে দান খয়রাত করে (৭) একা একা আল্লাহ্ স্মরণ করে অশ্রু ঝড়ায় এমন ব্যক্তি।

عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل الا ظله امام عادل وشاب نشا في عبادة ربه ورجل قلبه معلق فى المساجد ورجلان تحابا في الله اجتمع عليه وتفرقا عليه ورجل طلبته امراة ذات منصب وجمال فقال اني اخاف الله ورجل تصدق اخفى حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه ورجل ذكر الله خاليا ففاضت عيناه (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ সাত প্রকার লোককে আল্লাহ্ তাঁর আরশের ছায়াতলে ছায়া দিবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না। (১) ন্যায় পরায়ন বাদশা (২) ঐ যুবক যে তার যৌবন কালকে আল্লাহ্ ইবাদতের মাধ্যমে অতিক্রম করেছে (৩) ঐ ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে (৪) ঐ দু'ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসে এবং এ উদ্দেশ্যেই একে অপরকে অপছন্দ করে (৫) ঐ ব্যক্তি যাকে পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য কোন সুন্দরী নারী আহ্বান করে আর সে বলে আমি আল্লাহকে ভয় করি (৬) ঐ ব্যক্তি যে এমন ভাবে দান খয়রাত করে যে, তার বাম হাত জানেনা যে তার ডান হাত কি দান করেছে। (৭) ঐ ব্যক্তি যে একা একা আল্লাহর স্মরণ করে অশ্রু ঝড়ায়।" (বোখারী)⁶⁶
মাসআলা-১২৬ঃ অভাবী ঋণ গ্রহিতাকে ঋণ আদায়ে সময় দাতা বা ঋণের কিছু অংশ ক্ষমাকারীও হাশরের মাঠে আল্লাহর আরশের ছায়া তলে ছায়া পাবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من انظر معسرا او وضع له اظله الله يوم القيامة تحت ظل عرشه يوم لا ظل الا ظله (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অভাবী ব্যক্তিকে ঋণ আদায়ের সময় দেয়, বা ঋণের কিছু অংশ ক্ষমা করে দেয় কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে তাঁর আরশের ছায়া তলে ছায় দিবেন, যে দিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না।” (তিরমিযী)⁶⁷

عن أبي اليسر رضى الله عنه صاحب النبي صلى الله عليه وسلم قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من احب ان يظله الله في ظله فلينظر معسرا او ليضع له (رواه ابن ماجة)
অর্থঃ"রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী আবুল ইয়ুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, আল্লাহ্ তাকে তাঁর আরশের ছায়া তলে স্থান দেন, সেযেন ঋণ গ্রহিতাকে সুযোগ দেয় বা ঋণের কিছু অংশ ক্ষমা করে দেয়।” (ইবনু মাযা)⁶⁸

মাসআলা-১২৭ঃ উত্তম চরিত্রের লোকেরা হাশরের মাঠে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খুব নিকটে থাকবেঃ

عن جابر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان من احبكم الى واقربكم منى مجلسا يوم القيامة احاسنكم اخلاقا وان من ابغضكم الى وابعدكم منى مجلسا يوم القيامة الثرثارون والمتشدقون والمتفيهقون ( رواه الترمذي)
অর্থঃ "যাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আমার নিকট তোমাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার খুব নিকটে থাকবে তারা, যারা তোমাদের মধ্যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী, আর তোমাদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং কিয়ামতের দিন আমার কাছ থেকে দূরে থাকবে তারা, যারা অধিক কথা বলে, ঠাট্টা বিদ্রুপ করে ও অহংকারকারী।” (তিরমিযী)⁶⁹

মাসআলা-১২৮ঃ বিনয় নম্রতা বসত সাদা পোশাক পরিহিত ব্যক্তিকে হাশরের মাঠে তার ইচ্ছা মত পোশাক পরানো হবেঃ
عن معاذ بن انس الجهنى رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من ترك اللباس تواضعا الله وهو يقدر عليه دعاه الله يوم القيامة على رؤوس الخلائق حتى يخيره من اى حلل اهل الايمان شاء يلبسها (رواه الترمذي)
অর্থঃ "মোয়ায বিন আনাস আল জুহানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিনয় ও নম্রতা দেখিয়ে, তার তাওফীক থাকা সত্বেও দামী পোশাক ব্যবহার করল না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে সমস্ত মানুষের সামনে ডাকবেন, যাতে করে সে ঈমানদারদের পোশাকের মধ্য থেকে যে ধরণের পোশাক খুশী তা ব্যবহার করতে পারে।” (তিরমিযী)⁷⁰

মাসআলা-১২৯ঃ হাশরের মাঠে ঈমানদারদের ওজুর অঙ্গসমূহ উজ্জল ও সাদা হবেঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال اني سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان امتى يدعون يوم القيامة غرا محجلين من اثار الوضوء فمن استطاع منكم ان يطيل غرته فليفعل (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমার উম্মতদেরকে ওযুর কারণে তাদের অঙ্গ পতঙ্গগুলো উজ্জল অবস্থায় ডাকা হবে, অতএব যে ব্যক্তি তার উজ্জলতাকে বাড়াতে সক্ষম সেযেন তা করে।" (বোখারী)⁷¹
নোটঃ উল্লেখ্য রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতদেরকে ওযুর অঙ্গ পতঙ্গের উজ্জলতা দেখেই চিনতে পারবেন। (ইবনু মাযা)

মাসআলা-১৩০ঃ হাশরের মাঠে আযান দাতার গর্দান লম্বা হবেঃ

عن معاوية بن ابى سفيان رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المؤذنون اطوال الناس اعناقا يوم القيامة (رواه ابن ماجة )
অর্থঃ "মোয়াবিয়া বিন আবুসুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুয়ায্যিন (আযান দাতা) কিয়ামতের দিন লোকদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা গলা বিশিষ্ট হবে।” (ইবনু মাযা)⁷²

মাসআলা-১৩১ঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে একে অপরকে মোহাব্বতকারী আলোকউজ্জল আসনে আসিন হবেঃ
عن معاذ بن جبل رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول قال الله عز وجل المتحبون فى جلالى لهم منابر من نور يغبطهم النبيون والشهداء (رواه الترمذي)
অর্থঃ "মোয়ায বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'লা বলেনঃ আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরস্পর পরস্পরকে মোহাব্বতকারী এমন নূরের মিম্বরের ওপর আসীন হবে, যা নবী ও শহীদগণও কামনা করবে।” (তিরমিযী)⁷³

মাসআলা-১৩২ঃ সর্বপ্রকার আচার আচরণে ইনসাফ কারীরা আল্লাহর ডান পর্শ্বে নূরের মিম্বরে আসীন হবেঃ

عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان المقسطين عند الله على منابر من نور عن يمين الرحمن عز وجل وكلتا يديه يمين الذين يعدلون في حكمهم واهليهم وماولوا (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই ইনসাফ কারীরা আল্লাহ্র নিকট তাঁর ডান পার্শ্বে নূরের মিম্বরসমূহের ওপর আসীন থাকবে। তাঁর উভয় হাতই ডান হাত, আর তারা হবে ঐ সমস্ত লোক যারা তাদের বিচার ফায়সালা ও প্রত্যেক ঐ সমস্ত কাজ যেখানে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা তারা ইনসাফের সাথে পালন করেছে।” (মুসলিম)⁷⁴

মাসআলা-১৩৩ঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরস্পর পরস্পরকে মোহাব্বত কারীদের চেহারা হাশরের মাঠে আলোক উজ্জল হবে, তারা নূরের মিম্বরের ওপর আরোহি হবে তাদের কোন ভয় ভীতি থাকবে নাঃ

عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان من عباد الله لا ناسا ما هم بانبياء ولا شهداء يغبطهم الانبياء والشهداء يوم القيامة بمكانهم من الله تعالى قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم تخبرنا من هم ؟ قال هم قوم تحابوا بروح الله على غير ارحام بينهم ولا اموال يتعاطونها فوالله ان وجوههم لنور وانهم على نور لا يخافون اذا خاف الناس ولا يحزنون اذا حزن الناس وقرء هذه الآية الا ان اولياء الله لا خوف عليهم ولاهم يحزنون ( سورة يونس - ٦٢ ابوداود)
অর্থঃ "ওমার বিন খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লোকদের মধ্য থেকে কিছু লোক এমন হবে, যারা না নবী না শহীদ, কিন্তু কিয়ামতের দিন নবী ও শহীদগণও তাদের প্রশংসা করবে, তাদের ঐ সম্মানের কারণে যা তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে লাভ করেছে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আপনি আমাদেরকে বলুনঃ কারা ঐ সুভাগ্যবান? তিনি বললেনঃ তারা ঐ সমস্ত লোক যাদের মাঝে কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, তারা একে অপরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মোহাব্বত করে, তাদের মাঝে অর্থ লেন-দেনেরও কোন সম্পর্ক নেই, (সেদিন) তাদের চেহারা নূরানী হবে এবং তারা নূরের মিম্বরের ওপর আসীন হবে, যখন লোকেরা ভয়ে ভীত থাকবে তখন তাদের কোন ভয়ই থাকবে না এবং লোকেরা যখন চিন্তিত থাকবে, তখন তাদের কোন চিন্তাই থাকবে না। এর পর তিনি এ আয়াত তেলওয়াত করলেন, "আল্লাহ্র ওলীদের কোন ভয় ও চিন্তা থাকবে না।" (সূরা ইউনুস-৬২, আবুদাউদ)⁷⁵

মাসআলা-১৩৪ঃ প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্বেও প্রতিশোধ নেয় নাই এমন ব্যক্তিকে হাশরের মাঠে তার পছন্দ মত হুর দেয়া হবেঃ

عن معاذ بن انس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من كتم غيظا وهو قادر على ان ينفذه دعاه الله على رؤوس الخلائق حتى يخيره من الحور العين يزوجه منها ما شاء (رواه احمد)
অর্থঃ "মোয়ায বিন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেয়ায় সক্ষম হওয়া সত্বেও প্রতিশোধ নেয় নাই, বরং রাগ দমন করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে সমস্ত মানুষের সামনে ডেকে, তার পছন্দ মত হুরঈন চয়ন করার সুযোগ দিবেন, তাদের মধ্যে যার সাথে ইচ্ছা তাকে সে বিয়ে করবে।” (আহমদ)⁷⁶

মাসআলা-১৩৫ঃ নিম্নোক্ত তিনটি আমল হাশরের মাঠে সম্মানের কারণ হবেঃ
(১) কোন বিপদ গ্রস্তের বিপদ দূর করা (২) ঋণ আদায়ে অপারগ ব্যক্তিকে ঋণ আদায়ের জন্য সময় দাতা (৩) কারো দোষ গোপন রাখাঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من نفس عن مؤمن كربة من كرب الدنيا نفس الله عنه كربة من كرب يوم القيامة ومن يسر على معسر يسر الله عليه في الدنيا والآخرة ومن ستر مسلما ستره الله فى الدنيا والاخرة (رواه مسلم)
অর্থঃ “আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার বিপদ সমূহের কোন বিপদ দূর করে, আল্লাহ্ তার কিয়ামতের বিপদসমূহের একটি বিপদ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন ঋণ গ্রহিতাকে তা আদায়ের জন্য সুযোগ দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাত তার জন্য সহজ করে দেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কোন দোষ গোপন রাখে আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।” (মুসলিম)⁷⁷

টিকাঃ
66 -কিতাবুল আযান, বাব মান জালাসা ফিল মাসজিদ ইয়ানতাযিরুস্সালা ওয়া ফাযলুল মাসাজিদ。
67 - আবওয়াবুল হিবাত, বাব ইনযারুল মো'সের (২/১৯৬৩)
68-আবওয়াবুল হিবাত, বাব ইনযার আল মো'সের (২/১৯৬৩)
69 -আবওয়াবুল বির ওয়াসসিলা, বাব মাযায়া ফি মায়ালী আল আখলাক (২/১৬৪২)
70 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব ১৫ (২/২০১৭)
71 -কিতাবুল ওযু, বাব ফযলুল ওযু。
72 -কিতাবুল আযান, বাব ফযলুল আযান (৩/২৫১৬)
73 - কিতাবুযযিকর ওয়াদ্দুয়া, বাব ফযলুল ইযতেমা আলা তিলওয়াতিল কোরআ'ন。
74-কিতাবুল ইমারা, বাব ফযিলাতুল ইমাম আল আদেল。
75-কিতাবুল ইযাযা ফিররেহেন (২/৩০১২)
76 -আলবানী লিখিত সহীহ আল জামে আস্সাগীর খঃ৫, হাদীস নং-৬৩৯৪。
77-কিতাবুযযিকর ওয়াদ্দুয়া। বাব ফযলুল ইজতেমা আলা তিলওয়াতিল কোরআ'ন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00