📄 হাশর
মাসআলা-১০১ঃ কিছু কিছু লোক তাদের কবর থেকে উঠে পায়ে হেঁটে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবেঃ
عن ابن عباس رضى الله عنهما سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول انكم ملاقوا الله حفاة عراة غرلا (رواه البخاري)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা উলঙ্গ, খালী পায়ে, হেঁটে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে।” (বোখারী)⁴⁷
মাসআলা-১০২ঃ কিছু লোক স্বীয় কবর থেকে উঠে সোয়ারীর ওপর আরোহন করে হাশরের মাঠে আসবেঃ
মাসআলা-১০৩ঃ কাফেরদেরকে আগুন হাশরের মাঠে তাড়িয়ে নিয়ে আসবেঃ
عن أبي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يحشر الناس على ثلاث طرائق راغبين وراهبين واثنان على بعير وثلاثة على بعير واربعة على بعير و عشرة على بعير وَتُحْشَرُ بَقِيَّتُهُمُ النَّارُ تَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا وَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتُصْبِحُ مَعَهُمْ حَيْثُ اَصْبَحُوا وَتُمْسِى مَعَهُمْ حَيْثُ اَمْسَوْا (رواه البخاری)
অর্থঃ "আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে তিন ভাগে বিভক্ত করে হাশরের মাঠে উপস্থিত করা হবে, একটি দল হবে জান্নাতের প্রতি আসক্ত, দ্বিতীয় দলটি জাহান্নামের প্রতি ভীত, (এ উভয় দল হবে মুসলমানদের) তাদের মধ্যে কিছু লোক একটি উটে আরোহন করে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে, আবার কিছু একটি উটে তিন জন করে আরোহন করে সেখানে উপস্থিত হবে, আবার কিছু একটি উটে চারজন করে আরোহন করে সেখানে উপস্থিত হবে, আবার কিছু একটি উটে দশজন করে আরোহন করে সেখানে উপস্থিত হবে। আর বাকী লোকেরা (কাফের) তাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে আসবে হাশরের মাঠে। যেখানেই তারা ক্লান্ত হয়ে আরামের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে, আগুনও সেখানে থেমে যাবে, যেখানে তারা রাত্রি যাপনের জন্য দাঁড়াবে আগুনও সেখানে দাঁড়িয়ে যাবে, যেখানে তারা প্রভাত করবে আগুনও সেখানে প্রভাত করবে, যেখানে তারা সন্ধা করবে আগুনও সেখানে সন্ধা করবে”। (বোখারী) ⁴⁸
মাসআলা-১০৪ঃ কিছু লোক অন্ধ ও মুক হওয়া সত্বেও মুখে ভর করে চলে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবেঃ
وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمَّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا) (سورة الإسراء : ٩٧)
অর্থঃ" কিয়ামতের দিন আমি তাদেরকে সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ, মুক, ও বধির করে, তাদের আবাস স্থল জাহান্নাম, যখনই তা অস্তিমিত হবে আমি তাদের জন্য অগ্নি বৃদ্ধি করে দিব”। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৯৭)
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ اَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يُحْشَرُ الْكَافِرُ عَلَى وَجْهِهِ ؟ قَالَ اَلَيْسَ الَّذِى اَمْشَاهُ عَلَى الرِّجْلَيْنِ فِى الدُّنْيَا قَادِرٌ عَلَى اَنْ يَمْشِيْهِ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ: قَتَادَةُ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ بَلَى وَعِزَّةِ رَبِّنَا (رواه البخاري)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফের কিভাবে তার মুখের ওপর ভর করে চলে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে? তিনি বললেনঃ ঐ সত্বা যিনি তাকে পৃথিবীতে দু'পায়ের ওপর চালিয়েছেন তিনি কি তাকে কিয়ামতের দিন তার মুখের ওপর ভর করে চালাতে পারবেন না? কাতাদা বললঃ হাঁ আমার রবের ইজ্জতের কসম"! (বোখারী) ⁴⁹
মাসআলা-১০৫ঃ কিছু কিছু লোককে তাদের মুখের ওপর ভর করা অবস্থায় ফেরেশতাগণ হাশরের মাঠে একত্রিত করবেনঃ
الَّذِينَ يُحْشَرُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلَى جَهَنَّمَ أُوْلَئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ سَبِيلًا) (سورة الفرقان : ٣٤)
অর্থঃ" যাদেরকে মুখে ভর করে চলা অবস্থায় জাহান্নামে একত্রিত করা হবে, তাদেরই স্থান হবে অতি নিকৃষ্ট এবং তারাই সর্বাধিক পথ ভ্রষ্ট"। (সূরা ফুরকান-৩৪)
عن بهز بن حكيم رضى الله عنه عن ابيه عن جده قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول انكم تحشرون رجالا وركبانا وتجرون على وجوهكم (رواه الترمذي)
অর্থঃ "বাহায বিন হাকীম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেনঃ তোমরা পায়ে হেঁটে, আরোহন করে এবং তোমাদের মুখের ওপর ভর করে হাশরের মাঠে জমা হবে।” (তিরমিযী)¹⁰
মাসআলা-১০৬ঃ সমস্ত সৃষ্টি জীবকে আল্লাহ্ এমনভাবে হাশরের মাঠে একত্রিত করবেন যে এক জন সৃষ্টিও অবশিষ্ট থাকবে নাঃ
وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ تُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا (سورة الكهف : ٤٧)
অর্থঃ "স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চালিত, আর তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর, সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেও অব্যহতি দিব না।” (সূরা কাহাফঃ ৪৭)
টিকাঃ
47 - কিতুবুর রিকাক, বাব কাইফাল হাশর।
48-কিতাবুর রিকাক, বাব কাইফাল হাশর।
49-কিতাবুর রিকাক, বাব কাইফাল হাশর।
10 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়া ফি সা'নিল হাশর (২/১৯৭৬)
📄 হাশরের মাঠ
মাসআলা-১০৭ঃ সিরিয়া লোকদেরকে একত্রিত করার স্থান (হাশরের মাঠ) হবেঃ
عن معاوية بن حيدة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انكم تحشرون رجالا وركبانا و تجرون على وجوهكم ههنا واوما بيده نحو الشام (رواه احمد والحاكم)
অর্থঃ "মোয়াবিয়া বিন হাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা পায়ে হেঁটে, আরোহন করে, মুখের ওপর ভর করে এখানে একত্রিত হবে, এবলে তিনি সিরিয়ার দিকে ইশারা করলেন।” (হাকেম)।⁵¹
عن ميمونة بنت سعد رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الشام ارض المحشر والنشر ( رواه احمد)
অর্থঃ "মাইমুনা বিনতে সা'দ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সিরিয়া একত্রিত হওয়া এবং বিক্ষিপ্ত হওয়ার স্থান।" (আহমদ)।⁵²
মাসআলা-১০৮ঃ হাশরের মাঠের আকাশ ও যমিন বর্তমান আকাশ ও যমিন থেকে ভিন্ন হবেঃ
يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ) (٤٨) سورة إبراهيم
অর্থঃ “যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশ মন্ডলী ও মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহ্র সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।" (সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮)
عن مسروق رضى الله عنه قال : تلت عائشة رضى الله عنها هذه الآية يوم تبدل الارض غير الارض قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاين يكون الناس قال على الصراط (رواه الترمذي)
অর্থঃ "মাসরুক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এ আয়াতটি তেলওয়াত করলেন, "যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে” এবং জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ পুল সিরাতের ওপর"। (তিরমিযী)⁵³
মাসআলা-১০৯ঃ হাশরের মাঠ আলোক উজ্জল সাদা পরিষ্কার গোলবের ন্যায় পৃথিবীতে সমবেত করা হবেঃ
وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاء وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ) (سورة الزمر : ٦٩ )
অর্থঃ "বিশ্ব তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, আমল নামা পেশ করা হবে এবং নবী ও সাক্ষীগণকেও হাজির করা হবে, সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না”। (সূরা যুমার-৬৯)
عن سهل بن سعد رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يحشر الناس يوم القيامة على ارض بيضاء عفراء كقرصة النقى ليس فيها علم لاحد (رواه مسلم)
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন লোকদেরকে সাদা উজ্জল পরিষ্কার গোলবের ন্যায় পৃথিবীতে সমবেত করা হবে যেখানে কারো কোন মালিকানার চিহ্ন থাকবে না।” (মুসলিম)⁵⁴
মাসআলা-১১০ঃ নূতন পৃথিবী সর্বপ্রকার পাপাচার যুলম অবিচার মুক্ত হবে সেখানে সমস্ত ফায়সালা ইনসাফ ভিত্তিক হবেঃ
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله تعالى يوم تبدل الارض غير الارض قال ارض بيضاء لم يسفق عليها دم ولم عليها خطيئة ( رواه البزار)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আল্লাহ্র বাণীঃ "যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে" তিনি বললেনঃ সাদা উজ্জল যমিন হবে যেখানে কোন রক্ত পাত হয় নাই এবং যেখানে কোন পাপাচার হয় নাই।" (বায্যার)⁵⁵
মাসআলা-১১১ঃ হাশরের মাঠে প্রত্যেকে খুব কষ্ট করে দু'পা রাখার মত স্থান পাবেঃ
عن على بن حسين رضى الله عنه قال اذا كان يوم القيامة مد الله الارض من الاديم حتى لا يكون لاحد من البشر الا موضع قدميه ذكره في الزهد لابن مبارك)
অর্থঃ "আলী বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পৃথিবীকে টেনে চামড়ার ন্যায় করে দিবেন, ফলে প্রত্যেক ব্যক্তি সেখানে শুধু তার দু'পা রাখার মত স্থান পাবে।” (বায্যার) ⁵⁶
টিকাঃ
51 - সহীহ আলজামে আস সাগীর, লি আরবানী খঃ২, হাদীস নং-২২৯৮।
52 - সহীহ আলজামে আস সাগীর, লি আলবানী খঃ২, হাদীস নং-৩৬২০।
53 -আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন, বাব সূরা ইবরাহীম (৩/২৪৯৬)
54 - কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন ওয়া আহকামিহিম, বাব ফিল বা'সি ওয়ানুসুর ওয়া সিফাতুল আরয ইয়ামুল কিয়ামা।
55- মাযমাউয্যাওয়ায়েদ, খ:১০, হাদীস নং-১৮৩৬৫।
56 -আত্তাযকিরাতুল কুরতুবী, আবওয়াবুল মাউত, বাব আইনা ইয়াকুনুন্নাস।
📄 হাশরের মাঠের ভয়াবহতা
মাসআলা-১১২ঃ হাশরের মাঠের ভয়াবহতা মৃত্যু ও কবরের কষ্টের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি হবেঃ
عن انس رضي الله عنه لا اعلمه الا رفعة قال صلى الله عليه وسلم لم يلق ابن ادام شيئا منذ خلقه الله عز وجل اشد عليه من الموت ثم ان الموت اهون مما بعده وانهم ليلقون من هول ذلك اليوم شدة حتى يلجمهم العرق حتى ان السفن لو اجريت فيه اجرت (رواه الطبراني)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন থেকে আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে তার ওপর মৃত্যুর চেয়ে বেদনাদায়ক সময় আর কখনো আসে নাই, আর মৃত্যুর পরের স্ত রসমূহ মুত্যুর চেয়েও বেদনা দায়ক, নিশ্চয়ই লোকেরা হাশরের দিনের কষ্টে অতিষ্ঠ হয়ে যাবে, শরীর থেকে ঘাম ঝড়তে থাকবে, ঘাম এত অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হবে যে, যদি কেউ ঘামের মাঝে নৌকা চালাতে চায় তাহলে তাও সম্ভব হবে।” (ত্বাবারানী)⁵⁷
মাসআলা-১১৩ঃ হাশরের মাঠের গরম ঘামে দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে লোকেরা নিরুপায় হয়ে আল্লাহর নিকট দুয়া করবে, হে আল্লাহ্ আমাদেরকে হাশরের মাঠ থেকে মুক্তি দিন, যদিও তা জাহান্নামেই হোকনা কেনঃ
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الرجل ليلجمه العرق يوم القيامة فيقول يا رب ارحنى ولو الى النار (رواه الطبراني)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন ঘাম কোন কোন লোকের মুখমন্ডল পর্যন্ত হবে, তখন সে দুয়া করতে থাকবে, হে আমার প্রভূ এ মুসিবত থেকে তুমি আমাকে মুক্তি দাও, যদিও তা জাহান্নামেই হোকনা কেন”। (ত্বাবারানী)¹⁴
মাসআলা-১১৪ঃহাশরের মাঠে সমস্ত নারী পুরুষ উলঙ্গ শরীর, জুতাহীন, খাতনাহীন হবে, কিন্তু ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকার কারণে কেউ কারো দিকে তাকাতে পারবে নাঃ
নোটঃ এ সংক্রান্ত হাদীসটি ৮৯ নং মাসআলা দ্রঃ।
মাসআলা-১১৫৪ঃ কাফেরদের ভয় ভীতিকে বৃদ্ধি করার জন্য জাহান্নামকে হাশরের মাঠের পাশে রাখা হবেঃ
(وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ) (سورة الشعراء : ٩١)
অর্থঃ "এবং বিপথগামীদের সামনে উন্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।” (সূরা শোয়ারাঃ ৯১)
মাসআলা-১১৬ঃ হাশরের মাঠে ভয়াবহতা দেখে কাফেরদের চেহারা কাল হয়ে যাবেঃ
وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاء سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ مَّا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِّنَ اللَّيْلِ مُظْلِمًا أَوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (سورة یونس : ۲۷)
অর্থঃ "আর যারা সঞ্চয় করেছে অকল্যাণ, অসৎ কর্মের বদলায় যে পরিমাণ অপমান তাদের তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে, কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহ্ হাত থেকে। তাদের মুখমন্ডল যেন ঢেকে দেয়া হয়েছে আঁধার রাতের টুকরো দিয়ে, এরা হল জাহান্নামী, এরা এতেই থাকবে অনন্ত কাল।" (সূরা ইউনুসঃ ২৭)
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ، تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ أُوْلَئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ) (سورة عبس : ٤٠ - (٤٢
অর্থঃ "এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধূলি ধূসরিত তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে তারাই কাফের পাপিষ্ঠের দল।" (সূরা আবাসাঃ ৪০-৪২)
وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللهِ وُجُوهُهُم مُّسْوَدَّةٌ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى للْمُتَكَبِّرِينَ) (سورة الزمر : ٦٠)
অর্থঃ "যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখ কাল দেখবেন, অহংকারকারীদের আবাসস্থল জাহান্নাম নয় কি?” (সূরা যুমারঃ ৬০)
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ، تَظُنُّ أَن يُفْعَلَ بِهَا فَاقِرَةٌ) (سورة القيامة : ٢٤-٢٥)
অর্থঃ "কোন কোন মুখ মন্ডল হয়ে পড়বে বিবর্ণ এ আশংকায় যে, এক ধ্বংসকারী বিপর্যয় আসন্ন।” (সূরা কিয়ামাঃ ২৪-২৫)
মাসআলা-১১৭ঃ তীর যেমন ধনুকে খুব কষ্ট করে রাখা হয় তেমনি লোকেরাও হাশরের মাঠে খুব কষ্ট করে ৫০ হাজার বৎসর থাকবেঃ
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله عنه قال تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم (يوم يقوم الناس لرب العالمين) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف بكم اذا جمعكم الله كما يجمع النبل في الكنانة خمسين الف سنة ثم لا ينظر الله اليكم (رواه الحاكم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর বিন আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াত তেলওয়াত করে বললেনঃ" যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।" (সূরা মোতাফফিফীনঃ ৬)
তিনি বললেনঃ তখন তোমাদের অবস্থা কি হবে? যখন আল্লাহ্ ৫০ হাজার বছরের জন্য এমন ভাবে একত্রিত করে রাখবেন, যেমন তীর ধনুকের সাথে মিশে থাকে, আর এসময়ে আল্লাহ্ তোমাদের দিকে তাকাবেনও না।” (হাকেম)⁵⁹
মাসআলা-১১৮ঃ কাফের মুশরেকদের জন্য হাশরের মাঠের অর্ধেক দিন ৫০ হাজার বছরের ন্যায় মনে হবেঃ
عن ابي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم يقوم الناس لرب العالمين مقدار نصف يوم من خمسين الف ستة فيهون ذالك على المؤمن كتدلى الشمس للغروب الى ان تغرب ( رواه ابو يعلى و ابن حبان
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ "যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে" তার ব্যাখ্যায় বলেছেন এর অর্ধেক দিনের পরিমাণ ৫০ হাজার বছরের ন্যায় হবে, আর এ পরিমাণ মুমেনদের জন্য অত্যন্ত সাধারণ হবে, সূর্য ঢলার পর থেকে নিয়ে অস্ত যাওয়ার সময়ের পরিমাণ হবে।"⁶⁰
মাসআলা-১১৯ঃ কাফেরদের জন্য হাশরের মাঠের কষ্ট মৃত্যু যন্ত্রনায় বেহুশ হয়ে যাওয়ার মত হবে আর মুমেনের জন্য শর্দির মত মনে হবেঃ
عن انس رضى الله عنه قال حدثني نبي الله عليه وسلم اني لقائم انتظر امتى تعبر الصراط اذ جاء عيسى عليه السلام قال فقال هذه الانبياء قد جاءتك يا محمد يسألون او قال يجتمعون اليك يدعون الله ان يفرق بين جمع الامم الى حيث يشاء لغم ما هم فيه فالخلق ملجمون في العرق فاما المؤمن فهو عليه كالزكمة واما الكافر فيتغشاه الموت (رواه احمد)
অর্থঃ “আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেনঃ আমি আমার উম্মতের জন্য পুলসিরাতের ওপর অপেক্ষা করতে থাকব, যাতে করে তারা পুল অতিক্রম করতে পারে, হঠাৎ করে ঈসা (আঃ) এসে বলবেনঃ হে মুহাম্মদ এটি নবীদের দল তারা এসেছে, বা বলবেনঃ সমস্ত নবীগণ আপনার নিকট এসেছে আপনি আল্লাহর নিকট দুয়া করুন, যেন তিনি সৃষ্টির মাঝে ফায়সালা করে তাদেরকে যেখানে তিনি চান সেখানে যেন পাঠিয়ে দেন, যাতে করে তারা বর্তমানে যে কষ্টে আছে তা থেকে মুক্তি পায়। সৃষ্টি জীব ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে, ঈমানদারদের জন্য হাশরের মাঠের কষ্ট শর্দির কষ্টের মত মনে হবে। অথচ কাফেরদের নিকট হাশরের মাঠের কষ্ট মৃত্যু যন্ত্রনায় বেঁহুশ হওয়ার মত কষ্ট কর হবে।” (আহমদ) ⁶¹
টিকাঃ
57 -মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত্তারগিব ওয়াততার হিব, খঃ৪, হাদীস নং-৫২৫৮।
58 - মহিউদ্দীন আদিব লিখিত আত্তারগিব ওয়াস্ততার হিব, খঃ৪, হাদীস নং-৫২৬০।
59 - কিতাবুল আহওয়াল, বাব লা-ইদখুলু আহলুল জান্না হাতা ইয়ানকু আন মাযালিমিলদ্দুনইয়া।
60-মহিউদ্দীন আদীব লিখিত আত্তারগীব ওয়াত্তার হিব, খঃ৪, হাদীস নং-৫২৫৮।
61 - মাযমাউযযাওয়ায়েদ, বিশ্লেষণ আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ দরবেশ, কিতাবুল বা'স বাব ফিশিফা (১০/১৮৫০৬।
📄 হাশরের মাঠে সূর্যের তাপ
মাসআলা-১২০ঃ হাশরের মাঠে সূর্য মানুষ থেকে এক মাইল দূরে থাকবে লোকেরা স্ব স্ব আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবেঃ
عن المقداد بن الاسود رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تدنى الشمس يوم القيامة من الخلق حتى تكون منه كمقدار ميل قال فيكون الناس على قدر اعمالهم فى العرق فمنهم من يكون الى كعبيه ومنهم من يكون الى ركبتيه ومنهم إلى حقويه منهم من يلجمه العرق الجاما قال واشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده الى فيه (رواه مسلم)
অর্থঃ “মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের কাছ থেকে এক মাইল দূরে থাকবে, আর লোকেরা স্ব স্ব আমল মোতাবেক ঘামের মাঝে ডুবে থাকবে, কারো টখনা পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত, কারো গলা পর্যন্ত, একথা বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর মুখের দিকে ইশারা করলেন।” (মুসলিম)⁶²
মাসআলা-১২১ঃ ঘাম কোন কোন লোকের পায়ের পাতা পর্যন্ত হবে, কোন কোন লোকের টাখনার নিচ পর্যন্ত হবে, কোন কোন লোকের হাটু পর্যন্ত, কোন কোন লোকের পেট পর্যন্ত, কোন কোন লোকের কোমর পর্যন্ত, কোন কোন লোকের কাঁধ পর্যন্ত, কোন কোন লোকের মুখ পর্যন্ত, কোন কোন লোক ঘামের মাঝে সাতার কাঁটবেঃ
عن عقبة بن عامر رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تدنو الشمس من الارض فيعرق الناس فمن الناس من يبلغ عرقه عقيبيه ومنهم من يبلغ نصف الساق ومنهم من يبلغ الى العجز ومنهم من يبلغ الى الخاصرة ومنهم من يبلغ منكبيه ومنهم من يبلغ عنقه ومنهم من يبلغ وسطه واشار بيده الجمها فاه رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يشير هكذا ومنهم من يغطيه عرقه وضرب بيده واشار وامر يده فوق رأسه من غير ان يصيب الرأس دور راحتيه يمينا وشمالا ( رواه احمد والطبراني وابن حبان والحاكم
অর্থঃ "ওকবা বিন আমের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্য পৃথিবীর নিকটবর্তী হয়ে যাবে, মানুষের শরীর থেকে ঘাম ঝড়তে থাকবে, ঘাম কারো পায়ের পাতা পর্যন্ত হবে, কারো ঘাম টাখনার নিচ পর্যন্ত হবে, কারো হাটু পর্যন্ত হবে, কারো পিট পর্যন্ত, কারো ঘাম কোমর পর্যন্ত হবে, কারো কাঁধ পর্যন্ত, কারো গর্দান পর্যন্ত, কারো মুখ পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন যেমন কারো মুখে লাগام লাগানো থাকে, ওকবা বিন আমের বলেনঃ আমি দেখলাম তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, কেউ ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে।" (আহমদ, ত্বাবারানী, ইবনু হিব্বান, হাকেম)⁶³
মাসআলা-১২২ঃ কোন কোন লোকের মুখের ওপরে কানের নিচ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবেঃ
عن ابن عمر رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم يوم يقوم الناس لرب العالمين قال يقوم احدهم فى الرشح الى انصاف اذنيه (رواه الترمذي)
অর্থঃ "ইবনে ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ "যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।" এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেনঃ কোন কোন লোক কানের নিচ পর্যন্ত ঘামের মাঝে ডুবে থাকবে।” (তিরমিযী)⁶⁴
মাসআলা-১২৩ঃ কিয়ামতের দিন মানুষের শরীর থেকে এত ঘাম ঝড়বে যে তা মাটির ওপর ১৪০ মিটার উঁচু হবেঃ
عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان العرق يوم القيامة ليذهب في الارض سبعين باعا وانه ليبلغ الى افواه الناس او الى اذانهم (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃকিয়ামতের দিন ঘাম মাটি থেকে ১৪০ মিটার উচু হবে, আর তা কোন কোন লোকের মুখ বা কান পর্যন্ত হবে।" (মুসলিম)⁶⁵
টিকাঃ
62 -কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাব সিফাত ইয়ওমুল কিয়ামা。
63 - মহিউদ্দীন আদীব লিখিত আত্তারগীব ওয়াত্তারহিব, কিতাবুল বা'স, ফাসল ঠিল হাশর (৪/৫২৫৭)।
64 -আবওয়াব তাফসীরুরল কোরআ'ন, বাব সূরা ওয়াইলুল লিল মোতাফইফফীন (৩/২৬৫৬)।
65 -কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাব সিফাত ইয়ামুল কিয়ামা।