📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 পুনরুত্থান

📄 পুনরুত্থান


মাসআলা-৮৬ঃ লোকেরা স্ব স্ব কবর থেকে অত্যন্ত চিন্তিত অবস্থায় উঠবেঃ

وَيَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ وَكُلِّ أَتَوْهُ داخِرِينَ (سورة النمل : ۸۷)
অর্থঃ "যেদিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, অতপর আল্লাহ্ যাদেরকে ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত, নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীত বিহবল হয়ে পড়বে এবং সবাই তার নিকট আসবে বিনীত অবস্থায়।" (সূরা নামলঃ ৮৭)

মাসআলা-৮৭ঃ যাকে কোন প্রাণী খেয়ে ফেলে ছিল সে ঐ প্রাণীর পেট থেকে বের হবে, যে পানিতে ডুবে মারা গেছে সে সেখান থেকে উত্থিত হবে, যাকে জ্বালিয়ে ছাই করে বাতাশে উড়িয়ে দেয়া হয়ে ছিল, সে সেখান থেকে উত্থিত হবেঃ

عن انس بن مالك رضى الله عنه قال : اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم على حمزة يوم احد فوقف عليه فرآه قد مثل به فقال لولا ان تجد صفية فى نفسها لتركته حتى تأكله العافية حتى يحشر يوم القيامة من بطونها (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হামযা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর লাশের নিকট এসে দেখল, তাঁকে মোসলা (নাক কান কেঁটে ফেলা হয়েছে), তখন তিনি বললেনঃ যদি সাফিয়া তার মনে ব্যাথা অনুভব না করত, তাহলে আমি হামযাকে এ অবস্থায়ই রেখে দিতাম, যাতে করে তাকে কোন জানোয়ারে খেয়ে ফেলে এবং কিয়ামতের দিন তার পেট থেকে সে বের হয়।" (তিরমিযী)³⁷

মাসআলা-৮৮ঃ লোকেরা তাদের কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পংগ পালের ন্যায়ঃ
(يَوْمَ يَدْعُ الدَّاعِ إِلَى شَيْءٍ نُكُرٍ ، خُشَعًا أَبْصَارُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌ مُنتَشِرُ، مُهْطِعِينَ إِلَى الدَّاعِ يَقُولُ الْكَافِرُونَ هَذَا يَوْمٌ عَسِرٌ) (سورة القمر : ٦ - ٨)
অর্থঃ "অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন, যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে, বিক্ষিপ্ত পংগ পালের ন্যায়। তারা আহ্বান কারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে।” (সূরা আলকামারঃ ৬-৮)

মাসআলা-৮৯ঃ লোকেরা স্ব স্ব কবর থেকে উলঙ্গ, খালী পা, ও খাতনাহীন অবস্থায় উঠবেঃ

عن عائشة رضى الله عنها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يحشر الناس يوم القيامة حفاة وعراة غرلا قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم الرجال والنساء جميعا ينظر بعضهم إلى بعض قال يا عائشة الامر اشد من أن ينظر بعضهم الى بعض رواه مسلم)
অর্থঃ "আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে উলঙ্গ, খালী পা, ও খাতনাহীন অবস্থায় উঠানো হবে, আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূরাল্লাহ্! সমস্ত নারী ও পুরুষরা একে অপরের দিকে দেখতে থাকবে না? তিনি বললেনঃ হে আয়শা সে দিনটি এত ভয়াবহ হবে যে, একে অপরের দিকে তাকানোর মত হুশ থাকবে না।” (মুসলিম)³⁸

মাসআলা-৯০ঃ কোন কোন লোককে তার কবর থেকে অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবেঃ

وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنْ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى، قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا ، قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنسَى﴾ (سورة طه : ١٢٤ - ١٢٦)
অর্থঃ “এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। সে বলবে হে আমার পালনকর্তা, আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমিতো চক্ষুষ্মান ছিলাম। আল্লাহ্ বলবেনঃ এমনি ভাবে তোমার নিকট আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, এর পর তুমি তা ভুলে গিয়ে ছিলা, তেমনি ভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে।" (সূরা ত্বাহাঃ ১২৪-১২৬)

মাসআলা-৯১ঃ কিছু কিছু লোককে বধির মুক ও অন্ধ করে তোলা হবেঃ
নোটঃএসংক্রান্ত হাদীসটি ১০৪ নং মাসআলা দ্রঃ।

মাসআলা-৯২ঃ কবর থেকে বের হওয়া মাত্র দু'জন ফেরেশ্তা তাদের সাথে থেকে তাদেরকে আল্লাহর আদালতে নিয়ে আসবেঃ
( وَلَوْ تَرَى إِذْ فَزِعُوا فَلَا فَوْتَ وَأُخِذُوا مِنْ مَكَانٍ قَرِيبٍ ) (سورة সাবা: ৫১)
অর্থঃ "যদি আপনি দেখতেন যখন তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, এর পর পালিয়ে বাঁচতে পারবে না এবং নিকটবর্তী স্থান থেকে ধরা পড়বে” (সূরা সাবা-৫১)

( وَجَاءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَائِقٌ وَشَهِيدٌ) (سورة ق : ٢١)
অর্থঃ "প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে, তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী।" (সূরা ক্বাফঃ ২১)

মাসআলা-৯৩ঃ কাফেররা কবর থেকে উঠার পর অত্যন্ত লাঞ্ছনা ও অপমানের সাথে হাশরের মাঠ পর্যন্ত পৌঁছবেঃ

( يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ ، خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَانُوا يُوعَدُونَ) (سورة المعارج : ٤٣ - ٤٤)
অর্থঃ "সেদিন তারা কবর থেকে দ্রুত বেগে বের হবে, যেন তারা কোন এক লক্ষ্য স্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে, তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত তারা হবে হীনতা গ্রস্ত, এটাই সেদিন, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হত।" (সূরা মাআ'রেজঃ ৪৩-৪৪)

মাসআলা-৯৪ঃ মৃত ব্যক্তির জন্য আহাজারী কারী নারীরা কবর থেকে এমনভাবে উঠবে যেন তাদের শরীরে চুলকানীর কারণে তারা তাদের শরীর যখম করছেঃ

عن ابي مالك الاشعرى رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم النائحة اذا لم تتب قبل موتها تقام يوم القيامة وعليها سربال من قطران ودرع من جرب (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবু মালেক আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপকারী মহিলা, তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তাওবা না করে, তাহলে এমনভাবে সে তার কবর থেকে উঠবে, যেন তার শরীরে আলকাতরার চাদর ও খস খসে চামড়ার ওড়না থাকবে।" (মুসলিম)³⁹

মাসআলা-৯৫ঃ ঈমান দাররা তাদের কবর থেকে দাড়ি হীন গোঁফ হীন লাজুক চোখ নিয়ে ৩০ বছরের যুবকের ন্যায় কবর থেকে উঠবেঃ

عن معاذ بن جبل رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يبعث المؤمنون يوم القيامة جراد مردا مكحلين بنى ثلاثين سنة (رواه احمد)
অর্থঃ "মোয়ায বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মোমেন ব্যক্তিরা তাদের কবর থেকে দাড়ি গোঁফ হীন, লাজুক চোখ নিয়ে ৩০ বছরের যুবকের ন্যায় উঠবে”। (আহমদ) ⁴⁰

মাসআলা-৯৬ঃ কবর থেকে উঠার পর সর্ব প্রথম ইবরাহীম (আঃ) কে কাপড় পরানো হবে, এর পর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে, এর পর অন্যান্য নবীগণকে, এর পর ঈমানদারদেরকে পালাক্রমে কাপড় পরানো হবেঃ

عن ابن عباس رى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انكم تحشرون حفاة عراة و اول من يكسى من الجنة ابراهيم يكسى حلة من الجنة ويؤتى بكرسي فيطرح عن يمين العرش ويؤتى بي فاكسى حلة من الجنة لا يقوم لها البشر ثم اوتى بكرسي فيطرح لي على ساق العرش ( رواه البيهقي)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা উলঙ্গ ও খালী পায়ে হাশরের মাঠে একত্রিত হবে, সর্ব প্রথম যাকে জান্নাতের পোশাক পরানো হবে তিনি হবেন ইবরাহীম (আঃ)। তাকে জান্নাতের পোশাক পরানো হবে, এরপর তার জন্য একটি চেয়ার এনে আরশের ডান পার্শ্বে রাখা হবে, এর পর আমার জন্য জান্নাত থেকে পোশাক আনা হবে এবং আমাকে তা পরানো হবে, যা অন্য কাউকে পরানো হবে না, এর পর আমার জন্য একটি চেয়ার আনা হবে এবং আরশের খুঁটির পার্শ্বে রাখা হবে।” (বাইহাকী) ⁴¹
নোটঃ ইবরাহীম (আঃ)-কে নমরূদ যখন আগুনে নিক্ষেপ করে, তখন তাঁর শরীর থেকে পোশাক খুলে নিয়েছিল, তাই কিয়ামতের দিন তাঁকে সর্বপ্রথম কাপড় পরানো হবে।" (ফাতহুল বারী-৬/৩৯০)

মাসআলা-৯৭ঃ প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কবর থেকে সে অবস্থায় উঠবে যে অবস্থায় সে মৃত্যু বরণ করে ছিলঃ

عن جابر رضى الله عنه قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول يبعث كل عبد على ما مات عليه (رواه مسلم)
অর্থঃ "জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক বান্দা যে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে, ঐ অবস্থায় তার পুনরুত্থান হবে।" (মুসলিম) ⁴²
عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يبعث الناس على نياتهم (رواه احمد)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লোকেরা তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত হবে"। (আহমদ)⁴³

عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اذا اراد الله بقوم عذابا اصاب العذاب من كان فيهم ثم بعثوا على اعمالهم (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন ওমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেনঃ যখন আল্লাহ্ কোন জাতিকে শাস্তি দিতে চান, তখন পুরা জাতিকেই শাস্তি দেন, এরপর কিয়ামতের দিন লোকেরা স্ব স্ব আমল অনুযায়ী কবর থেকে উঠবে এবং তারা আলাদা আলাদা শাস্তি বা আরাম ভোগ করবে।” (মুসলিম)⁴⁴

টিকাঃ
37 - কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাব ফানাউদ্দুনিয়া ওয়া বায়ানুল হাশর ইয়াওমুল কিয়ামা।
38 -কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাব আদ্দুনইয়া ওয়া বায়ানুল হাশর ইয়াওমুল কিয়ামা।
39- কিতাবুল জানায়েয, বাব তাসদীদ ফিন্নীয়াহা।
40-মাযমাউযযাওয়ায়েদ, খঃ১০, হাদীস নং-১৮৩৪৬।
41-আত্তাযকিরা লি কোরতুবী, আবওয়াবুল মাউত, মাযায়া ফি হাশরিন্নাস ইলাল্লাহ তাআলা।
42-কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাবুল আমর বিহুসজ্জিন্ন বিল্লাহ তা'লা ইন্দাল মাওত।
43 - সহীহুল জামে আস্সাগীর, ওয়া যিয়াদতুহু, খঃ৬, হাদীস নং-৭৮৭১।
44-কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতুহু, বাবুল আমরি বিহুসনি জ্জন বিল্লাহি তা'লা ইন্দাল মাওত।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 আল্লাহর পথে শহীদদের পুনরুত্থান

📄 আল্লাহর পথে শহীদদের পুনরুত্থান


মাসআলা-৯৯ঃ শহীদ স্বীয় কবর থেকে শরীর থেকে রক্ত ঝড়া অবস্থায় উত্থিত হবেঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده لا يكلم احد في سبيل الله والله اعلم بمن يكلم فى سبيله الا جاء يوم القيامة واللون لون الدم والريح ريح المسك (رواه البخاري)
অর্থঃ "আবুহুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঐ সত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পথে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে, আর আল্লাহ্ ভাল করে জানেন কে আল্লাহ্ পথে আঘাত পেয়েছে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উত্থিত হবে যে, তার রক্তের রং তো রক্তের মতই হবে, কিন্তু তা থেকে কস্তুরীর সুঘ্রাণ আসবে।" (বোখারী)⁴⁵
মাসআলা-১০০ঃ ইহরামরত অবস্থায় মৃত্যু বরণকারী হাজী তার কবর থেকে তালবীয়া পাঠ করতে করতে উঠবেঃ

عن ابن عباس رضى الله عنهما أن رجلا كان مع النبي صلى الله عليه وسلم فوقصته ناقته وهو محرم فمات فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اغسلوه بماء وسدر وكفنوه في ثوبيه ولا تمسوه بطيب ولا تخمروا رأسه فانه يبعث يوم القيامة ملبيا (رواه النسائي)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ বিদায় হজ্বের সময় এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিল, তার উট তাকে ফেলে দিয়ে গর্দান ভেঙ্গে দিয়ে ছিল এবং এতে সে মারা গেল, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তাকে পানি ও বড়ই পাতা দিয়ে গোসল করাও, ইহরামের উভয় কাপড়ে তাকে কাফন দাও, তার শরীরে সুগন্ধি লাগাবে না, তার মাথা ও ঢাকবে না, কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পড়তে পড়তে উঠবে"। (মুসলিম)⁴⁶

টিকাঃ
45 -কিতাবুল জিহাদ, বাব মান ইয়াখরুজু ফি সাবীলিল্লাহ।
46 -কিতাবুল হাজ্জ বাব গোসলুল মোহরেম ক্সিসিদির ইযা মাতা।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশর

📄 হাশর


মাসআলা-১০১ঃ কিছু কিছু লোক তাদের কবর থেকে উঠে পায়ে হেঁটে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবেঃ

عن ابن عباس رضى الله عنهما سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول انكم ملاقوا الله حفاة عراة غرلا (رواه البخاري)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা উলঙ্গ, খালী পায়ে, হেঁটে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে।” (বোখারী)⁴⁷

মাসআলা-১০২ঃ কিছু লোক স্বীয় কবর থেকে উঠে সোয়ারীর ওপর আরোহন করে হাশরের মাঠে আসবেঃ
মাসআলা-১০৩ঃ কাফেরদেরকে আগুন হাশরের মাঠে তাড়িয়ে নিয়ে আসবেঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يحشر الناس على ثلاث طرائق راغبين وراهبين واثنان على بعير وثلاثة على بعير واربعة على بعير و عشرة على بعير وَتُحْشَرُ بَقِيَّتُهُمُ النَّارُ تَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا وَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتُصْبِحُ مَعَهُمْ حَيْثُ اَصْبَحُوا وَتُمْسِى مَعَهُمْ حَيْثُ اَمْسَوْا (رواه البخاری)
অর্থঃ "আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেনঃ লোকদেরকে তিন ভাগে বিভক্ত করে হাশরের মাঠে উপস্থিত করা হবে, একটি দল হবে জান্নাতের প্রতি আসক্ত, দ্বিতীয় দলটি জাহান্নামের প্রতি ভীত, (এ উভয় দল হবে মুসলমানদের) তাদের মধ্যে কিছু লোক একটি উটে আরোহন করে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে, আবার কিছু একটি উটে তিন জন করে আরোহন করে সেখানে উপস্থিত হবে, আবার কিছু একটি উটে চারজন করে আরোহন করে সেখানে উপস্থিত হবে, আবার কিছু একটি উটে দশজন করে আরোহন করে সেখানে উপস্থিত হবে। আর বাকী লোকেরা (কাফের) তাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে আসবে হাশরের মাঠে। যেখানেই তারা ক্লান্ত হয়ে আরামের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে, আগুনও সেখানে থেমে যাবে, যেখানে তারা রাত্রি যাপনের জন্য দাঁড়াবে আগুনও সেখানে দাঁড়িয়ে যাবে, যেখানে তারা প্রভাত করবে আগুনও সেখানে প্রভাত করবে, যেখানে তারা সন্ধা করবে আগুনও সেখানে সন্ধা করবে”। (বোখারী) ⁴⁸

মাসআলা-১০৪ঃ কিছু লোক অন্ধ ও মুক হওয়া সত্বেও মুখে ভর করে চলে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবেঃ

وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمَّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا) (سورة الإسراء : ٩٧)
অর্থঃ" কিয়ামতের দিন আমি তাদেরকে সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ, মুক, ও বধির করে, তাদের আবাস স্থল জাহান্নাম, যখনই তা অস্তিমিত হবে আমি তাদের জন্য অগ্নি বৃদ্ধি করে দিব”। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৯৭)

عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ اَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يُحْشَرُ الْكَافِرُ عَلَى وَجْهِهِ ؟ قَالَ اَلَيْسَ الَّذِى اَمْشَاهُ عَلَى الرِّجْلَيْنِ فِى الدُّنْيَا قَادِرٌ عَلَى اَنْ يَمْشِيْهِ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ: قَتَادَةُ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ بَلَى وَعِزَّةِ رَبِّنَا (رواه البخاري)
অর্থঃ "আনাস বিন মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফের কিভাবে তার মুখের ওপর ভর করে চলে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে? তিনি বললেনঃ ঐ সত্বা যিনি তাকে পৃথিবীতে দু'পায়ের ওপর চালিয়েছেন তিনি কি তাকে কিয়ামতের দিন তার মুখের ওপর ভর করে চালাতে পারবেন না? কাতাদা বললঃ হাঁ আমার রবের ইজ্জতের কসম"! (বোখারী) ⁴⁹

মাসআলা-১০৫ঃ কিছু কিছু লোককে তাদের মুখের ওপর ভর করা অবস্থায় ফেরেশতাগণ হাশরের মাঠে একত্রিত করবেনঃ

الَّذِينَ يُحْشَرُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلَى جَهَنَّمَ أُوْلَئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ سَبِيلًا) (سورة الفرقان : ٣٤)
অর্থঃ" যাদেরকে মুখে ভর করে চলা অবস্থায় জাহান্নামে একত্রিত করা হবে, তাদেরই স্থান হবে অতি নিকৃষ্ট এবং তারাই সর্বাধিক পথ ভ্রষ্ট"। (সূরা ফুরকান-৩৪)

عن بهز بن حكيم رضى الله عنه عن ابيه عن جده قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول انكم تحشرون رجالا وركبانا وتجرون على وجوهكم (رواه الترمذي)
অর্থঃ "বাহায বিন হাকীম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেনঃ তোমরা পায়ে হেঁটে, আরোহন করে এবং তোমাদের মুখের ওপর ভর করে হাশরের মাঠে জমা হবে।” (তিরমিযী)¹⁰

মাসআলা-১০৬ঃ সমস্ত সৃষ্টি জীবকে আল্লাহ্ এমনভাবে হাশরের মাঠে একত্রিত করবেন যে এক জন সৃষ্টিও অবশিষ্ট থাকবে নাঃ

وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ تُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا (سورة الكهف : ٤٧)
অর্থঃ "স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চালিত, আর তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর, সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেও অব্যহতি দিব না।” (সূরা কাহাফঃ ৪৭)

টিকাঃ
47 - কিতুবুর রিকাক, বাব কাইফাল হাশর।
48-কিতাবুর রিকাক, বাব কাইফাল হাশর।
49-কিতাবুর রিকাক, বাব কাইফাল হাশর।
10 -আবওয়াব সিফাতুল কিয়ামা, বাব মাযায়া ফি সা'নিল হাশর (২/১৯৭৬)

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 হাশরের মাঠ

📄 হাশরের মাঠ


মাসআলা-১০৭ঃ সিরিয়া লোকদেরকে একত্রিত করার স্থান (হাশরের মাঠ) হবেঃ

عن معاوية بن حيدة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انكم تحشرون رجالا وركبانا و تجرون على وجوهكم ههنا واوما بيده نحو الشام (رواه احمد والحاكم)
অর্থঃ "মোয়াবিয়া বিন হাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা পায়ে হেঁটে, আরোহন করে, মুখের ওপর ভর করে এখানে একত্রিত হবে, এবলে তিনি সিরিয়ার দিকে ইশারা করলেন।” (হাকেম)।⁵¹

عن ميمونة بنت سعد رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الشام ارض المحشر والنشر ( رواه احمد)
অর্থঃ "মাইমুনা বিনতে সা'দ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সিরিয়া একত্রিত হওয়া এবং বিক্ষিপ্ত হওয়ার স্থান।" (আহমদ)।⁵²

মাসআলা-১০৮ঃ হাশরের মাঠের আকাশ ও যমিন বর্তমান আকাশ ও যমিন থেকে ভিন্ন হবেঃ

يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ) (٤٨) سورة إبراهيم
অর্থঃ “যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশ মন্ডলী ও মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহ্র সামনে, যিনি এক পরাক্রমশালী।" (সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮)

عن مسروق رضى الله عنه قال : تلت عائشة رضى الله عنها هذه الآية يوم تبدل الارض غير الارض قالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاين يكون الناس قال على الصراط (رواه الترمذي)
অর্থঃ "মাসরুক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এ আয়াতটি তেলওয়াত করলেন, "যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে” এবং জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ পুল সিরাতের ওপর"। (তিরমিযী)⁵³

মাসআলা-১০৯ঃ হাশরের মাঠ আলোক উজ্জল সাদা পরিষ্কার গোলবের ন্যায় পৃথিবীতে সমবেত করা হবেঃ

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاء وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ) (سورة الزمر : ٦٩ )
অর্থঃ "বিশ্ব তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, আমল নামা পেশ করা হবে এবং নবী ও সাক্ষীগণকেও হাজির করা হবে, সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না”। (সূরা যুমার-৬৯)

عن سهل بن سعد رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يحشر الناس يوم القيامة على ارض بيضاء عفراء كقرصة النقى ليس فيها علم لاحد (رواه مسلم)
অর্থঃ "কিয়ামতের দিন লোকদেরকে সাদা উজ্জল পরিষ্কার গোলবের ন্যায় পৃথিবীতে সমবেত করা হবে যেখানে কারো কোন মালিকানার চিহ্ন থাকবে না।” (মুসলিম)⁵⁴

মাসআলা-১১০ঃ নূতন পৃথিবী সর্বপ্রকার পাপাচার যুলম অবিচার মুক্ত হবে সেখানে সমস্ত ফায়সালা ইনসাফ ভিত্তিক হবেঃ

عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله تعالى يوم تبدل الارض غير الارض قال ارض بيضاء لم يسفق عليها دم ولم عليها خطيئة ( رواه البزار)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আল্লাহ্র বাণীঃ "যেদিন পরিবর্তিত করা হবে এ পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে" তিনি বললেনঃ সাদা উজ্জল যমিন হবে যেখানে কোন রক্ত পাত হয় নাই এবং যেখানে কোন পাপাচার হয় নাই।" (বায্যার)⁵⁵

মাসআলা-১১১ঃ হাশরের মাঠে প্রত্যেকে খুব কষ্ট করে দু'পা রাখার মত স্থান পাবেঃ

عن على بن حسين رضى الله عنه قال اذا كان يوم القيامة مد الله الارض من الاديم حتى لا يكون لاحد من البشر الا موضع قدميه ذكره في الزهد لابن مبارك)
অর্থঃ "আলী বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পৃথিবীকে টেনে চামড়ার ন্যায় করে দিবেন, ফলে প্রত্যেক ব্যক্তি সেখানে শুধু তার দু'পা রাখার মত স্থান পাবে।” (বায্যার) ⁵⁶

টিকাঃ
51 - সহীহ আলজামে আস সাগীর, লি আরবানী খঃ২, হাদীস নং-২২৯৮।
52 - সহীহ আলজামে আস সাগীর, লি আলবানী খঃ২, হাদীস নং-৩৬২০।
53 -আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন, বাব সূরা ইবরাহীম (৩/২৪৯৬)
54 - কিতাব সিফাতুল মুনাফেকীন ওয়া আহকামিহিম, বাব ফিল বা'সি ওয়ানুসুর ওয়া সিফাতুল আরয ইয়ামুল কিয়ামা।
55- মাযমাউয্যাওয়ায়েদ, খ:১০, হাদীস নং-১৮৩৬৫।
56 -আত্তাযকিরাতুল কুরতুবী, আবওয়াবুল মাউত, বাব আইনা ইয়াকুনুন্নাস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00