📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 কিয়ামত ও পৃথিবী

📄 কিয়ামত ও পৃথিবী


পৃথিবী
মাসআলা-৫৭ঃ পৃথিবী প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবেঃ

(إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًا) (سورة الواقعة : ٤ )
অর্থঃ "পৃথিবী যখন প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে" (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৪)

মাসআলা-৫৮ঃ আল্লাহর ভয়ে পৃথিবী কাঁপতে থাকবেঃ

يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيبًا مَّهِيلًا ) (سورة المزمل: ١٤)
অর্থঃ "যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ হয়ে যাবে বহমান বালুকাস্তুপ।” (সূরা মুয্যাম্মিলঃ ১৪)

মাসআলা-৫৯ঃ পৃথিবী তার ভান্ডারসমূহ উন্মুক্ত করে দিবেঃ

إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ، وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴾ (سورة الزلزلة : ١-٢)
অর্থঃ" যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দিবে" (সূরা যিলযালঃ ১-২)

মাসআলা-৬০ঃ মাত্র একটি ফুৎকারে পৃথিবী চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবেঃ

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ، وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً) (سورة الحاقة : ١٣ - ١٤)
অর্থঃ "যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুৎকার এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তলিত হবে এবং চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়া হবে।" (সূরা হাক্কাঃ ১৩-১৪)

মাসআলা-৬১ঃ পৃথিবীকে এমন মসৃণ ভাবে সম্প্রসারিত করা হবে যে তাতে কোন মোড় ও টিলা থাকবে নাঃ

وَإِذَا الْأَرْضُ مُدَّت ) (سورة الإنشقاق : ٣)
অর্থঃ" এবং যখন পৃথিবী সম্প্রসারিত করা হবে" (সূরা ইনশিকাক-৩)

فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا ، لَا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْنًا ) (سورة طه : ١٠٦-١٠٧)
অর্থঃ "অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতল ভূমি করে ছাড়বেন তুমি তাতে মোড় ওটিলা দেখবে না।" (সূরা তূরঃ ১০৬-১০৭)
وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا) (سورة الكهف : ٨)
অর্থঃ "এবং অবশ্যই আমি তা উদ্ভিদ শুন্য মাটিতে পরিণত করে দিব।" (সূরা কাহাফঃ ৮)

পাহাড়
মাসআলা-৬২ঃ পাহাড় মেঘমালার ন্যায় সচল হবেঃ

وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ (سورة النمل : ۸۸)
অর্থঃ "তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার ন্যায় চলমান হবে, এটা আল্লাহ্, যিনি সব কিছুকে করছেন সুসংহত"। (সূরা নামল-৮৮)

মাসআলা-৬৩ঃ পাহাড়সমূহ মরিচীকায় পরিণত হবেঃ

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا) (سورة النبأ : ٢٠)
অর্থঃ "এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।" (সূরা নাবাঃ ২০)

মাসআলা-৬৪ঃ পাহাড়সমূহ ধূলিকণায় পরিণত হবেঃ

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا ) (سورة طه : ١٠٥)
অর্থঃ "তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করে অতএব আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা পাহাড় সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন।" (সূরা ত্বাহাঃ ১০৫)

মাসআলা-৬৫ঃ পাহাড়সমূহ ভেংগে চুরমার হয়ে ধূলিকণায় পরিণত হবেঃ

وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ، فَكَانَتْ هَبَاء مُنبَثًا ) (سورة الواقعة : ٥ - ٦ )
অর্থঃ “এবং পর্বতমালা ভেংগে চুরমার হয়ে যাবে, অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।" (সূরা ওয়াকেয়াঃ ৫-৬)

মাসআলা-৬৬ঃ পাহাড়সমূহ ধুনিত রঙ্গিন পশমের ন্যায় হবেঃ

وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ) (سورة القارعة : ٥)
অর্থঃ "এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গিন পশমের মত।" (সূরা কারেয়াঃ ৫)

সমুদ্র
মাসআলা-৬৭ঃ সমুদ্রের পানিকে উত্তাল করা হবেঃ

وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ (سورة التكوير : ٦ )
অর্থঃ "যখন সমুদ্রসমূহকে উদ্বেলিত করা হবে।" (সূরা তাকভীর-৬)
(وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ) (سورة الإنفطار: ٣)
অর্থঃ "যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে।" (সূরা ইনফেতারঃ ৩)

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 শিংগা

📄 শিংগা


মাসআলা-৬৮ঃ শিঙ্গায় ফুঁৎকারের মধ্য দিয়ে কিয়ামত শুরু হবেঃ

(وَنُفِخَ فِي الصُّورِ ذَلِكَ يَوْمُ الْوَعِيدِ) (سورة ق : ٢٠)
অর্থঃ "এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন।" (সূরা ক্বাফঃ ২০)

মাসআলা-৬৯ঃ শিঙ্গার আকৃতি কোন প্রাণীর শিংয়ের ন্যায় হবে যাতে ফুঁ দেয়া হবেঃ

عن عبد الله ابن عمرو رضى الله عنه قال قال اعرابی یا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما الصور ؟ قال قرن ينفخ فيه (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক বেদুইন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙ্গা কি? তিনি বললেনঃ (কোন প্রাণীর) শিং তাতে ফুঁ দেয়া হবে।” (তিরমিযী)²⁷

মাসআলা-৭০: শিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার সময় ফুঁ দাতার ডান পাশে জীবরীল (আঃ) এবং বাম পাশে মিকাঈল (আঃ) থাকবেঃ

عن ابي سعيد رضى الله عنه قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم صاحب الصور قال عن يمينه جبريل وعن يساره میکائیل (رواه رزین)
অর্থঃ "আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙ্গায় ফুঁ দাতার কথা আলোচনা করতে গিয়ে বললেনঃ তার ডান দিকে থাকবে জিবরীল এবং বাম দিকে থাকবে মীকাঈল।" (রাযিন)²⁸

মাসআলা-৭১ঃ শিঙ্গার আওয়াজ এত বিকট হবে যে মানুষ তা শোনা মাত্রই মৃত্যুবরণ করতে শুরু করবে।
عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه احد الا اصغى ليتا ورفع ليتا قال أول من يسمعه رجل يلوط حوض ابله قال فيصعق ويصعق الناس (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অতঃপর শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর তা শোনা মাত্রই মানুষ স্বীয় গর্দান এক দিকে হেলিয়ে দিবে এবং অপর দিকে উঠাবে (মৃত্যুবরণ) করবে। সর্ব প্রথম যে বক্তি শিঙ্গার আওয়াজ শুনবে সে হবে ঐ ব্যক্তি যে তার উটের হাউজ মেরামত করতে ছিল, সে আওয়াজ শোনা মাত্রই পড়ে যাবে এবং অন্য লোকেরাও তা শোনে পড়ে যেতে থাকবে।” (মুসলিম)²⁹

মাসআলা-৭২ঃ শিঙ্গার আওয়াজ শ্রবণকারীদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "হাসবুনাল্লাহ্ ওয়া নে'মাল ওকীল" বলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেনঃ
নোটঃ এসংক্রান্ত হাদীসটি ৩ নং মাসআলায় দ্রঃ।

মাসআলা-৭৩ঃ ইস্রাফীল (আঃ) তাঁর জন্ম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত শিঙ্গা তাঁর মুখে নিয়ে আছে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ফুঁ দিবেঃ

عن البراء رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صاحب الصور واضع الصور على فيه منذ خلق ينتظر متى يؤمر ان ينفخ فيه فينفخ (رواه احمد والحاكم)
অর্থঃ "বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃশিঙ্গায় ফুঁ দাতা তার জন্ম থেকে শিঙ্গা মুখে নিয়ে অপেক্ষা করছে, নির্দেশ পাওয়া মাত্র তাতে ফুঁ দিবে।" (আহমদ, হাকেম)³⁰

মাসআলা-৭৪ঃ শুক্র বারে শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবেঃ

عن أبي لبابة بن عبد المنذر رضى الله عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم ان يوم الجمعة سيد الايام واعظمها عند الله من يوم الاضحى ويوم الفطر فيه خمس خلال ، خلق الله فيه آدم واهبط الله فيه آدم الى الارض وفيه توفى الله آدم وفيه ساعة لا يسأل الله فيها العبد شيئا الا اعطاه ما لم يسأل حراما وفيه تقوم الساعة ما من ملك مقرب ولا سماء ولا ارض ولا رياح ولا جبال ولا بحر الا وهن يشفقن من يوم الجمعة (رواه ابن ماجة )
অর্থঃ “আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনযির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শুক্রবার দিন সমূহের সর্দার ও আল্লাহর নিকট মর্যাদা পূর্ণ, তা আল্লাহ্র নিকট ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফেতেরের দিনের চেয়ে উত্তম, তার মধ্যে পাঁচটি বৈশিষ্ট রয়েছে, এদিনে আল্লাহ্ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, আর এদিনেই তাঁকে পৃথিবীতে নামিয়েছেন এবং এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এদিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোন বান্দা যে দুয়া করবে আল্লাহ্ তাই কবুল করেেবন, যদি তা হারাম কোন কিছু না হয়। এ দিনেই কিয়ামত হবে, আল্লাহ্র এমন কোন প্রিয় ফেরেস্তা, আকাশ, যামিন, বাতাশ, পাহাড় সমুদ্র নেই যা শুক্র বারে আল্লাহর ভয়ে ভীত না থাকে।” (ইবনে মাযা)³¹

টিকাঃ
27 - আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন-সূরা যুমার (৩/২৫৮৬)
28-আলবানী লিখিত-মেশকাতুল মাসাবীহ কিতাব আহওয়ালুল কিয়ামা, বাব আন্নাফপু ফিস্সর (আল ফাসলুস্ সালেস।
29-কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতিসায়া, বাব যিকরু দ্দাজ্জাল।
30 - আরবানী লিখিত সহীহ আল জামে'আস্সাগরি খঃ৩ হাদীস নং-৩৬৪৬।
31 আবওয়াব ইকামাতুস্সালা, বাব ফি ফাযলিল জুমআ (১/৮৮৮)।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 শিংগায় কতবার ফুঁ দেয়া হবে

📄 শিংগায় কতবার ফুঁ দেয়া হবে


মাসআলা-৭৬ঃ শিঙ্গায় দু'বার ফুঁ দেয়া হবে প্রথম ফুঁয়ের পর সমস্ত সৃষ্টি জীব মারা যাবে এবং দ্বিতীয় ফুঁয়ের পর সমস্ত সৃষ্টি জীব জীবিত হবেঃ

﴿وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُم قِيَامٌ يَنظُرُونَ ﴾ (سورة الزمر : ٦٨)
অর্থঃ "শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে ফলে আকাশ ও যমিনে যারা আছে সবাই বেঁহুশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করেন, অতপর শিঙ্গায় আবার ফুঁক দেয়া হেব তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডয়মান হয়ে দেখতে থাকবে।” (সূরা যুমারঃ ৬৮)

عن عبد الله ابن عمرو رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه احد الا اصغى ليتا ورفع ليتا قال اول من يسمعه رجل يلوط حوض ابله قال فيصعق و يصعق الناس ثم يرسل الله او قال ينزل الله مطرا كانه الظل أو الظل نعمان الشاك فتنبت منه اجساد الناس ثم ينفخ فيه اخرى فاذاهم قيام ينظرون (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অতঃপর শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, আরা যারাই তা শুনতে পাবে তারা স্বীয় গর্দান এক দিকে ঝুকিয়ে দিবে এবং অন্য দিকে উঠাবে (মারা যাবে), সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি এ আওয়াজ শুনতে পাবে, সে তার উটের হাউজ মেরামত করতে থাকবে, এমতাবস্থায় সে বেহুঁশ হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে অন্য লোকেরাও বেহুঁশ হয়ে যাবে, এর পর আল্লাহ্ কুয়াশার ন্যায় বৃষ্টি পাঠাবেন বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ফলে মানুষের শরীর সতেজ হবে, অতপর দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন লোকের সাথে সাথে উঠে দেখতে থাকবে।” (মুসলিম)³²

মাসআলা-৭৭ঃ প্রথম এবং দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার মাঝে কত সময় থাকবে তার সঠিক জ্ঞান এক মাত্র আল্লাহই ভাল রাখেনঃ

عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين النفختين اربعون قالوا يا أبا هريرة ! اربعون يوما ؟ قال ابيت قالوا اربعون شهرا ؟ قال ابيت قالوا اربعون سنة ؟ قال ابيت ثم ينزل الله من السماء ماء فينبتون كما ينبت البقل قال وليس من الانسان شئ الا يبلى الا عظما واحدا وهو عجب الذنب ومنه يركب الخلق يوم القيامة (رواه مسلم)
"আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু'টি ফুঁৎকারের মাঝে চল্লিশ, (সাহাবাগণ) জিজ্ঞেস করল হে আবুহুরাইরা চল্লিশ দিন? তিনি বললেনঃ আমি জানিনা, তারা আবার জিজ্ঞেস করল চল্লিশ মাস? তিনি বললেনঃ আমি জানিনা, তারা আবার জিজ্ঞেস করল চল্লিশ বছর? তিনি বললেনঃ আমি জানিনা, অতঃপর আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষর্ণ করবেন, এরপর মানুষের শরীর এমন ভাবে সতেজ হবে যেমন মাটি থেকে সবুজ সতেজ চারা উৎপন্ন হয়। আবুহুরাইরা আরো বলেনঃ মানুষের শরীরের একটি হাড্ডি ব্যতীত সমস্ত শরীর মাটি হয়ে যাবে, আর তাহল মেরুদন্ডের হাড্ডি, কিয়ামতের দিন ঐ হাড্ডি থেকেই লোকদেরকে পুনরুত্থান করা হবে।” (মুসলিম)³³

টিকাঃ
32-কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতিস্সায়া, বাব যিকরি দ্দাজ্জাল।
৩৩-কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতিসায়া, বাব মা বাইনা নাফখাতাইন।

📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 শিংগায় দ্বিতীয় ফুৎকারের পর কি হবে?

📄 শিংগায় দ্বিতীয় ফুৎকারের পর কি হবে?


মাসআলা-৮৩ঃ শিঙ্গায় দ্বিতীয় বার ফুঁৎকারের পর সমস্ত শরীর গুলো জিবীত মানুষের আকারে উঠে দাঁড়াবেঃ

فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ ، فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ) (سورة النازعات: ١٣ - ١٤)
অর্থঃ "অতএব এটাতো একটি বিকট শব্দ মাত্র, তখনই তারা ময়দানে আবির্ভূত হবে।” (সূরা নাযিয়াতঃ ১৩-১৪)

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ) (سورة يس : ٥١)
অর্থঃ" শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে" (সূরা ইয়াসীন-৫১)

মাসআলা-৮৪৪ শিঙ্গায় দ্বিতীয় বার ফুঁক দেয়ার পর লোকেরা দলে দলে আল্লাহর আদালতে উপস্থিত হতে শুরু করবেঃ

يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا) (سورة النبأ: ١٨)
অর্থঃ "যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে।" (সূরা নাবাঃ ১৮)

মাসআলা-৮৫ঃ শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর সর্ব প্রথম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর থেকে উঠবেন এর পর অন্যান্য লোকেরা উঠবেঃ

عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن فى الارض الا من شاء الله ثم نفخ فيه اخرى فاذا هم قيام ينظرون فاكون اول من رفع رأسه فاذا موسى آخذ بقائمه من قوائم العرش فلا ادرى ارفع رأسه قبلی ام كان ممن استثنى الله (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রথম বার শিঙ্গায় ফুঁৎকারের পর আকাশ ও যমিনের সমস্ত সৃষ্টি জীব মারা যাবে, শুধু তারা ব্যতীত যাদেরকে আল্লাহ্ রাখতে চাইবে, দ্বিতীয় বার শিঙ্গায় ফুঁৎকারের পর লোকেরা উঠে দেখতে থাকবে।" (সূরা যুমারঃ ৬৮)
সর্বপ্রথম কবর থেকে আমি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা উঠাব, ঐ সময় মূসা (আঃ) আরশের খুঁটি সমূহের একটি খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকবেন। আমি জানিনা যে তিনি আমার আগে কবর থেকে উঠবেন, না তিনি ঐ সমস্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ্ চিন্তা মুক্ত রাখবেন"। (তিরমিযী)³⁶

টিকাঃ
36 -আবওয়াব তাফসীররুল কোরআ'ন, সূরা যুমার (৩/২৫৮৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00