📄 কিয়ামতের ভয়াবহতা
মাসআলা-৩০ঃ কিয়ামতের ভয়াবহতার ফলে বাচ্চা বৃদ্ধ হয়ে যাবেঃ
﴿فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا ، السَّمَاءِ مُنفَطِرٌ بِهِ كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولًا﴾ (সূরা মুয্যাম্মিল : ১৭-১৮)
অর্থঃ" তবে কি করে আত্ম রক্ষা করবে সেদিন, যেদিন কিশোর কে পরিণত করব বৃদ্ধে, যেদিন আকাশ হবে বিদীর্ণ, তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে"। (সূরা মুয্যাম্মিল-১৭-১৮)
মাসআলা-৩১ঃ মানুষের অন্তর পরিবর্তন হয়ে যাবেঃ
﴿رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ﴾ (সূরা নূর : ৩৭)
অর্থঃ "সেসব লোক যাদেরকে ব্যবসা বানিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহ্র স্মরণ থেকে এবং নামায কায়েম করা থেকে ও যাকাত আদায় থেকে বিরত রাখতে পারে না, তারা ভয় করে সেদিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে যাবে।” (সূরা নূরঃ ৩৭)
মাসআলা-৩২ঃ চক্ষু স্থির হয়ে যাবেঃ
﴿وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةُ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ﴾ (সূরা আম্বীয়া : ৯৭)
অর্থঃ" অমোঘ প্রতিশ্রুত কাল আসন্ন হলে আকস্মাৎ কাফেরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে, তারা বলবেঃ হায় দুর্ভোগ আমাদের! আমরাতো ছিলাম এবিষয়ে উদাসীন, আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম"। (সূরা আম্বীয়া-৯৭)
মাসআলা-৩৩ঃ কলিজা বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবেঃ
﴿وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ، يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ، وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَقْضُونَ بِشَيْءٍ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾ (সূরা গাফির : ১৮-২০)
অর্থঃ "তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন (কিয়ামত) সম্পর্কে, দুঃখে-কষ্টে তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, যালিমদের জন্য কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই, যার সুপারিশ গ্রায্য হবে, এমন কোন সুপারিশকারীও নেই, চক্ষুর অপব্যবহার এবং অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত। আল্লাহ্ বিচার করেন সঠিক ভাবে, আল্লাহ্ ব্যতীত তারা যাদেরকে ডাকে তারা বিচার করতে অক্ষম, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা-মুমেনঃ ১৮-২০)
মাসআলা-৩৪ঃ অন্তর কাঁপতে থাকবেঃ
﴿يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ، تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ ، قُلُوبٌ يَوْمَئِذٍ وَاجِفَةٌ، أَبْصَارُهَا خَاشِعَةٌ﴾ (سورة النازعات : ٦ - ٩)
অর্থঃ "সেদিন প্রথম শিঙ্গা ধ্বনি প্রকম্পিত করবে, তাকে অনুকরণ করবে পরবর্তী শিঙ্গা ধ্বনী। কত হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে, তাদের দৃষ্টিসমূহ (ভীত হয়ে) অবনমিত হবে।” (সূরা- নাযিয়াত-৬-৯)
মাসআলা-৩৫ঃ চোখ ভয়ে ভীত হয়ে অবনমিত হবেঃ
﴿يَوْمَ يَدْعُ الدَّاعِ إِلَى شَيْءٍ نُّكُرٍ، خُشَّعًا أَبْصَارُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌ mّ منتَشِرٌ مُهْطِعِينَ إِلَى الدَّاعِ يَقُولُ الْكَافِرُونَ هَذَا يَوْمٌ عَسِرٌ﴾ (سورة القمر : ٦ - ٨)
অর্থঃ "অতএব তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর, যেদিন আহ্বানকারী (ইস্রাফীল) আহ্বান করবে এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে, অপমানে অবনমিত নেত্রে সেদিন তারা কবরসমূহ থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত پঙ্গ পালের ন্যায়। তারা আহ্বানকারীর দিকে ছুটে আসবে ভীত-বিহবল হয়ে কাফেররা বলবেঃ কঠিন এই দিন।" (সূরা আল কামার-৬-৮)
মাসআলা-৩৬ঃ লোকেরা ভয়ে নতজানু হয়ে থাকবেঃ
﴿وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةً كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ (سورة الجاثية : ٢٨)
অর্থঃ" এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে ভয়ে নতজানু প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তার আমলনামার প্রতি আহ্বান করা হবে, আজ তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে, যা তোমরা করতে"। (সূরা জাসিয়া-২৮)
মাসআলা-৩৭ঃ তা হবে দুর্ভোগের দিনঃ
﴿هَذَا يَوْمُ لَا يَنطِقُونَ ، وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ، وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ﴾ (سورة المرسلات : ٣٥-٣٧)
অর্থঃ "এটা এমন এক দিন যেদিন কারো বাকস্ফূর্তি হবে না এবং তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না তাওবা করার, সে দিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপ কারীদের জন্য।" (সূরা মুরসালাতঃ ৩৫-৩৭)
মাসআলা-৩৮ঃ সেদিন হবে সংকটময় দিনঃ
﴿فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ، فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمٌ عَسِيرٌ، عَلَى الْكَافِرِينَ غَيْرُ يَسِير﴾ (سورة المدثر : ٨- (১০))
অর্থঃ "যে দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন হবে এক সংকটের দিন, যা কাফেরদের জন্য সহজ নয়।” (সূরা মুদ্দাস্সিরঃ ৮-১০)
মাসআলা-৩৯ঃ সেদিন কোন আশ্রয় স্থল থাকবে নাঃ
اسْتَجِيبُوا لِرَبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لا مَرَدَّ لَهُ مِنَ اللَّهِ مَا لَكُم مِّن مَّلْجَا يَوْمَئِذٍ وَمَا لَكُم مِّن نكير) (سورة الشورى : ٤٧ )
অর্থঃ "তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দাও সেই দিবস আসার পূর্বে যা আল্লাহ্ বিধানে অপ্রতিরুদ্ধ, যেদিন তোমাদের কোন আশ্রয় স্থল থাকবে না এবং তোমাদের জন্য তা নিরোধ করারও কেউ থাকবে না"। (সূরা শূরা-৪৭)
يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ ، كَلَّا لَا وَزَرَ، (سورة القيامة : ١٠-١١)
অর্থঃ "সেদিন মানুষ বলবে আজ পালাবার স্থান কোথায়? না কোন আশ্রয়স্থল নেই।" (সূরা কিয়ামাঃ ১০-১১)
মাসআলা-৪০ঃ সেদিন কোন চাতুরতা, সর্তকতা, বাক পটুতা, চক্রান্ত কোন কাজে আসবে নাঃ
يَوْمَ لَا يُغْنِي عَنْهُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ) (سورة الطور : ٤٦)
অর্থঃ"সেদিন তাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না”। (সূরা তুর-৪৬)
মাসআলা-৪১ঃ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং উচ্চ পদ কোন কাজে আসবে নাঃ
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيهُ، وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيهُ، يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ ، مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيهُ ، هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانية ) (سورة الحاقة : ٢٥-٢٩)
অর্থঃ "কিন্তু যার আমল নামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে হায়! আমাকে যদি দেয়াই না হত, আমার আমল নাম। আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব। হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত, আমার ধন-সম্পদ আমার কোনই কাজে আসল না। আমার ক্ষমতাও অপসৃত হয়েছে।" (সূরা হাক্কাঃ ২৫-২৯)
মাসআলা-৪২ঃ সেদিন স্ত্রী সন্তান অন্তরঙ্গ বন্ধু ধন-সম্পদ কোন কাজে আসবে নাঃ
وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ (سورة البقرة : ٤٨)
অর্থঃ" এবং তোমরা সেদিবসের ভয় কর যেদিন এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি থেকে কিছু মাত্র উপকৃত হবে না এবং কোন ব্যক্তি থেকে কোন সুপারিশও গৃহিত হবে না, কোন ব্যক্তি থেকে কোন বিনিময়ও গ্রহণ করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না"। (সূরা বাক্বারা-৪৮)
فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَةُ ، يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ، وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ ، وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنْ يُغْنِيهِ ) (سورة عبس : ۳۳-۳۷)
অর্থঃ" যখন ঐ ধ্বংস ধ্বনি এসে যাবে সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভায়ের কাছ থেকে এবং তার মা ও পিতা থেকে, তার পত্নী ও তার সন্তান থেকে, সেদিন তাদের প্রত্যেকের হবে এমন গুরুতর অবস্থা যা তাকে সম্পূর্ণ রূপে ব্যস্ত রাখবে"। (সূরা আবাসা-৩৩-৩৭)
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ، إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ) ( سورة الشعراء : ۸۸-۸۹)
অর্থঃ "যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন কাজে আসবে না, সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে যে, আল্লাহ্র নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।" (সূরা শুআ'রাঃ ৮৮-৮৯)
মাসআলা-৪৩-অন্তরঙ্গ বন্ধু একে অপরের শত্রু হয়ে যাবেঃ
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ (سورة الزخرف : ٦٧)
অর্থঃ "বন্ধুরা সেদিন হয়ে পড়বে একে অপরের শত্রু, তবে মোত্তাকীরা ব্যতীত।” (সূরা যুখরুফ-৬৭)
মাসআলা-৪৪ঃ সেদিন মানুষ তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে নিজে বাঁচতে চাইবেঃ
يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءِ كَالْمُهْلِ ، وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ ، وَلَا يَسْأَلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا، يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمَئِذٍ بَنِيهِ ، وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ، وَفَصيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ، وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُنجِيهِ، كَلَّا إِنَّهَا لَظَى ، نَزَّاعَةً لِّلشَّوَى) (سورة المعارج : ٨-١٦)
অর্থঃ "সেদিন আকাশ হবে গলিত ধাতুর মত এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত, আর সুহৃদ সুহৃদের তত্ত্ব নিবে না, তাদেরকে করা হবে একে অপরের দৃষ্টি গোচর। অপরাধী সেদিনে শাস্তির বদলে দিতে চাইবে সন্তান সন্ততিকে, তার স্ত্রী ও ভ্রাতাকে, তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে যারা তাকে আশ্রয় দিত এবং পৃথিবীর সকলকে, যাতে এই মুক্তি পন তাকে মুক্তি দেয়। না কখনো না এটাতো লেলিহান অগ্নি, যা গাত্র থেকে চামড়া খসিয়ে দিবে।" (সূরা মা'আরিজঃ ৮-১৬)
মাসআলা-৪৫ঃ কিয়ামত অত্যন্ত ভয়ানক ও তিক্ততর:
بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ ، إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ، يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ) (سورة القمر : ٤٦ - ٤٨ )
অর্থঃ "অধিকন্তু কিয়ামত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতম ও তিক্ততর। নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও আযাবে নিপতিত, যেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে (সেদিন বলা হবে) জাহান্নামের যন্ত্রনা আস্বাদন কর।" (সূরা কামারঃ ৪৬-৪৮)
মাসআলা-৪৬ঃ কিয়ামত সম্পর্কে বর্ণিত সূরা সমূহ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বৃদ্ধ করে দিয়ে ছিলঃ
عن ابن عباس رضی الله عنهما قال قال ابوبكر رضى الله عنهما يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ! قد شبت قال شيبتنى هود والواقعة والمرسلات وعم يتسالون واذا الشمس كورت (رواه الترمذي)
অর্থঃ "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তিনি বললেনঃ আমাকে সূরা হুদ, ওয়াকেয়া, মোরসালাত, আম্মাইয়া তাসাআলুন, ইযাস সামছু কুব্বিরাত বৃদ্ধ করে দিয়েছে।" (তিরমিযী)²⁵
মাসআলা-৪৭ঃ কিয়ামতের ভয়াবহতা শিশুকে বৃদ্ধ করে দিবে গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে লোকদেরকে দেখে মাতাল বলে মনে হবেঃ
عن ابي سعيد رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول الله عز وجل يا آدم فيقول لبيك وسعديك والخير في يديك قال يقول اخرج بعث النار قال وما بعث النار قال من كل الف تسع مائة وتسعة وتسعين قال فذالك حين يشيب الصغير وتضع كل ذات حمل حملها وترى الناس سكارى وماهم بسكارى ولكن عذاب الله شديد قال فاشتد ذالك عليهم قالوا يا رسول الله اينا ذاك الرجل فقال ابشروا فانا من ياجوج وماجوج الفا ومنكم رجل (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবুসাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃকিয়ামতের দিন আল্লাহ্ আদম (আঃ) কে লক্ষ্য করে বলবেনঃ হে আদম, আদম (আঃ) বলবেনঃ হে আল্লাহ্ আমি আপনার খেদমতে ও অনুসরণে উপস্থিত, আর সর্বময় কল্যাণ আপনারই হাতে, তখন আল্লাহ্ বলবেনঃ মানুষের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে পৃথক কর, আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করবে জাহান্নামী কত জন? আল্লাহ্ বলবেঃ প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এটা ঐ সময় যখন শিশু বৃদ্ধ হয়ে যাবে, গর্ভবতী সন্তান গর্ভপাত করে ফেলবে, আর লোকদেরকে দেখ মনে হবে তারা যেন মাতাল, অথচ তারা মাতাল নয়, বরং আল্লাহ্র আযাবই এত বেদনাদায়ক হবে।
আবুসাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ একথা শুনে সাহাবাগণ পেরেশান হয়ে গেল এবং বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাহলে আমাদের মাঝে ঐ সুভাগ্যবান কে হবে যে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বললেনঃ নিশ্চিন্ত থাক ইয়াজুজ মাজুজের মধ্য থেকে হবে ৯৯৯ জন, আর তোমাদের মধ্য থেকে এক জন নিয়ে এক হাজার পূর্ণ হবে”। (মুসলিম)²⁶
টিকাঃ
25-আবওয়াব তাফসীররুল কোরআ'ন বাব সূরাতুল ওয়াকিয়া।
26-কিতাবুল ঈমান, বাব বায়ান কাওনি হাজিহিল উম্মা নিসফ আহলিল জান্না।
📄 কিয়ামত ও আকাশের অবস্থা
আকাশ
মাসআলা-৪৮ঃ আকাশ ফেটে লাল চামড়ার মত হয়ে যাবেঃ
فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَاءِ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ) (سورة الرحمن : ۳۷)
অর্থঃ "যে দিন আকাশ বিদীর্ণ হবে, সেদিন তা রক্ত রঙ্গে রঞ্জিত চর্মের রূপ নিবে।” (সূরা রহমান-৩৭)
মাসআলা-৪৯ঃ সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবেঃ
وَانشَقْتِ السَّمَاءِ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ ) (سورة الحاقة : ١٦)
অর্থঃ" এবং আকাশ বিদীর্ণ হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে"। (সূরা হাক্কা-৩৭)
মাসআলা-৫০ঃ আকাশ গলিত স্বর্ণের ন্যায় হয়ে যাবেঃ
يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءِ كَالْمُهْلِ ) (سورة المعارج (۸)
অর্থঃ" সেদিন আকাশ হবে গলিত ধাতুর ন্যায়”। (সূরা মাআ'রিজ-৭০)
মাসআলা৫১ঃ সেদিন আকাশ প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবেঃ
يَوْمَ تَمُورُ السَّمَاءِ مَوْرًا) (سورة الطور : ٩)
অর্থঃ "সেদিন আকাশ প্রকম্পিত হবে প্রবল ভাবে।" (সূরা তূরঃ ৯)
সূর্য
মাসআলা-৫২ঃ সেদিন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবেঃ
إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ) (سورة التكوير : ١ )
অর্থঃ" যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে" (সূরা তাকভীর-১)
চাঁদ
মাসআলা-৫৩: চাঁদ আলোহীন হয়ে যাবেঃ
(وَخَسَفَ الْقَمَرُ) (সورة القيامة : ٨)
অর্থঃ "চাঁদ জ্যোতিহীন হয়ে যাবে।" (সূরা কিয়ামাঃ ৮)
মাসআলা-৫৪ঃ চাঁদ ও সূর্যকে আলোহীন করে একত্রিত করে দেয়া হবেঃ
(وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ (سورة القيامة : ٩
অর্থঃ"এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে" (সূরা কিয়ামা-৯)
তারকারাজী
মাসআলা-৫৫ঃ তারকারাজী আলোহীন হয়ে যাবেঃ
(فَإِذَا النُّجُومُ طُمِسَت) (سورة المرسلات : ۸)
অর্থঃ "অতঃপর যখন নক্ষত্রসমূহ নির্বাপিত হবে।" (সূরা মুরসালাতঃ ৮)
(وَإِذَا النُّجُومُ الكَدَرَتْ (سورة التكوير ( ٢ )
অর্থঃ "যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে।" (সূরা তাকভীরঃ ২)
(وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَتْ (سورة الإنفطار : ٢)
মাসআলা-৫৬ঃ নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বেঃ
অর্থঃ "যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে।" (সূরা ইনফিতারঃ ২)
📄 কিয়ামত ও পৃথিবী
পৃথিবী
মাসআলা-৫৭ঃ পৃথিবী প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবেঃ
(إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًا) (سورة الواقعة : ٤ )
অর্থঃ "পৃথিবী যখন প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে" (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৪)
মাসআলা-৫৮ঃ আল্লাহর ভয়ে পৃথিবী কাঁপতে থাকবেঃ
يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيبًا مَّهِيلًا ) (سورة المزمل: ١٤)
অর্থঃ "যেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ হয়ে যাবে বহমান বালুকাস্তুপ।” (সূরা মুয্যাম্মিলঃ ১৪)
মাসআলা-৫৯ঃ পৃথিবী তার ভান্ডারসমূহ উন্মুক্ত করে দিবেঃ
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ، وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴾ (سورة الزلزلة : ١-٢)
অর্থঃ" যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দিবে" (সূরা যিলযালঃ ১-২)
মাসআলা-৬০ঃ মাত্র একটি ফুৎকারে পৃথিবী চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবেঃ
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ، وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً) (سورة الحاقة : ١٣ - ١٤)
অর্থঃ "যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুৎকার এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তলিত হবে এবং চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়া হবে।" (সূরা হাক্কাঃ ১৩-১৪)
মাসআলা-৬১ঃ পৃথিবীকে এমন মসৃণ ভাবে সম্প্রসারিত করা হবে যে তাতে কোন মোড় ও টিলা থাকবে নাঃ
وَإِذَا الْأَرْضُ مُدَّت ) (سورة الإنشقاق : ٣)
অর্থঃ" এবং যখন পৃথিবী সম্প্রসারিত করা হবে" (সূরা ইনশিকাক-৩)
فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا ، لَا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْنًا ) (سورة طه : ١٠٦-١٠٧)
অর্থঃ "অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতল ভূমি করে ছাড়বেন তুমি তাতে মোড় ওটিলা দেখবে না।" (সূরা তূরঃ ১০৬-১০৭)
وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا) (سورة الكهف : ٨)
অর্থঃ "এবং অবশ্যই আমি তা উদ্ভিদ শুন্য মাটিতে পরিণত করে দিব।" (সূরা কাহাফঃ ৮)
পাহাড়
মাসআলা-৬২ঃ পাহাড় মেঘমালার ন্যায় সচল হবেঃ
وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ (سورة النمل : ۸۸)
অর্থঃ "তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার ন্যায় চলমান হবে, এটা আল্লাহ্, যিনি সব কিছুকে করছেন সুসংহত"। (সূরা নামল-৮৮)
মাসআলা-৬৩ঃ পাহাড়সমূহ মরিচীকায় পরিণত হবেঃ
وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا) (سورة النبأ : ٢٠)
অর্থঃ "এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।" (সূরা নাবাঃ ২০)
মাসআলা-৬৪ঃ পাহাড়সমূহ ধূলিকণায় পরিণত হবেঃ
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا ) (سورة طه : ١٠٥)
অর্থঃ "তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করে অতএব আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা পাহাড় সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন।" (সূরা ত্বাহাঃ ১০৫)
মাসআলা-৬৫ঃ পাহাড়সমূহ ভেংগে চুরমার হয়ে ধূলিকণায় পরিণত হবেঃ
وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ، فَكَانَتْ هَبَاء مُنبَثًا ) (سورة الواقعة : ٥ - ٦ )
অর্থঃ “এবং পর্বতমালা ভেংগে চুরমার হয়ে যাবে, অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।" (সূরা ওয়াকেয়াঃ ৫-৬)
মাসআলা-৬৬ঃ পাহাড়সমূহ ধুনিত রঙ্গিন পশমের ন্যায় হবেঃ
وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ) (سورة القارعة : ٥)
অর্থঃ "এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গিন পশমের মত।" (সূরা কারেয়াঃ ৫)
সমুদ্র
মাসআলা-৬৭ঃ সমুদ্রের পানিকে উত্তাল করা হবেঃ
وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ (سورة التكوير : ٦ )
অর্থঃ "যখন সমুদ্রসমূহকে উদ্বেলিত করা হবে।" (সূরা তাকভীর-৬)
(وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ) (سورة الإنفطار: ٣)
অর্থঃ "যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে।" (সূরা ইনফেতারঃ ৩)
📄 শিংগা
মাসআলা-৬৮ঃ শিঙ্গায় ফুঁৎকারের মধ্য দিয়ে কিয়ামত শুরু হবেঃ
(وَنُفِخَ فِي الصُّورِ ذَلِكَ يَوْمُ الْوَعِيدِ) (سورة ق : ٢٠)
অর্থঃ "এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন।" (সূরা ক্বাফঃ ২০)
মাসআলা-৬৯ঃ শিঙ্গার আকৃতি কোন প্রাণীর শিংয়ের ন্যায় হবে যাতে ফুঁ দেয়া হবেঃ
عن عبد الله ابن عمرو رضى الله عنه قال قال اعرابی یا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما الصور ؟ قال قرن ينفخ فيه (رواه الترمذي)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক বেদুইন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙ্গা কি? তিনি বললেনঃ (কোন প্রাণীর) শিং তাতে ফুঁ দেয়া হবে।” (তিরমিযী)²⁷
মাসআলা-৭০: শিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার সময় ফুঁ দাতার ডান পাশে জীবরীল (আঃ) এবং বাম পাশে মিকাঈল (আঃ) থাকবেঃ
عن ابي سعيد رضى الله عنه قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم صاحب الصور قال عن يمينه جبريل وعن يساره میکائیل (رواه رزین)
অর্থঃ "আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙ্গায় ফুঁ দাতার কথা আলোচনা করতে গিয়ে বললেনঃ তার ডান দিকে থাকবে জিবরীল এবং বাম দিকে থাকবে মীকাঈল।" (রাযিন)²⁸
মাসআলা-৭১ঃ শিঙ্গার আওয়াজ এত বিকট হবে যে মানুষ তা শোনা মাত্রই মৃত্যুবরণ করতে শুরু করবে।
عن عبد الله بن عمرو رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه احد الا اصغى ليتا ورفع ليتا قال أول من يسمعه رجل يلوط حوض ابله قال فيصعق ويصعق الناس (رواه مسلم)
অর্থঃ "আবদুল্লাহ্ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অতঃপর শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর তা শোনা মাত্রই মানুষ স্বীয় গর্দান এক দিকে হেলিয়ে দিবে এবং অপর দিকে উঠাবে (মৃত্যুবরণ) করবে। সর্ব প্রথম যে বক্তি শিঙ্গার আওয়াজ শুনবে সে হবে ঐ ব্যক্তি যে তার উটের হাউজ মেরামত করতে ছিল, সে আওয়াজ শোনা মাত্রই পড়ে যাবে এবং অন্য লোকেরাও তা শোনে পড়ে যেতে থাকবে।” (মুসলিম)²⁹
মাসআলা-৭২ঃ শিঙ্গার আওয়াজ শ্রবণকারীদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "হাসবুনাল্লাহ্ ওয়া নে'মাল ওকীল" বলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেনঃ
নোটঃ এসংক্রান্ত হাদীসটি ৩ নং মাসআলায় দ্রঃ।
মাসআলা-৭৩ঃ ইস্রাফীল (আঃ) তাঁর জন্ম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত শিঙ্গা তাঁর মুখে নিয়ে আছে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ফুঁ দিবেঃ
عن البراء رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صاحب الصور واضع الصور على فيه منذ خلق ينتظر متى يؤمر ان ينفخ فيه فينفخ (رواه احمد والحاكم)
অর্থঃ "বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃশিঙ্গায় ফুঁ দাতা তার জন্ম থেকে শিঙ্গা মুখে নিয়ে অপেক্ষা করছে, নির্দেশ পাওয়া মাত্র তাতে ফুঁ দিবে।" (আহমদ, হাকেম)³⁰
মাসআলা-৭৪ঃ শুক্র বারে শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবেঃ
عن أبي لبابة بن عبد المنذر رضى الله عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم ان يوم الجمعة سيد الايام واعظمها عند الله من يوم الاضحى ويوم الفطر فيه خمس خلال ، خلق الله فيه آدم واهبط الله فيه آدم الى الارض وفيه توفى الله آدم وفيه ساعة لا يسأل الله فيها العبد شيئا الا اعطاه ما لم يسأل حراما وفيه تقوم الساعة ما من ملك مقرب ولا سماء ولا ارض ولا رياح ولا جبال ولا بحر الا وهن يشفقن من يوم الجمعة (رواه ابن ماجة )
অর্থঃ “আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনযির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শুক্রবার দিন সমূহের সর্দার ও আল্লাহর নিকট মর্যাদা পূর্ণ, তা আল্লাহ্র নিকট ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফেতেরের দিনের চেয়ে উত্তম, তার মধ্যে পাঁচটি বৈশিষ্ট রয়েছে, এদিনে আল্লাহ্ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, আর এদিনেই তাঁকে পৃথিবীতে নামিয়েছেন এবং এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এদিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোন বান্দা যে দুয়া করবে আল্লাহ্ তাই কবুল করেেবন, যদি তা হারাম কোন কিছু না হয়। এ দিনেই কিয়ামত হবে, আল্লাহ্র এমন কোন প্রিয় ফেরেস্তা, আকাশ, যামিন, বাতাশ, পাহাড় সমুদ্র নেই যা শুক্র বারে আল্লাহর ভয়ে ভীত না থাকে।” (ইবনে মাযা)³¹
টিকাঃ
27 - আবওয়াব তাফসীরুল কোরআ'ন-সূরা যুমার (৩/২৫৮৬)
28-আলবানী লিখিত-মেশকাতুল মাসাবীহ কিতাব আহওয়ালুল কিয়ামা, বাব আন্নাফপু ফিস্সর (আল ফাসলুস্ সালেস।
29-কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতিসায়া, বাব যিকরু দ্দাজ্জাল।
30 - আরবানী লিখিত সহীহ আল জামে'আস্সাগরি খঃ৩ হাদীস নং-৩৬৪৬।
31 আবওয়াব ইকামাতুস্সালা, বাব ফি ফাযলিল জুমআ (১/৮৮৮)।