📘 কিয়ামতের বর্ণনা > 📄 কিয়ামতের ব্যাপারে --- প্রতি ধমক

📄 কিয়ামতের ব্যাপারে --- প্রতি ধমক


মাসআলা-২২ঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক উচ্চপদস্ত কর্মকর্তারা বলবেঃ হায় আজ কোথায় পালাবঃ

يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ ، فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ، وَخَسَفَ الْقَمَرُ، وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ، يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ ، كَلَّا لَا وَزَرَ إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقر) (سورة القيامة : ٦-١٢)
অর্থঃ "সে প্রশ্ন করে কখন কিয়ামত দিবস আসবে? যখন চক্ষু স্থির হয়ে যাবে এবং চন্দ্র হয়ে যাবে জ্যোতিবিহীন, যখন সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে, সেদিন মানুষ বলবেঃ আজ পালাবার স্থান কোথায়? না কোন আশ্রয় স্থল নেই, সেদিন ঠাই হবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।” (সূরা কিয়ামাহঃ ৬-১২)

মাসআলা-২৩ঃ কিয়ামত ঐ দিন যেদিন (তা অস্বীকার কারীদেরকে) মেহমানদারী করা হবে অত্যুষ্ণ পানি দিয়েঃ

وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّا لَمَبْعُوثُونَ ، أَوَ آبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ، قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ ، ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُونَ الْمُكَذِّبُونَ، لَاكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُومٍ ، فَمَالِؤُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ، فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ، فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ ) (سورة الواقعة : ٤٧ - ٥٦)
অর্থঃ "তারা বলত মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হলেও কি আমরা পুনরুত্থিত হব? এবং আমাদের পূর্ব পুরুষগণও, বলঃ অবশ্যই পূর্ববর্তীগণ ও পরবর্তীগণ। সকলকে একত্রিত করা হবে, এক নির্ধারিত দিনের এক নির্ধারিত সময়ে, অতপর হে বিভ্রান্ত ও মিথ্যা আরোপ কারীরা! তোমরা অবশ্যই আহার করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, এবং ওটা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করবে, এর পর তোমরা পান করবে অত্যুষ্ণ পানি। পান করবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়, কিয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।” (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৪৭-৫৬)

মাসআলা-২৪ঃ কিয়ামত সেদিন যেদিন তা অস্বীকার কারীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেঃ

يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ ، يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ ، ذُوقُوا فِتْنَتَكُمْ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ) (سورة الذاريات : ١٢ - ١٤)
অর্থঃ "তারা জিজ্ঞেস করে কর্মফল দিবস কবে হবে? (বল) সেদিন যেদিন তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে। (আর বলা হবে) তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা এ শাস্তিই তরান্বিত করতে চেয়ে ছিলে।” (সূরা যারিয়াতঃ ১২-১৪)

মাসআলা-২৫ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন কর্মফল দেখে তাদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবেঃ

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ، قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ، فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيِّئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَدَّعُونَ) (سورة الملك : ٢٥ - ٢٧)
অর্থঃ" তারা বলেঃতোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলঃএই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে? বল এর জ্ঞান শুধু আল্লাহ্রই নিকট আছে, আমিতো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। যখন ওটা আসন্ন দেখবে তখন কাফেরদের মুখ মন্ডল ম্লান হয়ে পড়বে এবং তাদেরকে বলা হবে এটাইতো তোমরা চাচ্ছিলে”। (সূরা মুলক-২৫-২৭)

মাসআলা-২৬ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন (কিয়ামত অস্বীকার কারীদের) নরম ও কোমল চেহারা আগুনে ভুনা হবে, পিঠে বেত্রাঘাত পড়বে, আর তাদের সেবা করার মত কোন সেবিকা থাকবে নাঃ

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ، لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُونَ عَن وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ (سورة الأنبياء: ۳۸-۳۹)
অর্থঃ "আর তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলঃ এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে? হায় যদি কাফেররা এসময়ের কথা জানত যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাত থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না।” (সূরা আম্বীয়া-৩৬-৩৭)

মাসআলা-২৭ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন (কিয়ামত অস্বীকার কারীদেরকে) লাঞ্ছিত করা হবে আর তারা তাদের অতীতকে স্মরণ করতে থাকবেঃ

( أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ، أَوَ آبَاؤُنَا الأَوَّلُونَ ، قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَاخِرُونَ ، فَإِنَّمَا (هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ ، وَقَالُوا يَا وَيْلَنَا هَذَا يَوْمُ الدِّينِ ) (سورة الصافات: ١٦ - ٢٠)
অর্থঃ "আমরা যখন মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনো কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও? বলঃ হাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত। ওটা একটি মাত্র প্রচন্ড শব্দ, আর তখনই তারা প্রত্যক্ষ করবে এবং তারা বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! এটাই তো কর্মফল দিবস।” (সূরা সাফফাতঃ ১৬-২০)

মাসআলা-২৮ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন কিয়ামত অস্বীকার কারীদেরকে ধাক্কা দিতে দিতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবেঃ

( الَّذِينَ هُمْ فِي خَوْضٍ يَلْعَبُونَ ، يَوْمَ يُدَعُونَ إِلَى نَارِ جَهَنَّمَ دُعَا هَذِهِ النَّارُ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ، أَفَسِحْرٌ هَذَا أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ، اصْلَوْهَا فَاصْبِرُوا أَوْ لَا تَصْبِرُوا سَوَاء عَلَيْكُمْ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ) (سورة الطور : ١٢-١٦)
অর্থঃ "যারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, সেদিন তাদেরকে ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে, এটাই সে অগ্নি যেটাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে, এটা কি যাদু? নাকি তোমরা দেখছ না? তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর বা না কর উভয়ই তোমাদের জন্য সমান, তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে।” (সূরা তুরঃ ১২-১৬)

মাসআলা-২৯ঃ কিয়ামত সেদিন হবে যেদিন প্রথম ধমকেই কিয়ামত অস্বীকার কারীরা মাথা নত করে সেখানে উপস্থিত হয়ে যাবেঃ

( يَقُولُونَ أَنَّا لَمَرْدُودُونَ فِي الْحَافِرَةِ، أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَةً، قَالُوا تِلْكَ إِذًا كَرَّةً خَاسِرَةٌ، فَإِنَّمَا (هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ ، فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ) (سورة النازعات : ١٠ - ١٤)
অর্থঃ "তারা বলে আমরা কি পূর্ব অবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই, গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও, তারা বলেঃ তা যদি হয় তবে তো এটা সর্বনাশ প্রত্যাবর্তন। এটাতো এক বিকট শব্দ মাত্র, ফলে তখনই ময়দানে তাদের আবির্ভাব হবে।” (সূরা নাযিআ'তঃ ১০-১৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00