📄 কিয়ামতের দলীলসমূহ
মাসআলা-১৫ঃ যেভাবে আল্লাহ্ বৃষ্টি বর্ষণ করে মৃত যমিনকে পুনরুজ্জিবিত করে তেমনি তিনি মৃতদেরকে পুনরুত্থিত করবেঃ
(وَاللَّهُ الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيَاحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَاهُ إِلَى بَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا كَذَلكَ النُّشُورُ) (سورة فاطر : ٩)
অর্থঃ"আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করে তা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চালিত করেন, অতপর আমি তা নির্জীব ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতপর আমি ওটা দ্বারা যমিনকে ওর মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি, পুনরুত্থান এরূপেই হবে"। (সূরা ফাতের-৯)
মাসআলা-১৬ঃ মানুষকে প্রথম মাটি থেকে সৃষ্টিকারী, এরপর বির্য থেকে রক্ত পিন্ড, এরপর রক্ত পিন্ড থেকে মাংসের টুকরা, এরপর মাংসের টুকর থেকে মানুষ সৃষ্টিকারী, এরপর বাচ্চাকে যুবকে পরিণতকারী, এরপর যুবককে বার্ধক্যে পরিণতকারী আল্লাহই মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান করবেনঃ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاء إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّى وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءِ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ، ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ) (سورة الحج : ٥ - ٦)
অর্থঃ “হে মানুষ পুনরুত্থান সম্বন্ধে তোমরা যদি সন্দিহান হও তবে অনুধাবন কর, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকা থেকে, অতঃপর শুক্র থেকে এরপর রক্ত পিন্ড থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতি বা অপূর্ণাকৃতি মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের নিকট ব্যক্ত করার জন্য, আমি যা ইচ্ছা করি তা এক নিদৃষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু রূপে বের করি, পরে যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনিত হও, তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকেও প্রত্যাবৃত্ত করা হয় অকর্মণ্য বয়সে, যার ফলে তারা যা কিছু জানত সে ব্যাপারে তারা সজ্ঞান থাকে না, তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক, অতঃপর তাতে আমি বারি বর্ষণ করলে তা শস্য-শ্যামল হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করে সর্ব প্রকার নয়না ভিরাম উদ্ভিদ”। (সূরা হাজ্জঃ ৫-৬)
মাসআলা-১৭ঃ আকাশ ও যমিন সৃষ্টি কারী সত্বা (আল্লাহ) মানুষকে পুনরুত্থানে সক্ষমঃ
أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (سورة الأحقاف : ٣٣)
অর্থঃ "তারা কি অনুধাবন করেনা যে, আল্লাহ্ যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তি বোধ করেন নি, তিনি মৃতের জীবন দান করতেও সক্ষম, কেন নয় বস্তুত তিনি সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান"। (সূরা আহক্বাফঃ ৩৩)
মাসআলা-১৮ঃ মানুষকে পুনরুত্থান সম্পর্কে কোরআ'নের কিছু উদাহরণঃ
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَى وَلَكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَى كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ) (سورة البقرة : ٢٦٠)
অর্থঃ "এবং যখন ইবরাহিম বলে ছিল, হে আমার প্রভু! আপনি কিরূপে মৃতকে জীবিত করেন? তা আমাকে প্রদর্শন করুন, তিনি বললেনঃ তবে তুমি কি তা বিশ্বাস কর না? সে বললঃ হাঁ। কিন্তু তাতে আমার অন্তর পরিতৃপ্ত হবে, তিনি বললেনঃ তাহলে চারটা পাখী গ্রহণ কর। এর পর তাদেরকে সম্মিলিত কর, অনন্তর প্রত্যেক পাহাড়ের ওপর ওদের এক এক খন্ড রাখ, এর পর ওদেরকে আহ্বান কর, ওরা তোমার নিকট দৌড়ে আসবে এবং জেনে রাখ যে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রান্ত বিজ্ঞান ময়।" (সূরা বাক্বারা: ২৬০)
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّى يُحْيِي هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِئَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَبِثْتَ مِئَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ وَانظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِّلنَّاسِ وَانظُرْ إِلَى العِظَامِ كَيْفَ تُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) (سورة البقرة : ٢٥٩)
অর্থঃ "অথবা ঐ বক্তির অনুরূপ যে কোন জনপদ অতিক্রম করছিল এবং তা ছিল শুণ্য এবং নিজ ভিত্তির ওপর পতিত, সে বললঃ এই নগরের মৃত্যুর পর আল্লাহ্ আবার তাকে কিভাবে জীবন দান করবেন। অনন্তর আল্লাহ্ তাকে একশ বছরের জন্য মৃত্যু দান করলেন, এর পর তাকে পুনর্জীবিত করলেন, তিনি বললেনঃ এ অবস্থায় তুমি কতক্ষণ অতিবাহিত করেছ? সে বললঃ এক দিন বা এক দিনের কিয়দাংশ অতিবাহিত করেছি, তিনি বললেনঃ বরং তুমি শত বর্ষ অতিবাহিত করেছ, অতএব তোমার খাদ্য পানীয়ের প্রতি লক্ষ্য কর, ওটা বিক্রিত হয়নি, তোমার গর্দভের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, আর আমি যেহেতু তোমাকে মানবের জন্য নিদর্শন করতে চাই-আরো লক্ষ্য কর অস্তিপুঞ্জের পানে, ওকে কিরূপে আমি সংযুক্ত করি, এর পর তাকে মাংসাবৃত্ত করি, অনন্তর যখন ওটা তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বললঃ আমি জানি যে আল্লাহ্ সকল বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।" (সূরা বাকারাঃ ২৫৯)
وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا وَاللهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ، فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللَّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ) (البقرة: ۷۲-۷۳)
অর্থঃ “এবং যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করার পর তদ্বিষয়ে বিরোধ করছিলে আর তোমরা যা গোপন করছিলে আল্লাহ্ তা প্রকাশ করলেন, তৎপর আমি বলছিলাম ওর (গাভীর) এক টুকর (মাংস) দিয়ে তাকে (মৃতকে) আঘাত কর, এভাবে আল্লাহ্ মৃতকে জীবিত করেন এবং স্বীয় নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করেন, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।" (সূরা বাক্বারাঃ ৭২-৭৩)
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ، ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ) (سورة البقرة: ٥٥-٥٦)
অর্থঃ "এবং যখন তোমরা বলছিলে, হে মূসা! আমরা আল্লাহ্ কে প্রকাশ্যভাবে দর্শন না করা পর্যন্ত তোমাকে বিশ্বাস করব না, তখন বিদুৎ তোমাদেরকে আক্রমণ করেছিল, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। তৎপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করে ছিলাম, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর”। (সূরা বাক্বারা-৫৫-৫৬)
📄 কিয়ামতের ব্যাপারে অপনোদন
মাসআলা-১৯ঃ সংশয়ঃ যখন আমরা মৃত্যুর পর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব তখন কে আমাদেরকে পুনর্জীবিত করবে? উত্তরঃ ঐ সত্ত্বা (আল্লাহ) যিনি প্রথম সৃষ্টি করে ছিলেন, তিনি দ্বিতীয় বার সৃষ্টি করবেনঃ
وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا، قُل كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا، أَوْ خَلْقًا مِّمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَن يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُؤُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَن يَكُونَ قَرِيبًا) (سورة الإسراء : ٤٩ - ٥١)
অর্থঃ "তারা বলে আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত হব? বলঃ তোমরা হয়ে যাও পাথর বা লৌহ। অথবা এমন সৃষ্টি যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন, তারা বলবেঃ কে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করবে, বলঃ তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছেন, অতপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে ওটা কবে? বলঃসম্ভবত শীঘ্রই হবে।” (সূরা ইসরাঃ ৪৯-৫১)
মাসআলা-২০ঃ সংশয়: মৃত্যুর পর আমাদেরকে কিভাবে পুনরুত্থান করা হবে? উত্তরঃ অস্তীত্ব হীন থেকে অস্তীত্ব দাতা মহান সত্বাই (আল্লাহ্) পুনরুত্থান করবেনঃ
وَيَقُولُ الْإِنسَانُ أَنَّدَا مَا مِتُ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا، أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا ) (سورة مريم : ٦٦-٦٧ )
অর্থঃ "মানুষ বলে আমার মৃত্যু হলে আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব? মানুষ কি স্মরণ করেনা যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি যখন সে কিছুই ছিল না।” (সূরা মারইয়ামঃ ৬৬-৬৭)
মাসআলা-২১ঃ সংশয়ঃ মৃতদেরকে আল্লাহ্ কখনো জীবিত করবেন না। উত্তরঃ দ্বিতীয় বার জীবত করার কথা আল্লাহ্ ওয়াদা করেছেন আর তা পূর্ণ করা তাঁর দায়িত্বঃ
وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَا يَبْعَثُ اللَّهُ مَن يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ) (سورة النحل : ۳۸)
অর্থঃ "তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহ্র কসম করে বলেঃ যার মৃত্যু হয় আল্লাহ্ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না, কেন নয়, তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেনই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।” (সূরা নাহালঃ ৩৮)
📄 কিয়ামতের ব্যাপারে --- প্রতি ধমক
মাসআলা-২২ঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক উচ্চপদস্ত কর্মকর্তারা বলবেঃ হায় আজ কোথায় পালাবঃ
يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ ، فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ، وَخَسَفَ الْقَمَرُ، وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ، يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ ، كَلَّا لَا وَزَرَ إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقر) (سورة القيامة : ٦-١٢)
অর্থঃ "সে প্রশ্ন করে কখন কিয়ামত দিবস আসবে? যখন চক্ষু স্থির হয়ে যাবে এবং চন্দ্র হয়ে যাবে জ্যোতিবিহীন, যখন সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে, সেদিন মানুষ বলবেঃ আজ পালাবার স্থান কোথায়? না কোন আশ্রয় স্থল নেই, সেদিন ঠাই হবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।” (সূরা কিয়ামাহঃ ৬-১২)
মাসআলা-২৩ঃ কিয়ামত ঐ দিন যেদিন (তা অস্বীকার কারীদেরকে) মেহমানদারী করা হবে অত্যুষ্ণ পানি দিয়েঃ
وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّا لَمَبْعُوثُونَ ، أَوَ آبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ، قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ ، ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُونَ الْمُكَذِّبُونَ، لَاكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُومٍ ، فَمَالِؤُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ، فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ، فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ ) (سورة الواقعة : ٤٧ - ٥٦)
অর্থঃ "তারা বলত মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হলেও কি আমরা পুনরুত্থিত হব? এবং আমাদের পূর্ব পুরুষগণও, বলঃ অবশ্যই পূর্ববর্তীগণ ও পরবর্তীগণ। সকলকে একত্রিত করা হবে, এক নির্ধারিত দিনের এক নির্ধারিত সময়ে, অতপর হে বিভ্রান্ত ও মিথ্যা আরোপ কারীরা! তোমরা অবশ্যই আহার করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, এবং ওটা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করবে, এর পর তোমরা পান করবে অত্যুষ্ণ পানি। পান করবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়, কিয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।” (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৪৭-৫৬)
মাসআলা-২৪ঃ কিয়ামত সেদিন যেদিন তা অস্বীকার কারীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেঃ
يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ ، يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ ، ذُوقُوا فِتْنَتَكُمْ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ) (سورة الذاريات : ١٢ - ١٤)
অর্থঃ "তারা জিজ্ঞেস করে কর্মফল দিবস কবে হবে? (বল) সেদিন যেদিন তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে। (আর বলা হবে) তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা এ শাস্তিই তরান্বিত করতে চেয়ে ছিলে।” (সূরা যারিয়াতঃ ১২-১৪)
মাসআলা-২৫ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন কর্মফল দেখে তাদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবেঃ
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ، قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ، فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيِّئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَدَّعُونَ) (سورة الملك : ٢٥ - ٢٧)
অর্থঃ" তারা বলেঃতোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলঃএই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে? বল এর জ্ঞান শুধু আল্লাহ্রই নিকট আছে, আমিতো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। যখন ওটা আসন্ন দেখবে তখন কাফেরদের মুখ মন্ডল ম্লান হয়ে পড়বে এবং তাদেরকে বলা হবে এটাইতো তোমরা চাচ্ছিলে”। (সূরা মুলক-২৫-২৭)
মাসআলা-২৬ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন (কিয়ামত অস্বীকার কারীদের) নরম ও কোমল চেহারা আগুনে ভুনা হবে, পিঠে বেত্রাঘাত পড়বে, আর তাদের সেবা করার মত কোন সেবিকা থাকবে নাঃ
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ، لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُونَ عَن وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ (سورة الأنبياء: ۳۸-۳۹)
অর্থঃ "আর তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বলঃ এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে? হায় যদি কাফেররা এসময়ের কথা জানত যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাত থেকে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না।” (সূরা আম্বীয়া-৩৬-৩৭)
মাসআলা-২৭ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন (কিয়ামত অস্বীকার কারীদেরকে) লাঞ্ছিত করা হবে আর তারা তাদের অতীতকে স্মরণ করতে থাকবেঃ
( أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ، أَوَ آبَاؤُنَا الأَوَّلُونَ ، قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَاخِرُونَ ، فَإِنَّمَا (هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ ، وَقَالُوا يَا وَيْلَنَا هَذَا يَوْمُ الدِّينِ ) (سورة الصافات: ١٦ - ٢٠)
অর্থঃ "আমরা যখন মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনো কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও? বলঃ হাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত। ওটা একটি মাত্র প্রচন্ড শব্দ, আর তখনই তারা প্রত্যক্ষ করবে এবং তারা বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! এটাই তো কর্মফল দিবস।” (সূরা সাফফাতঃ ১৬-২০)
মাসআলা-২৮ঃ কিয়ামত তখন হবে যখন কিয়ামত অস্বীকার কারীদেরকে ধাক্কা দিতে দিতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবেঃ
( الَّذِينَ هُمْ فِي خَوْضٍ يَلْعَبُونَ ، يَوْمَ يُدَعُونَ إِلَى نَارِ جَهَنَّمَ دُعَا هَذِهِ النَّارُ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ، أَفَسِحْرٌ هَذَا أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ، اصْلَوْهَا فَاصْبِرُوا أَوْ لَا تَصْبِرُوا سَوَاء عَلَيْكُمْ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ) (سورة الطور : ١٢-١٦)
অর্থঃ "যারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, সেদিন তাদেরকে ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে, এটাই সে অগ্নি যেটাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে, এটা কি যাদু? নাকি তোমরা দেখছ না? তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর বা না কর উভয়ই তোমাদের জন্য সমান, তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে।” (সূরা তুরঃ ১২-১৬)
মাসআলা-২৯ঃ কিয়ামত সেদিন হবে যেদিন প্রথম ধমকেই কিয়ামত অস্বীকার কারীরা মাথা নত করে সেখানে উপস্থিত হয়ে যাবেঃ
( يَقُولُونَ أَنَّا لَمَرْدُودُونَ فِي الْحَافِرَةِ، أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَةً، قَالُوا تِلْكَ إِذًا كَرَّةً خَاسِرَةٌ، فَإِنَّمَا (هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ ، فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ) (سورة النازعات : ١٠ - ١٤)
অর্থঃ "তারা বলে আমরা কি পূর্ব অবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই, গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও, তারা বলেঃ তা যদি হয় তবে তো এটা সর্বনাশ প্রত্যাবর্তন। এটাতো এক বিকট শব্দ মাত্র, ফলে তখনই ময়দানে তাদের আবির্ভাব হবে।” (সূরা নাযিআ'তঃ ১০-১৪)