📄 কিয়ামত অস্বীকার কারীদের ভ্রান্তি
মাসআলা-৮ঃ কিয়ামতকে অস্বীকারকারীরা দুনিয়ার জীবনকে খুব বেশি হলে ১০দিন বা এক দিন বা এক ঘন্টা মনে করবেঃ
يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا، يَتَخَافَتُونَ بَيْنَهُمْ إِن لَبِثْتُمْ إِلَّا عَشْرًا، نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذْ يَقُولُ أَمْثَلُهُمْ طَرِيقَةً إِن لَبِثْتُمْ إِلَّا يَوْمًا﴾ (سورة طه : ١٠٢-١٠٤)
অর্থঃ "যে দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করব। তারা নিজেদের মধ্যে চুপি চুপি বলা বলি করবে তোমরা মাত্র দশ দিন (পৃথিবীতে) অবস্থান করছিলে”। তারা কি বলবে তা আমি ভাল করে জানি, তাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত সৎ পথে ছিল, সে বলবেঃ তোমারা মাত্র এক দিন অবস্থান করছিলে।” (সূরা ত্বাহাঃ ১০২-১০৪)
وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ كَذَلِكَ كَانُوا يُؤْفَكُونَ﴾ (سورة الروم : ٥٥)
অর্থঃ "যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবেঃ যে তারা মূর্হতকালের বেশি অবস্থান করেনি, এভাবেই তারা সত্য ভ্রষ্ট হত।” (সূরা রুমঃ ৫৫)
📄 কিয়ামত হওয়া নিয়ে ঠাট্টা করা
মাসআলা-৯ঃ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান হওয়া যুক্তি সঙ্গত বিষয় নয়ঃ
أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنتُمْ تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّكُم مُّخْرَجُونَ، هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ لِمَا تُوعَدُونَ إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ، إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا وَمَا نَحْنُ لَهُ بِمُؤْمِنِينَ (سورة المؤمنون : ٣٥-٣٨)
অর্থঃ "সেকি তোমাদেরকে এ প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তোমাদের মৃত্যু হলে এবং তোমরা মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হলেও তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? অসম্ভব তোমাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অসম্ভব। এক মাত্র পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন, আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না? সে তো এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করছে এবং আমরা তাকে বিশ্বাস করবার নই।" (সূরা মু'মিনুন-৩৫-৩৮)
মাসআলা-১০ঃ মৃত্যুর পর আমরা যদি বাস্তবেই পুনরুত্থিত হই তাহলে তা হবে যাদুর খেলাঃ
وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ (سورة هود : ۷)
অর্থঃ "আর যদি তুমি বল নিশ্চয়ই তোমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে, তখন যারা কাফের তারা বলে এটাতো নিছক স্পষ্ট যাদু।” (সূরা হুদঃ ৭)
وَقَالُوا إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ ، أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ، أَوَ آبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ) (سورة الصافات: ١٥-١٧)
অর্থঃ "তারা কোন নিদর্শন দেখলে উপহাস করে এবং বলে এটাতো সুস্পষ্ট যাদু ব্যতীত আর কিছুই নয়, আমরা যখন মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে? এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?" (সূরা সাফফাতঃ ১৫- ১৭)
মাসআলা-১১ঃ পুনরুত্থান হওয়া তো হবে আমাদের জন্য সর্বনাশ প্রত্যাবর্তনঃ
يَقُولُونَ أَئِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِي الْحَافِرَةِ ، أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَةً، قَالُوا تِلْكَ إِذًا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌ (سورة النازعات : ۱۰-۱۲)
অর্থঃ "তারা বলে আমরা কি পূর্ব অবস্থায় প্রত্যাববর্তিত হবই, গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও, তারা বলেঃ তা যদি হয় তবে তো এটা সর্বনাশ প্রত্যাবর্তন।" (সূরা নাযিআ'তঃ ১০-১২)
মাসআলা-১২ঃ যদি পুনরুত্থان সত্যই হয় তাহলে হাজার বছর পূর্বে মৃত্যুবরণকারী আমাদের পূর্ব পুরুষরা কেন পুনরুত্থিত হচ্ছে নাঃ
إِنْ هِيَ إِلَّا مَوْتَتُنَا الْأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُنشَرِينَ، فَأْتُوا بِآبَائِنَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ) (سورة الدخان: ٣٥-٣٦)
অর্থঃ "কাফেরার বলেই থাকে, আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নেই এবং আমরা আর পুনরুত্থিত হব না। অতএব তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে উপস্থিত কর।" (সূরা দুখানঃ ৩৫-৩৬)
মাসআলা-১৩ঃ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান পাগলের প্রলাপঃ
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ نَدُلُّكُمْ عَلَى رَجُلٍ يُنَبِّئُكُمْ إِذَا مُزْقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ إِنَّكُمْ لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ، أَفْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَم بِهِ جِنَّةٌ بَلِ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ فِي الْعَذَابِ وَالضَّلَالِ الْبَعِيدِ (سورة سبأ : ٧-٨)
অর্থঃ "কাফেররা বলে আমরা কি তোমাদেরকে এমন ব্যক্তির সন্ধান দিব, যে তোমাদেরকে বলে তোমাদের দেহ সম্পূর্ণ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়লেও তোমরা নূতন সৃষ্টি রূপে উত্থিত হবে। সে কি আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে বা সে কি উন্মাদ? বস্তুত যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তারা আযাবে ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে।” (সূরা সাবাঃ ৭-৮)
মাসআলা-১৪ঃ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান হওয়া কেবল কাল্পনিক জান্নাতে প্রবেশ কারীদের কথাঃ
وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ لَا رَيْبَ فِيهَا قُلْتُم مَّا نَدْرِي مَا السَّاعَةُ إِن نَّظُنُّ إِلَّا ظَنَّا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ ، وَبَدَا لَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا عَمِلُوا وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُونَ، وَقِيلَ الْيَوْمَ نَنسَاكُمْ كَمَا نَسِيتُمْ لِقَاءِ يَوْمِكُمْ هَذَا وَمَأْوَاكُمْ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن نَّاصِرِينَ (سورة الجاثية : ٣٢-٣٤)
অর্থঃ "যখন বলা হয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতো সত্য এবং কিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলে থাক, আমরা জানিনা কিয়ামত কি? আমরা মনে করি এটা একটি ধারণা মাত্র এবং আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। তাদের মন্দ কর্মগুলো তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে যাবে, আর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে। বলা হবে আজ আমি তোমাদেরকে বিস্মৃত হব, যেমন তোমরা এ দিবসের সাক্ষাত কারকে বিস্মৃত হয়ে ছিলে, তোমাদের আশ্রয় স্থল হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।” (সূরা জাসিয়াঃ ৩২-৩৪)
📄 কিয়ামতের দলীলসমূহ
মাসআলা-১৫ঃ যেভাবে আল্লাহ্ বৃষ্টি বর্ষণ করে মৃত যমিনকে পুনরুজ্জিবিত করে তেমনি তিনি মৃতদেরকে পুনরুত্থিত করবেঃ
(وَاللَّهُ الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيَاحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَاهُ إِلَى بَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا كَذَلكَ النُّشُورُ) (سورة فاطر : ٩)
অর্থঃ"আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করে তা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চালিত করেন, অতপর আমি তা নির্জীব ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতপর আমি ওটা দ্বারা যমিনকে ওর মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি, পুনরুত্থান এরূপেই হবে"। (সূরা ফাতের-৯)
মাসআলা-১৬ঃ মানুষকে প্রথম মাটি থেকে সৃষ্টিকারী, এরপর বির্য থেকে রক্ত পিন্ড, এরপর রক্ত পিন্ড থেকে মাংসের টুকরা, এরপর মাংসের টুকর থেকে মানুষ সৃষ্টিকারী, এরপর বাচ্চাকে যুবকে পরিণতকারী, এরপর যুবককে বার্ধক্যে পরিণতকারী আল্লাহই মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান করবেনঃ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاء إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّى وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءِ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ، ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ) (سورة الحج : ٥ - ٦)
অর্থঃ “হে মানুষ পুনরুত্থান সম্বন্ধে তোমরা যদি সন্দিহান হও তবে অনুধাবন কর, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকা থেকে, অতঃপর শুক্র থেকে এরপর রক্ত পিন্ড থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতি বা অপূর্ণাকৃতি মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের নিকট ব্যক্ত করার জন্য, আমি যা ইচ্ছা করি তা এক নিদৃষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে স্থিত রাখি, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু রূপে বের করি, পরে যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনিত হও, তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকেও প্রত্যাবৃত্ত করা হয় অকর্মণ্য বয়সে, যার ফলে তারা যা কিছু জানত সে ব্যাপারে তারা সজ্ঞান থাকে না, তুমি ভূমিকে দেখ শুষ্ক, অতঃপর তাতে আমি বারি বর্ষণ করলে তা শস্য-শ্যামল হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করে সর্ব প্রকার নয়না ভিরাম উদ্ভিদ”। (সূরা হাজ্জঃ ৫-৬)
মাসআলা-১৭ঃ আকাশ ও যমিন সৃষ্টি কারী সত্বা (আল্লাহ) মানুষকে পুনরুত্থানে সক্ষমঃ
أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (سورة الأحقاف : ٣٣)
অর্থঃ "তারা কি অনুধাবন করেনা যে, আল্লাহ্ যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তি বোধ করেন নি, তিনি মৃতের জীবন দান করতেও সক্ষম, কেন নয় বস্তুত তিনি সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান"। (সূরা আহক্বাফঃ ৩৩)
মাসআলা-১৮ঃ মানুষকে পুনরুত্থান সম্পর্কে কোরআ'নের কিছু উদাহরণঃ
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَى وَلَكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَى كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ) (سورة البقرة : ٢٦٠)
অর্থঃ "এবং যখন ইবরাহিম বলে ছিল, হে আমার প্রভু! আপনি কিরূপে মৃতকে জীবিত করেন? তা আমাকে প্রদর্শন করুন, তিনি বললেনঃ তবে তুমি কি তা বিশ্বাস কর না? সে বললঃ হাঁ। কিন্তু তাতে আমার অন্তর পরিতৃপ্ত হবে, তিনি বললেনঃ তাহলে চারটা পাখী গ্রহণ কর। এর পর তাদেরকে সম্মিলিত কর, অনন্তর প্রত্যেক পাহাড়ের ওপর ওদের এক এক খন্ড রাখ, এর পর ওদেরকে আহ্বান কর, ওরা তোমার নিকট দৌড়ে আসবে এবং জেনে রাখ যে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রান্ত বিজ্ঞান ময়।" (সূরা বাক্বারা: ২৬০)
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّى يُحْيِي هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِئَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَبِثْتَ مِئَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ وَانظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِّلنَّاسِ وَانظُرْ إِلَى العِظَامِ كَيْفَ تُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) (سورة البقرة : ٢٥٩)
অর্থঃ "অথবা ঐ বক্তির অনুরূপ যে কোন জনপদ অতিক্রম করছিল এবং তা ছিল শুণ্য এবং নিজ ভিত্তির ওপর পতিত, সে বললঃ এই নগরের মৃত্যুর পর আল্লাহ্ আবার তাকে কিভাবে জীবন দান করবেন। অনন্তর আল্লাহ্ তাকে একশ বছরের জন্য মৃত্যু দান করলেন, এর পর তাকে পুনর্জীবিত করলেন, তিনি বললেনঃ এ অবস্থায় তুমি কতক্ষণ অতিবাহিত করেছ? সে বললঃ এক দিন বা এক দিনের কিয়দাংশ অতিবাহিত করেছি, তিনি বললেনঃ বরং তুমি শত বর্ষ অতিবাহিত করেছ, অতএব তোমার খাদ্য পানীয়ের প্রতি লক্ষ্য কর, ওটা বিক্রিত হয়নি, তোমার গর্দভের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, আর আমি যেহেতু তোমাকে মানবের জন্য নিদর্শন করতে চাই-আরো লক্ষ্য কর অস্তিপুঞ্জের পানে, ওকে কিরূপে আমি সংযুক্ত করি, এর পর তাকে মাংসাবৃত্ত করি, অনন্তর যখন ওটা তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বললঃ আমি জানি যে আল্লাহ্ সকল বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।" (সূরা বাকারাঃ ২৫৯)
وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا وَاللهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ، فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللَّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ) (البقرة: ۷۲-۷۳)
অর্থঃ “এবং যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করার পর তদ্বিষয়ে বিরোধ করছিলে আর তোমরা যা গোপন করছিলে আল্লাহ্ তা প্রকাশ করলেন, তৎপর আমি বলছিলাম ওর (গাভীর) এক টুকর (মাংস) দিয়ে তাকে (মৃতকে) আঘাত কর, এভাবে আল্লাহ্ মৃতকে জীবিত করেন এবং স্বীয় নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করেন, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।" (সূরা বাক্বারাঃ ৭২-৭৩)
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ، ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ) (سورة البقرة: ٥٥-٥٦)
অর্থঃ "এবং যখন তোমরা বলছিলে, হে মূসা! আমরা আল্লাহ্ কে প্রকাশ্যভাবে দর্শন না করা পর্যন্ত তোমাকে বিশ্বাস করব না, তখন বিদুৎ তোমাদেরকে আক্রমণ করেছিল, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। তৎপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করে ছিলাম, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর”। (সূরা বাক্বারা-৫৫-৫৬)
📄 কিয়ামতের ব্যাপারে অপনোদন
মাসআলা-১৯ঃ সংশয়ঃ যখন আমরা মৃত্যুর পর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব তখন কে আমাদেরকে পুনর্জীবিত করবে? উত্তরঃ ঐ সত্ত্বা (আল্লাহ) যিনি প্রথম সৃষ্টি করে ছিলেন, তিনি দ্বিতীয় বার সৃষ্টি করবেনঃ
وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا، قُل كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا، أَوْ خَلْقًا مِّمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَن يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُؤُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَن يَكُونَ قَرِيبًا) (سورة الإسراء : ٤٩ - ٥١)
অর্থঃ "তারা বলে আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত হব? বলঃ তোমরা হয়ে যাও পাথর বা লৌহ। অথবা এমন সৃষ্টি যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন, তারা বলবেঃ কে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করবে, বলঃ তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছেন, অতপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে ওটা কবে? বলঃসম্ভবত শীঘ্রই হবে।” (সূরা ইসরাঃ ৪৯-৫১)
মাসআলা-২০ঃ সংশয়: মৃত্যুর পর আমাদেরকে কিভাবে পুনরুত্থান করা হবে? উত্তরঃ অস্তীত্ব হীন থেকে অস্তীত্ব দাতা মহান সত্বাই (আল্লাহ্) পুনরুত্থান করবেনঃ
وَيَقُولُ الْإِنسَانُ أَنَّدَا مَا مِتُ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا، أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا ) (سورة مريم : ٦٦-٦٧ )
অর্থঃ "মানুষ বলে আমার মৃত্যু হলে আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব? মানুষ কি স্মরণ করেনা যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি যখন সে কিছুই ছিল না।” (সূরা মারইয়ামঃ ৬৬-৬৭)
মাসআলা-২১ঃ সংশয়ঃ মৃতদেরকে আল্লাহ্ কখনো জীবিত করবেন না। উত্তরঃ দ্বিতীয় বার জীবত করার কথা আল্লাহ্ ওয়াদা করেছেন আর তা পূর্ণ করা তাঁর দায়িত্বঃ
وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَا يَبْعَثُ اللَّهُ مَن يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ) (سورة النحل : ۳۸)
অর্থঃ "তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহ্র কসম করে বলেঃ যার মৃত্যু হয় আল্লাহ্ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না, কেন নয়, তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেনই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।” (সূরা নাহালঃ ৩৮)