📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 জান্নাত ও জাহান্নাম

📄 জান্নাত ও জাহান্নাম


পুলসিরাত পারাপার শেষে সমাপ্ত হবে কেয়ামত দিবসের কার্যক্রম। তখন সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করবেন। এক শ্রেণি যাবে জান্নাতে, আরেক শ্রেণি যাবে জাহান্নামে। তারাই সফলকাম যারা জান্নাতে যাবে এবং ব্যর্থ তারাই যারা জাহান্নামে যাবে। সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। জান্নাত ও জাহান্নামই হবে মানবজীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার মানদণ্ড। যারা জান্নাতে যাবে তাদের খুশির অন্ত থাকবে না। যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার শেষ থাকবে না। এটি এমন এক সফলতা যার পর আর কোনো ব্যর্থতা থাকবে না এবং এমন এক ব্যর্থতা যার পর আর কোনো সফলতা থাকবে না। সেদিন জন্ম ও মৃত্যুর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেদিনের পর কেউ জন্মগ্রহণ করবে না এবং মৃত্যুবরণ করবে না। হযরত আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যখন জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে একটি শিং-ওয়ালা ভেড়ার আকৃতিতে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে হাজির করা হবে। তখন জান্নাতিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন?' তারা তাকিয়ে বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অনুরূপভাবে জাহান্নামিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন? তারা বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অতঃপর সে ভেড়াটি জবাই করে দেওয়া হবে। তারপর জান্নাতি ও জাহান্নামিদের ডেকে বলা হবে, 'তোমরা চিরকাল এভাবে বসবাস করতে থাকো। তোমাদের কোনো মৃত্যু নেই।'

চিন্তা করে দেখো, যারা জান্নাতে যাবে তাদের সৌভাগ্য কী পরিমাণ। আর যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার পরিমাণ কত। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের এ আয়াত পড়তে থাকেন,

وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ

'দুঃখের দিন সম্পর্কে আপনি তাদের সতর্ক করে দিন; যখন সকল বিষয় মীমাংসিত হয়ে যাবে। (এখন) তারা বেখবর অবস্থায় আছে এবং তারা বিশ্বাস করে না। আমিই পৃথিবী ও তার ওপরের সকলের মালিক। তাদের আমার নিকটই ফিরিয়ে আনা হবে। '

وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ وُجُوهُهُمْ مُسْوَدَةٌ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْمُتَكَبِرِينَ (10) وَيُنَجِّي الله الَّذِينَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ السُّوءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (2) اللَّه خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ (2) لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (٥) قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ (18) وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنْ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (b) بَلِ اللَّهِ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (6) وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (٦٩) وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامُ يَنْظُرُونَ (۷۰) وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ (۷) وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ (۱) وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلُ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ (۹۵) قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِرِينَ

‘যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলে কেয়ামতের দিন তুমি তাদের মুখমণ্ডল দেখবে কালো। জাহান্নামে কি অহংকারীদের জন্য কোনো আবাসস্থল নেই? (অবশ্যই আছে, সেখানেই তারা বসবাস করবে।) আল্লাহ মুত্তাকিদের তাদের সাফল্যসহ মুক্তি দেবেন। অমঙ্গল তাদের স্পর্শ করবে না এবং তাদের কোনো দুঃখবোধও থাকবে না। আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি সবকিছুর কর্মবিধায়ক। আসমান ও জমিনের চাবি তারই নিকটে। যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (হে নবী) আপনি বলুন, হে মূর্খের দল! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে আদেশ দিচ্ছ? তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি শিরক করো তাহলে অবশ্যই তোমার কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অন্তর্ভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।

আল্লাহরই ইবাদত করো এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীদের দলভুক্ত হও। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী তার হাতের মুঠোয় থাকবে। আসমানসমূহ তার ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র ও মহান। তারা যা কিছু তার সাথে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত আসমান ও জমিনের সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে। অতঃপর আবার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে; আর তখনি তারা উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে থাকবে। পৃথিবী তার প্রভুর নূরে উজ্জ্বল হবে। আমলনামা সামনে রাখা হবে, নবী ও সাক্ষীদের নিয়ে আসা হবে এবং সকলের মাঝে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পুরোপুরি দেওয়া হবে। তারা যা কিছু করে তিনি তা ভালো করে জানেন। কাফেরদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে। যখন তারা তার কাছে আসবে তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদের বলবে, 'তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুল আসেনি, যারা তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তোমাদের পাঠ করে শোনাত এবং আজকের দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করত?' তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের বিরুদ্ধে শান্তির হুকুম বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। বলা হবে, জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। অতএব কত খারাপ অহংকারীদের বাসস্থান। '

অপর দল যারা হবে জান্নাতের বাসিন্দা তাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

'যারা তার প্রভুকে ভয় করত, দলে দলে তাদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। জান্নাতের রক্ষীরা বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হবে। তোমরা খুশি হও এবং চিরকাল থাকার জন্য এখানে প্রবেশ করো। (প্রবেশ করে) তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের সাথে সত্য ওয়াদা করেছিলেন। তিনি (তার ওয়াদা মোতাবেক) আমাদের (জান্নাতের) এ ভূমির অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা নিবাস স্থাপন করতে পারি। অতএব কত উত্তম সৎকর্মীদের পুরস্কার।'

টিকাঃ
৯৮. সুরা মাআরিজ: ২৬-৩৫।
৯৯. সুরা মারইয়াম: ৩৯-৪০।
১০০. সুরা যুমার: ৬০-৭২।
১০১. সুরা যুমার: ৭২-৭৩।

পুলসিরাত পারাপার শেষে সমাপ্ত হবে কেয়ামত দিবসের কার্যক্রম। তখন সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করবেন। এক শ্রেণি যাবে জান্নাতে, আরেক শ্রেণি যাবে জাহান্নামে। তারাই সফলকাম যারা জান্নাতে যাবে এবং ব্যর্থ তারাই যারা জাহান্নামে যাবে। সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। জান্নাত ও জাহান্নামই হবে মানবজীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার মানদণ্ড। যারা জান্নাতে যাবে তাদের খুশির অন্ত থাকবে না। যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার শেষ থাকবে না। এটি এমন এক সফলতা যার পর আর কোনো ব্যর্থতা থাকবে না এবং এমন এক ব্যর্থতা যার পর আর কোনো সফলতা থাকবে না। সেদিন জন্ম ও মৃত্যুর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেদিনের পর কেউ জন্মগ্রহণ করবে না এবং মৃত্যুবরণ করবে না। হযরত আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যখন জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে একটি শিং-ওয়ালা ভেড়ার আকৃতিতে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে হাজির করা হবে। তখন জান্নাতিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন?' তারা তাকিয়ে বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অনুরূপভাবে জাহান্নামিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন? তারা বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অতঃপর সে ভেড়াটি জবাই করে দেওয়া হবে। তারপর জান্নাতি ও জাহান্নামিদের ডেকে বলা হবে, 'তোমরা চিরকাল এভাবে বসবাস করতে থাকো। তোমাদের কোনো মৃত্যু নেই।'

চিন্তা করে দেখো, যারা জান্নাতে যাবে তাদের সৌভাগ্য কী পরিমাণ। আর যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার পরিমাণ কত। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের এ আয়াত পড়তে থাকেন,

وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ

'দুঃখের দিন সম্পর্কে আপনি তাদের সতর্ক করে দিন; যখন সকল বিষয় মীমাংসিত হয়ে যাবে। (এখন) তারা বেখবর অবস্থায় আছে এবং তারা বিশ্বাস করে না। আমিই পৃথিবী ও তার ওপরের সকলের মালিক। তাদের আমার নিকটই ফিরিয়ে আনা হবে। '

وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ وُجُوهُهُمْ مُسْوَدَةٌ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْمُتَكَبِرِينَ (10) وَيُنَجِّي الله الَّذِينَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ السُّوءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (2) اللَّه خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ (2) لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (٥) قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ (18) وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنْ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (b) بَلِ اللَّهِ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (6) وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (٦٩) وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامُ يَنْظُرُونَ (۷۰) وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ (۷) وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ (۱) وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلُ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ (۹۵) قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِرِينَ

‘যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলে কেয়ামতের দিন তুমি তাদের মুখমণ্ডল দেখবে কালো। জাহান্নামে কি অহংকারীদের জন্য কোনো আবাসস্থল নেই? (অবশ্যই আছে, সেখানেই তারা বসবাস করবে।) আল্লাহ মুত্তাকিদের তাদের সাফল্যসহ মুক্তি দেবেন। অমঙ্গল তাদের স্পর্শ করবে না এবং তাদের কোনো দুঃখবোধও থাকবে না। আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি সবকিছুর কর্মবিধায়ক। আসমান ও জমিনের চাবি তারই নিকটে। যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (হে নবী) আপনি বলুন, হে মূর্খের দল! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে আদেশ দিচ্ছ? তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি শিরক করো তাহলে অবশ্যই তোমার কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অন্তর্ভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।

আল্লাহরই ইবাদত করো এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীদের দলভুক্ত হও। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী তার হাতের মুঠোয় থাকবে। আসমানসমূহ তার ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র ও মহান। তারা যা কিছু তার সাথে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত আসমান ও জমিনের সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে। অতঃপর আবার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে; আর তখনি তারা উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে থাকবে। পৃথিবী তার প্রভুর নূরে উজ্জ্বল হবে। আমলনামা সামনে রাখা হবে, নবী ও সাক্ষীদের নিয়ে আসা হবে এবং সকলের মাঝে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পুরোপুরি দেওয়া হবে। তারা যা কিছু করে তিনি তা ভালো করে জানেন। কাফেরদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে। যখন তারা তার কাছে আসবে তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদের বলবে, 'তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুল আসেনি, যারা তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তোমাদের পাঠ করে শোনাত এবং আজকের দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করত?' তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের বিরুদ্ধে শান্তির হুকুম বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। বলা হবে, জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। অতএব কত খারাপ অহংকারীদের বাসস্থান। '

অপর দল যারা হবে জান্নাতের বাসিন্দা তাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

'যারা তার প্রভুকে ভয় করত, দলে দলে তাদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। জান্নাতের রক্ষীরা বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হবে। তোমরা খুশি হও এবং চিরকাল থাকার জন্য এখানে প্রবেশ করো। (প্রবেশ করে) তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের সাথে সত্য ওয়াদা করেছিলেন। তিনি (তার ওয়াদা মোতাবেক) আমাদের (জান্নাতের) এ ভূমির অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা নিবাস স্থাপন করতে পারি। অতএব কত উত্তম সৎকর্মীদের পুরস্কার।'

টিকাঃ
৯৮. সুরা মাআরিজ: ২৬-৩৫।
৯৯. সুরা মারইয়াম: ৩৯-৪০।
১০০. সুরা যুমার: ৬০-৭২।
১০১. সুরা যুমার: ৭২-৭৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00