📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 পুলসিরাত

📄 পুলসিরাত


কেয়ামতের দিন সকল মানুষ এক স্থান থেকে অপর স্থানে পদার্পণ করবে। এক বিপদ থেকে আরেক বিপদের দিকে যাত্রা করবে। এক বিভীষিকা থেকে আরেক বিভীষিকায় স্থানান্তরিত হবে। তারা কেউ জানবে না জান্নাত নাকি জাহান্নাম হবে তাদের আবাসস্থল। চোখে-মুখে নিদারুণ উৎকণ্ঠার ছাপ পষ্ট হয়ে উঠবে।

কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের আমলের হিসাব গ্রহণ করার পর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। পুলসিরাত—যা হবে চুলের চেয়ে সরু, শানিত তরবারির চেয়ে ধারালো। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তখন সকলকে আদেশ করবেন, ভয়ংকর এই পুলসিরাত অতিক্রম করার জন্য। একে একে দুনিয়ার সকল মানুষ পুলসিরাতে আরোহণ করবে। যে ব্যক্তি পুলসিরাত অতিক্রম করতে পারবে সে শাশ্বত সুখ ও নেয়ামতরাজিতে ভরপুর চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে অতিক্রম করতে পারবে না চির দুঃখ ও অশান্তি ঘেরা জাহান্নাম হবে তার ঠিকানা।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তখন তার আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ কোনো কোনো বান্দাকে দেবেন বিশেষ একপ্রকার নুর বা আলো, যার সাহায্যে তারা খুব সহজেই পেরিয়ে যাবে পুলসিরাত। আল্লাহপ্রদত্ত সে আলোর পাওয়ার এতই অধিক হবে যে, তাদের সামনে ও পেছনে যারা চলবে আলো তাদেরও পুলসিরাত অতিক্রম করতে সহায়তা করবে। সেদিন প্রত্যেককে তার ঈমান, আমল, তাকওয়া অনুযায়ী বিশেষ নুর দেওয়া হবে। কারো আলো হবে বিশাল পাহাড় পরিমাণ। কারো হবে আকাশের নক্ষত্র সমপরিমাণ। কাউকে আবার দেওয়া হবে পায়ের বৃদ্ধ আঙুলের পরিমাণ আলো। যার ঈমান, আমল, তাকওয়া যত অধিক হবে তার আলোর পরিমাণও হবে তত বড়। আল্লাহপ্রদত্ত সে আলো একবার জ্বলে উঠবে একবার নিভে যাবে। যখনই জ্বলে উঠবে বান্দা এক কদম অগ্রসর হবে। আর যখনই নিভে যাবে বান্দা থেকে যাবে। সেদিন পুলসিরাতের ওপর দিয়ে চলতে চলতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকবেন,

اللهم سلم سلم

'হে আল্লাহ! আপনি রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আপনি রক্ষা করুন।'

হে আল্লাহর বান্দা! হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে ভেবে দেখো, আমার ও তোমার পরিণতি কেমন হবে? পার্থিব জীবনে যারা আল্লাহকে ভয় করে না, তার সমস্ত আদেশ-নিষেধ মেনে চলে না, তার হক ও সম্মান যথাযথ রক্ষা করে না তাদের পরিণতি কেমন ভয়াবহ হবে তা অনুমান করা যায় একটি বর্ণনার মাধ্যমে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা একদিন তার স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে কাঁদতে ছিলেন। তাকে কাঁদতে দেখে তার স্ত্রীও কাঁদতে শুরু করেন। এবার তিনি তার স্ত্রীকে তার কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী বললেন, 'আপনি কাঁদতেছেন তাই আমিও কাঁদতেছি। অতঃপর স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কাঁদছেন কেন?' হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, কুরআনুল করিমের এই আয়াত আমার স্মরণ হয়েছে,

وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا

'তোমাদের প্রত্যেককেই সেখানেই যেতে হবে। '

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এ বলে পুলসিরাতকে বুঝিয়েছেন। তিনি জানেন না, পুলসিরাত তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে নাকি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, 'আমি পুলসিরাতের কথা স্মরণ করছি।'

সেদিনের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে আমাদের কি ক্রন্দন করা উচিত নয়? সত্যিই সে এক ভয়ংকর দিন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনে যার চিত্র এঁকেছেন এভাবে, وَيَقُولُ الْإِنْسَانُ أَإِذَا مَا مِنْ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيَا أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا ثُمَّ لَتَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا

'মানুষ বলে, আমি যখন মারা যাব তারপর কি আমাকে জীবিত উঠানো হবে? আচ্ছা, তাহলে মানুষ কি স্মরণ করে না যে, ইতিপূর্বে যখন আমি তাকে সৃষ্টি করেছিলাম তখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর শপথ! অবশ্যই আমি তাদের এবং শয়তানদের একত্রিত করব, তারপর হাঁটুতে ভর করা অবস্থায় তাদের জাহান্নামের চারপাশে নিয়ে আসব। অতঃপর আমি প্রতিটি দল থেকে অবশ্যই টেনে বের করব, কে তাদের মধ্যে পরম করুণাময়ের সবচেয়ে বড় অবাধ্য। আমি তাদেরও ভালো জানি যারা জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার অধিক যোগ্য। আর তোমাদের প্রত্যেককেই সেখানে যেতে হবে। এটি তোমার প্রভুর অনিবার্য সিদ্ধান্ত। যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছিল আমি তাদের উদ্ধার করব এবং জালেমদের হাঁটুতে ভর করা অবস্থায় সেখানে রেখে দেব। সুতরাং আমরা কি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহকে ভয় করে?'

শোনো! সেদিন যারা পুলসিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে পৌঁছে যাবে এবং যারা অতিক্রম করতে না পেরে জাহান্নামে পতিত হবে তাদের কথা। কারা সেই সৌভাগ্যবান যাদের আল্লাহ তায়ালা পুলসিরাত অতিক্রম করার তাওফিক দিবেন। এবং কারা সেই দুর্ভাগা যারা দ্বিখণ্ডিত হয়ে পতিত হবে ঘোরতর বিপদ ও জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্বলিত জাহান্নামে।

ইরশাদ হয়েছে, الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى

'যারা ছোটোখাটো অপরাধ করে ফেললেও বড় বড় পাপ ও সকল প্রকার কুকর্ম থেকে দূরে থাকে। তোমার প্রভু ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালো জানেন, যখন তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা মায়ের পেটে ভ্রুণ ছিলে। অতএব তোমরা নিজেদের সাফাই গেয়ো না। তিনি ভালো জানেন কে তাকওয়া অবলম্বনকারী।

টিকাঃ
৯৫. সুরা মারইয়াম: ৭১।
৯৬. সুরা মারইয়াম: ৬৬-৭২।
৯৭. সুরা নাজম: ৩২।

কেয়ামতের দিন সকল মানুষ এক স্থান থেকে অপর স্থানে পদার্পণ করবে। এক বিপদ থেকে আরেক বিপদের দিকে যাত্রা করবে। এক বিভীষিকা থেকে আরেক বিভীষিকায় স্থানান্তরিত হবে। তারা কেউ জানবে না জান্নাত নাকি জাহান্নাম হবে তাদের আবাসস্থল। চোখে-মুখে নিদারুণ উৎকণ্ঠার ছাপ পষ্ট হয়ে উঠবে।

কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের আমলের হিসাব গ্রহণ করার পর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। পুলসিরাত—যা হবে চুলের চেয়ে সরু, শানিত তরবারির চেয়ে ধারালো। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তখন সকলকে আদেশ করবেন, ভয়ংকর এই পুলসিরাত অতিক্রম করার জন্য। একে একে দুনিয়ার সকল মানুষ পুলসিরাতে আরোহণ করবে। যে ব্যক্তি পুলসিরাত অতিক্রম করতে পারবে সে শাশ্বত সুখ ও নেয়ামতরাজিতে ভরপুর চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে অতিক্রম করতে পারবে না চির দুঃখ ও অশান্তি ঘেরা জাহান্নাম হবে তার ঠিকানা।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তখন তার আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ কোনো কোনো বান্দাকে দেবেন বিশেষ একপ্রকার নুর বা আলো, যার সাহায্যে তারা খুব সহজেই পেরিয়ে যাবে পুলসিরাত। আল্লাহপ্রদত্ত সে আলোর পাওয়ার এতই অধিক হবে যে, তাদের সামনে ও পেছনে যারা চলবে আলো তাদেরও পুলসিরাত অতিক্রম করতে সহায়তা করবে। সেদিন প্রত্যেককে তার ঈমান, আমল, তাকওয়া অনুযায়ী বিশেষ নুর দেওয়া হবে। কারো আলো হবে বিশাল পাহাড় পরিমাণ। কারো হবে আকাশের নক্ষত্র সমপরিমাণ। কাউকে আবার দেওয়া হবে পায়ের বৃদ্ধ আঙুলের পরিমাণ আলো। যার ঈমান, আমল, তাকওয়া যত অধিক হবে তার আলোর পরিমাণও হবে তত বড়। আল্লাহপ্রদত্ত সে আলো একবার জ্বলে উঠবে একবার নিভে যাবে। যখনই জ্বলে উঠবে বান্দা এক কদম অগ্রসর হবে। আর যখনই নিভে যাবে বান্দা থেকে যাবে। সেদিন পুলসিরাতের ওপর দিয়ে চলতে চলতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকবেন,

اللهم سلم سلم

'হে আল্লাহ! আপনি রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আপনি রক্ষা করুন।'

হে আল্লাহর বান্দা! হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে ভেবে দেখো, আমার ও তোমার পরিণতি কেমন হবে? পার্থিব জীবনে যারা আল্লাহকে ভয় করে না, তার সমস্ত আদেশ-নিষেধ মেনে চলে না, তার হক ও সম্মান যথাযথ রক্ষা করে না তাদের পরিণতি কেমন ভয়াবহ হবে তা অনুমান করা যায় একটি বর্ণনার মাধ্যমে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা একদিন তার স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে কাঁদতে ছিলেন। তাকে কাঁদতে দেখে তার স্ত্রীও কাঁদতে শুরু করেন। এবার তিনি তার স্ত্রীকে তার কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী বললেন, 'আপনি কাঁদতেছেন তাই আমিও কাঁদতেছি। অতঃপর স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কাঁদছেন কেন?' হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, কুরআনুল করিমের এই আয়াত আমার স্মরণ হয়েছে,

وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا

'তোমাদের প্রত্যেককেই সেখানেই যেতে হবে। '

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এ বলে পুলসিরাতকে বুঝিয়েছেন। তিনি জানেন না, পুলসিরাত তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে নাকি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, 'আমি পুলসিরাতের কথা স্মরণ করছি।'

সেদিনের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে আমাদের কি ক্রন্দন করা উচিত নয়? সত্যিই সে এক ভয়ংকর দিন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনে যার চিত্র এঁকেছেন এভাবে, وَيَقُولُ الْإِنْسَانُ أَإِذَا مَا مِنْ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيَا أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا ثُمَّ لَتَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا

'মানুষ বলে, আমি যখন মারা যাব তারপর কি আমাকে জীবিত উঠানো হবে? আচ্ছা, তাহলে মানুষ কি স্মরণ করে না যে, ইতিপূর্বে যখন আমি তাকে সৃষ্টি করেছিলাম তখন সে কিছুই ছিল না? সুতরাং তোমার প্রভুর শপথ! অবশ্যই আমি তাদের এবং শয়তানদের একত্রিত করব, তারপর হাঁটুতে ভর করা অবস্থায় তাদের জাহান্নামের চারপাশে নিয়ে আসব। অতঃপর আমি প্রতিটি দল থেকে অবশ্যই টেনে বের করব, কে তাদের মধ্যে পরম করুণাময়ের সবচেয়ে বড় অবাধ্য। আমি তাদেরও ভালো জানি যারা জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার অধিক যোগ্য। আর তোমাদের প্রত্যেককেই সেখানে যেতে হবে। এটি তোমার প্রভুর অনিবার্য সিদ্ধান্ত। যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছিল আমি তাদের উদ্ধার করব এবং জালেমদের হাঁটুতে ভর করা অবস্থায় সেখানে রেখে দেব। সুতরাং আমরা কি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহকে ভয় করে?'

শোনো! সেদিন যারা পুলসিরাত অতিক্রম করে জান্নাতে পৌঁছে যাবে এবং যারা অতিক্রম করতে না পেরে জাহান্নামে পতিত হবে তাদের কথা। কারা সেই সৌভাগ্যবান যাদের আল্লাহ তায়ালা পুলসিরাত অতিক্রম করার তাওফিক দিবেন। এবং কারা সেই দুর্ভাগা যারা দ্বিখণ্ডিত হয়ে পতিত হবে ঘোরতর বিপদ ও জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্বলিত জাহান্নামে।

ইরশাদ হয়েছে, الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى

'যারা ছোটোখাটো অপরাধ করে ফেললেও বড় বড় পাপ ও সকল প্রকার কুকর্ম থেকে দূরে থাকে। তোমার প্রভু ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালো জানেন, যখন তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা মায়ের পেটে ভ্রুণ ছিলে। অতএব তোমরা নিজেদের সাফাই গেয়ো না। তিনি ভালো জানেন কে তাকওয়া অবলম্বনকারী।

টিকাঃ
৯৫. সুরা মারইয়াম: ৭১।
৯৬. সুরা মারইয়াম: ৬৬-৭২।
৯৭. সুরা নাজম: ৩২।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 জান্নাত ও জাহান্নাম

📄 জান্নাত ও জাহান্নাম


পুলসিরাত পারাপার শেষে সমাপ্ত হবে কেয়ামত দিবসের কার্যক্রম। তখন সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করবেন। এক শ্রেণি যাবে জান্নাতে, আরেক শ্রেণি যাবে জাহান্নামে। তারাই সফলকাম যারা জান্নাতে যাবে এবং ব্যর্থ তারাই যারা জাহান্নামে যাবে। সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। জান্নাত ও জাহান্নামই হবে মানবজীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার মানদণ্ড। যারা জান্নাতে যাবে তাদের খুশির অন্ত থাকবে না। যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার শেষ থাকবে না। এটি এমন এক সফলতা যার পর আর কোনো ব্যর্থতা থাকবে না এবং এমন এক ব্যর্থতা যার পর আর কোনো সফলতা থাকবে না। সেদিন জন্ম ও মৃত্যুর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেদিনের পর কেউ জন্মগ্রহণ করবে না এবং মৃত্যুবরণ করবে না। হযরত আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যখন জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে একটি শিং-ওয়ালা ভেড়ার আকৃতিতে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে হাজির করা হবে। তখন জান্নাতিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন?' তারা তাকিয়ে বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অনুরূপভাবে জাহান্নামিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন? তারা বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অতঃপর সে ভেড়াটি জবাই করে দেওয়া হবে। তারপর জান্নাতি ও জাহান্নামিদের ডেকে বলা হবে, 'তোমরা চিরকাল এভাবে বসবাস করতে থাকো। তোমাদের কোনো মৃত্যু নেই।'

চিন্তা করে দেখো, যারা জান্নাতে যাবে তাদের সৌভাগ্য কী পরিমাণ। আর যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার পরিমাণ কত। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের এ আয়াত পড়তে থাকেন,

وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ

'দুঃখের দিন সম্পর্কে আপনি তাদের সতর্ক করে দিন; যখন সকল বিষয় মীমাংসিত হয়ে যাবে। (এখন) তারা বেখবর অবস্থায় আছে এবং তারা বিশ্বাস করে না। আমিই পৃথিবী ও তার ওপরের সকলের মালিক। তাদের আমার নিকটই ফিরিয়ে আনা হবে। '

وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ وُجُوهُهُمْ مُسْوَدَةٌ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْمُتَكَبِرِينَ (10) وَيُنَجِّي الله الَّذِينَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ السُّوءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (2) اللَّه خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ (2) لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (٥) قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ (18) وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنْ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (b) بَلِ اللَّهِ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (6) وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (٦٩) وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامُ يَنْظُرُونَ (۷۰) وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ (۷) وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ (۱) وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلُ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ (۹۵) قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِرِينَ

‘যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলে কেয়ামতের দিন তুমি তাদের মুখমণ্ডল দেখবে কালো। জাহান্নামে কি অহংকারীদের জন্য কোনো আবাসস্থল নেই? (অবশ্যই আছে, সেখানেই তারা বসবাস করবে।) আল্লাহ মুত্তাকিদের তাদের সাফল্যসহ মুক্তি দেবেন। অমঙ্গল তাদের স্পর্শ করবে না এবং তাদের কোনো দুঃখবোধও থাকবে না। আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি সবকিছুর কর্মবিধায়ক। আসমান ও জমিনের চাবি তারই নিকটে। যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (হে নবী) আপনি বলুন, হে মূর্খের দল! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে আদেশ দিচ্ছ? তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি শিরক করো তাহলে অবশ্যই তোমার কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অন্তর্ভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।

আল্লাহরই ইবাদত করো এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীদের দলভুক্ত হও। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী তার হাতের মুঠোয় থাকবে। আসমানসমূহ তার ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র ও মহান। তারা যা কিছু তার সাথে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত আসমান ও জমিনের সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে। অতঃপর আবার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে; আর তখনি তারা উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে থাকবে। পৃথিবী তার প্রভুর নূরে উজ্জ্বল হবে। আমলনামা সামনে রাখা হবে, নবী ও সাক্ষীদের নিয়ে আসা হবে এবং সকলের মাঝে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পুরোপুরি দেওয়া হবে। তারা যা কিছু করে তিনি তা ভালো করে জানেন। কাফেরদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে। যখন তারা তার কাছে আসবে তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদের বলবে, 'তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুল আসেনি, যারা তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তোমাদের পাঠ করে শোনাত এবং আজকের দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করত?' তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের বিরুদ্ধে শান্তির হুকুম বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। বলা হবে, জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। অতএব কত খারাপ অহংকারীদের বাসস্থান। '

অপর দল যারা হবে জান্নাতের বাসিন্দা তাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

'যারা তার প্রভুকে ভয় করত, দলে দলে তাদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। জান্নাতের রক্ষীরা বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হবে। তোমরা খুশি হও এবং চিরকাল থাকার জন্য এখানে প্রবেশ করো। (প্রবেশ করে) তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের সাথে সত্য ওয়াদা করেছিলেন। তিনি (তার ওয়াদা মোতাবেক) আমাদের (জান্নাতের) এ ভূমির অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা নিবাস স্থাপন করতে পারি। অতএব কত উত্তম সৎকর্মীদের পুরস্কার।'

টিকাঃ
৯৮. সুরা মাআরিজ: ২৬-৩৫।
৯৯. সুরা মারইয়াম: ৩৯-৪০।
১০০. সুরা যুমার: ৬০-৭২।
১০১. সুরা যুমার: ৭২-৭৩।

পুলসিরাত পারাপার শেষে সমাপ্ত হবে কেয়ামত দিবসের কার্যক্রম। তখন সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করবেন। এক শ্রেণি যাবে জান্নাতে, আরেক শ্রেণি যাবে জাহান্নামে। তারাই সফলকাম যারা জান্নাতে যাবে এবং ব্যর্থ তারাই যারা জাহান্নামে যাবে। সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। জান্নাত ও জাহান্নামই হবে মানবজীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার মানদণ্ড। যারা জান্নাতে যাবে তাদের খুশির অন্ত থাকবে না। যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার শেষ থাকবে না। এটি এমন এক সফলতা যার পর আর কোনো ব্যর্থতা থাকবে না এবং এমন এক ব্যর্থতা যার পর আর কোনো সফলতা থাকবে না। সেদিন জন্ম ও মৃত্যুর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেদিনের পর কেউ জন্মগ্রহণ করবে না এবং মৃত্যুবরণ করবে না। হযরত আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যখন জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে একটি শিং-ওয়ালা ভেড়ার আকৃতিতে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে হাজির করা হবে। তখন জান্নাতিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন?' তারা তাকিয়ে বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অনুরূপভাবে জাহান্নামিদের আহ্বান করে বলা হবে, তোমরা কি এটি চেন? তারা বলবে, 'হ্যাঁ, এটি মৃত্যু।' অতঃপর সে ভেড়াটি জবাই করে দেওয়া হবে। তারপর জান্নাতি ও জাহান্নামিদের ডেকে বলা হবে, 'তোমরা চিরকাল এভাবে বসবাস করতে থাকো। তোমাদের কোনো মৃত্যু নেই।'

চিন্তা করে দেখো, যারা জান্নাতে যাবে তাদের সৌভাগ্য কী পরিমাণ। আর যারা জাহান্নামে যাবে তাদের আক্ষেপ ও অনুশোচনার পরিমাণ কত। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের এ আয়াত পড়তে থাকেন,

وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ

'দুঃখের দিন সম্পর্কে আপনি তাদের সতর্ক করে দিন; যখন সকল বিষয় মীমাংসিত হয়ে যাবে। (এখন) তারা বেখবর অবস্থায় আছে এবং তারা বিশ্বাস করে না। আমিই পৃথিবী ও তার ওপরের সকলের মালিক। তাদের আমার নিকটই ফিরিয়ে আনা হবে। '

وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى اللَّهِ وُجُوهُهُمْ مُسْوَدَةٌ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْمُتَكَبِرِينَ (10) وَيُنَجِّي الله الَّذِينَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ لَا يَمَسُّهُمُ السُّوءُ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (2) اللَّه خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ (2) لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (٥) قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ (18) وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنْ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (b) بَلِ اللَّهِ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (6) وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ (٦٩) وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامُ يَنْظُرُونَ (۷۰) وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ وَجِيءَ بِالنَّبِيِّينَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ (۷) وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ (۱) وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلُ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ (۹۵) قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِرِينَ

‘যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলে কেয়ামতের দিন তুমি তাদের মুখমণ্ডল দেখবে কালো। জাহান্নামে কি অহংকারীদের জন্য কোনো আবাসস্থল নেই? (অবশ্যই আছে, সেখানেই তারা বসবাস করবে।) আল্লাহ মুত্তাকিদের তাদের সাফল্যসহ মুক্তি দেবেন। অমঙ্গল তাদের স্পর্শ করবে না এবং তাদের কোনো দুঃখবোধও থাকবে না। আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি সবকিছুর কর্মবিধায়ক। আসমান ও জমিনের চাবি তারই নিকটে। যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (হে নবী) আপনি বলুন, হে মূর্খের দল! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে আদেশ দিচ্ছ? তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি শিরক করো তাহলে অবশ্যই তোমার কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অন্তর্ভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।

আল্লাহরই ইবাদত করো এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীদের দলভুক্ত হও। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী তার হাতের মুঠোয় থাকবে। আসমানসমূহ তার ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র ও মহান। তারা যা কিছু তার সাথে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। কেয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত আসমান ও জমিনের সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে। অতঃপর আবার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে; আর তখনি তারা উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে থাকবে। পৃথিবী তার প্রভুর নূরে উজ্জ্বল হবে। আমলনামা সামনে রাখা হবে, নবী ও সাক্ষীদের নিয়ে আসা হবে এবং সকলের মাঝে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পুরোপুরি দেওয়া হবে। তারা যা কিছু করে তিনি তা ভালো করে জানেন। কাফেরদের দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে। যখন তারা তার কাছে আসবে তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদের বলবে, 'তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুল আসেনি, যারা তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তোমাদের পাঠ করে শোনাত এবং আজকের দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করত?' তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের বিরুদ্ধে শান্তির হুকুম বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। বলা হবে, জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ করো সেখানে চিরকাল থাকার জন্য। অতএব কত খারাপ অহংকারীদের বাসস্থান। '

অপর দল যারা হবে জান্নাতের বাসিন্দা তাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

'যারা তার প্রভুকে ভয় করত, দলে দলে তাদের জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। জান্নাতের রক্ষীরা বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হবে। তোমরা খুশি হও এবং চিরকাল থাকার জন্য এখানে প্রবেশ করো। (প্রবেশ করে) তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের সাথে সত্য ওয়াদা করেছিলেন। তিনি (তার ওয়াদা মোতাবেক) আমাদের (জান্নাতের) এ ভূমির অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা নিবাস স্থাপন করতে পারি। অতএব কত উত্তম সৎকর্মীদের পুরস্কার।'

টিকাঃ
৯৮. সুরা মাআরিজ: ২৬-৩৫।
৯৯. সুরা মারইয়াম: ৩৯-৪০।
১০০. সুরা যুমার: ৬০-৭২।
১০১. সুরা যুমার: ৭২-৭৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00