📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 সুরা যুমারে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্বের বর্ণনা

📄 সুরা যুমারে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্বের বর্ণনা


সুরা যুমার কুরআনুল কারিমের একটি মর্যাদাপূর্ণ সুরা। অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত সুরা। এ সুরায় বর্ণিত হয়েছে মহান আল্লাহ তায়ালার অপরিসীম বড়ত্ব ও মাহাত্ম্যের বর্ণনা।

ইরশাদ হয়েছে, تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ 'এ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। '

আল্লাহ তায়ালা তার রাজত্ব ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে পরাক্রমশালী। এমনিভাবে পরাক্রমশালী তিনি তার পবিত্র নাম ও সমস্ত গুণাবলির ক্ষেত্রেও। এবং তিনি পূর্ণ প্রজ্ঞাময় তার সকল কাজ ও কর্মপন্থার ক্ষেত্রে। তার জ্ঞান বিশ্বজগতের সকল কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি অণু পরমাণু তার নখদর্পণে। সেই মহান সত্তা অবতীর্ণ করেছেন আমাদের নিকট মহাগ্রন্থ আল কুরআন।

ইরশাদ হয়েছে, تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ * إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ

‘এ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমি আপনার নিকট এই কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করেছি। সুতরাং বিশুদ্ধচিত্তে তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। '

সুরা যুমারের সূচনা হয়েছে মহান আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিয়ে। অতঃপর বর্ণিত হয়েছে বান্দার নিকট আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার প্রার্থিত ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়। আর তা হলো, একনিষ্ঠচিত্তে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। ইবাদত ও প্রার্থনায় তার সাথে কাউকে শরিক না করা। ইরশাদ হয়েছে, فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ * أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ 'তোমরা বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করো। জেনে রেখো, আনুগত্য একমাত্র আল্লাহর জন্যই। '

টিকাঃ
৪৬. সুরা যুমার: ১।
৪৭. সুরা যুমার: ১-২
৪৮. সুরা যুমার: ২-৩

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা

📄 একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা


হে আল্লাহর বান্দা! ইবাদত করতে হবে একমাত্র আল্লাহর। প্রার্থনা করতে হবে কেবল আল্লাহর নিকট। সেইসঙ্গে বান্দাকে আল্লাহর যাবতীয় হক আদায় করতে হবে। রক্ষা করতে হবে তার বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান। ইবাদতের ক্ষেত্রে তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না। যারা আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কারো ইবাদত করে তারা কাফের। তারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্বের সম্মান রক্ষা করে না। যারা কাউকে আল্লাহর সন্তান বলে সাব্যস্ত করে তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করে না। মুমিনদের মধ্যে যারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে তারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্বের যথোচিত সম্মান রক্ষা করে না। যারা আল্লাহর দেওয়া আদেশসমূহ মেনে চলে না এবং নিষেধ থেকে সর্বতোভাবে বিরত থাকে না তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করে না। যারা বলে আল্লাহ সর্বশক্তিমান নয় তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করে না। আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান ও ইয়াকিন পরিপূর্ণ নয়। কেননা, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন, তিনি একক ও সর্বশক্তিমান। শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্বে তার সমকক্ষ কেউ নেই। বিশাল সৃষ্টিজগতের সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণাধীন। কোনোকিছুই তার ক্ষমতা ও পর্যবেক্ষণের বাহিরে নয়।

ইরশাদ হয়েছে, وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتُ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ

'তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না। কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তার দক্ষিণ হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি। তারা যাকে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।'

'আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না' এর অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালাকে সর্বময় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী বলে বিশ্বাস না করা। পৃথিবীতে অসংখ্য ও অগণিত সৃষ্টিরাজি ছড়িয়ে আছে যা আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ও একক কর্তৃত্বের প্রমাণ বহন করে। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের তার নিদর্শন দেখার জন্য পৃথিবীময় ভ্রমণ করতে বলেছেন। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তাহলে কেন তোমরা পৃথিবীতে বিচরণ করে দেখো না তার শক্তি ও অপার ক্ষমতা। যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল এসেছেন পৃথিবীতে। তারা এসে বলেছেন এ কথাই যে আল্লাহ এক। তার কোনো শরিক নেই। তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই এ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। কোনোকিছুই তার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে নয়। তিনি সবকিছু দেখেন, সবকিছু জানেন, সবকিছুর জ্ঞান রাখেন। অণু থেকে পরমাণু কিছুই তার আয়ত্বের বাহির নয়।

হযরত নুহ আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়কে বলেছেন, مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا

'তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে চাইছ না?'

অর্থাৎ, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্ব মেনে নিচ্ছ না? কেন তোমরা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করছ না? কেন তার যাবতীয় হক আদায় করছ না? তোমরা কি তার কঠিন ও মর্মন্তুদ শাস্তিকে মোটেও ভয় পাচ্ছ না?

অতঃপর হযরত নুহ আলাইহিস সালাম তাদের নিকট আল্লাহর বড়ত্ব ও কর্তৃত্বের পরিচয় তুলে ধরেন।

ইরশাদ হয়েছে, وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا 'তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে।

هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَّذْكُورًا إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ أَمْشَاجِ نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَهُ سَمِيعًا بَصِيرًا إِنَّا هَدَيْنَهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُوْرًا إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَفِرِيْنَ سَلْسِلَا وَأَغْلُلًا وَسَعِيرًا

'কালপ্রবাহে মানুষের ওপর তো এমন এক সময় এসেছিল যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে। তাকে পরীক্ষা করার জন্য। আর এজন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় অকৃতজ্ঞ। আমি অকৃতজ্ঞদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শৃঙ্খল বেড়ি ও লেলিহান আগুন। '

হে আদম সন্তান! কে তুমি? কী তোমার পরিচয়? কে তোমাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন?

ইরশাদ হয়েছে,

وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا 'তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। '

অর্থাৎ, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তোমাকে পর্যায়ক্রমে এক স্তর থেকে অপর স্তরে রূপান্তর করে সৃষ্টি করেছেন। তুমি অনস্তিত্বে ছিলে অতঃপর ক্রমান্বয়ে তিনি তোমাকে অস্তিত্ব দান করেছেন। প্রথমে ছিলে এক ফোঁটা বীর্য। তারপর হলে জমাট রক্ত। তারপর একটি মাংস পিণ্ড। অতঃপর একটি শিশুর মতো তিনি তোমাকে পৃথিবীতে এনেছেন। প্রতিটি মানুষের সৃষ্টির প্রক্রিয়া এভাবেই হয়। সুতরাং যদি আল্লাহর ইবাদত না করো তবে কার ইবাদত করবে। যদি আল্লাহর যথোচিত সম্মান না করো তবে কার সম্মান করবে? আর কে আছে যে সৃষ্টি করেছে তোমাকে? আল্লাহ ব্যতীত আর কে আছে যে তোমাকে রিজিক দেয়? কে আছে যে তোমাকে অসুস্থতা থেকে আরোগ্য দান করে? কে আছে আল্লাহ ব্যতীত? হে আল্লাহ বান্দা! বারবার জিজ্ঞেস করো নিজেকে এ কথা। বিবেকের আদালতে পেশ করো তোমার এসব প্রশ্ন। তবেই ঠিক ঠিক উত্তর পেয়ে যাবে।

অতঃপর নুহ আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা তাকিয়ে দেখো আসমান ও জমিনের দিকে। তাকিয়ে দেখো তোমাদের ডানে-বামে অসংখ্য সৃষ্টির দিকে। তাহলে দেখতে পাবে তার বড়ত্ব ও কর্তৃত্ব।

ইরশাদ হয়েছে,

أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا وَاللَّهُ أَنبَتَكُم مِّنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا ثُمَّ يُعِيدُكُمْ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا لِتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا

'তোমরা কি দেখোনি আল্লাহ কীভাবে সৃষ্টি করেছেন সপ্তম্ভরে বিন্যস্ত আকাশমণ্ডলী? এবং সেখানে চন্দ্রকে স্থাপন করেছেন আলোকরূপে, সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। অতঃপর তিনি তোমাদের ফিরিয়ে নেবেন এবং তারপর পুনরুত্থিত করবেন। আল্লাহ তোমাদের জন্য ভূমিকে করেছেন বিস্তৃত। যাতে তোমরা চলাফেরা করতে পারো প্রশস্ত পথে। '

সুরা যুমারে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ

'তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না। কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তার দক্ষিণ হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি। তারা যাকে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। '

কবি বড় চমৎকার বলেছেন, 'হে আদম সন্তান! তুমি যখন জন্মেছিলে কাঁদতে ছিলে, হাসতে ছিল সবাই। এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, যেন মরণে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন।'

আর তা তখনই সম্ভব হবে যদি আল্লাহ তায়ালাকে যথোচিত সম্মান করো। তার যাবতীয় হক যথাযথ আদায় করো। যদি আল্লাহর আদেশের অবাধ্যতা করো, হারাম ও নাজায়েজ কাজে লিপ্ত হও, তাহলে তার হক আদায় হবে না। যথোচিত সম্মান রক্ষা হবে না। তার যথোচিত সম্মান রক্ষা হবে তখন যখন তুমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হবে। মসজিদের সাথে তোমার সম্পর্ক হবে গভীর। আর যদি উদাসীনতা ও গাফলতের ঘুমে বিভোর থাকো তাহলে আল্লাহ তায়ালার হক ও সম্মান যথোচিত আদায় হবে না। যদি জীবনভর অবাধ্যতা ও পাপাচারিতায় লিপ্ত থাকো তাহলে জন্মেছিলে যেমন কাঁদতে কাঁদতে, তেমনি মরণ হবে কাঁদতে কাঁদতে।

টিকাঃ
৪৯. সুরা যুমার: ৬৭।
৫০. সুরা নুহ: ১৩।
৫১. সুরা নুহ: ১৪।
৫২. সুরা দাহর: ১-৪।
৫৩. সুরা নুহ: ১৪।
৫৪. সুরা নুহ: ১৫-২০।
৫৫. সুরা যুমার: ৬৭।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 কেয়ামত সন্নিকটে

📄 কেয়ামত সন্নিকটে


আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা মানুষের দেহের ভেতর অসংখ্য নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন। আসমান জমিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগণিত নিদর্শন তিনি বান্দাদের দৃষ্টিগোচর করেছেন। এর চেয়ে বড় নিদর্শন আর কী হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন,

وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتُ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ

'কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তার দক্ষিণ হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি। তারা যাকে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। '

আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত সত্য ও অবশ্যম্ভাবী হওয়ার ব্যাপারে আমাদের ছোটো-বড় বহু প্রমাণ দেখিয়েছেন। এসব প্রমাণ ও নিদর্শনের মাধ্যমে বারবার আমাদের সতর্ক করেছেন, যেন কেয়ামতের ভয়াবহতা অনুধাবন করে আমরা ফিরে আসি সঠিক পথে। তার অবাধ্যতা পরিত্যাগ করে যেন আনুগত্যের পথে ফিরে আসি। নাফরমানি পরিহার করে আমলের পথ অবলম্বন করি। আদেশসমূহ পালন করার পাশাপাশি যাবতীয় নিষেধ থেকে বেঁচে থাকি। মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের কেয়ামতের সত্যতার ব্যাপারে সতর্ক করে সফলতা ও চির কল্যাণের পথে আহ্বান করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে,

فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا فَأَنَّى لَهُمْ إِذَا جَاءَتْهُمْ ذِكْرَاهُمْ * فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ

'তারা কি কেবল এ জন্য অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিকভাবে কেয়ামত তাদের অতি নিকটে এসে পড়ুক? কেয়ামতের নিদর্শনসমূহ তো এসেই পড়েছে। কেয়ামত এসে পড়লে তারা তখন উপদেশ গ্রহণ করবে কীভাবে? সুতরাং জেনে রাখো! আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার এবং মুমিন নারী-পুরুষের ত্রুটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন।'

আল্লাহকে যারা ভয় করে এবং তার হক ও যথাযথ সম্মান রক্ষা করে তারা কেয়ামত দিবসের জন্য কাঙ্ক্ষিত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আর যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই, যারা তার অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে মত্ত রয়েছে এবং তার হক ও সম্মান যথোচিত রক্ষা করে না তারা কেয়ামত দিবসের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে আছে। তাদের হৃদয়ে ন্যূনতম অনুভূতি জাগ্রত হয় না। তাদের সম্পর্কেই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ

'তাদের ছেড়ে দাও, তারা ভক্ষণ করতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং আশা তাদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখুক। অচিরেই তারা জানতে পারবে।'

কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী। তা সংঘটিত হবেই। নিশ্চিত এ পরিণতি থেকে কেউ রেহাই পাবে না। কেয়ামত দিবসে ঈমানের তারতম্য অনুযায়ী মুমিনদের অবস্থা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন, কেয়ামত দিবসে তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কেয়ামত দিবস ও পরকালের প্রতি ঈমান আনাকে ঈমানের অন্যান্য আরো বহু শাখার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে- ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ 'এর মাধ্যমে যে আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে তাকে উপদেশ দেওয়া হয়। '

আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ঈমানের অন্যান্য শাখা-প্রশাখার ওপর। এর কারণ হলো, যে ব্যক্তি পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে আল্লাহকে ভয় করে। পরকালের শান্তি থেকে বাঁচতে এবং পুরস্কার অর্জনে সচেষ্ট হয়। পরকালের প্রতি বিশ্বাস যার অন্তরে বিরাজমান তার কলব থাকে জীবিত। সে আল্লাহর আনুগত্য করে। অবাধ্যতা নাফরমানি থেকে বিরত থাকে। মন্দ আমল পরিহার করে। নেক আমল বেশি করে। পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের দ্বারা মুমিনের জীবনে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। পরকালের প্রতি যার বিশ্বাস যত সুদৃঢ় তার জীবন ততই আল্লাহর আনুগত্যশীল। তখন তার অন্তরে এ অনুভূতি জাগ্রত থাকে যে, আমি আল্লাহর বান্দা। আমাকে একদিন তাঁর সম্মুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করবেন আমার যাপিত জীবন সম্পর্কে। কোথায় তা ব্যয় করেছি।

জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের বিষয়ে অবগত। আমাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, দৃশ্য-অদৃশ্য কোনোকিছুই তার নিকট অজানা নয়। কিন্তু এ কথা জানা থাকা সত্ত্বেও আজ তাদের অবস্থা হলো অন্ধ, বোবা ও বধির ব্যক্তির মতো। তারা নিজেদের ক্ষেত্রে দাবি করে তারা ঈমানদার, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি রয়েছে তাদের পূর্ণ বিশ্বাস। কিন্তু তাদের বাস্তব জীবনের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে পরিলক্ষিত হয়, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানের কোনো প্রভাব ও ক্রিয়া তাদের মাঝে নেই। আনুগত্যের ব্যাপারে তারা দুর্বল। সকল প্রকার হারাম ও নাজায়েজ কাজে তারা জড়িয়ে পড়ছে। এ জন্য তাদের অন্তরে নেই কোনো প্রকার দ্বিধা ও ভয়। তাদের বিশ্বাস ও কর্মের মাঝে কোনো সামঞ্জস্য নেই। তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ তাদের দেখছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা গুনাহও নাফরমানি থেকে বিরত থাকছে না। হ্যাঁ, কেন হচ্ছে এমনটি? কেন তারা মুখে ঈমানের কথা বললেও আমলে তাদের ঈমানের প্রতিফলন নেই। পরকালের শাস্তিকে ভয় করে ঠিক কিন্তু সে শাস্তি থেকে বেঁচে থাকার জন্য তারা কোনো চেষ্ট করছে না। তাদের এ কেমন ঈমান? এ কেমন ভয়?

এর প্রকৃত কারণ হলো, তারা মুখে যদিও বলে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রয়েছে, কিন্তু কার্যত তারা আল্লাহকে যথাযথ ভয় করে না, তার হক আদায় করে না, তার যথোচিত সম্মান রক্ষা করে না।

কেয়ামত ও মহাপ্রলয়ের পূর্বে বড় বড় কতিপয় নিদর্শন প্রকাশিত হবে। হে আদম সন্তান! তখন তোমার কেমন পরিণতি হবে, যখন তুমি দেখবে সূর্য পূর্বদিকে উদিত না হয়ে পশ্চিম দিকে উদিত হচ্ছে সেদিন তোমার অন্তরের অবস্থা কেমন হবে? যেদিন দাজ্জাল পৃথিবীতে বিচরণ করবে? যখন দাব্বাতুল আরদ বের হবে তখন তুমি কী করবে? তখন তোমার পরিণাম কেমন হবে যখন ইয়াজুজ-মাজুজ উন্মোচিত হবে?

فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا

'তারা কি কেবল এ জন্য অপেক্ষা করছে যে, কেয়ামত তাদের নিকট আকস্মিকভাবে এসে পড়ুক? কেয়ামতের নিদর্শন তো এসেই পড়েছে। কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কীভাবে?'

যাদের অন্তরে প্রকৃত ঈমান রয়েছে। যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে ভয় করে। আল্লাহর হক ও সম্মান যথাযথ আদায় করে তারা যখন কেয়ামতের নিদর্শনসমূহ দেখবে তখন আখেরাতের জন্য আরো অধিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকবে। আল্লাহর আনুগত্য পূর্বের চেয়ে বেশি পরিমাণে করবে। হারাম ও নাজায়েজ থেকে সর্বতোভাবে বেঁচে থাকবে।

হে আদম সন্তান! হতে পারে তুমি সকাল যাপন করেছ কিন্তু সন্ধ্যার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করবে। কিংবা সন্ধ্যা যাপন করেছ কিন্তু রাত পেরিয়ে সকাল হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করবে। আর যখন তুমি মৃত্যুবরণ করবে তখন থেকেই তোমার মহাপ্রলয় শুরু হয়ে যাবে।

হে আদম সন্তান! মৃত্যুর পূর্বেই তুমি শুনে নাও সেদিন তাদের কথা কেমন হবে যারা আল্লাহর হক ও তার সম্মান যথোচিত রক্ষা করেনি। দুনিয়াতে থেকেই শুনে নাও সেদিন তাদের পরিণাম হবে কেমন। ইরশাদ হয়েছে,

وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ

যদি দেখতে পেতে যখন তাদেরকে দোজখের পার্শ্বে দাঁড় করানো হবে এবং তারা বলবে, হায়! যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনকে অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। '

আর তারা যখন দুনিয়াতে ছিল তখন তারা কী বলত? ইরশাদ হয়েছে,

قَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ * وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ قَالَ أَلَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ * قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يَا حَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَ وَهُمْ يَحْمِلُونَ أَوْزَارَهُمْ عَلَى ظُهُورِهِمْ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ * وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَلَلدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ * قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ

'তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন। আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবো না। তুমি যদি তাদের দেখতে পেতে যখন তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি বলবেন, এটি কি প্রকৃত সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই সত্য। তিনি বলবেন, তবে তোমরা যে কুফরি করতে তার জন্য এখন শাস্তি ভোগ করো।

যারা আল্লাহর সম্মুখীন হওয়াকে মিথ্যা বলেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি অকস্মাৎ তাদের নিকট যখন কেয়ামত উপস্থিত হবে তখন তারা বলবে, হায়! আমরা যে তাকে অবহেলা করেছি তার জন্য আক্ষেপ। তারা তাদের পিঠে নিজেদের পাপ বহন করবে। তারা যা বহন করবে তা অতি নিকৃষ্ট। পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত আর কিছু নয়। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাসই শ্রেয়। তোমরা কি তা অনুধাবন করো না? আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা তোমাকে নিশ্চিত কষ্ট দেয়। কিন্তু তারা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে না। বরং যারা জালেম তারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে। '

টিকাঃ
৫৬. সুরা যুমার: ৬৭।
৫৭. সুরা মুহাম্মদ: ১৮-২০।
৫৮. সুরা হিজর: ৩।
৫৯. সুরা বাকারাহ: ২৩২।
৬০. সুরা মুহাম্মদ: ১৮।
৬১. সুরা আনআম: ২৭।
৬২. সুরা আনআম: ২৮-৩৩।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 কেয়ামত দিবসের অবস্থা

📄 কেয়ামত দিবসের অবস্থা


কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন। সেদিন কেমন হবে আমার ও আপনার অবস্থা? কী পরিণতি অপেক্ষা করছে সেদিন আমাদের জন্য? সেদিনের সূচনা হবে প্রলয়ঙ্করী এক শিঙ্গায় ফুৎকারের মাধ্যমে। বড় ধ্বংসাত্মক, নিদারুণ ও হৃদয়বিদারক এক ধ্বনি। ইরশাদ হয়েছে, وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتُ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ * وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ 'তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করে না। কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তার দক্ষিণ হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি। তারা যাকে শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে। শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে। ফলে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকল কিছু মূর্ছে যাবে। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দণ্ডায়মান হবে তাকাতে থাকবে। '

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ * وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً * فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ * وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ * وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ

'যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, একটিমাত্র ফুৎকার। পর্বতমালাসহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় সবকিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। সেদিন সংগঠিত হবে মহাপ্রলয়। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে আর সেদিন তা বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফেরেশতা আরশকে ধারণ করবে তাদের ঊর্ধ্বে। সেদিন উপস্থিত করা হবে তোমাদের এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না।'

সেদিন তাদের কী পরিণতি হবে যারা আল্লাহর হক যথাযথ আদায় করেনি, তার অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে লিপ্ত ছিল?

সেদিন তাদের অবস্থা হবে নিদারুণ করুণ। ভয়াল এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে তারা। তাদেরকে গ্রাস করবে কেয়ামত দিবসের বিভীষিকা। সে মহাপ্রলয়ের দিনে তাদের সূচনা হবে কবর থেকে উত্থিত হওয়ার মাধ্যমে। অতঃপর তাদের একত্রিত করা হবে। মাথার ওপর থাকবে জ্বলন্ত সূর্য। ঘাম ও পুঁজের সাগরে তারা হাবুডুবু খেতে থাকবে। এমতাবস্থায় তাদের প্রত্যেকের জীবনের হিসাব চাওয়া হবে। আল্লাহকে তখন পৃথিবীতে যাপিত প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। এছাড়া এক কদমও কেউ নড়তে পারবে না। হে আল্লাহর বান্দা! বড় কঠিন সেই দিন। অতঃপর আমলনামা তাদের বাম হাতে দেওয়া হবে। আল্লাহর নিযুক্ত আজাবের ফেরেশতারা তাদের টেনে নেবে জাহান্নামের দিকে।

আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করছি, আপনারা কি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কেয়ামত দিবসের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা পড়েন? কুরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠায় কি তা বারবার বর্ণিত হয়নি?

আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত দিবসের বিভীষিকার কথা বর্ণনা করে বারবার মানুষকে সতর্ক করেছেন। তারা যেন ফিরে আসে মিথ্যা ছেড়ে সত্যের পথে। কুফর ছেড়ে ঈমানের পথে। মূর্খতা ছেড়ে জ্ঞানের পথে। অবাধ্যতা ছেড়ে আনুগত্যের পথে।।

যারা প্রকৃত মুমিন, আল্লাহকে ভয় করে, তারা সেদিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেদিন যার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে তাদের কোনো চিন্তা ও দুঃখবোধ নেই। আর যাদের আমলনামা দেওয়া হবে বাম হাতে তাদের দুর্ভোগ ও যন্ত্রণার অন্ত নেই।

ইরশাদ হয়েছে, ذَلِكَ يَوْمٌ مَجْمُوعُ لَهُ النَّاسُ وَذَلِكَ يَوْمٌ مَشْهُودٌ * وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَعْدُودٍ * يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدُ

'তা সেই দিন যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে, তা সেই দিন যেদিন সকলকে উপস্থিত করা হবে। আমি নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্য তা স্থগিত রাখি মাত্র। যখন সেদিন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য আর কেউ হবে সৌভাগ্যবান।'

কাফেররা কেয়ামত দিবস, পুনরুত্থান, হাশর ও হিসাব গ্রহণকে অস্বীকার করেছে।

ইরশাদ হয়েছে,

زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرُ

'কাফেররা ধারণা করে যে, তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, নিশ্চয়ই হবে। আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা করতে তোমাদের সে সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করা হবে। আর তা আল্লাহর পক্ষে সহজ।'

وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى

'আকাশমণ্ডলীতে যা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই। যারা মন্দ কর্ম করে তাদের তিনি মন্দ প্রতিদান দেবেন এবং যারা সৎকর্ম করে তাদের তিনি দেবেন উত্তম পুরস্কার।'

يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ . خَاشِعَةٌ أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَانُوا يُوعَدُونَ

'সেদিন তারা কবর থেকে বের হবে দ্রুতবেগে। মনে হবে তারা কোনো উপাসনালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবনত নেত্রে। হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে। ইহাই সেই দিন যার বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিলো।'

وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ وَظِلِّ مِنْ يَحْمُومٍ لَا بَارِدٍ وَلَا kَرِيمٍ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنْثِ الْعَظِيمِ وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ

'আর বামদিকের দল, কত হতভাগ্য বামদিকের দল! তারা থাকবে উষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে। কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়। যা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়। ইতিপূর্বে তারা তো মগ্ন ছিল ভোগ-বিলাসে। তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে। আর তারা বলত, মরে অস্থি ও মাটিতে পরিণত হলেও কি উত্থিত হবো আমরা? এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও? বলুন, অবশ্যই পূর্ববর্তীগণ ও পরবর্তীগণ-সকলকে একত্র করা হবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। '

সেদিন কী পরিণতি হবে মানুষের? বিশেষত যারা আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে সদা ব্যস্ত তাদের?

ইরশাদ হয়েছে,

وَلَوْ تَرَى إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا رُءُوسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ

'হায়! যদি তুমি দেখতে, যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে নত মস্তকে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আপনি আমাদের পুনরায় প্রেরণ করুন। আমরা সৎকর্ম করব, আর আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী।'

وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ قَالَ أَلَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا

'তুমি যদি তাদের দেখতে পেতে যখন তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তাদের দাঁড় করানো হবে এবং তিনি বলবেন, এ কি প্রকৃত সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই সত্য। তিনি বলবেন, তবে তোমরা যে কুফরি করতে তার জন্য তোমরা এখন শাস্তি ভোগ করো।'

কেয়ামতের দিন তারা সকলেই আফসোস ও আক্ষেপের সুরে বলবে, يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ

'তারা বলবে, হায়! যদি আমাদের প্রত্যাবর্তন ঘটত তাহলে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনকে অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।'

কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন। সমগ্র জগত সেদিন উলট-পালট হয়ে যাবে। মাটির ভেতরে যারা ছিল তারা উত্থিত হবে। পায়ের নিচে জমিন থাকবে কিন্তু এ জমিন চেনা যাবে না। মাথার উপর আসমান থাকবে কিন্তু তা ছায়া দেবে না। বিভীষিকাময় সেদিন মানুষের পরিণতি কী হবে তা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাই ভালো জানেন।

ইরশাদ হয়েছে, يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ * خَاشِعَةٌ أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَانُوا يُوعَدُونَ

'সেদিন তারা কবর থেকে বের হবে দ্রুতবেগে। মনে হবে তারা কোনো উপাসনালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অবনত নেত্রে। হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে। এটাই সেই দিন যার বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল।'

يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ

'সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের ন্যায় হবে। পর্বতসমূহ হবে ধুনিত রঙিন পশমের ন্যায়। '

আল্লাহ তায়ালা মহাপ্রলয়কে 'কারিআ' বলে নামকরণ করেছেন। 'কারিআ' অর্থ হলো সজোরে আঘাত করা। মহাপ্রলয় যেহেতু কান ও অন্তঃকরণে সজোরে আঘাত করবে তাই কেয়ামতকে 'কারিআ' বলে নামকরণ করা হয়েছে।

পাহাড়ের অবস্থা যদি হয় ধুনিত পশমের ন্যায় তাহলে আমাদের অবস্থা হবে কেমন? আল্লাহ তায়ালা মানুষের অবস্থা কেমন হবে তার বর্ণনা দিয়ে বলেন, يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ 'সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের ন্যায় হবে। '

إِذَا دُكَّتِ الأَرْضُ دَكَّا دَكَّا * وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا 'যখন পৃথিবীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে। যখন তোমরা প্রতিপালক উপস্থিত হবেন এবং ফেরেশতাগণও উপস্থিত হবেন সারিবদ্ধভাবে। '

যখন শিঙ্গার ফুৎকার বেজে উঠবে তখন সমস্ত মৃত মানুষ কবর থেকে জেগে উঠবে। তাদের ওপর থেকে মাটির স্তুপ সরে যাবে। এবং তারা বলতে থাকবে,

قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ * إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ

'তারা বলবে, হায়! দুর্ভোগ আমাদের, কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উত্থিত করল? দয়াময় আল্লাহ তো তারই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসুলগণ সত্যই বলেছিলেন। তা কেবল এক মহা চিৎকার; তখনই তাদের সকলকে উপস্থিত করা হবে আমার সম্মুখে।'

কেয়ামত দিবসকে আল্লাহ তায়ালা 'ইয়াওমুত তালাক' তথা পারস্পরিক সাক্ষাতের দিবস বলে নামকরণ করেছেন। কেননা, এই দিন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তার সকল বংশধরদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। দুনিয়াবাসী আসমানবাসীর সাথে সাক্ষাৎ করবে। জালিমের সাথে মাজলুমের সাক্ষাৎ হবে।

কেয়ামত দিবসকে আল্লাহ তায়ালা 'ইয়াওমুল জামই' তথা একত্রিত করণের দিন বলেও নামকরণ করেছেন। কেননা, এই দিন আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন।

পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত দিবসের আলোচনা করেছেন। পরতে পরতে, ছত্রে ছত্রে আলোচিত হয়েছে মহাপ্রলয় ও কেয়ামতের আলোচনা। এ আলোচনা অন্তরসমূহকে জীবিত করে। ঘুমন্ত সত্তাকে জাগ্রত করে। মানুষকে অবাধ্যতা থেকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে আনে।

শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার পর যখন কবর থেকে উত্থিত হয়ে হাশরের মাঠের দিকে দৌড়াতে থাকবে। তাদের অবস্থা হবে এমন, যেন মায়ের উদর থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তাদের শরীরে কোনো কাপড় থাকবে না। পায়ে থাকবে না জুতা। ছন্নছাড়া হয়ে ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি বলে ক্রমাগত দৌড়াতে থাকবে।

ইরশাদ হয়েছে,

وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ

'তোমরা তো আমার নিকট নিঃসঙ্গ অবস্থায় এসেছ, যেমন আমি প্রথমে তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম।'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বললেন, কেয়ামতের দিন মানুষেরা কবর থেকে উত্থিত হয়ে উলঙ্গ হয়ে খালি পায়ে দৌড়াতে থাকবে, তখন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলেন, কেয়ামতের দিন নারী-পুরুষ সকলেই উলঙ্গ হবে? তারা কি একে অপরের দিকে তাকাবে? প্রত্যুত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে আয়েশা! কেয়ামতের দিন হবে এতই কঠিন ও বিপদময় যে, মানুষের মনে একে অপরের প্রতি তাকাবারও খেয়াল থাকবে না।'

কেয়ামতের দিবস হলো পলায়নের দিন। সেদিন একে অপরের থেকে পলায়ন করবে।

ইরশাদ হয়েছে, يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ * وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ * وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ * لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنُ يُغْنِيهِ 'সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে, তার মা থেকে, তার পিতা থেকে, তার পত্নী ও তার সন্তান থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন গুরুতর অবস্থা হবে যা তাদের সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে।'

টিকাঃ
৬৩. সুরা যুমার: ৬৭-৬৮।
৬৪. সুরা হাক্কাহ: ১৩-১৮।
৬৫. সুরা হুদ: ১০৩-১০৫।
৬৬. সুরা তাগাবুন: ৭।
৬৭. সুরা নাজম: ৩১।
৬৮. সুরা মাআরিজ: ৪৩-৪৪।
৬৯. সুরা ওয়াকিআ: ৪১-৫১।
৭০. সুরা সাজদাহ: ১২।
৭১. সুরা আনআম: ৩০।
৭২. সুরা আনআম: ২৭।
৭৩. সুরা মাআরিজ: ৪৩-৪৪।
৭৪. সুরা কারিআ: ৪-৫।
৭৫. সুরা কারিআ: ৪।
৭৬. সুরা ফাজর: ২১-২২।
৭৭. সুরা ইয়াসিন: ৫২-৫৩।
৭৮. সুরা আনআম: ৯৪।
৭৯. সুরা আবাসা: ৩৪-৩৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00