📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 এসো শামিল হই পুণ্যের কাফেলায়

📄 এসো শামিল হই পুণ্যের কাফেলায়


ওইসমস্ত লোকেরা ঈমানের বলে বলীয়ান ছিল বলেই দুনিয়া-আখেরাতে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সাথে সুগভীর সম্পর্ক ছিল বলেই তারা আখেরাতের জন্য নির্মাণ করতে পেরেছে সুরম্য প্রাসাদ। বর্তমানে আমাদের ঈমান অত্যন্ত দুর্বল। ঈমানের নুর আমাদের অন্তরে প্রতিফলিত হয় না। আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক নড়বড়ে। যার ফলে সম্মান ও মর্যাদা আমাদের পদচুম্বন করছে না। আখেরাতের জন্য আমরা নির্মাণ করতে পারছি না শান্তি ও সুখের সুরম্য প্রাসাদ, মৃত্যুর পর যেখানে আরাম ও প্রাচুর্যের সাথে বসবাস করব। আমাদের ঈমান এতই দুর্বল যে, ফজরের নামাজের জন্য আমাদের জাগ্রত করতে পারে না। আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃপা লাভের জন্য নিদ্রা ও বিছানা থেকে পৃথক করতে পারে না। এমন শক্তিহীন ও ভঙ্গুর ঈমান দিয়ে আখেরাতে শক্তিশালী ও সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণ করা সম্ভবপর নয়।

কবি বড় চমৎকার বলেছেন,

'এ তো বিরাট হাস্যকর ব্যাপার যে, তুমি কোনো প্রকার কষ্ট ও বিবর্ণতা ছাড়াই মর্যাদা ও আভিজাত্যের সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করতে চাও। জেনে রেখো! মৌচাক থেকে মধু আহরণ করতে হলে মৌমাছির সরু হুল তোমার বিদ্ধ হবেই।'

সুতরাং যার ঈমান যত শক্তিশালী হবে তার প্রাসাদ তত সুদৃঢ় হবে। আর যার ঈমান যত দুর্বল হবে তার প্রাসাদ তত দুর্বল হবে। তাই আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক হলো আল্লাহর অধিক আনুগত্য করা। অন্তরকে আল্লাহর আদেশ পালন করতে এবং নিষেধ থেকে বেঁচে থাকতে বাধ্য করা। এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা যেন আনুগত্যের সাথে সাথে অবাধ্যতার সংমিশ্রণ না ঘটে। যেন আল্লাহর আদেশসমূহ পালনের পাশাপাশি হারাম ও নাজায়েজ কাজে লিপ্ত না হই। তাহলে একদিকে প্রাসাদ নির্মিত হবে অপরদিকে তা ভেঙে পড়বে। আনুগত্য ও ইবাদত হতে হবে নির্ভেজাল গোনাহমুক্ত।

আমাদের অন্তরে যখন ঈমান গেঁথে যাবে, যখন ঈমানকে হৃদয়ে অনুভব করতে পারব এবং ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারব তখন ঈমান পরিত্যাগ করে পুনরায় পেছনে ফিরে যেতে কখনো সম্মত হবে না। যারা প্রথমে আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে লিপ্ত ছিল, আখেরাতের প্রাসাদ ধ্বংস করত, তারা যখন ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল হয়ে গেল তখন আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছি যে, তারা কি পুনরায় তাদের অতীত জীবনে ফিরে যেতে চায় কি-না? তাদের একজনও সম্মত হয়নি অতীতের ক্লেদাক্ত ও পঙ্কিল জীবনে ফিরে যেতে। কেননা তাদের হৃদয়ে ঈমান গেঁথে গেছে। তারা ঈমানের মিষ্টতা আস্বাদন করেছে। ঈমানের মিষ্টতা একবার যে আস্বাদন করেছে সে কখনো কুফর ও আল্লাহর অবাধ্যতাকে পছন্দ করে না। আল্লাহর নৈকট্য যত বেশি অর্জন করবে ঈমান ততই সমুজ্জ্বল হবে। অন্তর ততই আলোকিত হবে।

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

من تقرب إلي شبراً تقربت إليه ذراعاً، ومن تقرب إلي ذراعاً تقربت إليه باعاً

‘যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিগত অগ্রসর হবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হবো। যে এক হাত অগ্রসর হবে আমি তার দিকে প্রসারিত দুই বাহু পরিমাণ অগ্রসর হবো।’

আল্লাহ তায়ালা আসহাবে কাহফের যুবকদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন, نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُمْ بِالْحَقِّ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى '(হে নবী!) আমি আপনার নিকট তাদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি, তারা ছিল কয়েকজন যুবক, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের (হেদায়েত) সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছি।'

ইরশাদ হয়েছে, وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْواهُمْ 'যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ তাদের (হেদায়েত) সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং তাদের মুত্তাকি হওয়ার শক্তি দান করেন।'

টিকাঃ
৪০. সুরা ইউনুস: ৯-১০।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 নামাজ জীবনকে সুসংহত করে

📄 নামাজ জীবনকে সুসংহত করে


মানুষকে সৎপথে চলতে এবং তাদের অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কিছু নেই। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান সে দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও যত্নবান। আর যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি উদাসীন সে দ্বীনের অন্যান্য শাখার প্রতিও উদাসীন। আমি অত্যন্ত আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে বলতে পারি এ কথা, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথ আদায় করে সে কখনো তাদের মতো হতে পারে না, যারা একইসঙ্গে আখেরাতের প্রাসাদ নির্মাণ করে এবং ভেঙে ফেলে। তারা তো ওইসকল ব্যক্তি যারা নিজেদের নামাজের প্রতি যত্নবান না। আল্লাহর নামে সাক্ষ্য রেখে বলছি, যদি কেউ চল্লিশ দিন মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে সে অবশ্যই সঠিক পথের অনুসারী হবে। আল্লাহ তাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করবেন। সে কখনো তার অতীত গোনাহের জীবনে ফিরে যেতে চাইবে না। পুনরায় অবাধ্যতা ও নাফরমানির জীবনে তারাই ফিরে যায় যারা নামাজ পড়ে না। নিজেদের নামাজের যথাযথ সংরক্ষণ করে না।

তুমি কি পারবে চল্লিশ দিন জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে? আমাদের পূর্ববর্তী যারা সফলকাম হয়েছে তারা সুদীর্ঘ বছর মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো এমন রয়েছে যারা চল্লিশ বছর আবার কেউ কেউ পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত তাকবিরে উলার সাথে নামাজ আদায় করেছে। এতো সুদীর্ঘকাল তাদের তাকবিরে উলা ছুটেনি একবারও।

টিকাঃ
৪১. সুরা কাহফ: ১৩।
৪২. সুরা মুহাম্মদ: ১৭।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 আনুগত্যই হৃদয়ের চিকিৎসা

📄 আনুগত্যই হৃদয়ের চিকিৎসা


কেউ যখন অসুস্থ হয় তখন সে ডাক্তারের নিকট যায়। চিকিৎসা গ্রহণ করে। নিয়মিত চিকিৎসকের কথানুযায়ী চলে আরোগ্য লাভ করে। তেমনিভাবে যাদের ঈমান দুর্বল তাদের চিকিৎসা হলো আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা। সকল অবাধ্যতা নাফরমানي পরিহার করা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া। চল্লিশ দিন পর্যন্ত এভাবে দৃঢ়তার সাথে যদি চলতে পারে তাহলে কখনো পেছনের নোংরা ও ক্লেদাক্ত জীবনে কিছুতেই ফিরে যেতে সম্মত হবে না।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 প্রার্থনায় সদা বিগলিত হও

📄 প্রার্থনায় সদা বিগলিত হও


হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি যদি আপনার আনুগত্যপরায়ণ ও নেককার বান্দাদের ব্যতীত কাউকে ক্ষমা না করেন, তাহলে গোনাহগার ও পাপী বান্দারা কোথায় যাবে? কার নিকট তারা আশ্রয় প্রার্থনা করবে? হে আল্লাহ! আপনি যদি কেবল মুত্তাকি বান্দাদের প্রতি রহম করেন তাহলে আপনার অবাধ্য ও পাপাচারী বান্দারা কার নিকট সাহায্য কামনা করবে? আপনি তো তাদেরও রব। আপনি ছাড়া তো কেউ নেই তাদের। হে আল্লাহ! যারা অসহায় ও দরিদ্র তারা তো ধনীদের দুয়ারে যাবেই। হে আল্লাহ আপনার চেয়ে বড় ধনী আর কে আছে? হে আল্লাহ যারা লাঞ্ছিত, অপমানিত তারা তো সম্মানিতদের দুয়ারে করাঘাত করবেই। হে আল্লাহ আপনার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কে আছে। হে রাহমানুর রহিম! হে আরহামার রাহিমিন! আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনি কাছে টেনে নিন। আপনি অনুগ্রহ করুন। আপনি করুনা করুন। আপনি আমাদের আপনার আনুগত্যের তাওফিক দিন। আপনি আমাদের আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।

হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আপনার ভালোবাসা কামনা করি। আমরা আপনার অন্তরপূর্ণ ভালোবাসা প্রার্থনা করি। এবং প্রার্থনা করি ওই ব্যক্তির ভালোবাসা যে আপনাকে ভালোবাসে। হে আল্লাহ! আপনি আপনার ভালোবাসাকে আমাদের অন্তরে পিপাসার্ত ব্যক্তির নিকট পানির চেয়ে অধিক প্রিয় বানিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি ঈমানকে আমাদের নিকট প্রিয় বানিয়ে দিন। আমাদের অন্তরে ঈমানকে সুসজ্জিত করে দিন। হে আল্লাহ! আপনি কুফর, ফুসুক ও গোনাহকে আমাদের নিকট ঘৃণিত করে দিন। হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের সৎপথে পরিচালিত করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00