📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 ঈমান কেন বাড়ে

📄 ঈমান কেন বাড়ে


মুমিনের জীবনে ঈমানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যখন কুরআন তিলাওয়াত করে তখন হৃদয়ে তার ঈমান বৃদ্ধি হয়। যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গুরুত্বের সাথে আদায় করে তখন ঈমান বৃদ্ধি হয়। যখন জোহরের নামাজের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত আদায় করে তখন তার ঈমান বৃদ্ধি হয়। যখন সৎকাজের আদেশ করে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে তখন ঈমান বৃদ্ধি পায়। যখন অপর মুসলিম ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলে তখন ঈমান বৃদ্ধি হয়। এমনিভাবে মুমিন যখন সদকাহ দেয় তখন ঈমান বৃদ্ধি হয়। মোটকথা, প্রত্যেক নেক আমল ও আল্লাহর আনুগত্যের দ্বারা মুমিনের হৃদয়ে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

পক্ষান্তরে এর বিপরীতে যখন অন্যায়, পাপাচারে লিপ্ত হয় তখন ঈমান হ্রাস হয়। যখন টেলিভিশনের সামনে বসে, গান-বাদ্য শ্রবণ করে, চোখে অশ্লীল জিনিস দেখে তখন ঈমান কমে। কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, তাহলিল ইত্যাদির মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে হারাম কাজ করার দ্বারা, আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানির দ্বারা, অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলার দ্বারা ঈমান হ্রাস হয়। বর্তমানে মুসলমানদের অবস্থা তো হলো, তারা একই সঙ্গে ভালো ও মন্দ উভয়টি করে। আল্লাহর আনুগত্য করার পাশাপাশি হারাম ও নাজায়েজ কাজেও লিপ্ত হয়। ফলশ্রুতিতে এর পরিণাম হলো, আনুগত্য ও নেক আমলের দ্বারা একদিকে আখেরাতের উত্তম প্রাসাদ নির্মিত হয়, অপরদিকে গুনাহও অবাধ্যতার কারণে সে প্রাসাদ ধ্বংস হতে থাকে। শেষে আমাদের জীবনের কোনো মূল্যই আর অবশিষ্ট থাকে না। যখনই প্রাসাদ পূর্ণ হতে থাকে অমনি সেটি ধ্বংস করে ফেলে।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 পূর্ণ করো আমলের পাল্লা

📄 পূর্ণ করো আমলের পাল্লা


কেয়ামত দিবসে বান্দার বিচার করা হবে আমল অনুযায়ী। সেদিন পাল্লায় যার আমল হবে অধিক সেই সফল এবং যার পাল্লায় গোনাহ ও মন্দ আমল হবে সে ব্যর্থ। সকল সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ণয় করবে আমলের পাল্লা। কতই-না সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি যার আমলের পাল্লায় গোনাহের তুলনায় নেকি হবে অধিক। কিন্তু আমলের পাল্লায় সফলতার মাপকাঠি নির্ণয়কারী নেক আমল কখন অধিক হবে? তখনই অধিক হবে যখন কেউ আল্লাহর আনুগত্য করবে পূর্ণমাত্রায়। তখনই হবে যখন কেউ মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর সমস্ত আদেশ পালন করবে। নিষেধ থেকে বেঁচে থাকবে। গুনাহ ও নাফরমানি থেকে বিরত থাকবে।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 অনুতপ্তের অশ্রুতে

📄 অনুতপ্তের অশ্রুতে


আল্লাহর শপথ! জান্নাতের অধিবাসীরা থাকবে আনতনয়না সুন্দরী রূপসি হুর, মনোরম প্রাসাদ, রকমারি ঝরনাসহ প্রভূত নেয়ামতরাজির মাঝে। জান্নাতের অধিবাসীরা সেদিন দুনিয়াতে অযথা নষ্ট করা প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আফসোস করবে। আক্ষেপ ও অনুশোচনায় তাদের হৃদয় জ্বলতে থাকবে। বলবে, হায়! যদি দুনিয়ার ওই সামান্য সময়ও আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতাম। যদি প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যয় করতাম। জান্নাতের নেয়ামতরাজি তাদের অন্তরে আক্ষেপ ও অনুশোচনা জাগিয়ে তুলবে। তারা যখন আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বিশেষ বান্দাদের জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন দেখবে তখন তাদের অনুভূত হবে এ কথা যে, তাহলে আজ تو আরো বহু নেয়ামত এবং উচ্চস্তরের জান্নাতে আমাদের ঠিকানা হতো। দুনিয়াতে আল্লাহর অধিক আনুগত্য করতে না পারার দুঃখ তাদের পীড়িত করবে।

আল্লাহ তায়ালা জান্নাতকে তার প্রিয় ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। বিপরীতে অপর দল যারা দুনিয়াতে আল্লাহর অবাধ্যতা করেছে, গুনাহও পাপাচারিতায় ব্যস্ত ছিল তাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সৃষ্টি করেছেন জাহান্নাম। ইরশাদ হয়েছে,

يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا

'যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে উলট-পালট করা হবে সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম, রাসুলকে মানতাম।'

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,

وَلَوْ تَرَى إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُوا رُءُوسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ

'হায় তুমি যদি দেখতে! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে মাথানত করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম, এখন আপনি আমাদের পুনরায় প্রেরণ করুন। আমরা সৎকর্ম করব। আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী।'

وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا * يَا وَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخَذْ فُلَانًا خَلِيلًا

'জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ হাতদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আমি যদি রাসুলের সঙ্গে সৎপথ অবলম্বন করতাম! হায় দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!'

বর্তমান মুসলমানদের অবস্থা হলো, যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয় যে, কে তোমাদের আল্লাহর আনুগত্য থেকে বাধাপ্রদান করেছে? কে তোমাদের বাধা দিয়েছে আখেরাতে উত্তম প্রাসাদ নির্মাণ করতে? প্রতিউত্তরে তারা বলে, অমুক, অমুক, অমুক।

টিকাঃ
৯. সুরা আহযাব: ৬৬।
১০. সুরা সাজদাহ: ১২।
১১. সুরা ফুরকান: ২৭-২৮।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 তারা ছিলেন অটল অবিচল

📄 তারা ছিলেন অটল অবিচল


বর্তমান লোকদের তুলনায় পূর্বেকার লোকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন ছিল বেশি। আমাদের তুলনায় তাদের কষ্ট ছিল অধিক। তথাপিও তারা আল্লাহ ও তার রাসুলের অবাধ্যতা করেনি। তাদের একজনও আল্লাহর আদেশ পালনে সীমা লঙ্ঘন করেনি। আল্লাহর নিষেধে লিপ্ত হয়নি। তাদের জীবনে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তারা আখেরাতের উত্তম প্রাসাদ নির্মাণে সামান্যতম কুণ্ঠিত হয়নি। পক্ষান্তরে বর্তমানে আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে সবকিছু। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট চাপিয়ে দেননি। আমাদের সাধ্যের বাহিরে কোনোকিছু আরোপ করেননি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর সীমাহীন রহম করেছেন। অসীম দয়া করেছেন। ইরশাদ হয়েছে,

يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ

'আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, তিনি তোমাদের জন্য কঠিন কিছু চান না।'

শত কষ্ট ও দুর্ভোগের ভিড়েও তারা আখেরাতের প্রাসাদ নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে। পক্ষান্তরে আমাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। আমাদের জীবনোপকরণ অত্যন্ত সুলভ। অসংখ্য নেয়ামত তিনি আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। তাই আসুন, আখেরাতের জন্য আমাদের প্রাসাদ নির্মাণ করি। তারা যেমন নিজেদের রক্ত, ঘামে, সময় ও শ্রম দিয়ে নির্মাণ করেছে আমরাও তেমনি নির্মাণ করি।

টিকাঃ
১২. মুসলিম: ৪৩।
১৩. সুরা বাকারাহ: ১৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00