📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 ঈমান পুণ্যময় প্রাসাদের শিকড়

📄 ঈমান পুণ্যময় প্রাসাদের শিকড়


মূল বিষয় হলো ঈমান। আখেরাতের জন্য নির্মিত সেই পুণ্যময় প্রাসাদ ধ্বংস হবে নাকি অটুট থাকবে এর সমাধান হবে ঈমানের ভিত্তিতে। কারো ঈমান যদি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয় তাহলে তার আমল দ্বারা নির্মিত প্রাসাদ ধ্বংস হবে না। শয়তান তাকে পরাস্ত করতে পারবে না। সরল-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে সক্ষম হবে না। পক্ষান্তরে কারো ঈমান যদি হয় দুর্বল ও ভঙ্গুর, তাহলে তার আমলের মাধ্যমে নির্মিত অট্টালিকা ধ্বংস হয়ে যাবে। শয়তান তাকে সহজেই পরাস্ত করতে সক্ষম হবে। যার ঈমান যত শক্তিশালী হবে তার আমল ততই অধিক হবে। আখেরাতের জন্য নির্মিত প্রাসাদ ততই অটুট ও মজবুত থাকবে। আর যার ঈমান যত দুর্বল হবে তার আমল হবে তত নড়বড়ে।

ইরশাদ হয়েছে, عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ 'আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে এবং তাদের প্রতিপালকের ওপর ভরসা করে।'

কারো আমল বিনষ্ট হয় না, আবার কারো আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। কারো প্রাসাদ অক্ষত থাকে আবার কারো প্রাসাদ ধসে পড়ে। দুই শ্রেণির মাঝে ব্যবধান হবে ঈমান শক্তিশালী ও দুর্বল হওয়ার ভিত্তিতে। যাদের ঈমান শক্তিশালী তাদের কোনো ভয় নেই। আর যাদের ঈমান দুর্বল তাদের জন্য রয়েছে সমূহ দুর্গতি। আমল করে তারা আখেরাতের জন্য যে প্রাসাদ নির্মাণ করতে থাকবে, ঈমানের দুর্বলতার কারণে তা ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈমান দুর্বল হওয়ার কারণে আমল করার পরও তারা শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়। প্রবৃত্তির তাড়নায় অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। গুনাহ ও পাপাচারিতায় জড়িয়ে পড়ে। ফলে তা নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। ঈমান যদি শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয় তাহলে মসজিদ থেকে যখনই মুয়াজ্জিনের আজানের সুর ভেসে আসবে তখনই সে ছুটে যাবে মসজিদের দিকে। সকল

টিকাঃ
২. সুরা শুরা: ৩৬।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 প্রকৃতার্থেই মুমিনগণই সফল

📄 প্রকৃতার্থেই মুমিনগণই সফল


দুনিয়াতে ও আখেরাতে সফল তারাই যাদের ঈমান পরিপূর্ণ। যাদের ঈমান তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্য ও আমলের প্রতি ধাবিত করে। ইরশাদ হয়েছে,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ. فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ. أُوْلَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

'প্রকৃতার্থে মুমিনগণই সফল; যারা তাদের নামাজে একনিষ্ঠ, যারা অহেতুক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে, যারা দান করে এবং যারা তাদের গুপ্তাঙ্গ সংযত রাখে, তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে কোনো দোষ হবে না। কিন্তু এর বাইরে অন্যদের কামনা করলে তারা

সীমালঙ্ঘনকারী হবে। মুমিন তারা যারা তাদের আমানত ও ওয়াদা রক্ষা করে, যারা তাদের নামাজের ব্যাপারে যত্নবান থাকে। এরাই হলো প্রকৃত উত্তরাধিকারী। যারা বেহেশতের উত্তরাধিকারী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 জাগরে গাফেল সরিয়ে ঘুমের পর্দা

📄 জাগরে গাফেল সরিয়ে ঘুমের পর্দা


একজন গভীর রাতে কিংবা রাত্রির শেষ প্রহরে ঘুমিয়েছে। মুয়াজ্জিন যখন সকলকে [الصلاة خير من النوم ঘুম থেকে নামাজ ভালো] বলে আহ্বান করে তখন সে অপ্রস্তুত ঘুম থেকে জেগে ওঠে। শারীরিক ক্লান্তি ও অক্ষমতা সত্ত্বেও ছুটে যায় মসজিদের দিকে। পক্ষান্তরে অন্য একজন রাতভর ঘুমানোর পরও তার কানের কাছে যদি ঘণ্টি পেটানো হয় তবুও সে জাগে না। নামাজের জন্য তার ন্যূনতম আগ্রহ নেই।

এ দু-জনের মাঝে পার্থক্য কোথায়? কেন একজন সমস্ত ক্লান্তি ও অক্ষমতা সত্ত্বেও ছুটে যায় মসজিদের দিকে এবং অন্যজনের রাতভর ঘুমানোর পরও জাগ্রত হয় না অলসতার চাদর সরিয়ে। শক্তিশালী ঘণ্টি বাজানোর পরও তার চেতনা জাগে না। হ্যাঁ, এটিই ঈমান। ইহাই ঈমানের প্রভাব। একজন আমলের প্রাসাদ নির্মাণ করছে, আরেকজন ধ্বংস করছে। এর প্রকৃত কারণ হলো, তাদের মাঝে রয়েছে ঈমানের তারতম্য। ঈমানের সুদৃঢ়তা ও দুর্বলতা। ঈমানের অবিচলতা আল্লাহর আনুগত্য ও নেক আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর দুর্বল ঈমান অবাধ্যতা ও নাফরমানির দিকে তাড়িত করে।

মুসলমানদের জীবনে আজ যে বিষয়টি চির সত্য ও বাস্তব বলে প্রমাণিত, তা হলো ঈমানের দুর্বলতা। মুসলমান আজ হৃদয় থেকে ঈমানের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। ঈমানের আলো থেকে তারা দূরে সরে গেছে। উম্মাহর সকল অধঃপতন ও নির্মমতার একমাত্র কারণ হলো, ঈমান থেকে দূরে সরে যাওয়া। মুসলমানদের হৃদয়ে আজ যে পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট রয়েছে পৃথিবীতে তাদের শক্তিও সেই পরিমাণ।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 ঈমান যখন জাগবে তোমার

📄 ঈমান যখন জাগবে তোমার


মুমিন তার ঈমান অনুযায়ী আমল করে। ঈমান অনুপাতে সে তার আমলের প্রাসাদ নির্মাণ করে। যার ঈমান শক্তিশালী সে কখনো মন্দ প্রবৃত্তি, দুনিয়ার স্বাদ ও শয়তানি ধোঁকায় পতিত হয় না। যার ঈমান দুর্বল সে সামান্যতেই প্রবৃত্তি, দুনিয়ার আসক্তি এবং শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়। অবাধ্যতা, নাফরমানিতে অতি সহজে লিপ্ত হয়ে যায়। কেউ কেউ আল্লাহর নিকট একবার চাইলেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার ডাকে সাড়া দেন। আর কেউ কেউ হাজারবার ডেকেও ব্যর্থ হয়। আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন না। কেন এই পার্থক্য? কেন এত ব্যবধান? এই পার্থক্য ও ব্যবধানের একমাত্র কারণ হলো ঈমান। ঈমান সবকিছুর মাঝে পার্থক্য রচিত করে। ঈমান যাদের সুদৃঢ় তাদের অন্তর জীবিত। তাদের হৃদয়ে সর্বদা বিরাজ করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার ভয়। সকল কাজে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তাদের অন্তরে এ অনুভূতি বিরাজমান থাকে যে, আমি যা কিছু করছি তার সবকিছু আল্লাহ দেখছেন। আমার কিছু থেকে কিছুই তার জ্ঞানের বাহিরে নয়। এ অন্তরকে বলা হয় জীবিত অন্তর। ঈমানের নূর দ্বারা আলোকিত অন্তর।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনে বারবার বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا 'হে ঈমানদারগণ! হে ঈমানদারগণ! হে ঈমানদারগণ!

আল্লাহ তায়ালা এ বলে সম্বোধন করেছেন, কেননা সবকিছুর ফয়সালা ও পরিমাপ হবে ঈমানের ভিত্তিতে। ঈমানই সফলতা ও ব্যর্থতার মাপকাঠি। সম্মান ও অপদস্থতার মানদণ্ড।

ইরশাদ হয়েছে, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনো।'

এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে ঈমান আনার কথা বলেছেন। কেন! তারা কি মুমিন নয়? হ্যাঁ, তারা মুমিন। তথাপিও আল্লাহ তায়ালা ঈমান আনয়নের কথা বলেছেন, মূলত ঈমানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করার জন্য। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা হলো, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ঈমানকে সংরক্ষণ করো। ঈমানের প্রতি যত্নবান হও। ঈমানের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করো। ঈমানকে অন্তরে শক্তিশালী ও সুদৃঢ়ভাবে গেঁথে নাও।

ঈমান দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, আখেরাতের চেয়ে দুনিয়ার প্রতি অধিক আসক্ত হওয়া। দুনিয়ার মোহ ও ভালোবাসায় আচ্ছন্ন হওয়া। দুনিয়াবি বিষয় নিয়ে অধিক চিন্তা-ভাবনা করা। মানুষের হৃদয়ে ঈমান সৃষ্টি হওয়ার পর তা ক্রমাগত দুর্বল অথবা শক্তিশালী হয়।

টিকাঃ
৪. সুরা নিসা: ১৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00